মতামত – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 29 Apr 2026 14:58:14 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 মতামত – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 অগ্নিকন্যা, দুনম্বরী নেতা ও অসাধু রেফারির কিসসা https://banglakal.com/opinion/agnikanya-dunombori-neta/ https://banglakal.com/opinion/agnikanya-dunombori-neta/#respond Wed, 29 Apr 2026 14:57:59 +0000 https://banglakal.com/?p=2470 ~হাফিজুর রহমান

গদি চ্যানেলের অত্যাচারে খবর দেখা ছেড়েছি অনেকদিন। ইউটিউবে খবর দেখি, কিন্তু এখন সেখানেও ‘শিং ভেঙে বাছুর সেজে’ গদি চ্যানেলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যে হারে মানুষ খবর দেখা বন্ধ করেছে এবং চ্যানেলের বিশ্বাসযোগ্যতা কমেছে, তাতে তারা ইউটিউবের শরণ নিতে বাধ্য হয়েছে। স্বভাবমতো এখানেও তারা শাসক শ্রেণির দালালি করছে। অবশ্য ওদের দোষ নেই; কী করবে, নুন খেয়েছে তো গুণ গাইতে হবে!

ওদের মতে, এবারের নির্বাচনে ‘বাপের জমিদারি’ পার্টি আসতে চলেছে। এমনকি ভোট বেশি পড়লেও সেটা ‘স্যারের’ ম্যাজিকের ফলে হচ্ছে বলে নিদান দিচ্ছে। এর আগে বিহার ও মহারাষ্ট্র নির্বাচনে আমরা দেখেছি কীভাবে মানুষ শাসক শ্রেণির নেতাদের জুতো-ঝাঁটা দিয়ে বরণ করেছে। দিল্লি থেকে উড়ে আসা নেতাদের সভায় সারি সারি খালি চেয়ারের ছবিও দেখেছি। অথচ ভোটের রেজাল্ট বেরোতে অবাক হয়ে দেখেছি—কোন এক জাদু বলে সেই লাঠিপেটা খাওয়া প্রার্থীরাই বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে বিজয়ী হয়েছে! রেফারি ম্যানেজ করলে কী হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এখানে রেফারি হলো নির্বাচন কমিশন। মহারাষ্ট্র ও বিহারে খেল দেখাবার পর এখানে কী খেল দেখাবে, সেই অপেক্ষায় আছি।

রাহুল গান্ধী একের পর এক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন কীভাবে ভোট ম্যানিপুলেশন করে রেজাল্ট পাল্টে দেওয়া হয়েছে। পুকুর চুরি করে ‘বাপের জমিদারি’ পার্টির হয়ে ভোট জালিয়াতি করে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চলছে। কাজেই বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল খেটে পয়সা খরচ করে যে সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করছে, তাতে তৃণমূল জিতলেও খেলা পাল্টে যেতে পারে।

অনেকে হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু লেখাটি ভুল প্রমাণিত হলে আমিই সবথেকে বেশি খুশি হব। দ্বিতীয় দফায় ভোট মিটলেও কাজ শেষ হবে না। কারণ ২৯ এপ্রিল ভোট মিটলেও মে মাসের ৩ তারিখের মধ্যে ‘খেলা’ হতে পারে। বিহার ও মহারাষ্ট্রে মাঝরাতে ব্যালট বাক্সের লরি আর ইভিএম ঢুকেছিল; মানুষ জড়ো হতেই লাঠি চালিয়ে ভিড় খালি করা হয়েছিল। এখানেও একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কাজেই গা-ছাড়া দিলে হবে না; ৪ তারিখ কাউন্টিং শেষ হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, নাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

যেভাবে ‘দুই নম্বর’ নেতা সব ছেড়ে মাটি কামড়ে পড়ে আছে, তা দেখে মনে হচ্ছে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়—একথা নিশ্চয়ই নতুন করে বোঝাতে হবে না।

]]>
https://banglakal.com/opinion/agnikanya-dunombori-neta/feed/ 0 2470
যত কাণ্ড বেলডাঙায়: সাংবাদিক নিগ্রহ না কি সাজানো চিত্রনাট্য? https://banglakal.com/opinion/beladanga-incident/ https://banglakal.com/opinion/beladanga-incident/#respond Wed, 21 Jan 2026 14:46:47 +0000 https://banglakal.com/?p=1642

হাফিজুর রহমান, কলকাতা: বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ড্রয়িং রুম— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জি নিউজ-এর সাংবাদিক সোমা মাইতির ওপর শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ। এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তোজিত জনতার ক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন সোমা ও তাঁর ক্যামেরাম্যান। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকা রহস্য এবং তথ্যের অসঙ্গতি এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে।

সোমা মাইতির দাবি, উত্তেজিত জনতা তাঁকে দুই কিলোমিটার রাস্তা চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে গিয়েছে এবং শ্লীলতাহানি করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ক্যামেরাম্যানের মাথাও ফেটেছে। আপাতত তিনি একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। কিন্তু ঘটনার সচিত্র বিশ্লেষণ করলে উঠে আসছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তথ্যের গোলমাল ও রহস্য: ঘটনার সময়কার ছবি এবং পরবর্তী ভিডিওর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

  • পোশাকের অসঙ্গতি: অভিযোগ করা হয়েছে যে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে, কিন্তু নার্সিংহোমে যাওয়ার সময় তাঁর মেরুন রঙের টি-শার্টটি একদম অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।
  • ব্যান্ডেজের বিভ্রান্তি: সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একবার বাঁ হাতে ও হাঁটুতে ব্যান্ডেজ, আবার কিছুক্ষণ পর বিছানায় শোয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে হলুদ টি-শার্ট এবং ডান হাতে স্লিং (Sling)।

একজন পেশাদার সাংবাদিকের এই ধরণের স্ববিরোধী আচরণ ও ছবির পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষ এখন আর অন্ধভাবে সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। টিআরপি-র ইঁদুর দৌড়ে নাম লেখাতে গিয়ে বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কি সত্যকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?

বর্তমানে ‘গদি মিডিয়া’র ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কমছে। নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার এই যে চেষ্টা, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। চালাকি করে পার পাওয়া গেলেও, ক্যামেরার এই যুগে সত্য চাপা দেওয়া কঠিন। ময়ূরপুচ্ছধারী সাংবাদিকদের আসল রূপ আজ জনসমক্ষে পরিষ্কার।

]]>
https://banglakal.com/opinion/beladanga-incident/feed/ 0 1642
মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়: শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে হাসান বাপ্পা ও জাহাঙ্গীর ফকিরের সাক্ষাৎ, নেপথ্যে কোন সমীকরণ? https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/ https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/#respond Sun, 18 Jan 2026 12:43:16 +0000 https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/


বাংলার রাজনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত কথা আছে ‘মুর্শিদাবাদ যার, বাংলার মসনদ তার কাছাকাছি।’ অন্তত ২০২১ এর ফলাফল দেখে বলায় যায়! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আপ্তবাক্যটি যেন তত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের চোরাস্রোত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এই ক্ষোভকেই মূলধন করে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাতীয় কংগ্রেস।

গত কয়েকমাস ধরে কলকাতার বিধান ভবনের অলিন্দে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস নেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি জেলা কংগ্রেসের নেতা মাহাতাব শেখ, হাসান বাপ্পা, জাহাঙ্গীর ফকির এবং সাইদুর রহমান প্রমুখেরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কখনও গোপনে, কখনও বা প্রকাশ্যে— এই নেতাদের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হলো জেলার বিভিন্ন আসন থেকে দলের টিকিট নিশ্চিত করা। এরা ছাড়াও যারা নিয়মিত সম্পর্ক রেখে চলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন  সুতির মইদুল ইসলাম এবং আলী রেজা, সামশেরগঞ্জ এর শামসুল আলম, বেলডাঙ্গার প্রাক্তন বিধায়ক শফিউজ্জামান, রাণীনগরের প্রাক্তন বিধায়িকা ফিরোজা বেগম সহ জেলা জেলা স্তরের বেশ কিছু নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে যে শাসকবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) মুর্শিদাবাদে তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে বিধানসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস।

তবে কলকাতায় বৈঠক বা দৌড়ঝাঁপ যাই হোক না কেন, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের শেষ কথা এখনও একজনই— অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মুর্শিদাবাদের মাটির নাড়ি আর রাজনীতির গতিপ্রকৃতি তাঁর চেয়ে ভালো কেউ বোঝেন না। জেলাজুড়ে তাঁর যে সাংগঠনিক দাপট এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমা রয়েছে, তাতে প্রার্থী তালিকায় তাঁর সিলমোহর ছাড়া কেউ এক ইঞ্চিও নড়তে পারবেন না। শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ থাকলেও, জেলা স্তরের টিকিট বণ্টনে অধীর চৌধুরীর সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত।

এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের লড়াই কেবল দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী নয়, বরং বহুমুখী হতে চলেছে। শাসক দল তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবির গঠন করেছেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। ভারতপুর ও রেজিনগর এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব অস্বীকার করার জায়গা নেই। তিনি যদি সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে বড়সড় ভাঙন ধরাতে পারেন, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তৃণমূল এবং কংগ্রেস উভয়ের ওপরই।

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবার মুর্শিদাবাদকে নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা সাজিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট শতাংশের হারে বিজেপি যে উত্থান ঘটিয়েছিল, বিধানসভায় তারা তাকেই সাফল্যের সোপান বানাতে চায়। বিশেষ করে হিন্দু ভোট সংহতির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে তারা ঘর গোছাচ্ছে।

মুর্শিদাবাদের ভোট মানেই সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু সমীকরণের সূক্ষ্ম অঙ্ক। তৃণমূলের বিরুদ্ধে উন্নয়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগকে অস্ত্র করছে বিরোধীরা। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন— কংগ্রেস কি পারবে তাদের পুরনো দুর্গ ফিরে পেতে? নাকি হুমায়ুন কবিরের মতো নির্দলীয় বা নতুন দলগুলি ‘ভোট কাটুয়া’র ভূমিকা পালন করে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পথ প্রশস্ত করে দেবে?

এক নজরে বর্তমান প্রেক্ষাপট:

🔹তৃণমূল কংগ্রেস: দুর্নীতির অভিযোগ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চ্যালেঞ্জ সামলানো।
🔹জাতীয় কংগ্রেস: অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে হৃত জমি পুনরুদ্ধার এবং ময়দানে থাকা এবং সংগঠন যারা তৈরি করছে সে রকম তরুণ মুখদের সামনে আনা।
🔹জনতা উন্নয়ন পার্টি: হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে থাবা বসানো।
🔹বিজেপি: হিন্দু ভোট ব্যাংক সংহত করে চমকপ্রদ ফলাফল করা।

পরিশেষে বলা যায়, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস যে ভালো ফল করার আশা করছে তাতে লড়াইটা কেবল প্রার্থী হওয়ার নয়, লড়াইটা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ব্যালট বক্সে রূপান্তর করার। অধীর চৌধুরী তাঁর তুরুপের তাস কীভাবে খেলেন, এখন সেটাই দেখার।

]]>
https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/feed/ 0 1585
অমর্ত্য সেন বনাম দেড় কোটি নোটিস: একটি সুপরিকল্পিত ‘আইওয়াশ’-এর রাজনৈতিক আখ্যান https://banglakal.com/opinion/amartya-sen-vs-notice/ https://banglakal.com/opinion/amartya-sen-vs-notice/#respond Sun, 18 Jan 2026 07:56:12 +0000 https://banglakal.com/?p=1567 নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখলে একটা পরিচিত কৌশল চোখে পড়ে। প্রায় দেড় কোটি ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে সংখ্যাটা এতটাই বিশাল যে সাধারণ মানুষের কাছে তা কার্যত অর্থহীন হয়ে যায়। এই বিশাল প্রশাসনিক উদ্যোগকে ‘জাস্টিফাই’ বা বৈধতা দেওয়ার জন্য কমিশন যেন এখন এক কৌশলগত অনুশীলনে নেমেছে। আর সেই অনুশীলনের দৃশ্যমান মুখ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে অমর্ত্য সেনের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের।

কমিশন খুব ভালো করেই জানে দেড় কোটির হিসাব সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। কিন্তু যখন অমর্ত্য সেন বা তাঁর মতো হাই-প্রোফাইল কাউকে নোটিস পাঠানো হয়, তখন মিডিয়া স্বাভাবিকভাবেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ব্রেকিং নিউজ, টক শো, সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তেজনা সব মিলিয়ে একটা বার্তা প্রতিষ্ঠা করা হয়: “দেখুন, আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না।”

এখানে প্রশ্ন অমর্ত্য সেনের নির্দোষিতা বা দোষ নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো, তাঁকে একটি প্রতীকে পরিণত করে কীভাবে এই বিশাল প্রক্রিয়াটিকে জনমানসে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। বড় মাছ জালে তুলে ছোট মাছদের চুপ করিয়ে রাখার এক পরিচিত কৌশল।

মিডিয়া যখন অমর্ত্য সেনকে ঘিরে সরগরম, তখন বাকি দেড় কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ কিন্তু অন্ধকারের আড়ালেই থেকে যায়। এই বিশাল নোটিস অভিযানের লক্ষ্য কি শুধুই ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ করা?

সাংবাদিক অপর্ণা ভট্টাচার্য ( Aparna Bhattacharya ) দ্য ওয়্যার-এ প্রকাশিত একটি তথ্যনিষ্ঠ প্রতিবেদনে এই প্রশ্নেরই অস্বস্তিকর দিকগুলো সামনে এনেছেন।

অপর্ণা ভট্টাচার্যের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নোটিস পাঠানোর হার সবচেয়ে বেশি সেই জেলাগুলোতে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশি।

মুর্শিদাবাদ: প্রায় ৩০.২০% ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে
মালদা: ২৮.৪২%
উত্তর দিনাজপুর: ২৯.৭৫%

অন্যদিকে বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া (যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ১০%-এর নিচে), সেখানে এই হার মাত্র ১০–১৩%।
এই বৈষম্য কাকতালীয় বলেই কি ধরে নেওয়া যায়?

আসল প্রশ্নটা এখানেই, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে ভোটারদের তথ্য ভেরিফিকেশন বা ‘ম্যাপিং’ ইতিমধ্যেই ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন। অর্থাৎ নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও সফটওয়্যারের তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বাঁকুড়ার তুলনায় মুর্শিদাবাদের একজন ভোটারের নোটিস পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় তিন গুণ বেশি।

যেখানে ডেটাই কথা বলছে, সেখানে ‘প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা’ আদৌ কতটা নিরপেক্ষ সেই প্রশ্নটা অনিবার্যভাবে উঠে আসে।

হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নোটিস পাঠিয়ে এক ধরনের ‘আইওয়াশ’ অর্থাৎ দৃশ্যমান স্বচ্ছতা দেখিয়ে কাঠামোগত প্রশ্নগুলো আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি যখন সেলিব্রিটিদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, তখন নিঃশব্দে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া অনেক সহজ হয়।

দেড় কোটি মানুষের এই হয়রানি কি সত্যিই গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার অনুশীলন, নাকি নির্দিষ্ট জনবিন্যাসকে টার্গেট করার এক সুপরিকল্পিত নীল নকশা এই প্রশ্নটা আজ তোলা শুধু জরুরি নয়, অপরিহার্য।

দ্য ওয়ারে প্রকাশিত লেখার লিঙ্ক এখানে ক্লিক করে পড়া যাবে।

]]>
https://banglakal.com/opinion/amartya-sen-vs-notice/feed/ 0 1567
আলবিদা গরম ধরম; একটি স্মৃতিচারণ https://banglakal.com/opinion/alvida-dharmendra-by-hafizur-rahaman/ https://banglakal.com/opinion/alvida-dharmendra-by-hafizur-rahaman/#respond Wed, 26 Nov 2025 08:44:04 +0000 https://banglakal.com/?p=1243

~হাফিজুর রহমান,

তাঁর ৯০তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল ৮ ডিসেম্বর, ঠিক ১৪ দিন পর; তার আগেই চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র।

নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় ছেলেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। গদি মিডিয়া অতি-উৎসাহে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করে দিয়েছিল। প্রেসের এই অতি-উৎসুকতায় একজন জীবন্ত মানুষকে মৃত ঘোষণা করা নিয়ে ছেলে সানি আর ববি দেওল বিরক্ত হন। আর এবার যখন সত্যি ঘটনা ঘটল, তখন কেউ জানার আগেই নীরবে, নিঃশব্দে বলিউডের অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বলিউড কভার করলেও কখনও কারও মৃত্যু দেখার সুযোগ হয়নি, কাজেই এই ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তবে ছবিতে স্টার চলে গেলে তাঁর মৃত্যুর চেয়েও বড় হয়ে ওঠে কে কে শেষকৃত্যে আসছে, সেই ছবি তোলার অতি উৎসাহ। ববি, সানি বাবার মৃত্যু নিয়ে তামাশা করতে চাননি, তাই গদি মিডিয়াকে বয়কট করেছেন।

ধর্মেন্দ্রর ফিল্মি জগতে পা রাখা যেন এক চলচ্চিত্রের গল্প। কিশোর ধর্মেন্দ্র জীবনের প্রথম ফিল্ম দিলীপ কুমার অভিনীত ‘শহীদ’ ছবিটি দেখেছিলেন। সেই ছবিটি কিশোর মনে এত প্রভাব ফেলে যে সে ঠিক করে বড় হয়ে সে ফিল্ম স্টার হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করত ‘আমি ভবিষ্যতে দিলীপ কুমার হব কি না?’।

পড়াশোনায় মন ছিল না সেই কিশোরের। তাঁর বাবা ছিলেন শিক্ষক, কাজেই মায়ের কাছে নিজের মনের গোপন ইচ্ছে খুলে বলেন কিশোর ধর্মেন্দ্র। ছেলের মন ভাঙতে চাননি মা, তাই নীরবে জমানো টাকা তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে।

এর মধ্যেই বোম্বাই থেকে ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ এলো। একটি প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। ধর্মেন্দ্র তাঁর এক বন্ধুর স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলে ফর্ম ভর্তি করে বোম্বেতে পাঠিয়ে দেন।

বোম্বে থেকে ডাক আসে। সেখানে একলব্য ধর্মেন্দ্র, গুরু দিলীপ কুমারকে অনুসরণ করে অডিশন দেন এবং গোটা দেশের সব প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এক নম্বর স্থান পান। ব্যাস, শুরু হয় তাঁর ফিল্মি সফর।

সালটা ১৯৫৮। প্রথমে তেমন সাফল্য না পেলেও সুযোগ আসে বিখ্যাত অভিনেত্রী মীনা কুমারীর বিপরীতে। মীনা কুমারী ও ধর্মেন্দ্রর ফিল্ম ‘ফুল অউর পাত্থার’ বিশাল হিট হয়। সেই ফিল্মে তাঁর শার্ট খোলা ইমেজ তাঁকে রাতারাতি ‘হি-ম্যান’ বানিয়ে দেয়। আর যারা তাঁকে অভিনয় ছেড়ে কুস্তি করতে বলেছিল, তারা অবশেষে তাঁর অভিনয়কে মেনে নিতে বাধ্যও হয়েছিল। মীনা কুমারী নবাগত অভিনেতাটিকে বেশ কিছু ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। সেই শুরু, ধর্মেন্দ্র একের পর এক হিট উপহার দিয়ে ফিল্মি দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। মাটির সঙ্গে জুড়ে ছিলেন, তাই সত্তরের দশকের রাজেশ খান্নার ঝড়ে উড়ে যাননি, বরং একের পর এক হিট উপহার দিয়েছেন তিনি। রোমান্টিক ফিল্ম না করে স্ট্র্যাটেজি পাল্টে অ্যাকশন আর কমেডি ধাঁচের ফিল্মে অভিনয় করে বাজিমাত করে দিয়েছেন।

প্রায় ছয় দশক অভিনয় করলেও পুরস্কার ভাগ্য তাঁর ছিল না। জীবনের শেষ মুহূর্তে ফিল্মফেয়ার ট্রফি জুটেছিল, তাঁর আইডল দিলীপ কুমারের হাত থেকে। দিলীপ ধর্মেন্দ্রকে স্নেহের চোখে দেখতেন। তিনি ধর্মেন্দ্রর সম্পর্কে জানান বিধাতা যদি ওর মত চেহারা দিয়ে পাঠাতেন, তাহলে তিনি খুশি হতেন। আজ, ২৫ তারিখ (নভেম্বর), তাঁর আগামী ফিল্ম ‘ইক্কিশ’-এর পোস্টার রিলিজ হলো। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তিনি দেখে যেতে পারলেন না। সামনে বড়দিনের ছুটিতে ‘ইক্কিশ’ মুক্তি পাবে, জানিয়েছেন পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন। এটি ছাড়াও তাঁর আরও দুটি ফিল্ম মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

যতদূর জানি, আরও গোটা তিনেক ফিল্ম অনেক দিন আগে থেকে পড়ে আছে। এখন হয়তো লোকের ইমোশন (বা আবেগ) কাজে লাগাতে ছবিগুলি দিনের আলো দেখবে।

মন খারাপ, বেশি কথা না বাড়িয়ে শেষ করছি তাঁর ফিল্ম ‘ব্ল্যাক মেইল’-এর গানের কলি দিয়ে:

“পল পল দিল কে পাস তুম রহতি হো, জীবন মিঠি প্য্যাস ইয়ে ক্যাহতি হো…”

]]>
https://banglakal.com/opinion/alvida-dharmendra-by-hafizur-rahaman/feed/ 0 1243
মুসলিম ওবিসিরা এখন “নো ম্যানস ল্যান্ড” এ https://banglakal.com/opinion/on-obc-muslim-of-bengal-are-now-on-no-mans-land-writes-tayedul-islam/ https://banglakal.com/opinion/on-obc-muslim-of-bengal-are-now-on-no-mans-land-writes-tayedul-islam/#comments Mon, 20 Oct 2025 08:00:02 +0000 https://banglakal.com/?p=1112 ~তায়েদুল ইসলাম

রাজ্য সরকার ওবিসি সংক্রান্ত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ওবিসি এ এবং বি তালিকায় পুনঃ বিন্যাস করেছে। ওবিসি এ তালিকা থেকে কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বি তালিকায় এবং ওবিসি বি তালিকা থেকে কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি এ তালিকায় নিয়ে আসে। এই রদবদলের জন্য ওবিসি এ তালিকা থেকে বি তালিকায় নিয়ে আসা জনগোষ্ঠীররা সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন। এবং তাদের পুনরায় এ তালিকায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এরই মাঝে তারা নিজেদের সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে বি তালিকা ভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে নতুন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করা শুরু করেন। সবার ধারণা ছিল খুব সহজেই তা হয়ে যাবে। সমস্ত কিছুই ঠিক থাকবে। কেবলমাত্র এ এর স্থানে বি লিখে দিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টো। নতুন ভাবে সমস্ত ডকুমেন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামান্য ত্রুটির অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ এ ভাগ লেখা সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে। নতুন ভাবে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এই ভাবে দেওয়ার জন্য প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ চলছে অস্বাভাবিক ধীর গতিতে। ফলে যারা আশা করেছিল নতুন ভাবে সার্টিফিকেট নিয়ে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা হতাশ হচ্ছে। সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই সুযোগ সুবিধার সময় সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। দরকার ছিল জরুরী ভিত্তিতে কাজের সময় বৃদ্ধি করে, অথবা অন্য বিভাগের কাজ কমিয়ে এ কাজের দায়িত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সার্টিফিকেট প্রদানের কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু সরকার সে কাজ তো করছেই না, বরং কাজের দিন কমিয়ে সপ্তাহে মাত্র এক দিন সার্টিফিকেট প্রদান সংক্রান্ত কাজের জন্য বরাদ্দ করেছে।

যারা ওবিসি নিয়ে কাজ কর্ম করছেন তারা এই বিষয়টি নিয়ে কোন কিছু ভাবছেন বলে মনে হচ্ছে না। এখন দরকার ওবিসি নিয়ে কাজ করছেন এমন সব ব্যক্তি, সংগঠন, দল মিলিত ভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে সরকার খুব দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে অনেকগুলো সংগঠন কাজ করে এবং ওবিসি সমাজের মানুষের সংখ্যা বেশি। সব সংগঠন মিলে উত্তরবঙ্গে এক দিনের বনধ ডাকতে পারত। তা হলে হয়তো নতুন বিন্যাস বন্ধ হয়ে আগের তালিকায় থাকত। একই দিনে সমস্ত এসডিও র কাছে গণ ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি গ্ৰহণ করা এবং জোরালো ভাবে দাবি জানানো যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে – এখনও এ কর্মসূচি গ্ৰহণ করা যেতে পারে।

অন্য একটি বিপদের সম্ভাবনাও আছে। যে ভাবেই হোক কিছু দিনের মধ্যে হয়তো সবাই ওবিসি বি সার্টিফিকেট পেল, কিন্তু তারপর সরকার আবার আইন পরিবর্তন করে এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ওবিসি এ তালিকায় নিয়ে এল। তখন আবার তাদের নতুন সার্টিফিকেট নিতে হবে। ফলে নতুন করে আবার হয়রানির শিকার হবে। দৌড়ঝাঁপ করাই হবে। কোন সুফল পাবে না। বর্তমানে তাদের অবস্থা নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকার মতো। ওবিসি এ সার্টিফিকেট বাতিল। ওবিসি বি সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। এখন তারা আর ওবিসি ই নয়। ব্যাপারটা হল এ রকম, আগের স্কুল টি সি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন স্কুল ভর্তি নিচ্ছে না। আমি এখন আর কোন স্কুলেরই ছাত্র নই। ফলে বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার ছিল ওবিসি নিয়ে কাজ করা দলগুলোর।

জানা গেছে প্রোগ্ৰেসিভ ইন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল বা পিআইবি নামের একটি সংগঠন বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা ডেপুটেশন দিচ্ছে। কিন্তু তারা এমন সব প্রতিনিধিদের কাছে ডেপুটেশন দিচ্ছে যাদের মুখ্যমন্ত্রীকে তো দুরের কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ফোন করার সাহস নেই। কয়েক দিন আগে মুর্শিদাবাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছে। তারা স্পষ্টতই বলেছেন এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু বলতে পারবেন না। তবে ফিরহাদ হাকিমকে জানাবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলার চেষ্টা করেন বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তখন তারা কিছুটা রাগতো স্বরে বলেন তা হলে আপনারা বিজেপিকে আনতে চাইছেন।

আবার অনেকেই অভিযোগ করছেন এই পিআইবি র নেতা মানাজাত আলি বিশ্বাস সামনে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার জন্য বাজার তৈরি করছেন। একই অভিযোগ রয়েছে পিস নামক একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। বাকি ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্যাটি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণাই নেই। অথচ তারা বিষয়টি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে এবং সরকারকে বাধ্য করতে পারে সমস্যার সমাধান করতে।

মতামত লেখকের নিজস্ব। তায়েদুল ইসলাম একজন লেখক, সমাজকর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মী।

]]>
https://banglakal.com/opinion/on-obc-muslim-of-bengal-are-now-on-no-mans-land-writes-tayedul-islam/feed/ 1 1112
গড়িয়ায় বাড়ি থেকে উদ্ধার দম্পতির ঝুলন্ত দেহ, তদন্তে নেমেছে পুলিশ https://banglakal.com/opinion/police-started-investugating-the-hanging-body-of-the-couple-rescued-from-garias-house/ https://banglakal.com/opinion/police-started-investugating-the-hanging-body-of-the-couple-rescued-from-garias-house/#respond Thu, 20 Mar 2025 11:15:52 +0000 https://banglakal.com/?p=463 গড়িয়ার আদর্শনগর এলাকায় এক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতরা হলেন তরুণ দাস বয়স এবং আশা দাস বয়স ৩৫ বছর। তারা গত ছয় মাস ধরে গুরুপদ মণ্ডলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দু’জনেই কর্মরত ছিলেন এবং তাঁদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

বুধবার দুপুরে তরুণ ও আশা দুজনেই কাজ থেকে ফিরে আসেন। তখন তাঁরা স্বাভাবিক ছিলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলেন, আড্ডাও মারেন। তবে কিছুক্ষণ পরই হঠাৎই তরুণ দাসের এক আত্মীয় তাঁকে গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। আর স্ত্রী আশা দাস খাটে শোয়ানো অবস্থায় ছিলেন। পুলিশের অনুমান, আশা দাসের গলায় ক্ষতচিহ্ন ছিল, গাল দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল, স্বামী প্রথমে স্ত্রীকে খুন করে তারপর আত্মহত্যা করেছেন।

তবে কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

]]>
https://banglakal.com/opinion/police-started-investugating-the-hanging-body-of-the-couple-rescued-from-garias-house/feed/ 0 463
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/ https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/#respond Thu, 13 Mar 2025 16:08:46 +0000 https://banglakal.com/?p=358

ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম যা মানবজাতির কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আসলে ইসলাম একটি জীবনধারা। একটি মানুষের জীবনে কি করণীয় আর কি করণীয় নয়, তার সুস্পষ্ট নির্দেশ ইসলামে বিদ্যমান। কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদেরকে নৈতিকতা, সহনশীলতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সদাচরণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। শুধু ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের নয়, বরং বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাহল আল্লাহর আদেশাবলী মেনে চলতে হবে, এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধার মনোভাব রাখতে হবে।

১. ধর্মীয় বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ

কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বা উগ্রতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। “তোমরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না” (সুরা নিসা: ১৭১) এই আয়াতটি আমাদের ধর্মীয় চেতনা এবং আচরণে সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে, ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম, যা অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা বা অতিরিক্ত উদারতা থেকে দূরে থাকতে বলে। ইসলাম উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, কারণ এমন আচরণ ইসলামের মূল দর্শন থেকে বিচ্যুত।

২. অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা

ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এবং দেবতাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “অন্যের দেবতাকে গালি দিও না” (সুরা আনআম: ১০৮)। এই আয়াত দ্বারা ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার মর্মার্থ প্রতীয়মান হয়। ইসলাম যে কোনো ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষ বা অপমানকে নিন্দা করে। এটি একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করে যে, কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করবে, আর কে করবে না। কেননা হেদায়েত করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. ধর্মের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি নেই

ইসলাম মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্ম নির্বাচন করার অধিকার প্রদান করেছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। আলোর পথ এখন সুস্পষ্ট” (সুরা বাকারা: ২৫৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম স্বেচ্ছায় ধর্মগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করেছে যে, কেউই জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করবে না। ইসলামের এ দৃষ্টিভঙ্গি অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা ও গ্রহণযোগ্যতার উদাহরণ। ইতিহাস তাই বলে। যদিও অনেকেই বিকৃত ইতিহাসের উপর আস্থা রেখে সত্য উদঘাটন করে না।

৪. নিরীহ মানুষের হত্যা নিষিদ্ধ

ইসলাম অত্যন্ত জোরালোভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করার সমান অপরাধ” (সুরা মায়েদা : ৩২)। এটি মানবজীবনের মর্যাদা ও পবিত্রতা নিশ্চিত করার একটি প্রধান নীতিমালা। ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষা করাকে খুবই মহান কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান। তাই ইসলাম বলে একটি নির্দোষ ব্যাক্তিকে হত্যা করা মানে বিশ্ব মানব মান্ডলিকে হত্যা করার সমান।

৫. সহায়তা এবং সহযোগিতা

ইসলাম নৈতিক মূল্যবোধে উৎসাহ দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ বা সাহায্য করবে সে উপকৃত হবে। আর যে মন্দ কাজে প্ররোচিত বা সহযোগিতা করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে” (সুরা নিসা: ৮৫)। এই নির্দেশ ইসলামের সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি প্রকাশ করে, যেখানে মুসলমানরা ভালো কাজে একে অপরকে সাহায্য করতে বলা হয়েছে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ইসলামে ধর্মীয় আচারাদি পালন ছাড়াও ফিতরা, যাকাত, সদকা, ইত্যাদি নানাবিধ অর্থ প্রদানের কথা সেই নির্দেশকে কার্যকরী করার জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়।

ইসলামের শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা

ইসলাম সবসময়ই শান্তি, সৌহার্দ্য, এবং ন্যায়ের ধর্ম। এটি ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, এবং মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলাম যে সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে তা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর করুণার প্রতিফলন। ইসলামে উগ্রতা বা অতিরিক্ত কট্টরপন্থার কোনো স্থান নেই; বরং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো সবাইকে নিয়ে সহাবস্থান করা এবং নৈতিকতার পথে পরিচালিত হওয়া। কেননা ইসলামে সবাইকে নিজের নিজের কর্মফল ভোগ করতে হবে। তাই নিজস্ব কর্মের প্রতি সজাগ থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ সেবায় অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়েছে। আসলে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা পশ্চমী দুনিয়া করেনি বা ইচ্ছা করে বিকৃত ভাবে প্রকাশ করেছে। তার উজ্জ্বল উদাহরন জিহাদ শব্দের অপব্যাখ্যা। তিনটি স্তরকে একাকার করে দিয়ে আত্মশুদ্ধির পর্যায়কে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তাই বলা যায় যে, ইসলাম মানুষের জীবনের মূল্য, স্বাধীনতা, এবং ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো ন্যায়, শান্তি, ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক সমাজ গঠন করা, যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে বসবাস করতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/feed/ 0 358
বেহাল রাস্তার কারণে ঝুঁকিতে নাগরিকরা, রাতের অন্ধকারে বাড়ছে বিপদ https://banglakal.com/opinion/citizens-are-at-risk-due-to-bad-roadsthe-danger-is-increasing-in-the-dark-of-the-night/ https://banglakal.com/opinion/citizens-are-at-risk-due-to-bad-roadsthe-danger-is-increasing-in-the-dark-of-the-night/#respond Thu, 13 Mar 2025 14:05:38 +0000 https://banglakal.com/?p=351

নাগরাকাটা: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে নাগরাকাটা তন্ডু থেকে খয়েরকাটা বস্তি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে বন দফতরের জঙ্গল থাকায় দিনের আলোতে কোনও মতে যাতায়াত করা গেলেও, সন্ধ্যার পর এই পথ পাড়ি দেওয়া হয়ে উঠছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল দশার কারণে দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজার কিংবা সরকারি দফতরে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার বেশ কিছু অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও আবার পিচ উঠে গিয়ে কাঁচা রাস্তার মতো অবস্থা হয়েছে। ফলে, মোটরবাইক বা গাড়ি চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাস্তার দুই পাশে জঙ্গল থাকায় রাতের দিকে বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক থাকে চরমে। রাস্তা খারাপ থাকায় ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হয়, ফলে অনেকেই রাতে এই পথ এড়িয়ে চলেন। বিশেষ করে চিকিৎসার প্রয়োজনে রাতে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীদের দাবি, দ্রুত এই রাস্তার সংস্কার করা হোক। প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

]]>
https://banglakal.com/opinion/citizens-are-at-risk-due-to-bad-roadsthe-danger-is-increasing-in-the-dark-of-the-night/feed/ 0 351
অপসংস্কৃতির খোলা হাওয়ায় বিপন্ন আজকের ছাত্র ও যুবসমাজ https://banglakal.com/opinion/declining-culture-threatens-students-and-youth/ https://banglakal.com/opinion/declining-culture-threatens-students-and-youth/#respond Thu, 06 Mar 2025 09:45:38 +0000 https://banglakal.com/?p=168 আমাদের সভ্যতা ও সমাজের সর্বত্র আজ অপসংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট। পোশাক-পরিচ্ছদ, চালচলন, কথাবার্তা এমন কী শরীরী ভাষায় যেন একটা ‘উগ্র’ গন্ধ। যেন একটা অশুভ ইঙ্গিত। যৌন আবেদনমূলক পোশাক-পরিচ্ছদ, রুচিহীন-অশালীন চালচলন ও বেপরোয়া কথাবার্তা প্রমাণ করছে জীবনের মূল্যহীন অসারতার প্রতি চুম্বকীয় আকর্ষণ। প্রমাণ করছে সমাজের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা ও আদর্শবোধের অভাব।

জীবনের সর্বক্ষেত্রে আজ অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয়ের বায়ুবিকার প্রবাহিত হয়ে চলেছে। যে সাহিত্য-শিল্প সমাজের ও জীবনের দর্পণ বলে অভিহিত সেটাও আজ অপসংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিণত হয়েছে। একথা অনস্বীকার্য, আজকের সাহিত্যে শুচিতাকে যেন বিদায় জানানো হয়েছে। তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ ধ্যানধারণার প্রবক্তাদের তরফে বলা হচ্ছে, শুচিতা না কি এখন একটা মানস-সংস্কার মাত্র। হায়রে, স্রেফ নগ্নতা, অকারণ হিংসা, বেহিসেবি জীবনযাপন, খুন, রাহাজানি, নীতিহীনতা ইত্যাদিই যেন আজ বাস্তববাদী সাহিত্য বলে গ্রন্থ জগতে বরণীয় আসন লাভ করেছে।

স্বাভাবিক কারণেই সাহিত্যের এই কলুষিত ধারা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে আজকের ছাত্র ও যুবসমাজ হয়ে পড়েছে দিশেহারা। সাহিত্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আজকের চিত্রকলাও নগ্নতা আর রুচি-বিকৃতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সিনেমা, থিয়েটার, নাটক ও যাত্রাপালাতেও অশ্লীলতার নগ্ন প্রদর্শন মানুষের মনকে বিপথে চালিত করছে। বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল ও কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অপসংস্কৃতি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। অশ্লীল পোস্টার বা বিজ্ঞাপন পথে ঘাটে, হাটে-বাজারে সর্বত্র মানুষের দৃষ্টিকে কলুষিত করছে। টিভি, ভিডিও, ভিসিপি, ইন্টারনেট আর ‘স্মার্টফোন’ আজ অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয়ের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

তাছাড়া আল্ট্রা মডার্ন জীবনচর্যার নামে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ঘন ঘন বিচ্ছেদ ঘটছে। অবৈধ সম্পর্ক ও অন্যান্য অমানবিক কারণে বধূ হত্যার হিড়িক বাড়ছে। বাড়ছে ধর্মীয় উন্মাদনা। বাড়ছে প্ররোচনা ও উস্কানির রাজনীতি। বাড়ছে সম্প্রতি রাজনীতিবিদদের 'পেটেন্ট' নেওয়া 'ভাষা সন্ত্রাস'। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানা দুর্নীতির মালায়, আধ্যাত্মিকতার অভাব, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সর্বোপরি নীতিহীন রাজনৈতিক মতাদর্শ গোটা সমাজটাকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে।

আজকের যুগে বিজ্ঞাপনও একেবারে ভারতীয় সংস্কৃতির অন্দরমহলে প্রবেশ করেছে। আপনি চান বা না চান সেখানে অশ্লীল কুরুচিকর ও অর্ধনগ্ন ছবির কোলাজ নিয়মিত প্রদর্শিত হচ্ছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরিণত বুদ্ধির ক্রেতাদের মন ভোলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যৌন আবেদনমূলক এই ধরনের বিজ্ঞাপন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যিই নোংরামির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আর এতে কচি-কাঁচা, কিশোর-কিশোরীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সব চেয়ে বেশি। বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র এমন কি যাত্রাপালার কিছু কিছু অর্ধনগ্ন, অশ্লীল পোস্টার আমাদের ভুলিয়ে দিচ্ছে যে আমরা সভ্য সমাজে বাস করছি। পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছে এখন টাকাটাই সব। ব্যবসায়িক স্বার্থটাই বড় কথা।

এই অপসংস্কৃতির যুগে বিজ্ঞাপণে নারী দেহের নির্লজ্জ প্রদর্শনের মতো কুরুচিকর বিজ্ঞাপণ কচিকাঁচা ও কিশোর কিশোরীদের মাথা কিভাবে খাচ্ছে তা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। এই ধরনের কুরুচিকর বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে নানান বিকৃত মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা-চেতনায় অনায়াসেই ঢুকে পড়ছে। সত্যি কথা বলতে কী আমাদের আচার-আচরণকেও তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই এই ধরনের বিজ্ঞাপণী প্রচার রুখতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজ জীবনে যে একটা মহা বিপর্যয় নেমে আসবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। অথচ তথাকথিত দেশনেতা বা সমাজকর্মীদের এ ব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই। যুবসমাজ গোল্লায় যাক, রাজ্য বা রাষ্ট্র রসাতলে যাক, তাদের কিছু যায় আসে না। নিজেদের স্বার্থটা পূরণ হলেই হল।

আজকালকার সিনেমা, নাটক, মেগা সিরিয়াল ও যাত্রাপালায় জীবনের অসার ও অবাস্তব দিকগুলিই প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রদর্শিত হচ্ছে হিংস্রতা ও যৌনতার কু-চিত্র। সাবালকত্বের নামে বাংলা ছবির অশ্লীল ও রগরগে দৃশ্যের স্বেচ্ছা প্রয়োগ আমাদের কোন অতলে নিয়ে যাচ্ছে তা মুষ্টিমেয় দু’চারজন ছাড়া আর কেউ ভেবে দেখছে না। এখনকার গানের মধ্যেও আপত্তিকর শব্দের ছড়াছড়ি। সেই সঙ্গে আছে অশ্লীল দৃশ্য। আর আছে আইটেম ড্যান্সের ছড়াছড়ি। স্বল্পবসনাদের বিকৃত অঙ্গভঙ্গিই যে নাচ নয়, তা আমরা ভুলতে বসেছি। এখন ব্যবসায়িক সাফল্যই যেন সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কর্তব্য, আদর্শ ও সামাজিক দায়িত্বের যেন কোনও মূল্য নেই। মানুষকে বিপথে চালিত করে মুনাফা অর্জনই যদি একমাত্র পন্থা হয় তাহলে আমাদের সভ্যতা ও সমাজ যে অল্প
সময়েই পঙ্গু হয়ে যাবে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হিংসা, মারদাঙ্গা এবং মানুষের আদিম প্রবৃত্তি কখনওই চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু হতে পারে না। এই বোধশক্তি আমাদের আর কবে জন্মাবে?

আজকের দিনের এই অপসংস্কৃতির জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত হচ্ছে সবাই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিপথে চালিত হচ্ছে আজকের যুবসমাজ। একদিকে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে হিংস্রতা ও যৌনতার সুড়সুড়ি এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে আজকের যুবসমাজ তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, আদর্শবোধ, কর্তব্য নিষ্ঠা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সবই ভুলতে বসেছে। ত্যাগের মধ্যে যে আনন্দ, আদর্শ জীবনযাপন ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা যে মানসিক তৃপ্তি এনে দেয়, মানুষ তা ভুলতে বসেছে। মানুষ এখন তাৎক্ষণিক প্রাপ্তির আকর্ষণে, সাময়িক ইন্দ্রিয় সুখের উত্তেজনা ও ভোগ সর্বস্বতার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। যে ছাত্র ও যুব সমাজের উপর দেশ গঠনের মহান দায়িত্বভার, এখন তারাই আদর্শবোধ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে অপসংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। । পথে-ঘাটে গুরুজনদের ও স্কুল কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করতে তারা ভুলে যাচ্ছে। ভুলে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল, সংযত ও মার্জিত আচরণ। আজ সবাই যেন উদ্ধত ও বেপরোয়া। সমাজের সর্বত্র যেন একটা মাস্তানি ও গুণ্ডামির আবহ। ফলে দিশাহীন এই ছাত্র ও যুব সমাজ নানা অসামাজিক ও বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজকের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাও তাদের ‘ব্যবহার’ করছে। শেষে অপ্রাপ্তির বোঝা নিয়ে এদেরই একটা বড়ো অংশ নুন শো’তে ভীড় জমাচ্ছে। নিষিদ্ধ, অশ্লীল পত্র-পত্রিকার বিক্রি বাড়াচ্ছে। আবার কখনও ড্রাগের আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে তারা নিজেদের এবং গোটা সমাজের একটা মহা সর্বনাশ ডেকে আনছে।

পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় এখন সব কিছু যাচাই হচ্ছে অর্থের মানদণ্ডে। তাই অধিকাংশ প্রভাবশালী অসাধু মুনাফাখোর তাদের লাভের অঙ্ক বাড়ানোর জন্য অপসংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের ঠিকা নিয়েছে। আর তারাই ছাত্র ও যুব সমাজকে বিপথগামী করে তুলেছে। তাই চারিদিকে অন্যায়, অবিচার, শোষণ, নীতিহীনতা ও আদর্শহীনতা দেখে কেউ গর্জে উঠতে পারে না। আর পারবেই বা কী করে? তাদের মেরুদণ্ডটাই তো ভেঙ্গে গিয়েছে। এখন কেউ না কেউ কারও না কারও মুখাপেক্ষী। সুতরাং অন্যায়, অবিচার নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় কী? তাই অপসংস্কৃতি আজ সংক্রামক ব্যাধির মতো গোটা সমাজকেই পঙ্গু ও বিপথগামী করে তুলেছে।

ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে অপসংস্কৃতি যে মারাত্মক ক্ষতিকারক এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত থাকা উচিত নয়। তবে একথা ঠিক যে, এই অক্টোপাশরূপী অপসংস্কৃতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া খুব সহজ নয়। এ জন্য চাই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সংঘবদ্ধ প্রয়াস। অপসংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের বিরুদ্ধে চাই কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার উপযুক্ত প্রয়োগ। বিক্ষিপ্তভাবে দু’একটি অশ্লীল চলচ্চিত্র, ভিডিও ও পত্র-পত্রিকা বন্ধের দাবি মাঝে মাঝে ওঠে ঠিকই, কিন্তু সে প্রতিবাদ এতটাই ক্ষীণ যে প্রভাবশালী দুষ্টচক্র তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করে না। অনেকে আবার জেনেও না জানার ভান করে। আমার মনে হয়, একমাত্র সংঘবদ্ধ আন্দোলন বা প্রয়াসই পারে এই দুষ্টচক্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে। যে কোনও মূল্যে মানুষের মধ্যে আদর্শবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, দায়িত্ব, কর্তব্য ও শৃঙ্খলাবোধ ইত্যাদি জাগিয়ে দিয়ে সমাজকে অধঃপতনের নরককুণ্ড থেকে টেনে তুলতেই হবে। এ দায়িত্ব আমার আপনার, সকলের। আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

]]>
https://banglakal.com/opinion/declining-culture-threatens-students-and-youth/feed/ 0 168