শিক্ষা – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Tue, 21 Jul 2026 09:52:47 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 শিক্ষা – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 সংসদ অভিযানে ধুন্ধুমার! আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা https://banglakal.com/nation/chaos-in-parliament-march-health-minister-jp-nadda-rushes-to-hospital-to-see-the-injured-rahul-priyanka-also-arrive/ https://banglakal.com/nation/chaos-in-parliament-march-health-minister-jp-nadda-rushes-to-hospital-to-see-the-injured-rahul-priyanka-also-arrive/#respond Tue, 21 Jul 2026 09:52:02 +0000 https://banglakal.com/?p=2945 নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই: সোমবার সিজেপি (CJP)-র সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে দেশের রাজধানী। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে হওয়া এই প্রবল খণ্ডযুদ্ধে দু’পক্ষেরই বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সেই আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর তিনি এদিন সোজা পৌঁছন নয়াদিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন আহতদের পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সেখানে সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপে আহত হওয়া প্রতিবাদীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন তিনি। তাদের চিকিৎসা কেমন চলছে এবং আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের কাজ সেরে তিনি অবিলম্বে লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং আহত প্রতিবাদীদের জন্য প্রদান করা চিকিৎসা পরিষেবার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।

আহত প্রতিবাদীদের দেখতে এদিন হাসপাতালে কেবল সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরাই যাননি, বরং বিরোধীদের শীর্ষ নেতৃত্বকেও দেখা গেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও এদিন রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে উপস্থিত হন। তারা আহত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পাশে থাকার বার্তা দেন।


সোমবার সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিমুখে ডাকা এই প্রতিবাদ মিছিল আচমকাই অত্যন্ত হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে যে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ জন আন্দোলনকারীও এই সংঘর্ষের জেরে জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, প্রতিবাদীরা আচমকাই পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে জোরপূর্বক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর এবং অন্যান্য ভারী বস্তু ছুঁড়তে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, পুলিশ ও সরকারি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিও ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কনট প্লেস এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিটে ব্যাপক ভাঙচুর ও পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
**সিজেপি-র একগুচ্ছ দাবি ও সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা**
সোমবারের এই চরম অস্থিরতার মাঝেই সিজেপি-র একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেই বৈঠকে তারা সরকারের সামনে একাধিক জোরালো দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ। এছাড়াও, যে সমস্ত নিট (NEET) পরীক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এর সঙ্গেই জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি তোলা হয়, যিনি বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতদিন না শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততদিন তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলতে থাকবে। অন্যদিকে, রাজ্যসভার দলনেতা হিসেবে জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, প্রতিবাদীদের তরফ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তিনি আন্দোলনকারীদের তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনশনে বসেছিলেন প্রখ্যাত জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিমের কড়া পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। সফদরজং হাসপাতালের সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, তার শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা এখনও বিপদজনকভাবে কম। তার সিরাম পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.২ mEq/L রেকর্ড করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে যে, তাকে ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি এবং মুখে খাওয়ার পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি এখনও ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (শিরায় দেওয়া তরল) এবং গ্লুকোজ গ্রহণ করতে অস্বীকার করছেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/chaos-in-parliament-march-health-minister-jp-nadda-rushes-to-hospital-to-see-the-injured-rahul-priyanka-also-arrive/feed/ 0 2945
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে কটাক্ষ, আরএসএস-কে ‘ক্ষমাভিক্ষা’র খোঁচা! সোশ্যাল মিডিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক https://banglakal.com/nation/sarcasm-over-education-ministers-resignation-mercy-petition-jab-at-rss-massive-controversy-surrounds-mahua-moitras-explosive-post-on-social-media/ https://banglakal.com/nation/sarcasm-over-education-ministers-resignation-mercy-petition-jab-at-rss-massive-controversy-surrounds-mahua-moitras-explosive-post-on-social-media/#respond Tue, 21 Jul 2026 09:09:13 +0000 https://banglakal.com/?p=2942 নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই: দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর আদর্শগত অবস্থান নিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার সকালে করা তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এবং নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেখা যাচ্ছে, মহুয়া মৈত্র সরাসরি দেশের শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগ না করার পেছনের কারণ হিসেবে আরএসএস-এর শিক্ষাকে কটাক্ষ করেছেন। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং পক্ষে-বিপক্ষে বহু নেটিজেন তাঁদের মতামত ব্যক্ত করতে শুরু করেন।
মহুয়া মৈত্র তাঁর অফিশিয়াল এবং ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরাজিতে লিখেছেন, “হয়তো, শুধুই হয়তো শিক্ষামন্ত্রী জানেন না কীভাবে পদত্যাগপত্র লিখতে হয়… আরএসএস কেবল শেখায় কীভাবে ক্ষমাভিক্ষার আর্জি (mercy petitions) লিখতে হয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা এবং তাঁর পদে বহাল থাকা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনি অন্যদিকে আরএসএস-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েও তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছেন। ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা ১২ মিনিটে করা এই পোস্টটি ইতিমধ্যেই ৬৮.৬ হাজার ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। পোস্টটিতে প্রায় ৮.৭ হাজার লাইক, ১.৩ হাজার রিটুইট (বা রিপোস্ট) এবং ৬৩টি বুকমার্ক পড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পোস্টে মন্তব্যের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “Only some accounts can reply”, অর্থাৎ কেবল নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেই এই পোস্টে সরাসরি মন্তব্য করা যাবে।


নেটিজেনদের ক্ষোভ এবং শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
মহুয়া মৈত্রের এই পোস্টের নিচে যে প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো (Relevant replies) দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে ‘আদিত্য’ (Adithya) নামের একজন ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীর মন্তব্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আদিত্য তাঁর মন্তব্যে লিখেছেন, “শিক্ষামন্ত্রক সামলানোর জন্য তাঁর কী যোগ্যতা রয়েছে?” তিনি আরও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের কী করুণ অবস্থা, যেখানে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স-এর স্নাতকরা প্রতিবাদ করছে, আর ওড়িশা থেকে আসা একজন… আমাদের শিক্ষামন্ত্রী।” মন্তব্যটিতে তিনি অত্যন্ত কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন এবং হতাশা ব্যক্ত করে ভগবান, আল্লাহ ও খ্রিস্টের কাছে প্রার্থনা করেছেন। এই মন্তব্যটি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একাংশের তীব্র অসন্তোষকে তুলে ধরে।


পাল্টা আক্রমণ এবং ইতিহাসের পাঠ দিয়ে জবাব
অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের এই ‘মার্সি পিটিশন’ বা ক্ষমাভিক্ষার আর্জির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ‘অঙ্কিত সিনহা’ (Ankit Sinha) নামের অপর এক ভেরিফায়েড ব্যবহারকারী। তিনি তাঁর মন্তব্যে ইতিহাস টেনে মহুয়া মৈত্রকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। অঙ্কিত লিখেছেন, “আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে, সাভারকরের পিটিশন দেওয়ার অনেক বছর পর। তাই ‘আরএসএস ক্ষমাভিক্ষা করতে শেখায়’ এই মন্তব্যটি ঐতিহাসিকভাবে নিরক্ষর (historically illiterate)।” অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠার সময়ের সাথে সাভারকরের ক্ষমা প্রার্থনার সময়ের কোনো ঐতিহাসিক মিল নেই, তাই মহুয়ার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


সাংসদ পদ খারিজের প্রসঙ্গ টেনে ব্যক্তিগত আক্রমণ
অঙ্কিত সিনহা কেবল ইতিহাস টেনেই থেমে থাকেননি, তিনি মহুয়া মৈত্রকে তাঁর অতীত নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি তাঁর মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশে লিখেছেন, “আর মহুয়া মৈত্র, অনৈতিক আচরণের (unethical conduct) জন্য আপনাকে লোকসভা থেকে ‘বহিষ্কার’ (expelled) করা হয়েছিল। আর এখন আপনি অন্যদের পদত্যাগ সম্পর্কে জ্ঞান দিচ্ছেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টতই মহুয়া মৈত্রের নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিতর্কটিকে একটি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন।

” এই সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া আদানপ্রদানটি বর্তমান রাজনৈতিক জলঘোলার একটি তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে, যেখানে পদত্যাগ, যোগ্যতা এবং ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার লড়াই সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় উন্মুক্ত হয়েছে।


বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/sarcasm-over-education-ministers-resignation-mercy-petition-jab-at-rss-massive-controversy-surrounds-mahua-moitras-explosive-post-on-social-media/feed/ 0 2942
অমুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘৃণার আগুন নেভানোর ডাক আরশাদ মদানির https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/ https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2908 লখনউ, ১৯ জুলাই: দেশে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা এবং পারস্পরিক বিদ্বেষের আবহে সম্প্রীতির এক জোরালো বার্তা দিলেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মদানি। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে জমিয়ত উলামা উত্তরপ্রদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিন্দু-মুসলিম ইত্তেহাদ কনফারেন্স’ বা সম্প্রীতি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন অন্যান্য ধর্মের মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ— ভালোবাসা ও সহনশীলতার বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “ঘৃণার আগুন কখনও ঘৃণা দিয়ে নেভানো যায় না, তা কেবল ভালোবাসা, স্নেহ এবং ভ্রাতৃত্বের জল দিয়েই নেভানো সম্ভব”।

সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মৌলানা মদানি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি একটি বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, মুসলিমদের নিয়ে সমাজে যে ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচার বা ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা দূর করার দায়িত্ব সম্প্রদায়ের নিজেদেরই নিতে হবে। এই লক্ষ্যে তিনি পরামর্শ দেন, প্রতি বছর অন্তত একবার স্থানীয় মাদ্রাসাগুলিতে অমুসলিম প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। মাদ্রাসায় আসলে কী শেখানো হয়, মুসলিমদের জীবনধারা, নীতি ও বিশ্বাস কেমন— তা যদি অমুসলিম ভাইদের সামনে খোলামেলাভাবে তুলে ধরা যায়, তবে বহুলাংশে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বের অবসান ঘটবে।

দেশে বর্তমান সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত প্রধান। অতীতে কংগ্রেস বা অন্যান্য দলের সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেই সময়েও মুসলিমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু কখনও সরাসরি ইসলাম ধর্ম বা ধর্মীয় নীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন কেবল মুসলিম সমাজকেই নিশানা করা হচ্ছে না, বরং তাদের ধর্ম, বিশ্বাস এবং মৌলিক নীতিগুলির ওপরও ক্রমাগত আঘাত আসছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তিনি প্রত্যেকটি প্রকৃত দেশপ্রেমিক ভারতীয় নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেশে একটি ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করা যায়।

আয়োজিত এই সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৌলানা মদানি একাধিক সমসাময়িক বিষয়ে মুখ খোলেন। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৌলানা মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ ভেঙে ফেলার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি জওহর বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত, এটি ভেঙে ফেলা সম্পূর্ণ ভুল”। তিনি যুক্তি দেন, যদি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও আইনি ত্রুটি বা আনুষ্ঠানিক খামতি থেকেও থাকে, তবে সরকার জরিমানা করতে পারে, কিন্তু হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এর পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ জড়িত থাকায় বিষয়টিকে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সমাধান করা দরকার। অন্যদিকে, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, যদি উভয় পক্ষই সংলাপে বসতে রাজি না হয়, তবে জোর করে কিছু করা সম্ভব নয়।

লখনউয়ের অটল বিহারী বাজপেয়ী সায়েন্টিফিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মৌলানা মদানি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বারাণসীর সংকট মোচন মন্দিরের মহন্ত তথা আইআইটি বারাণসীর অধ্যাপক বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র, প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং সহ খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং শিখ সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা। প্রত্যেকেই একযোগে দেশের প্রাচীন মিশ্র সংস্কৃতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/feed/ 0 2908
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি নুশলি ওয়াদিয়া ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ছিলেন। https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/ https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/#respond Fri, 17 Jul 2026 07:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2848 কলকাতা, ১৭ জুলাই: আম আদমি পার্টি (AAP)-র একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই পোস্টে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’র অভিযোগ এনে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি নুশলি ওয়াদিয়া ভারতীয় জনসংঘের (যা বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি) অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি শাসনের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও (PMO) তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল বলে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এই রাজনৈতিক তরজার আবহে ভারতের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক বিনয় সীতাপতির লেখা ‘জুগলবন্দি’ (Jugalbandi) বইটির ঐতিহাসিক তথ্য সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, পার্সি শিল্পপতি নুশলি ওয়াদিয়ার সঙ্গে জনসংঘ এবং পরবর্তীকালে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক ছিল।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নুশলি ওয়াদিয়া মাতৃসূত্রে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি হলেও, পিতৃসূত্রে তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পার্সি শিল্পপতি পরিবারের সন্তান। বিনয় সীতাপতির বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশকে বাবার মৃত্যুর পর নুশলি ওয়াদিয়া পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন এবং সেই সময় থেকেই তিনি আরএসএস (RSS) ও জনসংঘের ভাবধারার প্রতি আকৃষ্ট হন।

তৎকালীন সময়ে ভারতীয় জনসংঘ যখন রাজনৈতিকভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করছিল, তখন ওয়াদিয়া তাদের পাশে এসে দাঁড়ান। সত্তরের দশক থেকে তিনি জনসংঘকে বিপুল পরিমাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে শুরু করেন। বইটিতে দাবি করা হয়েছে, তিনি শুধুমাত্র দলীয় তহবিলেই অনুদান দেননি, বরং দলের পূর্ণ সময়ের কর্মীদের জন্য মাসিক ভাতার (Stipend) ব্যবস্থাও করেছিলেন।

আম আদমি পার্টির পোস্ট করা ভিডিওটিতে মূলত ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর একটি প্যানেল আলোচনার অংশ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সীতাপতির এই বইটি নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হয়। আলোচনায় ওয়াদিয়াকে জনসংঘ ও বিজেপির ‘মূল অর্থদাতা’ (Original Funder) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর্থিক সম্পর্কের সমীকরণটি কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ওয়াদিয়ার সঙ্গে জনসংঘের তৎকালীন অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নানাজী দেশমুখের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানীর মতো বিজেপির শীর্ষ সারির নেতাদের সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্তরে গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষে বাজপেয়ী সরকার যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে, তখন ওয়াদিয়ার এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে (PMO) তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আপ-এর এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপির চেনা জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। বিজেপি সাধারণত জিন্নাহর আদর্শ বা পাকিস্তানের নাম নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে থাকে। সেই জায়গায় জিন্নাহর নিজের বংশধরের কাছ থেকে বিজেপির পূর্বসূরিদের আর্থিক সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনে আপ এটিকে বিজেপির ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় রাজনীতির এই অধ্যায়টি আসলে আদর্শগত বৈরিতার আড়ালে থাকা এক জটিল পারস্পরিক ও পারিবারিক মেলবন্ধনের চিত্র প্রদর্শন করে। নুশলি ওয়াদিয়া নিজে কখনো মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং ভারতের মাটিতে একজন প্রথম সারির পার্সি শিল্পপতি হিসেবেই তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তা সত্ত্বেও, জিন্নাহর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রটিকে হাতিয়ার করে বর্তমান রাজনীতিতে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলার এই কৌশল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/feed/ 0 2848
‘চতুর ভুল বলেছিল!’ ৩ ইডিয়টস-এর ফুংসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি সোনাম ওয়াংচুককে দেখে অনুপ্রাণিত নয়, খোলসা করলেন আমির খান https://banglakal.com/nation/chatur-was-wrong-aamir-khan-clarifies-3-idiots-phunsukh-wangdu-character-was-not-inspired-by-sonam-wangchuk/ https://banglakal.com/nation/chatur-was-wrong-aamir-khan-clarifies-3-idiots-phunsukh-wangdu-character-was-not-inspired-by-sonam-wangchuk/#respond Fri, 17 Jul 2026 06:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2845 লন্ডন, ১৭ জুলাই: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলে আসা এক বহুল প্রচলিত ধারণায় এবার ইতি টানলেন বলিউড তারকা আমির খান。 ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘৩ ইডিয়টস’ (3 Idiots)-এর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু’ (Rancho) নাকি লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়। সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত এক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শক ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বয়ং আমির খান এই বড়সড় তথ্যটি খোলসা করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমানে দিল্লিতে চলমান সোনাম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে (BFI) আয়োজিত ১৭তম ‘লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমির খান। সেখানে তাঁর কালজয়ী সিনেমা ‘লগান’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের পর একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন তিনি। সেখানেই এক দর্শক আমির খানকে প্রশ্ন করেন যে, লদাখের সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করেই ‘৩ ইডিয়টস’-এর মূল চরিত্রটি তৈরি হয়েছিল কি না।

প্রশ্নের উত্তরে আমির খান মৃদু হেসে সরাসরি জানান, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আমির বলেন, “না, আসলে তা সত্য নয়। এটি একটি মস্ত বড় ভুল বোঝাবুঝি। যখন আমরা ‘৩ ইডিয়টস’ ছবিটির শুটিং করছিলাম, তখন আমি তো দূরস্থান, ছবির দুই লেখক রাজকুমার হিরানি বা অভিজাত জোশী—আমরা কেউই সোনাম ওয়াংচুক নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব বা তাঁর কাজ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।”

সম্প্রতি ‘৩ ইডিয়টস’ চলচ্চিত্রে ‘চতুর রামালিঙ্গম’ চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা ওমি বৈদ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন。 সেখানে ওমি দাবি করেন যে, আমির খানের ফুংসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি বাস্তব জীবনের লদাখি সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি। ওমি বৈদ্যের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কৌতুকের সুরে আমির খান বলেন, “আমিও সম্প্রতি চতুরের ওই ভিডিওটি দেখেছি। চতুর আসলে সম্পূর্ণ ভুল বলেছে। হয়তো ও মনে মনে এমনটাই ভাবত, কিন্তু বাস্তব তথ্য হচ্ছে আমরা কেউ তখন সোনামজিকে চিনতাম না।”

আমির খান আরও মনে করিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে স্বয়ং সোনাম ওয়াংচুকও অতীতে বহুবার স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে সিনেমাটির ওই চরিত্রটি তাঁর জীবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। আমির বলেন, “সোনামজিকে সম্মান জানানোর জন্য বা তাঁর মহৎ কাজকে কুর্নিশ করার জন্য কোনো সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খোঁজার প্রয়োজন নেই。 তিনি নিজের ক্ষেত্রেই একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ。”

গত ২৮ জুন থেকে নিট (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সোনাম ওয়াংচুক। শুক্রবার তাঁর এই অনশন আন্দোলন ২০তম দিনে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লন্ডনের ওই অনুষ্ঠানে সোনাম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের উদ্বেগ চেপে রাখতে পারেননি বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’。 আমিরের কথায়, “আমরা সকলেই ওঁর শরীর ও জীবন নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করছি এই অনশনের যেন একটি সুষ্ঠু ও ভালো সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে। আমরা সবাই প্রার্থনা করছি যাতে তিনি দ্রুত অনশন ভঙ্গ করেন এবং নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন।”

ককচোর জনতা পার্টির (CJP) ব্যানারে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছেন ওয়াংচুক। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে এবং সেই দিনই তিনি ‘চলো সংসদ’ শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অনশনে ইতিমধ্যেই বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিনোদন জগতের তারকারা উদ্বেগ প্রকাশ করে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন, যার সঙ্গে এবার যুক্ত হলেন আমির খানও।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/chatur-was-wrong-aamir-khan-clarifies-3-idiots-phunsukh-wangdu-character-was-not-inspired-by-sonam-wangchuk/feed/ 0 2845
অনশনমঞ্চে দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ আদালতের: সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি হাইকোর্ট https://banglakal.com/nation/english-translation-of-headline-court-orders-immediate-medical-aid-for-hunger-strike-delhi-high-court-deeply-concerned-over-sonam-wangchuks-health/ https://banglakal.com/nation/english-translation-of-headline-court-orders-immediate-medical-aid-for-hunger-strike-delhi-high-court-deeply-concerned-over-sonam-wangchuks-health/#respond Thu, 16 Jul 2026 12:32:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2827 নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই: লাদাখের খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকারী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগ এবার পৌঁছাল দেশের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ অলিন্দে। গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরণ অনশনে বসেছেন এই সমাজকর্মী। দীর্ঘ ১৮ দিনেরও বেশি সময় অন্নহীন থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। এই প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) পরিপ্রক্ষিতে আজ দিল্লি হাইকোর্ট অত্যন্ত কড়া ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করল। বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, “যে কোনো নাগরিকের জীবনই অমূল্য”। একই সঙ্গে আদালত কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে প্রতিদিন নিয়মিত চিকিৎসকদের দিয়ে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালতে একটি জরুরি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অবিলম্বে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত নাগরিকের জীবনের অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। শুনানি চলাকালীন বেঞ্চ মন্তব্য করে, অনশনরত কোনো আন্দোলনকারীর জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো নাগরিকের জীবনের সুরক্ষায় প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। হাইকোর্টের এই বেঞ্চ অবিলম্বে সরকারি চিকিৎসকদের একটি দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যারা প্রতিদিন ক্লিনিকে বা অনশনস্থলে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর সরকারের পক্ষে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানিতে অংশ নেন। তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান যে, সরকার এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের সমস্ত নির্দেশিকা ও পর্যবেক্ষণ মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং জানান যে, চিকিৎসকদের পরামর্শ ও রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি রোধে সমস্ত রকম জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বা প্রয়োজনে হাসপাতালে স্থানান্তরের পদক্ষেপ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সরকারি এই আশ্বাসের বিষয়টি আদালত নথিবদ্ধ করে এবং এই মামলার নিষ্পত্তি ঘটায়। তবে এর পাশাপাশি ওয়াংচুকের অনশনস্থলে সার্বক্ষণিক একটি চিকিৎসকদের দল ও প্রয়োজনীয় লাইফ-সাপোর্ট পরিকাঠামো মজুত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, লাদাখের বিশেষ সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ও ষষ্ঠ তপশিলের (Sixth Schedule) মর্যাদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সোনম ওয়াংচুক। নিজের অঞ্চলের পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষায় এর আগেও তিনি একাধিকবার দীর্ঘমেয়াদি অনশন করেছেন। তবে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এই অনশন তাঁর আগের সমস্ত আন্দোলনের চেয়েও মারাত্মক রূপ নিয়েছে, কারণ ইতিমধ্যেই ১৮ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর শরীর চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পেশী ক্ষয়ের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকদের বুলেটিনে জানানো হয়েছে। এই আন্দোলনের তীব্রতা ও ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে, কারণ আদালতের নজরদারির ফলে এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো উদাসীনতা দেখানোর সুযোগ থাকবে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/english-translation-of-headline-court-orders-immediate-medical-aid-for-hunger-strike-delhi-high-court-deeply-concerned-over-sonam-wangchuks-health/feed/ 0 2827
সোনেম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের আর্জি শশী থারুরের, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে বার্তা https://banglakal.com/nation/shashi-tharoor-pens-open-letter-to-jantar-mantar-protesters-urges-sonam-wangchuk-to-end-hunger-strike/ https://banglakal.com/nation/shashi-tharoor-pens-open-letter-to-jantar-mantar-protesters-urges-sonam-wangchuk-to-end-hunger-strike/#respond Thu, 16 Jul 2026 11:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2818 নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই: পরীক্ষা ব্যবস্থায় কারচুপি এবং প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ালেন প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। একই সঙ্গে এই আন্দোলনে শামিল হয়ে আমরণ অনশনরত বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজ সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন তিরুবনন্তপুরমের এই সাংসদ। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ পোস্ট করা একটি খোলা চিঠিতে থারুর আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ যুবপ্রজন্মের এই লড়াইয়ে তাঁরা একা নন, সমগ্র দেশ তাঁদের পাশে রয়েছে। আগামী সোমবার থেকে সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হতে চলায় এই জ্বলন্ত সমস্যাটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক ফোরামে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

যন্তর মন্তরে নিট (NEET) সহ অন্যান্য সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে গত ২৫ দিন ধরে আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনেই গত ২৮ জুন থেকে শামিল হয়ে অনশন শুরু করেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ইতিমধ্যেই তাঁর অনশন ১৮ দিনে পদার্পণ করেছে এবং তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও পেশীর ক্ষয়ের কারণে তাঁর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে থারুর তাঁর খোলা চিঠিতে লিখেছেন, “শ্রদ্ধেয় সোনম ওয়াংচুক-জি-র কাছে আমার আন্তরিক আবেদন— দয়া করে আপনার অনশন ভাঙুন। আপনি এই গোটা দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন, অনশনের মূল উদ্দেশ্য তো এটাই। আগামী দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য ভারতের আপনার কণ্ঠস্বর অত্যন্ত প্রয়োজন”। থারুর আরও যোগ করেন যে, আমরণ অনশন না করে এই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত সংসদে। কারণ আগামী সোমবার থেকে সংসদ চালু হলে সেখানে পড়ুয়াদের এই দুর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা আইনপ্রণেতারা তুলে ধরতে পারবেন।

আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ‘প্রিয় তরুণ বন্ধু’ সম্বোধন করে শশী থারুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি একজন রাজনীতিবিদ বা সাংসদ হিসেবে এই চিঠি লিখছেন না, বরং ভারতীয় যুবপ্রজন্মের বর্তমান সংকট দেখে গভীরভাবে ব্যথিত একজন নাগরিক হিসেবে লিখছেন। নিজের মধ্যবিত্ত পরিবারের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা, স্বচ্ছ ফলাফল এবং স্কলারশিপই ছিল আমাদের মতো পরিবারের সন্তানদের স্বপ্নপূরণের একমাত্র উপায়”।

তিনি ক্ষোভের সাথে জানান যে, যখন এই পরীক্ষা ব্যবস্থার সিঁড়িটি ভেঙে ফেলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় এবং পরীক্ষা বাতিল করা হয়, তখন ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তারা বিকল্প উপায়ে এগিয়ে যায়। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন এবং তাঁদের মা-বাবার ত্যাগ ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আন্দোলনরতদের বার্তা দিয়ে থারুর বলেন, “আপনাদের এই রাগ কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনুশাসনহীনতা নয়। এটি এমন এক প্রজন্মের গভীর যন্ত্রণা, যারা সব নিয়ম মেনে চলেও শেষ পর্যন্ত প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছে”।

দেশের সরকারকে এই সংকটের দিনে একরোখা মনোভাব ত্যাগ করে আলোচনার রাস্তায় হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন শশী থারুর। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনকে উপেক্ষা না করে কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে পড়ুয়াদের সাথে টেবিলে বসা। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের তরুণ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা কোনো দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং এটিই হলো প্রকৃত দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ”।

উল্লেখ্য, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইতিপূর্বেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ একাধিক বিরোধী নেতা তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকী দিল্লি হাইকোর্টে ওয়াংচুককে জোরপূর্বক খাওয়ানোর আবেদন জানিয়ে একটি পিটিশনও দাখিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে থারুরের এই খোলা চিঠি দিল্লির আন্দোলনের পারদ এবং রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাংলার সব খবর ও টাটকা আপডেট পেতে বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/shashi-tharoor-pens-open-letter-to-jantar-mantar-protesters-urges-sonam-wangchuk-to-end-hunger-strike/feed/ 0 2818
যোগীরাজ্যে আবার বুলডোজার আতঙ্ক: আজম খানের জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার চরম নির্দেশ প্রশাসনের https://banglakal.com/nation/bulldozer-terror-in-yogis-realm-again-administration-issues-ultimate-order-to-demolish-38-buildings-at-azam-khans-jauhar-university/ https://banglakal.com/nation/bulldozer-terror-in-yogis-realm-again-administration-issues-ultimate-order-to-demolish-38-buildings-at-azam-khans-jauhar-university/#respond Thu, 16 Jul 2026 10:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2816 লখনউ, ১৬ জুলাই:উত্তরপ্রদেশের রামপুরে সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খানের স্বপ্নের প্রকল্প ‘মোহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ওপর নেমে এল যোগী সরকারের বড়সড় প্রশাসনিক খাঁড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভবনই সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কোনো অনুমোদিত নকশা (Approved Building Plan) ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RDA)। এই অভিযোগে বুধবার, ১৫ জুলাই ২০picker৬ তারিখে জোহর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ওই ৩৮টি বহুতল ভবন ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণগুলি সরিয়ে না নিলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে সেগুলি গুঁড়িয়ে দেবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে রামপুর জেলে বন্দি রয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সভাপতি আজম খান।

রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহ-উপাচার্য তথা রামপুরের জেলাশাসক অজয় কুমার দ্বিবেদী উত্তরপ্রদেশ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আইন, ১৯৭৩-এর ২৭ নম্বর ধারার অধীনে এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। জোহর ট্রাস্ট পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার পর জানা গেছে, গোটা ক্যাম্পাসে থাকা ৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটি ভবনের ক্ষেত্রে জিলা পঞ্চায়তের বৈধ অনুমোদন ছিল। বাকি ৩৮টি ভবনের ক্ষেত্রে কোনো রকম সরকারি বা বৈধ প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, যার মোট আয়তন প্রায় ৮২,৩০৯.৮০ বর্গমিটার।

https://twitter.com/Muslim_ITCell/status/2077651709921235007?s=20

প্রশাসনের এই নির্দেশের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, যখন এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল (২০০৬ সালের পর), তখন এই অঞ্চলটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারভুক্ত ছিল না, বরং জিলা পঞ্চায়তের অধীনে ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি আরডিএ-র অধীনে আসে। তবে জেলাশাসক এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান, নির্মাণ যে সময়েরই হোক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। যেহেতু দুটি ভবনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন, তা সত্ত্বেও বাকি ৩৮টি ভবনের ক্ষেত্রে নকশা পাসের তোয়াক্কা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় আইন পাস করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীকালে অখিলেশ যাদবের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে এর পরিকাঠামোর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনে ও ভিত্তিপ্রস্তরে মুলায়ম সিং ও অখিলেশ যাদবের সরাসরি সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। ফলে এই উচ্ছেদ আদেশের পর রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অনুসারেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাসে বিশেষ কাউন্সেলিং ক্যাম্প খোলারও নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/bulldozer-terror-in-yogis-realm-again-administration-issues-ultimate-order-to-demolish-38-buildings-at-azam-khans-jauhar-university/feed/ 0 2816
সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে অভিনব প্রতিবাদ! অনশনের ডাক দিলেন ‘রং দে বাসন্তী’ খ্যাত অভিনেতা অতুল কুলকার্নি https://banglakal.com/nation/rang-de-basanti-actor-atul-kulkarni-announces-one-day-hunger-strike-in-support-of-sonam-wangchuk/ https://banglakal.com/nation/rang-de-basanti-actor-atul-kulkarni-announces-one-day-hunger-strike-in-support-of-sonam-wangchuk/#respond Thu, 16 Jul 2026 09:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2813 মুম্বই, ১৬ জুলাই: প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এবার এগিয়ে এলেন বলিউডের প্রথিতযশা অভিনেতা অতুল কুলকার্নি। সর্বভারতীয় স্তরে সর্বাপেক্ষা আলোচিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অসঙ্গতির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালাচ্ছেন ওয়াংচুক। আন্দোলন আজ ১৯তম দিনে পা দিয়েছে। ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি ও তাঁর লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবার নিজের বাড়ি থেকেই একদিনের প্রতীকী অনশন ধর্মঘটের ডাক দিলেন ‘রং দে বাসন্তী’ খ্যাত এই অভিনেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে তিনি দেশবাসীর কাছে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তায় অতুল কুলকার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর এই একদিনের অনশনের পিছনে দুটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘ ১৯ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর সহযোগীরা যে চরম শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেই যন্ত্রণার সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করা বা যুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, এই স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করে। তিনি বলেন, “আগামী ১৬ জুলাই আমি নিজের বাড়ি থেকেই একদিনের অনশন পালন করব। আমি মনে করি, যন্ত্রণার সঙ্গে যন্ত্রণার সম্পর্ক স্থাপন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

ভিডিও বার্তায় অভিনেতা জাতীয় স্তরের এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অতুল কুলকার্নির মতে, এক পক্ষ অর্থাৎ আন্দোলনকারীরা মনে করছেন যে তাঁদের দাবির সপক্ষে অত্যন্ত জোরালো এবং বেদনাদায়ক কারণ রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্ভবত আলাদা। অভিনেতা বলেন, “আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে রাজি নই যে আমাদের দেশের সরকার সাধারণ মানুষের আবেগ বা সমস্যা নিয়ে সংবেদনশীল নয়। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, সরকার মানুষের কষ্টের সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোথাও একটি বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যার কারণে মূল সংবেদনশীলতা প্রকাশ পাচ্ছে না এবং কোনো কার্যকর সংলাপ হচ্ছে না।” তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান, কোনো প্রকার বিলম্ব না করে অবিলম্বে ওয়াংচুক ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত।

উল্লেখ্য, যুবসমাজ ও জেন-জি (Gen Z) পরিচালিত রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পাশে দাঁড়িয়েই সোনম ওয়াংচুক এই আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন। নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) বিলোপ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন ক্রমশ দেশব্যাপী তীব্র রূপ ধারণ করেছে। পরীক্ষা বাতিলের পরবর্তী মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও আন্দোলনকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

ওয়াংচুকের এই দীর্ঘস্থায়ী অনশন আন্দোলনের সমর্থনে ইতিমধ্যে বলিউডের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যেমন শাবানা আজমি, অভয় দেওল, জিনাত আমান, অনুরাগ কাশ্যপ এবং ওমি বৈদ্য সোচ্চার হয়েছেন। অতুল কুলকার্নি তাঁর ভিডিওর শেষে সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, যদি আপনারা ওয়াংচুক ও শিক্ষার্থীদের এই যন্ত্রণাকে অনুভব করতে পারেন, তবে এই ভিডিওটি সর্বাধিক শেয়ার করুন এবং আমার মতো নিজ নিজ গৃহ থেকে একদিনের প্রতীকী অনশনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/rang-de-basanti-actor-atul-kulkarni-announces-one-day-hunger-strike-in-support-of-sonam-wangchuk/feed/ 0 2813
‘সীতার পতির নাম জপে নিতার পতির জন্য কাজ’, যন্তর মন্তরে সরকারের নীতি নিয়ে বিষ্ফোরক কুনাল কামরা https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/ https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2802 নয়া দিল্লি, ১৬ জুলাই:পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশনকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী সমাবেশে দেশের কর্পোরেট-বান্ধব নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুনাল কামরা। সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই গণঅনশন ও বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কুনাল কামরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

যন্তর মন্তরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুনাল কামরা কেন্দ্র সরকারের ব্যবসায়ী অনুগত নীতি এবং ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করার প্রবণতাকে এক সুতোয় বেঁধে আক্রমণ শানান। ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির (নীতা আম্বানির স্বামী) ব্যবসায়িক সুবিধা করে দেওয়া এবং ভোটের রাজনীতিতে শ্রীরামের (সীতার স্বামী) নাম ব্যবহারের প্রবণতাকে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার মুখে ‘সীতার পতি’-র নাম জপ করলেও, আসলে কাজ করে চলেছে ‘নিতার পতি’-র স্বার্থে। তাঁর এই ধারালো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করে। নেটিজেনদের একাংশ একে ধারালো ও সঠিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বলে সাধুবাদ জানালেও, অন্য অংশ ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে এভাবে রাজনৈতিক কুৎসা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিগত ২৫ দিন ধরে দিল্লির বুকে এই বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনের সমর্থনে এবং যুবসমাজের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক বিগত ১৮ দিন ধরে অনশন জারি রেখেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি সত্ত্বেও সরকারের অনমনীয় মনোভাবের প্রতিবাদে আজ, ১৬ জুলাই সিজেপি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী এক দিনের এক গণঅনশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই মঞ্চেই মহাত্মা গান্ধীর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরে হাজির হন কুনাল কামরা এবং পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সরকারের ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতিদের পাইয়ে দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।

কুনালের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বাক-স্বাধীনতার সীমা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গে ধর্মীয় উপমার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের নীতির সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সনাতন ধর্মের আবেগকে এভাবে উপহাস করা অনুচিত। অন্যদিকে, কামরার সমর্থক এবং সমাজকর্মীদের বক্তব্য, এটি একটি অত্যন্ত সার্থক রূপক (Metaphor), যা দিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেশের বর্তমান শাসকদলের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরা হয়েছে। এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই যন্তর মন্তরের আন্দোলন ক্রমশ দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর রূপ ধারণ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/feed/ 0 2802