সাম্প্রদায়ীকতা – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Sat, 14 Mar 2026 23:34:22 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 সাম্প্রদায়ীকতা – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 হিজাব বিতর্কে উত্তপ্ত উলুবেড়িয়ার ঝামটিয়া হাই স্কুল: সংখ্যালঘু কমিশনকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যা, ক্ষুব্ধ কমিশন চেয়ারম্যান https://banglakal.com/communalism/school-teacher-harrased-by-teacher-in-charge-for-wearing-hijab-in-west-bengal/ https://banglakal.com/communalism/school-teacher-harrased-by-teacher-in-charge-for-wearing-hijab-in-west-bengal/#respond Sat, 14 Mar 2026 23:28:36 +0000 https://banglakal.com/?p=2382 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা আঙিনায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও একটি সাংবিধানিক কমিশনকে অবমাননা করার এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে এল। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া ব্লকের অন্তর্গত ঝামটিয়া হাই স্কুলের এক মুসলিম শিক্ষিকা, মুর্শিদা মল্লিক, তাঁর হিজাব পরিধান এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মানসিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের তির স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (Teacher-in-Charge) কার্তিক পালের দিকে।

অভিযোগের মূল বিষয়গুলি:
▫হিজাব বিরোধী মানসিকতা: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা মল্লিককে হিজাব না পরার জন্য নিয়মিত চাপ দিচ্ছেন। এমনকি ছাত্রীরা যারা হিজাব পরে আসে, তাদেরও হিজাব খুলে রাখতে বলার জন্য ওই শিক্ষিকাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
▫মানসিক হেনস্থা: রমজানের রোজা পালন এবং নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি ছুটি বা ছাড়ের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
▫নিরাপত্তাহীনতা: শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে চরম ভয়ের মধ্যে কাজ করছেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্য ও কুৎসিত মন্তব্য করা হচ্ছে।


ঘটনার ভয়াবহতা: কমিশনকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যা
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মুর্শিদা মল্লিক যখন প্রতিকার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের (West Bengal Minority Commission) দ্বারস্থ হন, তখন পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্তিক পাল অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে সংখ্যালঘু কমিশনকে একটি ‘জঙ্গি সংগঠন’ বলে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগকারী শিক্ষিকাকেও ওই তথাকথিত ‘জঙ্গি সংগঠনের’ অংশ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। একজন সরকারি পদাধিকারীর মুখ থেকে একটি সাংবিধানিক কমিশন সম্পর্কে এমন মন্তব্য প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


সংখ্যালঘু কমিশনের কড়া অবস্থান ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য
এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আহমেদ হাসান বলেন:

“ভারতের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। হিজাব পরা বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা কারও মৌলিক অধিকার। একজন শিক্ষিকাকে তাঁর পোশাকের জন্য হেনস্থা করা এবং একটি সরকারি কমিশনকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ বলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষা দপ্তরের তলব ও প্রধান শিক্ষকের নীরবতাএই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উলুবেড়িয়া শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শুনানির ডাক দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতিতা শিক্ষিকা মুর্শিদা মল্লিক যথাসময়ে দপ্তরে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করলেও, অভিযুক্ত শিক্ষক কার্তিক পাল এই শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন তৈরির সময় আমাদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্তিক পালের সাথে ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করার একাধিক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।


বর্তমান পরিস্থিতি: অধিকার মিললেও মেলেনি দুঃখপ্রকাশ
শিক্ষা দপ্তরের কড়া বার্তার পর বর্তমানে স্কুলে মুর্শিদা মল্লিককে তাঁর ধর্মীয় অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ হেনস্থার পর অবশেষে তিনি নিজের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারছেন। তবে পরিস্থিতির আপাত সমাধান হলেও কিছু মৌলিক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর পূর্বের কুরুচিকর মন্তব্য বা আচরণের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।


সাংবিধানিক অধিকার বনাম সংকীর্ণতা
ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ঝামটিয়া হাই স্কুলের এই ঘটনা কেবল একজন শিক্ষিকার সম্মানহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত বলে মনে করছেন শিক্ষানুরাগী মহল।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মুর্শিদা মল্লিক প্রশাসনের কাছে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সংখ্যালঘু কমিশন ও শিক্ষা দপ্তর এই চরম অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কারণ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই।

]]>
https://banglakal.com/communalism/school-teacher-harrased-by-teacher-in-charge-for-wearing-hijab-in-west-bengal/feed/ 0 2382
মিঞাদের রিকশা ভাড়া ৫ টাকা হলে ৪ টাকা দেবে – হিমান্ত বিশ্ব শর্মা https://banglakal.com/nation/rickshaw-fare-debate/ https://banglakal.com/nation/rickshaw-fare-debate/#respond Sat, 31 Jan 2026 09:03:14 +0000 https://banglakal.com/?p=1783 অসাম|৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬: ২৭ শে জানুয়ারি আসামের তিনসুকিয়া জেলার দিগবয়ে এক সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও বিভাজনকারী মন্তব্য করেছেন।

তিনি ‘মিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করে (যা আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রতি প্রায়শই অবমাননাকর অর্থে ব্যবহৃত হয়) বলেন যে, বিজেপি ও তিনি নিজে সরাসরি ‘মিয়া’দের বিরোধী এবং তাদের কষ্ট দেওয়া, হয়রানি করা তাঁর দায়িত্ব। তিনি প্রকাশ্যে আহ্বান জানান যে, রিকশাচালক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘মিয়া’দের কম মজুরি দেওয়া, দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা সৃষ্টি করা উচিত যাতে তারা পীড়িত হয়ে আসাম ছেড়ে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, “যদি রিকশার ভাড়া ৫ টাকা হয়, তাদের ৪ টাকা দাও। কষ্ট পেলেই তারা চলে যাবে।” এছাড়া, তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গে জানান যে, চলতি স্পেশাল রিভিশন (এসআর)-এর পর বিশেষ তীব্র সংশোধন (এসআইআর)-এর সময় ৪ থেকে ৫ লক্ষ ‘মিয়া’ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি ফর্ম নম্বর ৭-এর মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করে এই কাজ করার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করেন এবং বলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় শুধু ‘মিয়া’রাই সমস্যায় পড়ছে, হিন্দু বা আসামি মুসলিমরা নয়। তিনি দাবি করেন যে, উচ্চ আসামের জেলাগুলিতে (যেমন দুলিয়াজান, দিগবয়, তিনসুকিয়া) ‘মিয়া’দের জমি কেনার প্রবণতা বাড়ছে এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন রোধ করতে সতর্ক থাকতে হবে।

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬-এ অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যান্ড বোর্ড (AIMPLB) একটি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে বিবৃতি প্রকাশ করে। বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস বলেন, এই ধরনের ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সাংবিধানিক অবমাননা এখন বিজেপির রাজনৈতিক ভাষণের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীরা একের পর এক এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। এআইএমপিএলবি সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সুও মোটু) এই বিষয়ে নোটিশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। বোর্ড আসামের মুসলিমদের শান্ত থেকে আইনি ও সাংবিধানিক পথে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং সেক্যুলার দল ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়ে সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান করেছে।এই ঘটনা আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এটিকে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে, যখন শর্মা নিজে দাবি করেছেন যে, তাঁর মন্তব্য অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের (যাদের তিনি ‘মিয়া’ বলে উল্লেখ করেন) বিরুদ্ধে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

]]>
https://banglakal.com/nation/rickshaw-fare-debate/feed/ 0 1783
উত্তরাখণ্ডে কাশ্মীরি শাল বিক্রেতার ওপর নৃশংস হামলা: তাবিশ আহমেদের ঘটনা উদ্বেগজনক https://banglakal.com/nation/udtarakhand-kashmiri-shawl-attack/ https://banglakal.com/nation/udtarakhand-kashmiri-shawl-attack/#respond Fri, 30 Jan 2026 06:56:49 +0000 https://banglakal.com/?p=1776 দেরাদুন | উত্তরাখণ্ড: গত ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬-এর সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনের বিকাশ নগর এলাকায় এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৭-১৮ বছর বয়সী কাশ্মীরি যুবক তাবিশ আহমেদ। শাল ও অন্যান্য কাশ্মীরি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে আসা এই তরুণ তার ভাই বা কাজিনের সঙ্গে একটি দোকানে স্ন্যাকস কিনতে গিয়েছিলেন। দোকানদার ও স্থানীয় কয়েকজন তার পরিচয় জানতে চান। তাবিশ যখন জানান যে তিনি কাশ্মীর থেকে এসেছেন এবং মুসলিম, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত করে অপমানজনক কথাবার্তা বলতে শুরু করেন এবং লোহার রড, লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন।তাবিশের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, বাঁ-হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় ১১টি সেলাই লাগে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাকে দেরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বিশেষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার কাজিনও সামান্য আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনায় বিকাশনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (এফআইআর নং ২৬/২০২৬), ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১৭(২) এবং ৩৫২ ধারায়। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় যাদবকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য একজনকে খোঁজা হচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সমন্বয়ক নাসির খুয়েহামি এই ঘটনাকে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের ওপর ক্রমাগত হামলার অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকে এটিকে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতির ফল বলে মনে করছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছে যে, কাশ্মীরি শিল্পকর্মের প্রশংসা হলেও কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রায়ই অস্বীকার করা হচ্ছে।এই ঘটনা দেশের সামাজিক ঐক্যের ওপর গভীর প্রশ্ন তুলেছে। কাশ্মীরি শাল বিক্রেতারা শীতকালে সারা দেশে এসে সৎভাবে জীবিকা অর্জন করেন, কিন্তু বারবার এমন হামলা তাদের নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

]]>
https://banglakal.com/nation/udtarakhand-kashmiri-shawl-attack/feed/ 0 1776
মুরাদাবাদে নাবালিকা মুসলিম ছাত্রীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরণ আইনে FIR https://banglakal.com/nation/muslim-student-fir/ https://banglakal.com/nation/muslim-student-fir/#respond Mon, 26 Jan 2026 06:32:16 +0000 https://banglakal.com/?p=1698 মুরাদাবাদ,উত্তর প্রদেশের : উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদ জেলার বিলারি শহরে একটি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে পড়ুয়া পাঁচজন নাবালিকা মুসলিম ছাত্রীকে (বয়স ১৫-১৭ বছর) উত্তর প্রদেশের কঠোর ধর্মান্তরণ নিষিদ্ধকরণ আইনের (Uttar Pradesh Prohibition of Unlawful Conversion of Religion Act, ২০২১) ধারা ৩-এর অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা তাদের ১৬ বছর বয়সী হিন্দু সহপাঠীকে জোর করে বোরখা পরিয়ে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করেছে।

https://twitter.com/TheRFTeam/status/2015339354751914458?s=20

এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচজন মুসলিম ছাত্রী রাস্তার একটি গলিতে তাদের হিন্দু বান্ধবীকে বোরখা পরাতে সাহায্য করছে। অভিযোগকারীর (হিন্দু ছাত্রীর ভাই) দাবি অনুসারে, এই পাঁচজন ছাত্রী প্রায়ই তার বোনকে ননভেজ খাবার খেতে এবং ধর্ম পরিবর্তন করতে চাপ দিত। তারা বলত, “বোরখা পরলে তুমি খুব সুন্দর লাগবে, ইসলাম গ্রহণ করলে তোমার ভাগ্য বদলে যাবে।” এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি এফআইআর দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে।

কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা দেখা গেছে। প্রথমে, ১৬ জানুয়ারি পুলিশ জানিয়েছিল যে ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর এবং কোনো অপরাধ হয়নি। তারা ভাইরাল ভিডিও ছড়ানোর জন্য গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে, ২৪ জানুয়ারি তারা মত পরিবর্তন করে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে। এই পরিবর্তনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে নাবালিকাদের ক্ষেত্রে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হতে পারে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পরিবার দাবি করছে যে এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

Representation

এই মামলা এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং নাবালিকাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের কারণে সমাজে বিভিন্ন মতামতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা ধর্মান্তরণ আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনার দাবি রাখে।

]]>
https://banglakal.com/nation/muslim-student-fir/feed/ 0 1698
বিহারে রবিউল শেখকে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিযুক্ত করে হেনস্থা করলেন বিক্রম সিং রাজপুত https://banglakal.com/nation/vikram-singh-harasses-rabiul-sheikh/ https://banglakal.com/nation/vikram-singh-harasses-rabiul-sheikh/#respond Mon, 26 Jan 2026 06:05:37 +0000 https://banglakal.com/?p=1695 বৈশালী, বিহার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬: বিহারের বৈশালী জেলায় আরও একবার ঘৃণামূলক হয়রানি ও সাম্প্রদায়িক প্রোফাইলিংয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় এক মুসলিম ফেরিওয়ালা রবিউল শেখকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিযুক্ত করে তীব্র অপমান ও হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বিক্রম সিং রাজপুত

ভিডিওতে দেখা যায়, বৈশালীর রাস্তায় মাথায় করে কম্বল বিক্রি করছিলেন রবিউল শেখ। হঠাৎ বিক্রম সিং রাজপুত তার কাছে এসে আধার কার্ড দেখাতে বলেন। রবিউল জানান, তার আধার কার্ড ঘরে রাখা আছে। এই কথা শুনেই বিক্রম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি রবিউলের বাংলা উচ্চারণের অজুহাতে তাকে বাংলাদেশি বলে অভিহিত করেন। “তুমি বাংলাদেশি, এখানে কী করছ? তোমার মতো লোকেরা এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে,” এমন কথা বলে তিনি তীব্র গালাগালি শুরু করেন। রবিউল বারবার বলার চেষ্টা করেন যে তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং তার কাছে সমস্ত কাগজপত্র আছে, কিন্তু বিক্রম কোনো কথা শোনেননি।উত্তেজিত হয়ে বিক্রম বলেন, “পুলিশকে ডাকব, তোমাকে ধরিয়ে দেব। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, এখানে তোমরা ঘুরে বেড়াবে?” তিনি রবিউলকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অপমান করতে থাকেন এবং পুলিশে অভিযোগ করার হুমকি দেন। রবিউল ভয়ে ও অসহায়তায় চুপ করে থাকেন।

পুরো ঘটনাটি কয়েকজন স্থানীয়ের মোবাইলে ধরা পড়ে, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনাটি গত ১৭ জানুয়ারির একটি ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। ওই দিনও বৈশালীতে বিক্রম সিং রাজপুত ও তার সঙ্গীরা এক বৃদ্ধ মুসলিম ফেরিওয়ালাকে মারধর করেন। তারা বৃদ্ধের আধার কার্ড দেখে ‘নকল’ বলে দাবি করেন এবং বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অজুহাতে হিংসাত্মক আচরণ করেন। সেই ভিডিওতেও দেখা যায়, তারা বৃদ্ধকে মাটিতে ফেলে লাথি-ঘুষি মারছেন এবং অশ্লীল গালাগালি দিচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে স্পষ্ট ঘৃণামূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) বলে অভিহিত করেছেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং অ্যাক্টিভিস্টরা বিহার পুলিশকে ট্যাগ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। টিম রাইজিং ফ্যালকন, মহম্মদ জুবায়েরসহ অনেকে এই ঘটনাকে “সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের চরম উদাহরণ” বলে মন্তব্য করেছেন।বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রতি এমন সন্দেহ ও হয়রানি বিহার, ওড়িশা, অসমসহ বিভিন্ন রাজ্যে বেড়ে চলেছে। অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তির খবরের প্রভাবে এই ধরনের ভিজিলান্টে (স্বয়ংসেবক) আচরণ বাড়ছে।

যদিও আধার কার্ড, ভোটার আইডি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এই লোকেরা সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করছেন।বৈশালী পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। অভিযুক্ত বিক্রম সিং রাজপুতের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে #JusticeForRabiulSheikh এবং #StopHateCrimes ট্রেন্ড। অনেকে মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির উপর আঘাত।এই ঘটনা দেশের সামনে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে—কোনো সাধারণ নাগরিকের কি অধিকার আছে অন্য নাগরিকের পরিচয়পত্র যাচাই করার? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কি পুলিশের নয়? বিহার সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া। অন্যথায় এই ধরনের হয়রানি আরও বাড়তে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিপন্ন হতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/nation/vikram-singh-harasses-rabiul-sheikh/feed/ 0 1695
ওড়িশায় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতার উপর হামলা: সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack-2/ https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack-2/#comments Sat, 24 Jan 2026 06:48:50 +0000 https://banglakal.com/?p=1682 ওড়িশা : সম্প্রতি ওড়িশায় একটি ঘটনা ঘটেছে যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ওড়িশার কোনো এক স্থানে ডানপন্থী দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করে। তাঁকে জোর করে আধার কার্ড দেখাতে বলা হয়, ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয় এবং ওড়িশা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। না হলে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জন্ম নেয়।এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করেন ওড়িশার কংগ্রেস নেতা ও সাংবাদিক অমিয় পাণ্ডব। তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) অ্যাকাউন্ট@AmiyaPandav থেকে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি এই পোস্টটি করা হয়। পোস্টে তিনি লেখেন যে, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় এটি নতুন প্রবণতা হয়ে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায় কীভাবে কয়েকজন যুবক ওই বিক্রেতাকে ঘিরে ধরে অপমান করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার লাইক, রিপোস্ট ও কমেন্ট পায়। অনেকে এটিকে সাম্প্রদায়িকতার চরম উদাহরণ বলে অভিহিত করেন।এই ধরনের ঘটনা ওড়িশায় এটাই প্রথম নয়।

গত কয়েক বছরে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে। পূর্বে কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের, বিশেষ করে বাংলা বা বাংলাদেশি বলে সন্দেহ হলে, তাদের উপর আক্রমণ বা হয়রানি করা হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেন যে, এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় বা পক্ষপাতদুষ্ট। এর ফলে দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিকরা, যারা জীবিকার জন্য ওড়িশায় আসেন, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এই ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ওড়িশায় বিজেপি সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতা, যিনি সম্ভবত পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তাঁকে এভাবে অপমান করা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমাজে বিভাজনের একটি বিষাক্ত বার্তা। এটি দেখিয়ে দেয় যে, কীভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।সমাজে এই ঘটনার প্রভাব ব্যাপক। একদিকে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছেন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, কিছু লোক এটিকে সমর্থন করে বলছেন যে, ‘বহিরাগতদের’ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার

এর ফলে সামাজিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে, অনেকে পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভারতের সংবিধান যে সমতা, স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তা রক্ষা করতে হলে সকলের সচেতনতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। দরিদ্র মানুষের উপর এমন অত্যাচার শুধু তাঁদের জীবনকে বিপন্ন করে না, বরং দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন ঘটনা বারবার ঘটলে সমাজে অবিশ্বাস ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

]]>
https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack-2/feed/ 1 1682
ওড়িশায় বাঙালি মুসলিম বিক্রেতার উপর হামলা: একটি ঘৃণামূলক অপরাধের ধারাবাহিকতা https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack/ https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack/#respond Sat, 24 Jan 2026 06:41:07 +0000 https://banglakal.com/?p=1679 ওড়িশা : সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ওড়িশা রাজ্যে বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিক ও বিক্রেতাদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটেছে জাজপুর জেলায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালি মুসলিম বিক্রেতাকে স্থানীয় লোকজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ করে মারধর করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আক্রমণকারীরা তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে, আধার কার্ড দেখাতে বাধ্য করছে এবং ‘জয় শ্রী রাম‘ ধ্বনি দিতে বলছে। এই হামলা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।এই ধরনের ঘটনা একক নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওড়িশায় অন্তত চারটি অনুরূপ হামলার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্বলপুর জেলায় একজন ১৯ বছরের বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে লিঞ্চ করে হত্যা করা হয়আরেকটি ঘটনায় মিদনাপুরের কাছে একজন ৩৫ বছরের বিক্রেতাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এছাড়া হুগলি জেলার একজন মুসলিম কম্বল বিক্রেতাকে গ্রামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় আক্রমণকারীরা প্রায়শই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ অভিযোগ তুলে হামলা চালায়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন।এই ঘটনার খবর প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ওড়িশার স্থানীয় সাংবাদিক ও কংগ্রেস নেতা অমিয় পাণ্ডব (@AmiyaPandav) তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওসহ পোস্ট করে এই হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিজেপি শাসনকালে ওড়িশায় এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠেছে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ জুবায়েরের মতো সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিরোধী নেতা এটি শেয়ার করে জাতীয় মাত্রায় আলোচনা তৈরি করেন।এই ঘটনাগুলির সমাজে গভীর প্রভাব পড়েছে। বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা ওড়িশায় কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে কাজ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন। এতে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে #HateCrime ও #StopMobViolence-এর মতো হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলি বিজেপি সরকারের উপর দোষারোপ করে বলেছে যে এই ঘৃণামূলক প্রচারণা রাজনৈতিকভাবে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি সহ পশ্চিমবঙ্গের নেতারা এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।এই ঘটনাগুলি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের উপর আঘাত। ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ করা দেশের সংবিধানবিরোধী। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ধরনের হামলা বন্ধ করা। অন্যথায় এই ঘৃণার চক্র আরও বিস্তৃত হবে, যা সমাজের জন্য মারাত্মক।

]]>
https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-attack/feed/ 0 1679
ওড়িশায় বাঙালি মুসলিম শ্রমিকদের উপর হামলা: একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-workers-attack/ https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-workers-attack/#comments Sat, 24 Jan 2026 06:17:37 +0000 https://banglakal.com/?p=1676 ভারতের ওড়িশা রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ভুবনেশ্বর শহরে এমনই একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দুজন বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম শ্রমিককে স্থানীয় লোকজন গরুর মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ার অভিযোগে প্রচণ্ড মারধর করে এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ভুক্তভোগীদের মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে, এবং ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খাবারের প্যাকেটগুলি হামলার কারণকে নির্দেশ করে। জয়দেব নিউজের একটি ভিডিওতে আহত শ্রমিকের সাক্ষাৎকার, পুলিশের উপস্থিতি এবং অ্যাম্বুলেন্সের দৃশ্য ধরা পড়েছে। এই ঘটনা ওড়িশায় অভিবাসীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার একটি উদাহরণ।

এই ঘটনার খবর প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন ওড়িশার কংগ্রেস নেতা ও সাংবাদিক অমিয় পাণ্ডব (@AmiyaPandav)। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে লেখেন, “Another Attack on Muslim in Odisha!! Two Bengali Muslim Migrant Workers were beaten brutally and handed over to Police on the allegation of taking beef biryani in Bhubaneswar, Capital city of Odisha!” তাঁর পোস্টে ভিডিও সংযুক্ত ছিল এবং বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকার ও সাংবাদিকদের ট্যাগ করা হয়। এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অমিয় পাণ্ডবের এই পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি জাতীয় স্তরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।এই ঘটনা একক নয়, বরং ২০২৫ সালের শেষ থেকে ওড়িশায় অভিবাসী শ্রমিকদের উপর হামলার একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সাম্বলপুরে একজন বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে লিঞ্চ করা হয়। আরেকটি ঘটনায় বালাসোরে রেলস্টেশনে বাঙালি শ্রমিকদের ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ধেনকানালে একজন খ্রিস্টান পাস্টরকে গরুর গোবর খাওয়ানো এবং জোর করে জয় শ্রী রাম বলানো হয়

এছাড়া হুগলির একজন মুসলিম কম্বল বিক্রেতাকে আধার কার্ড দেখাতে বাধ্য করে মারধর করা হয়। এসব ঘটনায় বজরং দল, বিজেপি সমর্থক ও স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।ওড়িশায় গরুর মাংস নিষিদ্ধ হলেও রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গরু বলি ও গরুর মাংস খাওয়ার প্রথা প্রচলিত।

নিয়ামগিরির ডোঙ্গরিয়া কন্ধ, করাপুট-গঞ্জামের সানা পরজা প্রভৃতি আদিবাসী গোষ্ঠী এই প্রথা পালন করে। কিন্তু অভিবাসী মুসলিম শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ না করে তাদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। এতে বোঝা যায় যে, এটি শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং জাতিগত ও অভিবাসন-বিরোধী উগ্রবাদের ফল।সমাজে এই ঘটনাগুলির প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক। বাঙালি মুসলিম শ্রমিকরা ভয়ে কাজ ছেড়ে পালাচ্ছেন, অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। ওড়িশার অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও এই সহিংসতা তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়ছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসুরক্ষার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ঘটনাগুলির নিন্দা করেছে এবং পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে।এই ধরনের ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অভিবাসী শ্রমিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন। সমাজে সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় এই সহিংসতার চক্র আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের সামাজিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

]]>
https://banglakal.com/nation/odisha-muslim-workers-attack/feed/ 2 1676
আবার ওড়িশায় বয়স্ক মুসলিম কম্বল বিক্রেতার উপর হামলা: একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা https://banglakal.com/nation/muslim-vendor-attack/ https://banglakal.com/nation/muslim-vendor-attack/#comments Sat, 24 Jan 2026 05:58:55 +0000 https://banglakal.com/?p=1673 ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১) নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওড়িশা রাজ্যে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা এই মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘনের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক বয়স্ক মুসলিম কম্বল বিক্রেতাকে বিজেপি সমর্থক কয়েকজন যুবক লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করছে। অভিযোগ, তাঁর কাছে আধার কার্ড না থাকায় এবং তিনি বাংলাভাষী মুসলিম হওয়ায় তাঁকে এই নৃশংস আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং রাজ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, অসহিষ্ণুতা এবং সংখ্যালঘু-বিরোধী মনোভাবের একটি ভয়াবহ প্রতিফলন।ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, প্রায় ৬০ বছর বয়সী ওই বিক্রেতা রাস্তার ধারে কম্বল বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে আধার কার্ড দেখাতে বলে। তিনি মোবাইলে সফট কপি দেখাতে চাইলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং “আসল আধার কার্ড” দাবি করে। না পাওয়ায় তারা লাঠি দিয়ে তাঁকে মারতে শুরু করে। একই সঙ্গে তাঁকে “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয় এবং রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা তাঁকে “বাংলাদেশি” বলে অভিহিত করে এবং বলে, “ওড়িশায় আসা উচিত নয়, কলকাতায় ফিরে যাও।”

এই ঘটনা ওড়িশার কোনও একটি গ্রামীণ এলাকায় ঘটেছে বলে জানা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কংগ্রেস নেতা আমিয়া পান্ডব সহ অনেকে এটিকে বিজেপি-শাসিত রাজ্যের সংখ্যালঘু-বিরোধী মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।এই ধরনের হামলার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ওড়িশায় বাংলাভাষী মুসলিম অভিবাসী শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীদের প্রতি সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকে তাদের “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” বলে মনে করেন, যা রাজনৈতিকভাবে উস্কানি দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, আধার কার্ডকে জাতীয়তার প্রমাণ হিসেবে দেখার ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও আধার কোনও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তৃতীয়ত, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির প্রভাবে স্থানীয় যুবকরা নিজেদের “পাহারাদার” ভেবে স্বেচ্ছায় এ ধরনের কাজে লিপ্ত হচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে ওড়িশায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।এই হামলার প্রাথমিক দায় অভিযুক্ত হামলাকারীদের। কিন্তু গভীর দায় রয়েছে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের। বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় সংখ্যালঘু-বিরোধী ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বারবার উঠেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে ভোটের হাতিয়ার করে, তখন এ ধরনের ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুল তথ্য ও উস্কানিমূলক পোস্টও এই পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে।এই ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রথমেই দ্রুত পুলিশি তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সচেতনতা অভিযান চালিয়ে জানাতে হবে যে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় এবং অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্কুল-কলেজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা জোরদার করা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।ওড়িশা সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে এ ধরনের ঘটনার তদন্ত করা।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেল্পলাইন চালু করা যেতে পারে। অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য পরিচয়পত্র সহজলভ্য করা এবং স্থানীয় পুলিশকে সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। রাজ্য সরকারের উচিত স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে বলা যে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসা সহ্য করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে জাতীয় স্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা নিতে পারে।এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভারতের বৈচিত্র্যই তার শক্তি। কিন্তু সেই বৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে সকলের সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। অন্যথায় এমন ঘটনা আরও বাড়বে এবং দেশের সামাজিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

]]>
https://banglakal.com/nation/muslim-vendor-attack/feed/ 3 1673
ওড়িশায় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর আক্রমণ: পাস্টরকে গোবর খাওয়ানো এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান করতে বাধ্য করা https://banglakal.com/nation/hindutva-attack-odisha/ https://banglakal.com/nation/hindutva-attack-odisha/#comments Wed, 21 Jan 2026 06:25:26 +0000 https://banglakal.com/?p=1634 ওড়িশা, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি – দেশজুড়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা বাড়তে থাকায়, ওড়িশার ধেনকানাল জেলার পারজাং গ্রামে একটি নতুন ঘটনা ঘটেছে। বজরং দলের সদস্যসহ হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রায় ৪০ জনের একটি দল পাস্টর বিপিন বিহারী নাইককে নির্মমভাবে মারধর করে, গোবর খাওয়ায় এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। পাস্টরের স্ত্রী বন্দনা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “আমার স্বামীকে হনুমান মন্দিরে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার হাত পিছনে রডের সঙ্গে বাঁধা ছিল। তাকে গোবর খাওয়ানো হয়েছে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। লোকেরা তাকে চড় মারছিল এবং ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করছিল।”ঘটনাটি ঘটেছে একটি প্রার্থনা সভায়, যেখানে পাস্টর নাইক, তার স্ত্রী এবং গ্রামের মাত্র সাতটি খ্রিস্টান পরিবার উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামে খ্রিস্টানদের উপর জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ তুলে দলটি ঘরে ঢুকে সকলকে মারধর করে। পাস্টরকে টেনে বের করে নিয়ে গিয়ে গ্রামে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, লাল সিঁদুর মাখিয়ে, চটির মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। পুলিশ দুই ঘণ্টা পরে এসে উদ্ধার করে, কিন্তু তাৎক্ষণিক চিকিত্সা না দিয়ে পুলিশ স্টেশনে বসিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ দায়ের করা হলেও, গ্রামের সর্পঞ্চের অভিযোগে পাস্টরের বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তরণের কাউন্টার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।পাস্টরের স্ত্রী বলেছেন, “আমরা দুজনেই গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি। তিনি ঘুমাতে পারছেন না, ওষুধ খাচ্ছেন। কিন্তু আমি গর্বিত যে তিনি কোনো মারধরের পরেও ‘জয় শ্রী রাম’ বলেননি।” পরিবার এবং অন্যান্য খ্রিস্টান পরিবারগুলি এখন আত্মীয়দের বাড়িতে লুকিয়ে আছে, কারণ গ্রামবাসীরা তাদের বয়কট করেছে এবং বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।ওড়িশায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের আক্রমণ বাড়ছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর অন্যান্য অনুরূপ ঘটনাহিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি (বিশেষ করে বজরং দল, গৌরক্ষক দল ইত্যাদি) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান) উপর আক্রমণের ঘটনায় প্রায়ই গোবর খাওয়ানোর মতো অপমানজনক শাস্তি ব্যবহার করেছে।

এসব ঘটনায় সাধারণত অভিযোগ উঠে যে পুলিশ অনেক সময় দেরি করে বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাউন্টার কেস করে। এই ঘটনাগুলি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ‘গৌরক্ষা’র নামে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। দেশজুড়ে খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের আক্রমণ ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং সংবিধানের মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/hindutva-attack-odisha/feed/ 1 1634