মধ্য প্রাচ্য – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Sun, 19 Jul 2026 13:55:48 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 মধ্য প্রাচ্য – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ইরানে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/ https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2916 মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো, ১৯ জুলাই:আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলায় এবার সরাসরি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধে আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা প্রত্যাঘাত করেছে ইরানও। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্ররাষ্ট্র কুয়েতের দুটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান, যার ফলে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল বিশুদ্ধকরণ (Desalination) প্ল্যান্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আল জাজিরার ওপেন-সোর্স ইউনিট, ইউরোপীয় সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইট ইমেজ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান হামলার নতুন ক্ষতচিহ্ন বা ক্ষয়ক্ষতির দাগ স্পষ্ট দেখা গেছে। বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান অবশ্য দাবি করেছেন যে পারমাণবিক চুল্লিটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) বারবার সতর্ক করেছে যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি থাকা এই ধরণের সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কখনই সশস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি নস্যাৎ করতে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (IRGC) শাস্তি দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই দফায় ইরানের সিরিক এলাকা, কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের শাদেগানে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকার এই লাগাতার আগ্রাসনের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী কুয়েতের দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুর বারবার আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্পের একটি মার্কিন গোলাবারুদ ডিপো এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট রাডার ও এয়ার রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ধাক্কায় মরুভূমিপ্রধান country কুয়েতের মাঙ্গাফ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রধান বিদ্যুৎ ও জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে আকাশছোঁয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এই প্ল্যান্টটি কুয়েতের অতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর অংশ।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বিগত কয়েকদিনে মার্কিন হামলার পরিধি শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ইরানের সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে। ইরানের হরমুজগান প্রদেশের বন্দর খামিরে হাইওয়ে এবং রেলপথের একাধিক সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ইরানের প্রধান বন্দর বন্দর আব্বাসকে রাজধানী তেহরান ও দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার কারণে দক্ষিণ ইরানে চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বোঞ্জি জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টটি মার্কিন হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০,০০০ মানুষ পানীয় জলের তীব্র সংকটে পড়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর জানিয়েছেন, বিগত তিন সপ্তাহের মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই আমেরিকাকে “অবিস্মরণীয় শিক্ষা” দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আমেরিকা লঙ্ঘন করায় তা বর্তমানে সম্পূর্ণ ‘স্থগিত’ রয়েছে। তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, টানা আট রাতের এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/feed/ 0 2916
গাজার ডিজিটাল আর্কাইভ: যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইতিহাস সংরক্ষণের নতুন অধ্যায় https://banglakal.com/world/gaza-war-digital-archive-website/ https://banglakal.com/world/gaza-war-digital-archive-website/#respond Fri, 03 Jul 2026 07:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2596 ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধ শেষ হলেও যুদ্ধের স্মৃতি শেষ হয় না। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষের জীবন, বিধ্বস্ত পরিবার কিংবা যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ফিরিয়ে আনা যায় না। আধুনিক যুগে তাই যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি, ভিডিও, সাক্ষ্য এবং ডিজিটাল নথি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশ্যে আসে একটি বহুল আলোচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—archivegenocide.com। এটি পরিচালনা করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের @IsraelExposedx উদ্যোগ, যারা দাবি করছে যে গাজা যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন ডিজিটাল আর্কাইভ তারা তৈরি করেছে।

ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ৬৪ হাজার ৫০০-এরও বেশি ভিডিও, ১৭ হাজার ৯০০-এর বেশি ছবি, অসংখ্য জিওলোকেশন ডেটা, ভিকটিম তালিকা, লাইভ ম্যাপ, অনুসন্ধানযোগ্য ডাটাবেস এবং ৩০০-এরও বেশি সাংবাদিক ও উৎসের তথ্য সংরক্ষিত হয়েছে। এর লক্ষ্য কেবল যুদ্ধের দৃশ্য সংরক্ষণ নয়; বরং ভবিষ্যতের গবেষণা, মানবাধিকার তদন্ত এবং ইতিহাস রচনার জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরি করা।

এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২০২৫ সালের শেষ দিকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের বড় ধরনের সংঘর্ষ কমলেও গাজার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, পুনর্গঠন ধীরগতিতে চলছে এবং বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবরও নিয়মিত সামনে আসছে। ফলে যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৪০ জনের বেশি মানুষ জিম্মি হন। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা পরবর্তী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে।

এই দীর্ঘ সংঘাতের সময় হাজার হাজার ভিডিও ধারণ করা হয়। স্মার্টফোন, ড্রোন, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে প্রতিদিন ধারণ হয়েছে বিমান হামলা, ভবন ধস, হাসপাতালের অবস্থা, ত্রাণ কার্যক্রম, বাস্তুচ্যুতি, উদ্ধার অভিযান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধের অসংখ্য মুহূর্ত।

সমস্যা ছিল, এসব উপাদানের বড় অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব এবং ব্যক্তিগত ক্লাউড স্টোরেজে। অনেক পোস্ট মুছে গেছে, কিছু অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়েছে, আবার কিছু ভিডিও হারিয়ে গেছে সময়ের সঙ্গে। ফলে নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্য খুঁজে পাওয়া গবেষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থার জন্য কঠিন হয়ে উঠছিল।

এই পরিস্থিতি থেকেই তৈরি হয়েছে archivegenocide.com।

ওয়েবসাইটটি মূলত একটি সার্চযোগ্য ডিজিটাল ডাটাবেস। ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঘটনার ভিডিও ও ছবি খুঁজে দেখতে পারেন।

এখানে রয়েছে—

  • ৬৪,৫০০-এর বেশি ভিডিও
  • ১৭,৯০০-এর বেশি ছবি
  • তারিখ অনুযায়ী অনুসন্ধান
  • ভৌগোলিক অবস্থান (Geolocation)
  • লাইভ ম্যাপ
  • ভিকটিম সেকশন
  • উৎসভিত্তিক ফিল্টার
  • সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য
  • টরেন্টের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকৃত ব্যাকআপ ব্যবস্থা

প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কোনো কনটেন্ট মুছে গেলেও এই ব্যাকআপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এই আর্কাইভের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর মেটাডেটা

প্রতিটি ভিডিও বা ছবির সঙ্গে সম্ভাব্য তারিখ, স্থান, উৎস, বর্ণনা এবং কখনো কখনো জিওলোকেশন যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গবেষকরা নির্দিষ্ট সময়, এলাকা বা ঘটনার ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

মানবাধিকার গবেষণা, সাংবাদিকতা, সংঘাত বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স হতে পারে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত রয়েছে। অবকাঠামো, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, যুদ্ধের প্রমাণ সংরক্ষণ ভবিষ্যতের বিচার ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

archivegenocide.com একমাত্র উদ্যোগ নয়।

এর আগে Bearing Witness: Gaza Archive, Accountability Archive, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও গাজা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, টেলিগ্রাম চ্যানেল, মৌখিক সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও সংরক্ষণ করছে।

তবে নতুন এই আর্কাইভটি আকার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে লাইভ ম্যাপ, অনুসন্ধানযোগ্য ডাটাবেস এবং বিকেন্দ্রীকৃত ব্যাকআপ ব্যবস্থাকে অনেকেই এর বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

ওয়েবসাইটটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রকাশনা-সংক্রান্ত পোস্টটি লক্ষাধিক নয়, বরং মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে।

সমর্থকদের একটি অংশ বলছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যুদ্ধের বাস্তবতা সংরক্ষণ করা জরুরি। তাদের ভাষায়, যখন প্রত্যক্ষদর্শীরা হারিয়ে যান বা তথ্য মুছে যায়, তখন ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকে।

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—এই আর্কাইভে অন্তর্ভুক্ত তথ্য কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, যদি একটি আর্কাইভ কেবল এক পক্ষের অভিযোগ বা নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বেশি তুলে ধরে, তাহলে সেটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সম্পাদনার নীতিমালা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক তদন্ত চলছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন সংঘাত চলাকালে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে এবং হামাস বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ ভবিষ্যতের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গাজা যুদ্ধের সময় তথ্য সংগ্রহ মোটেও সহজ ছিল না।

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিদ্যুৎ সংকট, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন—সবকিছুই তথ্য সংরক্ষণকে কঠিন করে তুলেছে।

অনেক ভিডিও এমন মানুষের মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে, যারা নিজেরাই জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন।

আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট অপসারণ, কপিরাইট দাবি কিংবা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই কারণেই অনেক গবেষক দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন আর্কাইভিংয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ডিজিটাল আর্কাইভ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনের অনুসন্ধান, একাডেমিক গবেষণা, সংঘাত বিশ্লেষণ, সাংবাদিকতা এবং ভবিষ্যতের সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের মতো উদ্যোগে এ ধরনের সংরক্ষিত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একই সঙ্গে অনেক গবেষক মনে করেন, সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরতে হলে সব পক্ষের ভুক্তভোগী, বেসামরিক নাগরিক এবং বিভিন্ন ঘটনার দলিল সমান গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একপাক্ষিক তথ্য ভবিষ্যতের ইতিহাসকে অসম্পূর্ণ করে তুলতে পারে।

এই ধরনের একটি বিশাল ডিজিটাল আর্কাইভ পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—

  • তথ্যের স্বাধীন যাচাই
  • সাইবার নিরাপত্তা
  • দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ
  • তথ্য বিকৃতি প্রতিরোধ
  • ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা
  • আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুসরণ

এসব বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আর্কাইভের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

যুদ্ধ শেষ হলেও তার স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানে মূলত সংরক্ষিত দলিল, ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে archivegenocide.com শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি যুদ্ধের সময় ধারণ করা বিপুল ডিজিটাল উপাদানকে এক জায়গায় সংরক্ষণের একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ।

তবে এর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং কতটা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংঘাতের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্যকে যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতের গবেষণা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মানবিক মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের দলিল সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল আর্কাইভ আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/world/gaza-war-digital-archive-website/feed/ 0 2596
গাযার খান ইউনুসে ফের রক্তপাত, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে হামলার অভিযোগে নিহত অন্তত ১৫ https://banglakal.com/world/khan-yunus-under-attack/ https://banglakal.com/world/khan-yunus-under-attack/#respond Fri, 03 Jul 2026 06:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2576 গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের হান ইউনুসে ফের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র এবং ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় অনেক পরিবার অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই চারদিকে ধোঁয়া, আগুন ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে আহত মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া এবং উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

হান ইউনুস গত কয়েক মাস ধরেই গাজার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উত্তর গাজা থেকে নিরাপত্তার আশায় দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে এই এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় আসা বহু পরিবারও হামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল, গাজার অধিকাংশ এলাকাই এখন তীব্র মানবিক সংকটের মুখে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি অস্ত্রোপচার সীমিত সম্পদ দিয়েই পরিচালনা করতে হচ্ছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ফলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংঘাতের প্রতিটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের সুযোগ তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে, ফলে প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর সামনে আসছে।

হান ইউনুসের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

]]>
https://banglakal.com/world/khan-yunus-under-attack/feed/ 0 2576
পূর্ব গাজা পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদি দখল ও সংযুক্তিকরণের ভিত্তি গড়ছে ইসরায়েল : The New Humanitarian https://banglakal.com/communalism/israels-systematic-erasure-of-eastern-gaza-lays-groundwork-for-annexation/ https://banglakal.com/communalism/israels-systematic-erasure-of-eastern-gaza-lays-groundwork-for-annexation/#respond Fri, 03 Jul 2026 05:32:11 +0000 https://banglakal.com/?p=2579 পূর্ব গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফিলিস্তিনি জনপদ, কৃষিজমি এবং বেসামরিক অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে দখল এবং সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণের (Annexation) ভিত্তি তৈরি করছে ইসরায়েল—এমনই দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New Humanitarian-এর প্রকাশিত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তে। গত ১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও পূর্ব গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে যেখানে গাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোর অবশিষ্ট ভবন, অবকাঠামো এবং কৃষিজমিও ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

The New Humanitarian-এর তদন্তে বলা হয়েছে, বহু শহর ও গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমিতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আগে বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, কবরস্থান এবং কৃষিজমি ছিল, সেই জায়গাগুলোতে বর্তমানে সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক যোগাযোগের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তদন্তটি পরিচালনা করা হয়। এতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের খুজা (Khuza’a) শহরের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস ছিল এই শহরে। ২০২৫ সালের মে মাসে এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে পুনরায় বুলডোজার এনে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে নতুন করিডর ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

একইভাবে বানি সুহেইলা (Bani Suheila) শহরের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে তদন্তে। একসময় যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, বর্তমানে সেখানে মাত্র প্রায় ৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দাঁড়িয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশের আবাসান আল-জাদিদা (Abasan al-Jadida) এলাকায়, যেখানে আগে প্রায় ১১ হাজার মানুষ বাস করতেন, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো ভবন অক্ষত নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে আগুন দিয়েছে। এসব জমির অধিকাংশই ছিল কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত উর্বর ভূমি, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

প্রতিবেদনটি এই ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে। এছাড়া সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী গাজায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা, যিনি ধ্বংস অভিযানের একটি বড় অংশ তদারকি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বলেন, “এখন আর আবাসান নেই, বানি সুহেইলাও নেই”, কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালানো কিছু ব্যক্তি ওই এলাকাগুলো থেকেই এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি (Collective Punishment) আরোপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

The New Humanitarian-এর সঙ্গে কথা বলা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো গণহত্যার (Genocide) প্রমাণ হিসেবেও আন্তর্জাতিক তদন্তে বিবেচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের মানবাধিকারবিষয়ক আইন সংস্থা Adalah-এর এক আইনজীবী তদন্তে বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ এমন জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা একটি জনগোষ্ঠীর শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভাষা জাতিসংঘের গণহত্যা সনদে ব্যবহৃত সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের Rutgers University-এর আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল হকও তদন্তে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এত বড় পরিসরে অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের আর কোনো উদাহরণ তাঁর জানা নেই।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এলাকাগুলোর ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জমি ও সম্পত্তির মালিকানার অধিকার কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি দখল অথবা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা—উভয় ক্ষেত্রেই এসব মালিকানার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে “Project Sunrise” নামে একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন পরিকল্পনারও উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি কৃষিজমির ওপর নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণের ধারণা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী তদন্তে দাবি করেন, গাজায় বর্তমানে যা ঘটছে তা পশ্চিম তীরে বহু বছর ধরে অনুসরণ করা একটি কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। তাদের একজনের ভাষায়, “এই কার্যক্রমে সাময়িকতার কোনো ভাষা নেই; বরং এটি স্থায়ী দখলের ভাষা বলেই মনে হচ্ছে।”

The New Humanitarian-এর এই তদন্তটি সাংবাদিক রাইলি স্পার্কস এবং ঘাদা আবদুলফাত্তাহ যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

পূর্ব গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফিলিস্তিনি জনপদ, কৃষিজমি এবং বেসামরিক অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে দখল এবং সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণের (Annexation) ভিত্তি তৈরি করছে ইসরায়েল—এমনই দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New Humanitarian-এর প্রকাশিত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তে। গত ১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র, আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও পূর্ব গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে যেখানে গাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোর অবশিষ্ট ভবন, অবকাঠামো এবং কৃষিজমিও ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

The New Humanitarian-এর তদন্তে বলা হয়েছে, বহু শহর ও গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমিতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আগে বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, কবরস্থান এবং কৃষিজমি ছিল, সেই জায়গাগুলোতে বর্তমানে সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক যোগাযোগের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তদন্তটি পরিচালনা করা হয়। এতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের খুজা (Khuza’a) শহরের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস ছিল এই শহরে। ২০২৫ সালের মে মাসে এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে পুনরায় বুলডোজার এনে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে নতুন করিডর ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

একইভাবে বানি সুহেইলা (Bani Suheila) শহরের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে তদন্তে। একসময় যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, বর্তমানে সেখানে মাত্র প্রায় ৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দাঁড়িয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশের আবাসান আল-জাদিদা (Abasan al-Jadida) এলাকায়, যেখানে আগে প্রায় ১১ হাজার মানুষ বাস করতেন, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো ভবন অক্ষত নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে আগুন দিয়েছে। এসব জমির অধিকাংশই ছিল কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত উর্বর ভূমি, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

প্রতিবেদনটি এই ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে। এছাড়া সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রী গাজায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা, যিনি ধ্বংস অভিযানের একটি বড় অংশ তদারকি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বলেন, “এখন আর আবাসান নেই, বানি সুহেইলাও নেই”, কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালানো কিছু ব্যক্তি ওই এলাকাগুলো থেকেই এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি (Collective Punishment) আরোপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

The New Humanitarian-এর সঙ্গে কথা বলা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো গণহত্যার (Genocide) প্রমাণ হিসেবেও আন্তর্জাতিক তদন্তে বিবেচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের মানবাধিকারবিষয়ক আইন সংস্থা Adalah-এর এক আইনজীবী তদন্তে বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ এমন জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা একটি জনগোষ্ঠীর শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভাষা জাতিসংঘের গণহত্যা সনদে ব্যবহৃত সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের Rutgers University-এর আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল হকও তদন্তে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এত বড় পরিসরে অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের আর কোনো উদাহরণ তাঁর জানা নেই।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এলাকাগুলোর ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জমি ও সম্পত্তির মালিকানার অধিকার কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি দখল অথবা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা—উভয় ক্ষেত্রেই এসব মালিকানার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে “Project Sunrise” নামে একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন পরিকল্পনারও উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি কৃষিজমির ওপর নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণের ধারণা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী তদন্তে দাবি করেন, গাজায় বর্তমানে যা ঘটছে তা পশ্চিম তীরে বহু বছর ধরে অনুসরণ করা একটি কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। তাদের একজনের ভাষায়, “এই কার্যক্রমে সাময়িকতার কোনো ভাষা নেই; বরং এটি স্থায়ী দখলের ভাষা বলেই মনে হচ্ছে।”

The New Humanitarian-এর এই তদন্তটি সাংবাদিক রাইলি স্পার্কস এবং ঘাদা আবদুলফাত্তাহ যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

]]>
https://banglakal.com/communalism/israels-systematic-erasure-of-eastern-gaza-lays-groundwork-for-annexation/feed/ 0 2579
ইসরায়েলের প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, জাতিসংঘে ইরানের অভিযোগ: মধ্যপ্রাচ্য কি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে? https://banglakal.com/world/iran-warns-un-of-israels-deliberate-and-public-threat-against-ayatollah-khamenei/ https://banglakal.com/world/iran-warns-un-of-israels-deliberate-and-public-threat-against-ayatollah-khamenei/#respond Thu, 02 Jul 2026 08:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2549 মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বহুবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার ইঙ্গিত— এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল। সেই কারণেই ইসরায়েলের এক মন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হুমকির অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি উসকানিমূলক হুমকি, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন আর ছায়াযুদ্ধ, সাইবার হামলা বা প্রক্সি যুদ্ধের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সংঘর্ষ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে ঘিরে সরাসরি হুমকির পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তেহরানের বক্তব্য, কোনও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বলপ্রয়োগের হুমকির শামিল।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের মন্তব্যকে যদি আন্তর্জাতিক মহল গুরুত্ব না দেয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতি আরও উৎসাহ পাবে। তেহরানের দাবি, বিষয়টি শুধু ইরানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান বা সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে গোপন অভিযান বা গুপ্তহত্যার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য অত্যন্ত বিরল। কারণ, কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিটি শব্দের রাজনৈতিক ও সামরিক তাৎপর্য থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করা মানে সেই রাষ্ট্রকে সরাসরি বার্তা দেওয়া— প্রয়োজনে সামরিক সীমারেখাও অতিক্রম করা হতে পারে। এর ফলে ভুল বোঝাবুঝি, পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা আকস্মিক সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি ও অন্যান্য আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি তেহরানের সমর্থন তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

সেই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থানকে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ‘ডিটারেন্স পলিটিক্স’ বা প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তেল আবিব একদিকে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে চাইছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছেও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও কম নয়। কারণ, প্রকাশ্য হুমকি প্রায়শই কূটনৈতিক আলোচনার পথ সংকুচিত করে এবং সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

তেহরান ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপের জবাব “তাৎক্ষণিক, দৃঢ় এবং অনুপাতের চেয়ে বেশি কঠোর” হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে যদি কোনও সামরিক বা গুপ্ত অভিযান ঘটে, তাহলে ইরান আর শুধুমাত্র প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে নয়, সরাসরি প্রতিক্রিয়ার পথও বেছে নিতে পারে।

ইরানের অভিযোগ এখন জাতিসংঘের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন কি শুধুই দুর্বল রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলির ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর?

বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন কথা বলে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের রাজনৈতিক অবস্থান, ভেটো ক্ষমতা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগই কার্যকর পদক্ষেপের মুখ দেখে না। ফলে আন্তর্জাতিক আইন প্রায়শই রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে অসহায় হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় বিপদ সরাসরি যুদ্ধ নয়; বরং ‘ভুল হিসাব’। কোনও একটি বক্তব্য, সীমিত সামরিক অভিযান বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা মুহূর্তের মধ্যে বহু দেশের অংশগ্রহণে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলির স্বার্থ এখন এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে, একটি ছোট ঘটনা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

ইরানের জাতিসংঘে পাঠানো অভিযোগ শুধু একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রকাশ্য হুমকি, পাল্টা সতর্কবার্তা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ— সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এখন নজর জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তির দিকে। কারণ, এই মুহূর্তে একটি বিচক্ষণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ যেমন পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারে, তেমনি একটি ভুল সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-warns-un-of-israels-deliberate-and-public-threat-against-ayatollah-khamenei/feed/ 0 2549
যুদ্ধ মানবতার জন্য অভিশাপ’: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালা-পোড়ার মাঝে শান্তির দুর্গ স্পেন https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/ https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/#respond Wed, 04 Mar 2026 17:39:06 +0000 https://banglakal.com/?p=2289 ওয়াসিম আকরাম, সংবাদদাতা, বাংলাকাল

কলকাতা, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমাগত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধ্বসের মুখে, তখন ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো বিবেকের কণ্ঠস্বর। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সরকারি বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধের দানবের মুখে শান্তির এক অটল উচ্চারণ।

গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা হামলায় গোটা অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। নয়টি দেশ এবং সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী এখন অনিশ্চয়তার নামান্তর।

এই ভয়াল পরিস্থিতিতে স্পেনের অবস্থান স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং—সবচেয়ে বড় কথা—ঐতিহাসিকভাবে সংগতিপূর্ণ।

২০০৩ সালের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি নয়

সানচেজ তাঁর বিবৃতিতে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব ও তাদের সঙ্গীদের। আজোরেস ত্রয়ী (বুশ, ব্লেয়ার, আজনার) নামে পরিচিত এই নেতারা যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? ইরাকে শান্তি আসেনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়া আইএস-এর। ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে, শরণার্থী সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে।

“সেই যুদ্ধ তাত্ত্বিকভাবে সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করতে, গণতন্ত্র আনতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছিল,” স্মরণ করিয়ে দেন সানচেজ। “কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দিয়েছে—বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।”

আজকের যুদ্ধের শুরুটাও কি একই পথে হাঁটছে না? অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

চারটি ‘না’ এবং একটি ‘দাবি’

সানচেজের বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারটি স্পষ্ট প্রত্যয়:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ। যারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। এক অবৈধতার জবাবে আরেক অবৈধতা দেওয়া যায় না—এটাই সভ্যতার মৌলিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত, বোমার জোরে সমস্যা সমাধানের মায়া প্রত্যাখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ কখনো প্রকৃত সমাধান আনে না; এটি কেবল পুরোনো সমস্যার সাথে নতুন সমস্যা যুক্ত করে।

তৃতীয়ত, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করা। ২০০৩-এ যে ভুল আমরা করেছি, ২০২৬-এ কেন সেই একই পথে হাঁটব?

চতুর্থত, যুদ্ধের সামগ্রিক প্রত্যাখ্যান—’না টু ওয়ার’।

শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, সানচেজ এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে তিনি এই দাবি জানানোর অধিকার রাখেন। কারণ এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি স্পেনেরও, ইউরোপেরও, গোটা বিশ্বেরও।

স্পেনের অবস্থান: সহমর্মিতা ও বাস্তব পদক্ষেপ

শুধু বক্তৃতা নয়, স্পেন বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছে। বিবৃতিতে সানচেজ চারটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:

এক. মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া স্পেনীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। আকাশপথ বিপজ্জনক হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দুই. এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত করছে সরকার। অতীতের অর্থনৈতিক সংকটে যেমনটা করেছে, তেমনই সমাজসেবী সংস্থাগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করবে স্পেন।

তিন. এই অঞ্চলের শান্তিকামী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ইউক্রেন, ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলগুলোতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে যাবে। সানচেজের ভাষায়, “আমাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান দাবি করতে হবে—অতিরিক্ত দেরি হওয়ার আগেই।”

ইতিহাসের শিক্ষা: সারায়েভো থেকে হরমুজ

বিবৃতির সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক অংশটি সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উল্লেখ। ১৯১৪ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কীভাবে মহাযুদ্ধ শুরু হলো, তিনি নাকি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “যদি আমি জানতাম!”

সানচেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অধিকাংশ মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অপ্রত্যাশিত ঘটনার শৃঙ্খল থেকে। এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই ঘটতে পারে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে

সমালোচকরা হয়তো বলবেন, ইরানের আয়াতুল্লাহদের শাসনের পক্ষে স্পেন? সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের শাসনের পক্ষে কেউ নয়—স্পেনীয় জনগণ certainly নয়, স্পেন সরকার certainly নয়।” প্রশ্নটি হলো আমরা আয়াতুল্লাহদের সমর্থন করছি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি?

ইরাকে সাদ্দামের স্বৈরাচারকে স্পেনীয় সমাজ ঘৃণা করত, কিন্তু ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ সেটি ছিল অবৈধ, অন্যায় এবং সমস্যার সমাধান না এনে বরং নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, আমরা ইরানের নারী-পুরুষ নির্যাতনকারী শাসনকে ঘৃণা করি, কিন্তু একইসাথে এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করি।

স্পেন একা নয়

কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, শান্তির এই ডাকে স্পেন নিঃসঙ্গ। সানচেজের জবাব স্পষ্ট: “স্পেন সরকার তাদের সাথে আছে যাদের সাথে থাকা উচিত। এটি আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধের সাথে আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানিক নীতির সাথে আছে, জাতিসংঘ সনদের সাথে আছে।”

আমরাও আছি অসংখ্য সরকারের সাথে যারা আমাদের মত চিন্তা করে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সাথে যারা আরও যুদ্ধ নয়—আরও শান্তি ও সমৃদ্ধি চান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: দূরের আগুন কাছের শঙ্কা

বাংলাদেশের পাঠকদের মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন আমাদেরও দোরগোড়ায় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে ধস, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া—এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। ১৯৭১-এ আমাদের নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান আজও আমরা মনে রেখেছি। তাই অন্য জাতির যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নীরব থাকার বিলাসিতা আমাদের নেই।

পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান শুধু একটি দেশের সরকারি বক্তব্য নয়; এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর। একটি স্পষ্ট বার্তা যে যুদ্ধ কখনো সমাধান নিয়ে আসে না, বরং এটি মানবতার জন্য অভিশাপ। বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও যদি এই পথে হাঁটেন, তবেই সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যের ধোঁয়াশা কাটিয়ে ওঠা।

]]>
https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/feed/ 0 2289
চীনকে সমর্থনের প্রতিদান, অন্য দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ চীনের জন্য খোলা https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/ https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/#respond Wed, 04 Mar 2026 13:09:30 +0000 https://banglakal.com/?p=2281
chinses ship on straight of hormuz source x.com chinanow24

চিন সংবাদ মাধ্যম, চাইনা নউ ২৪ থেকে প্রতিবেদনঃ

ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে শুধুমাত্র চীনের জাহাজগুলিকে যেতে দেবে, যুদ্ধের সময় বেইজিংয়ের সমর্থনমূলক অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অন্যান্য সমস্ত দেশের জাহাজের জন্য এই জলপথ বন্ধ থাকবে, এবং ইরানি বাহিনী অনুমোদিত নয় এমন যেকোনো জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ স্ট্রেইট অফ হরমুজ বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায়, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২০% ।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। চীন, যারা ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, তাদের তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকবে, কিন্তু অন্যান্য দেশগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে ।

ইরানের এই ঘোষণার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলি তাদের নৌবাহিনীকে এই অঞ্চলে পাঠানোর বিবেচনা করছে, যাতে তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকে ।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কি মতামত? ইরানের এই পদক্ষেপ কি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে?

]]>
https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/feed/ 0 2281
যুদ্ধের ঢেউ কি পৌঁছে গেল ভারত মহাসাগরে! শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া: সাবমেরিন হামলার অভিযোগে ঘনীভূত রহস্য https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/ https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/#respond Wed, 04 Mar 2026 10:14:29 +0000 https://banglakal.com/?p=2269 রয়টার্সের প্রতিবেদন । ৪ মার্চ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারত মহাসাগরে ঘটল এক নাটকীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে বিপদসংকেত পাঠায়। দুপুরের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনাটি শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—বরং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের পরিধি কতদূর বিস্তৃত হয়েছে, তার এক গভীর ইঙ্গিত বহন করছে।

শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডুবতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Vijitha Herath পার্লামেন্টে জানান, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গলের Karapitiya Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

কিন্তু এখনো ১০১ জন নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জাহাজটি কি চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল?

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক তৎপরতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। বিরোধী সাংসদরা পার্লামেন্টে সরাসরি জানতে চান, জাহাজটি কি সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে?

কিন্তু শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি। সরকারি নীরবতা কূটনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। এই নীরবতা কি কৌশলগত? নাকি সত্যিই তথ্যের ঘাটতি?

Islamic Republic of Iran Navy-এর জন্য এই ডুবি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার নৌবাহিনীকে পারস্য উপসাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর পর্যন্ত সক্রিয় রাখতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা উপকূলে এমন একটি জাহাজডুবি ইরানের ‘পাওয়ার প্রজেকশন’-এর উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি হামলার ফল হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে সংঘাতের ভৌগোলিক সীমানা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আর যদি এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনা হয়, তবুও তা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করবে।

ভারত মহাসাগরে অস্থিরতা?

শ্রীলঙ্কা ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপকূলে এমন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ঘটনার সৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভারত মহাসাগর ইতিমধ্যেই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সেখানে ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবে যাওয়া নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের বাইরে, এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো মানবিক ক্ষয়ক্ষতি। ১০১ জন নাবিকের ভাগ্য এখনো অজানা। তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তা এক অসহনীয় অপেক্ষা।

শ্রীলঙ্কা উপকূলে IRIS Dena-র ডুবি কেবল একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—এটি বর্তমান সংঘাতের বিস্তার, কৌশলগত বার্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের অংশ।

সরকারি নীরবতা যত দীর্ঘ হবে, ততই জল্পনা বাড়বে। আর একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধ আর কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ নেই। তার ঢেউ পৌঁছে গেছে ভারত মহাসাগরের গভীরে।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/feed/ 0 2269
তেহরান থেকে হরমুজ: লক্ষ্যহীন যুদ্ধ, কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/ https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/#respond Wed, 04 Mar 2026 09:28:26 +0000 https://banglakal.com/?p=2264
হরমুজ প্রণালী

বিশেষ প্রতিবেদন |ওয়াসিম আক্রাম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন কেবল আগুনের রেখা। চতুর্থ দিনে পা দিতেই স্পষ্ট— এই সংঘাত সাময়িক সীমিত আঘাতের পর্যায়ে নেই। Donald Trump প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের হৃদয়ভূমি Tehran-এ সরাসরি আঘাত হানছে। যে শহরকে “মুক্ত” করার রাজনৈতিক ভাষ্য শোনা গিয়েছিল, সেই শহরেই এখন ভারী বোমাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপ, আর লাশের সারি।

অন্যদিকে, নেতৃত্বে গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও ইরান পিছু হটার লক্ষণ দেখায়নি। পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে Tel Aviv, Haifa ও Jerusalem-এর দিকে। সংঘাতের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে।

এই যুদ্ধ এখন কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়— এটি লক্ষ্য-অস্পষ্টতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক জোটরাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে জর্জরিত এক জটিল ভূরাজনৈতিক সংকট।

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধের নীরব মূল্য

ইরানি সূত্রের দাবি, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই প্রক্রিয়া চললেও ঘটনাটি জনমতকে নাড়া দিয়েছে। তেহরানের রাস্তায় মানুষ নেমেছে— সরকারের সমর্থনে নয়, বরং নিহত শিশুদের জন্য শোক প্রকাশ করতে।

২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত সমুদ্রপথের কাছে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ঘটনাস্থল ছিল [স্ক্রিন গ্র্যাব/এএফপির মাধ্যমে আইআরআইবি টিভি]
২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত সমুদ্রপথের কাছে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ঘটনাস্থল ছিল [স্ক্রিন গ্র্যাব/এএফপির মাধ্যমে আইআরআইবি টিভি]

মার্কিন পক্ষ থেকেও ছয়জন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে। পাশাপাশি ইরানের ১১টি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। ইরান পাল্টা দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

রিয়াদ ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাতের পর দূতাবাস আংশিক বন্ধ। লক্ষাধিক মার্কিন নাগরিককে অঞ্চল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট— যা প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইরানের আক্রমণের পর দুবাই বিমানবন্দর x.com থেকে নেউয়া ভিডিও

নেতৃত্ব সংকট সত্ত্বেও “মোজাইক ডিফেন্স” এর ফলে যুদ্ধবিরতির জটিলতা

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের আঘাতের পর কমান্ড-চেইন কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে তেহরান তাদের বিকেন্দ্রীভূত “মোজাইক ডিফেন্স” কৌশল সক্রিয় করেছে— যার অর্থ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলেও স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালাতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় বসতে চায়, প্রশ্ন ওঠে— কার সঙ্গে? কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কাঠামো অনিশ্চিত হলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এটি এক ধরনের “এস্কেলেশন ট্র্যাপ”— যেখানে যুদ্ধ থামাতে চাইলেও তা আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিন বদলানো বয়ান

ওয়াশিংটনের সরকারি ব্যাখ্যায় স্পষ্ট ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে:

  • প্রথম দিন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস
  • দ্বিতীয় দিন: শাসন পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  • তৃতীয় দিন: ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা খর্ব করা
  • পরে: আঞ্চলিক আগ্রাসন ঠেকানো
  • সর্বশেষ: “আসন্ন হুমকি” প্রতিরোধে আগাম হামলা

মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে— গোয়েন্দা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? প্রশাসন কি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়েছে? জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য অংশের নাগরিক এই যুদ্ধে অসন্তুষ্ট। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রাজনৈতিক মূল্যও বাড়বে।

ইসরায়েল-ফ্যাক্টর: কৌশলগত প্রভাবের বিতর্ক

এই সংঘাতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ট্রাম্প-সমর্থক মহলের একাংশও প্রশ্ন তুলছেন— “অ্যান্টি-ওয়ার” প্রতিশ্রুতি কি ভেঙে গেল? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কি শুধুমাত্র ইসরায়েলের ইশারাতে এই হামলা করল?

এই বিতর্ক কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।

সৌদি আরব ও উপসাগর: জ্বালানি-রাজনীতির টানাপোড়েন

সৌদি তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রথমে ইরানকে দায়ী করা হলেও পরবর্তীতে বিকল্প তত্ত্ব সামনে আসে। রিয়াদ তদন্ত করছে। ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আঞ্চলিক অবস্থান।

এদিকে হরমুযপ্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস রপ্তানি স্থগিত করেছে। ইউরোপে জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা স্পষ্ট।যদি হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ হয়, তার অভিঘাত কেবল উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না— এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার অর্থনীতিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

রসদের যুদ্ধ: আগে কার অস্ত্র ফুরোবে?

ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত। উপসাগরীয় মিত্রদের মজুদ দ্রুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের কাছে কয়েক মাসের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে।যদি স্থল অভিযান শুরু হয়— বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা লঞ্চ-সাইট ধ্বংস করতে— তবে তা হবে দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল। আফগানিস্তান ও ইরাকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আকাশপথে আধিপত্য স্থাপন করলেই দ্রুত রাজনৈতিক ফল পাওয়া যায় না।

এক্সিট র‍্যাম্প কোথায়?

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে— যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে। অন্যদিকে চীন, ইরানি তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে, প্রকাশ্যে যুদ্ধে না জড়িয়ে হরমুজ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— একটি আহত, ক্ষতবিক্ষত অথচ এখনও প্রতিরোধক্ষম ইরান কেন আলোচনায় বসবে? যতক্ষণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব, ততক্ষণ তাদের কৌশলগত লিভারেজ অক্ষুণ্ণ থাকে।

এই সংঘাত এখন কেবল দুই রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়— এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহৎ শক্তির কৌশলগত বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।লক্ষ্য যদি স্পষ্ট না হয়, কৌশল যদি প্রতিদিন বদলায়, আর মিত্রজোট যদি দ্বিধাগ্রস্ত থাকে— তবে যুদ্ধের সমাপ্তি অনিশ্চিতই থাকে।তেহরান থেকে হরমুজ— আগুনের রেখা এখন বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র ছুঁয়ে ফেলেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই রয়ে যায়,
এই যুদ্ধ কি সীমিত সামরিক অভিযানেই থামবে, নাকি এটি আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেবে— যার মূল্য দেবে গোটা বিশ্ব?

]]>
https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/feed/ 0 2264
প্রতিশোধের পথে ইরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/ https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/#respond Wed, 04 Mar 2026 08:45:49 +0000 https://banglakal.com/?p=2260 মধ্যপ্রাচ্যে এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার এমন এক সময় চলছে যেখানে আকাশ থেকে মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে। দুবাই হোক বা দোহা—আজকের মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থান শতভাগ নিরাপদ নয়। সামরিক হোক বা বেসামরিক, কেউই নিশ্চিন্ত নয়। ইরান—যা সম্প্রতি তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর গভীর শোকে ডুবে আছে—এখন প্রতিশোধের পথে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ৪০টিরও বেশি কমান্ডার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে। এর ফলে ইরানের নেতৃত্বের বড় অংশ কার্যত ‘ডেক্যাপিটেটেড’ হয়েছে। আগেই তার বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
তবু ইরান হাল ছাড়ছে না। তার বিকেন্দ্রীকৃত “মজাইক প্রতিরক্ষা” কৌশল ও বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে ইরান এখন আক্রমণ চালাচ্ছে—রেড লাইন বা নিয়ম-রেখা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা দেখায় না এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে দ্বিধা করছে না।
অপারেশন নাম: ইরানের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে রিপোর্ট করা হয়েছে “Operation Epic Fury” নামে; এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুকে মধ্যপ্রাচ্যে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো। ইরান সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে অন্য দেশগুলোও ফল ভোগ করবে। ব্রিটেনের সাইপ্রাস ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের সমর্থনের পর ঘটেছে বলে রিপোর্ট।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে ইরান সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত করেছে; এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বাড়ে এবং শেয়ারবাজারে ধাক্কা লাগে। হুথিদের মাধ্যমে সৌদি আরামকোকে লক্ষ্য করার খবরও এসেছে।
আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: দুবাই, ওমানের বাণিজ্যিক বন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে আঘাত করে ইরান গালফের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে চায়।
ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময়; অনুমান করা হয় প্রায় ২,০০০–২,৫০০ কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, রেঞ্জ ২,৫০০ কিমি পর্যন্ত। উন্নত সিস্টেমগুলোর মধ্যে ফাত্তাহ হাইপারসনিক ও খোররমশাহর-৪ উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পুনঃপ্রবেশের সময় ডিকয়-সোয়াম ছাড়ে, যা প্যাট্রিয়ট, থাড ও অ্যারো-৩ মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে। ইরানের ৩১টি স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট নিয়ে গঠিত মজাইক প্রতিরক্ষা নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে আইআরজিসি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

আঞ্চলিক হামলা ও লক্ষ্যবস্তুসমূহ
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল: রেকর্ডিংয়ের সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছিল; জেরুজালেমে বিস্ফোরণের খবর, তেল আবিবে সাইরেন, এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলে রিপোর্ট অনুযায়ী ১০ জন নিহত ও ১০০+ আহত।


বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে বারবার আক্রমণের খবর।
দুবাই—হোটেল ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কুয়েতে সাইরেন চলমান; রিপোর্ট আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
ওমানে দুকুম বাণিজ্যিক বন্দর লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরাকে একটি মার্কিন গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর, ক্ষতি সীমিত।
নৌযান ও বিমান: ইরান দাবি করেছে যে USS Abraham Lincoln এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে; যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে ইরান বলেছে ক্যারিয়ারটি পরে এলাকা থেকে সরে গেছে। একটি আমেরিকান F-15 যুদ্ধবিমান গুলি করে নেমে গেছে—রিপোর্টে বলা হয়েছে সম্ভবত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ফ্রেন্ডলি ফায়ারের কারণে।

Smoke rises in the sky after blasts were heard in Manama, Bahrain, on Saturday, February 28, 2026 [Reuters]
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাহরাইনের মানামাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া উড়ছে [রয়টার্স]

রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ জন আমেরিকান সার্ভিস মেম্বার নিহত; ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি—২০০+ নিহত, যার মধ্যে স্কুলে বোমাবর্ষণে ১৫০+ মেয়ের মৃত্যু বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক। গাঁধী হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবরও এসেছে, ফলে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, ইরাকে ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থানে আঘাত—বিশেষত শিশুদের ওপর আঘাত—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। বহু পরিবার শোকাহত, আহত ও গৃহহীন। চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি।
অর্থনৈতিক প্রভাব: হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। গালফের পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ স্থানীয় অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতি: ইরান একা লড়ছে—কোনো মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশ বা বৈশ্বিক শক্তি প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়নি। তবে ইরানের আক্রমণগুলো গালফের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে দিতে পারে। ইরান মনে করে যুদ্ধবিরতি এখনই মানে পরাজয়; তারা চায় আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হোক।
নিউক্লিয়ার ও গোয়েন্দা প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) বলেছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণের শিকার হয়নি, যা প্রাথমিক হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তৎক্ষণাৎ আক্রমণ করতে যাচ্ছিল না—এটি প্রাক-হামলার যুক্তি চ্যালেঞ্জ করে।


অনেক ইরানী দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট; বিদ্রোহ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাধ্যমে রেজিম পরিবর্তনের আশা করেছিল, কিন্তু খামেনির হত্যার পরে সিস্টেমের কিছু অংশ অভ্যন্তরীণভাবে সংহত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসে ঘটায় তা শিয়া সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি: কাগজে ইরানের জয় অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলো জোরালো হয়ে উঠছে—ইরানের কৌশল কী, কতদিন তারা বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে, এবং এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য কী। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও সামরিক সম্পদ মোতায়েন করে—ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, B-2 স্টেলথ বোমারু, পারমাণবিক সাবমেরিন, ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র—তবে লক্ষ্য প্রদর্শন করা হলেও একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা বাড়ায় ঝুঁকি বাড়ে।

বায়ু হামলা ও কৌশলগত আঘাত দিয়ে রেজিম পরিবর্তন আনা কঠিন; স্থল বাহিনী ছাড়া তা অসম্ভবের কাছাকাছি। স্থল অভিযান মানে ব্যাপক হতাহত ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত—আফগানিস্তানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা।
যুদ্ধটি যদি আরও তীব্র হয়, তা আঞ্চলিক বিস্তার ঘটাতে পারে এবং মানবিক বিপর্যয়কে গভীর করবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি ঘটে, প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবর্তন কোথায় ঘটবে: ইরানে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে; অর্থাৎ এই সংঘাতের রাজনৈতিক ফলাফল কাদের ওপর পড়বে।


এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা মানুষের কষ্ট ও ভয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ইরানের শোক ও প্রতিশোধের অনুভূতিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা যায়, তবু সহিংসতা যত বাড়বে নিরীহ মানুষের কষ্ট ততই বাড়বে। আন্তর্জাতিক সমাজের তাত্ক্ষণিক কর্তব্য হলো কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়—এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। প্রশ্নগুলো এখনো অনুত্তরিত: এই যুদ্ধের শেষ কোথায়, এবং এর মূল্য কে বহন করবে—সামরিক শক্তি নাকি সাধারণ মানুষ।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/feed/ 0 2260