রাজনীতি – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 22 Jul 2026 10:09:36 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 রাজনীতি – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/ https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:20:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2953 কলকাতা, ২২ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসমাবেশ ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ থাকে তুঙ্গে। তবে এ বার সমাবেশের মঞ্চে বক্তাদের তালিকা এবং ভাষণের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবাদ রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশের দৈর্ঘ্য এবং তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাবের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হতেই তোলপাড় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল

ঐতিহাসিক ধর্মতলার মঞ্চে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে। এই বিশেষ দিনে দলের মূল বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সাধারণত তাঁর বক্তব্যের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, মন্ত্রী এবং তরুণ নেতৃত্বের একাংশকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিনের সমাবেশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠলে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে এক প্রকার অসন্তোষ তৈরি হয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ যখন বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারিত সূচি মেনে মূল বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময় এগিয়ে আসছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন অনুযায়ী, প্রধান বক্তার বক্তব্যের আগে অন্যান্য নেতাদের সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় মঞ্চেই তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলের অন্দরের খবর, ভাষণের দৈর্ঘ্য ছোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত আসায় ক্ষোভ গোপন রাখেননি প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের চাপা টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। কল্যাণ ঘনিষ্ঠদের মতে, সাংসদ হিসেবে লোকসভায় এবং জনসভায় দলের হয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। সেখানে শহিদ তর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়াটা তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমোর অনুগামীদের সাফ কথা— ২১ জুলাইয়ের জনসভার মূল আকর্ষণ থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের লাখো সমর্থক মূলত নেত্রীর নির্দেশিকা শুনতেই মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য বক্তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই দস্তুর। সময় ব্যবস্থাপনার সেই তাগিদ থেকেই বক্তব্য সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিবাদের জায়গা নেই।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ আসলে একটা গোষ্ঠীকোন্দলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব যে ক্রমেই বাড়ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশে সেটাই প্রমাণিত।

তবে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল এক বিশাল পরিবার। সেখানে বক্তব্য পেশ বা সময়ের সমন্বয় নিয়ে দু’-একটি অনভিপ্রেত কথা বা ক্ষোভ সাময়িক ঘটনা মাত্র। একুশে জুলাইয়ের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করাই দলের মূল উদ্দেশ্য, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ আগামী দিনে দলীয় সংগঠনে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/feed/ 0 2953
বাঁকিপুর উপনির্বাচনে টাকার পাহাড়! প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে বেনামি সংস্থা ও ফেক অ্যাকাউন্টের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/ https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/#respond Wed, 22 Jul 2026 07:42:11 +0000 https://banglakal.com/?p=2948 পাটনা, ২২ জুলাই: বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার জন সুরাজ পার্টির (JSP) নেতা তথা এই কেন্দ্রের প্রার্থী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী খরচের নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘন এবং বেনামি বা শেল কোম্পানির (Shell companies) মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, বিহার বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি বা মেমোরেন্ডাম জমা দিয়েছে। ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং বট নেটওয়ার্ক (Bot networks) ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার মতো গুরুতর বিষয়গুলিও এই স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজেপির এই শক্তিশালী প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বিহার সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি, বিধায়ক জীবেশ মিশ্র, বিধান পরিষদের চিফ হুইপ জনক রাম, রাজ্য বিজেপির মিডিয়া ইন-চার্জ দানিশ ইকবাল এবং দলের নির্বাচন কমিশন সেলের আহ্বায়ক রাকেশ ঠাকুর। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে নিজেদের অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর, রাজ্য বিজেপির সদর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৈয়দ শাহনওয়াজ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনও ব্যক্তির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক।



সাংবাদিক সম্মেলনে শাহনওয়াজ হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রচার চালানোর জন্য প্রশান্ত কিশোর ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ৪০ লক্ষ টাকার সর্বাধিক সীমার থেকে বহুগুণ বেশি। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, এই বিপুল পরিমাণ খরচের সপক্ষে তাদের কাছে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ (documentary evidence) রয়েছে এবং তা ইতিমধ্যেই কমিশনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি, প্রকৃত নির্বাচনী ব্যয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে। কৃত্রিম জনমত বা ‘আর্টিফিসিয়াল পাবলিক সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করার জন্য ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (influencers) অবৈধভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি নেতাদের আরও দাবি, ‘সিম্পল সেন্স অ্যানালিটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড’ (Simple Sense Analytics Pvt. Ltd.) এবং ‘নিউজ লাইটহাউস এলএলপি’ (News Lighthouse LLP)-র মতো কিছু সংস্থার মাধ্যমে এই গোটা নির্বাচনী প্রচারটি পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলির সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে স্পষ্টত মনে করা হচ্ছে। এই সমগ্র ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি, অর্থের আসল উৎস খুঁজে বের করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।



এই সাংবাদিক সম্মেলনেই বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এমন বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ-সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিহারের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার জন্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করার জন্য এই সমস্ত বিদেশি অ্যাকাউন্টগুলিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফ থেকে এই ধরনের বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিধান পরিষদের চিফ হুইপ জনক রাম জানান, বাঁকিপুরের মানুষ উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষেই নিজেদের রায় দেবেন। বাইরের লোক এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা সাধারণ ভোটাররা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি।


‘ভয়ে কাঁপছে বিজেপি’, পাল্টা তোপ জন সুরাজের
বিজেপির তোলা এই সমস্ত অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি। দলের বিহার রাজ্য সভাপতি মনোজ ভারতী ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “এর আগে বিজেপি কখনও জন সুরাজকে তাদের লড়াইয়ের ময়দানে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি। তারা সবসময় দাবি করত যে তাদের সরাসরি লড়াই শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) সঙ্গে। কিন্তু আজ বিজেপি নেতাদের এই প্রবল উদ্বেগ ও হতাশা এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তাঁরাও মনে মনে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, আসল লড়াইটা জন সুরাজের সঙ্গেই হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কমিশনের কাছে তারা আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ জমা দিয়েছে, তা আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে জানতে চাই। মূলত, বিজেপির এই পুরো আচরণটাই অত্যন্ত শিশুসুলভ। তারা যদি আমাদের তহবিলের উৎস বা ফান্ডিং নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে সবার আগে নিজেদের তহবিলের সম্পূর্ণ হিসেব প্রকাশ্যে আনুক। তারা এই নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত কত টাকা খরচ করেছে, সেই হিসেব আগে দিক।”


### আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে এবার এক হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জন সুরাজ পার্টির হয়ে খোদ প্রশান্ত কিশোর ময়দানে নামায় এই নির্বাচন সর্বভারতীয় স্তরেও নজর কেড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে নীরজ কুমার সিনহাকে। অন্যদিকে, আরজেডি-র টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেখা কুমারী। আগামী ৩০ জুলাই এই কেন্দ্রে বহু প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ৩ আগস্ট ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/feed/ 0 2948
একদা ঘাসফুলের একচ্ছত্র আধিপত্য, এবার চতুর্মুখী টানাটানি: সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন রিপোর্ট সামনে এনে ২১ জুলাই নিয়ে ময়দানে বিজেপি ! https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/ https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/#respond Tue, 21 Jul 2026 08:02:59 +0000 https://banglakal.com/?p=2936 কলকাতা, ২১ জুলাই: দীর্ঘ তিন দশক ধরে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র শক্তি প্রদর্শনের বার্ষিক মঞ্চ। কিন্তু সময়ের চক্রে ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে ২০২৬ সালের এই ২১ জুলাই প্রত্যক্ষ করছে অভূতপূর্ব এক রাজনৈতিক টানাপোড়েন। একদিকে তৃণমূলের একাধিক উপদল ও কংগ্রেসের উত্তরাধিকারের দাবি, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় তদন্ত কমিশন রিপোর্ট পেশ— সব মিলিয়ে এককালের একক স্মারক অনুষ্ঠান এখন চতুর্মুখী লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত হয়েছে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার দাবিতে আন্দোলন চলছিল। পুলিশি গুলিতে মৃত্যু হয় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেই ঘটনার পর থেকে বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চিহ্ন হিসেবে দিনটিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনের উত্তরাধিকারকে নিজের দলের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তর করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই স্মৃতির ওপর এখন একাধিক শিবির নিজস্ব দাবি ঠুকছে।


তিন টুকরো তৃণমূল: কার নিয়ন্ত্রণে আসল ২১ জুলাই?
চলতি বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব বিভাজন শহিদ দিবসকে এক নজিরবিহীন জায়গায় নিয়ে গেছে।


১. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী:অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন দাবি করে এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি চেয়ে তারা মেয়ো রোডে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে পৃথক সমাবেশের আয়োজন করেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এই মঞ্চে অভিভাবক বা ‘মার্গদর্শক’ হিসেবে যোগ দিতে পারেন।
২. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল শিবির: ভিক্টোরিয়া হাউসের প্রথাগত স্থান না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে তারা বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে সভার আয়োজন করেছে। দলের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, ২১ জুলাইয়ের আন্দোলন ও মমতার ত্যাগ সমার্থক; একে তৃণমূলের থেকে আলাদা করা অসম্ভব।
৩. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ২০ জন সংসদ সদস্যের গোষ্ঠী: তারা সম্প্রতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার (NCPI) সাথে যুক্ত হয়ে সংসদ অধিবেশন চলায় দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করছে।


‘ইতিহাস বিকৃতি’ ও কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন
অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক ফাটলকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে সরব হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহিদ মিনারের কংগ্রেসের সভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে মন্তব্য করেন, অতীতে কংগ্রেস ত্যাগ করা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা স্বীকার করে নিয়ে মমতার ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নেওয়া উচিত। একই সাথে অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুর্শিদাবাদের পলাশীতে যুব কংগ্রেসের র্যালি থেকে আরজিকর কাণ্ডের নির্যাতিতা চিকিৎসক এবং কালিগঞ্জের ১০ বছরের শিশু তামান্না খাতুনকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে সুবিচারের দাবিতে সরব হন।


বিজেপির বড় পদক্ষেপ: সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন রিপোর্ট
তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক দড়িটানাকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের তদন্ত কমিশন রিপোর্ট উপস্থাপন করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।


শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ২০১৪ ও ২০২৪ সালে রিপোর্ট জমা পড়া সত্ত্বেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার তা চেপে রেখেছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়নি। কমিশন প্রতি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছিল। বিজেপি সরকার জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বকেয়া ক্ষতিপূরণ মেটানো হবে এবং পরিবারগুলোকে নতুন করে এফআইআর (FIR) করতে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সাথে, ঘটনার সময় প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং মূল নথি কীভাবে গায়েব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে, কলকাতা শহর আজ এমন এক ২১ জুলাই প্রত্যক্ষ করছে যেখানে একদিকে তৃণমূলের দলীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, কংগ্রেসের মূল ইতিহাস দাবির চেষ্টা এবং বিজেপির সরকারি রিপোর্টকে হাতিয়ার করে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল একসঙ্গে মুখোমুখি।


বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/feed/ 0 2936
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে : কল্যাণ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:36:35 +0000 https://banglakal.com/?p=2925 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরের তীব্র ফাটল। লোকসভার আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন, রবিবার সেই রাজনৈতিক তরজা এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। দলত্যাগী ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে লোকসভায় আলাদা বসার আসন (Separate Seating Arrangement) বরাদ্দ করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের প্রধান আপত্তি— যেখানে দলত্যাগী সাংসদদের বরখাস্তের আবেদন (Disqualification Petition) এখনও স্পিকারের দরবারে ঝুলে রয়েছে, সেখানে কোন যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এই পদক্ষেপকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির।

শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের জন্য আলাদা বসার আসনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এই সাংসদরা দল ছেড়ে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই ২০ জন সাংসদের নতুন দলে সংযুক্তিকরণ বা ‘মার্জার’-এর বিষয়টি এখনও স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আবহে রবিবার হুগলিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আমরা ইতিমধ্যেই ওই ২০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে বরখাস্তের পিটিশন দাখিল করেছি। সেই সমস্ত আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি না করেই স্পিকার যেভাবে তাদের আলাদা বসার অনুমতি দিয়ে একপ্রকার স্বীকৃতি দিলেন, তা একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল।”

সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে রবিবার প্রথামাফিক একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল কেন্দ্র সরকার। সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই (NCPI)-র প্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আমন্ত্রণ জানান। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় গোটা বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো দলগুলি একজোট হয়ে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করে।

তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যে ২০ জন সাংসদ মানুষের রায়কে অপমান করে দল ছেড়েছেন, স্পিকার এখনও তাদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার আইনি বৈধতা দেননি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে কীভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডেকে তৃণমূলের শক্তিকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত বিরোধী দল একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছি।” একই সুরে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “মোদী সরকার যেভাবে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের ‘পার্কিং প্লেস’ এনসিপিআই-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাল, তার প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট। কারণ মূল বিষয়টি এখনও স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী এই ২০ জন সাংসদকে পদচ্যুত করার জন্য ২০টি পৃথক আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তৃণমূলের যুক্তি, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে গেলে মূল দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের অন্য দলে विलय বা মার্জার জরুরি। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন চলে যাওয়ায় গাণিতিক হিসেবে তারা দুই-তৃতীয়াংশ হলেও, আইনি ও পদ্ধতিগত স্ক্রুটিনি এখনও শেষ হয়নি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন জুড়েই এই দলত্যাগ এবং লোকসভার নতুন আসন বিন্যাস নিয়ে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হতে চলেছে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে শাসকদলের রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা, যার প্রভাব আগামী দিনে সংসদের অন্দরে স্পষ্ট দেখা যাবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/feed/ 0 2925
কেন্দ্রের ‘স্বীকৃতি’ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে! বাদল অধিবেশনের আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে নজিরবিহীন তোলপাড় https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/ https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/#respond Sun, 19 Jul 2026 13:30:57 +0000 https://banglakal.com/?p=2904 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিনই জাতীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হলো। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে নিয়ে গঠিত নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-কে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর পরই এই চরম রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নতুন দলে মিশে যাওয়ার আবেদন বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আবেদনের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তার আগেই কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল সহ সমগ্র ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট সর্বদলীয় বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করে।

সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এই প্রথামাফিক সর্বদলীয় বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র অংশ নেন। তবে বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি দেখেই প্রবল আপত্তি তোলেন বিরোধী নেতারা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সংসদের টেবিল অফিসের তালিকা অনুযায়ী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ২৮টি। এই ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার আবেদন এখনও স্পিকার অনুমোদন করেননি। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০টি দলত্যাগ বিরোধী পিটিশন এখনও ঝুলে রয়েছে। সংবিধানের ৯১তম সংশোধনীর পর সংসদে কোনো পৃথক ব্লকের স্বীকৃতি দেওয়ার নিয়ম নেই। তাহলে কোন আইনের ভিত্তিতে সংসদীয় মন্ত্রী এই তথাকথিত এনসিপিআই দলকে আমন্ত্রণ জানালেন?” এই ঘটনার প্রতিবাদেই কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, বামপন্থী ও আম আদমি পার্টি সহ গোটা বিরোধী জোট বৈঠক বয়কট করে বাইরে বেরিয়ে আসে।

তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের মুখে পড়েও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। केंद्रीय সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সরকারের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আবেদন জানানো হয়েছে। একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে কোনো দলের আবেদনকে সরকার কীভাবে অগ্রাহ্য করতে পারে? সংসদের সমস্ত দল এবং গোষ্ঠীর মতামত শোনা সরকারের দায়িত্ব, এবং সেই নিয়ম মেনেই এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।” রিজিজু আরও যোগ করেন যে, সংখ্যার ভিত্তিতে আলোচনা হলেও গণতন্ত্রে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। বিরোধীদের এই ওয়াকআউটকে তিনি একটি ‘প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বাদল অধিবেশনে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ তথা বর্তমান এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি আজ সম্পূর্ণ নতুন একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৫ বছর ধরে আমি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা ছিলাম। কিন্তু আজ আমি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেতা হিসেবে এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছি। দল বদলালেও আমরা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং অখণ্ডতার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি। আমাদের এই ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা সংসদের ভেতরেও বজায় থাকবে।” লোকসভা সচিবালয় সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম এই নতুন দলের চিফ হুইপ হিসেবে কেন্দ্রের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদ নিজেদের পদ বাঁচাতে সংবিধানের দশম তফসিলের আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ত্রিপুরার এই নিবন্ধিত আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কৌশল নিয়েছেন। যেহেতু তারা তৃণমূলের মোট লোকসভা শক্তির (২৮ জন) দুই-তৃত্যাংশের বেশি, তাই তারা আইনি সুরক্ষার দাবি করছেন। লোকসভা সচিবালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ সার্কুলারে ইতিমধ্যেই এই ২০ জন সাংসদকে মূল তৃণমূল বেঞ্চ থেকে সরিয়ে পৃথক বসার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে এই সাংসদদের পদ খারিজের জন্য যে আবেদন জানিয়েছেন, তার ফয়সালা এখনও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই ‘সবুজ সংকেত’ সংসদের বাদল অধিবেশনে যে এক চরম সংघातের পরিবেশ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/feed/ 0 2904
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেজিংয়ের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন https://banglakal.com/world/international/china-rejects-trumps-us-election-interference-claim-as-fabricated-smear/ https://banglakal.com/world/international/china-rejects-trumps-us-election-interference-claim-as-fabricated-smear/#respond Fri, 17 Jul 2026 12:51:05 +0000 https://banglakal.com/?p=2861 বেইজিং, ১৭ জুলাই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেজিংয়ের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং কুৎসাজনক বলে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বেইজিং কোনোদিন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং মার্কিন নির্বাচন নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো আগ্রহ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এহেন ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন ওয়াশিংটনকে নিজের আচরণ পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে বেইজিংকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন প্রাইমটাইম ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচন তথ্য চুরির পেছনে চীন জড়িত ছিল, যার মধ্যে প্রায় ২২০ মিলিয়ন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য ও ফাইল অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত সিআইএ (CIA) রিপোর্টের তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছে একটি অভ্যন্তরীণ ‘ডিপ স্টেট’ (Deep State) চক্র। এই অভিযোগের সমর্থনে কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও আন্তর্জাতিক মহল ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পূর্বতন মূল্যায়নের সঙ্গে এই তথ্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে। ২০২১ সালের মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (ODNI) এক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, রাশিয়া বা চীন কোনো পক্ষই ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের প্রযুক্তিগত বা সামগ্রিক ফলাফল পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দীর্ঘ ভাষণের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, “চীনের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং এটি একটি বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি চীন সর্বদা মেনে চলে। মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই।”

একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের দিকে ইঙ্গিত করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন লিন জিয়ান। তিনি মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় খুব ভালো করেই জানে কোন দেশ পৃথিবীর অন্য প্রান্তের বিভিন্ন সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অভ্যস্ত, কারা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসা, সাধারণ নাগরিক ও সরকারের ওপর নির্বিচারে নজরদারি চালায় এবং বিশাল স্কেলে বিদেশি নাগরিকদের ডেটা বা তথ্য চুরি করে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছিল। গত মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর করেছিলেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন করেন。 সেই সময় দুই নেতার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক উদ্বেগগুলোকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যাপারে ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে, যার আমন্ত্রণ ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও তীব্র চীন-বিরোধী অবস্থান এই হাই-প্রোফাইল সফরকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ঝাও মিংহাও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প মে মাসের চীন সফর থেকে ফেরার পর থেকেই ঘরের মাঠে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন যে তিনি চীনের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন। ফলে নিজের কঠোর অবস্থান প্রদর্শন এবং আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখেই ট্রাম্প এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বেইজিংয়ের রেনমিন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক দিয়াও দমিংয়ের মতে, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক আক্রমণ মে মাসের শীর্ষ সম্মেলনের ইতিবাচক ধারাকে ব্যাহত করতে পারে। আমেরিকা যদি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধারাবাহিকভাবে চীনকে ব্যবহার করতে থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার যে বিরল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, চীন ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মসৃণ রাখতে হলে বানোয়াট অভিযোগ বন্ধ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/international/china-rejects-trumps-us-election-interference-claim-as-fabricated-smear/feed/ 0 2861
শিরোনাম: ‘সীতার পতির নাম নিয়ে নীতার পতির কাজ!’ কুণাল কামরাকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-to-serve-nitas-husband-supreme-court-advocate-sends-legal-notice-to-kunal-kamra/ https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-to-serve-nitas-husband-supreme-court-advocate-sends-legal-notice-to-kunal-kamra/#respond Fri, 17 Jul 2026 07:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2851 নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই: মোদী সরকার ও শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে হিন্দু দেব-দেবীর নাম জুড়ে রাজনৈতিক রসিকতা করার অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন কৌতুকশিল্পী (কমেডিয়ান) কুণাল কামরা। নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের আবহে গত ১৫ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার আইনি জটিলতায় পড়েছেন এই কমেডিয়ান। ভগবান রাম এবং সীতাকে নিয়ে আপত্তিকর উপহাস করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতা সচদেভা কুণাল কামরাকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠিয়েছেন।

দিল্লির প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে কুণাল কামরা মন্তব্য করেছিলেন, “সীতার পতির নাম লে লেকর নীতার পতির কাম কর রহে হ্যায়” (অর্থাৎ, সীতার স্বামী বা ভগবান রামের নাম জপ করে এরা নীতার স্বামী বা মুকেশ আম্বানির কাজ গুছিয়ে দিচ্ছে)। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে চলা ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে সরকারের ভূমিকাকে আক্রমণ করতেই কামরা এই ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে হিন্দু ধর্মের পবিত্র অবতারদের নাম টানায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন আইনজীবী অমিতা সচদেভা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতা সচদেভা তাঁর আইনি নোটিশে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কামরাকে অবিলম্বে ওই প্রতিবাদ সভার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিওটি সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলার (ডিলিট) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ধরণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ধারাবিবরণী বা ব্যঙ্গাত্মক রসিকতার ক্ষেত্রে ভগবান রাম ও সীতার নাম কোনোভাবেই ব্যবহার বা উপহাস করা চলবে না।

আইনজীবী সচদেভা তাঁর নোটিশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা উল্লেখ করেছেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং ধর্মীয় অবমাননার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়াও, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক রায়ের কথাও এই নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই আদেশে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা উস্কানিমূলক বক্তব্য (হেট স্পিচ)-এর ক্ষেত্রে পুলিশকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (Suo Moto) এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে। কুণাল কামরার বক্তব্য সেই আদেশের পরিপন্থী বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাকস্বাধীনতা ও ব্যঙ্গাত্মক রসিকতার (পলিটিক্যাল স্যাটায়ার) সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রগতিশীলদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার এই প্রবণতাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ নাগরিক ও আইনজ্ঞদের একটি বড় অংশ। রাজনৈতিক স্বার্থে সনাতন ধর্মের আরাধ্য দেব-দেবীদের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত বলে দাবি উঠছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশের জবাবে কমেডিয়ান কুণাল কামরা কী পদক্ষেপ নেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-to-serve-nitas-husband-supreme-court-advocate-sends-legal-notice-to-kunal-kamra/feed/ 0 2851
দেশদ্রোহিতার অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশে ১ বছরের নরকযন্ত্রণা শেষে ঘরে ফিরল দুই ভারতীয় পরিবার: কাঠগড়ায় প্রশাসন https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/ https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:01:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2833 কলকাতা, ১৬ জুলাই: সন্দেহের বশে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়ার এক চরম অমানবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওপার বাংলায় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চরম মানবিক দুর্ভোগ সহ্য করার পর অবশেষে নিজেদের মাতৃভূমি ভারতে ফিরে এসেছেন দুটি পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলের প্রশাসনিক গাফিলতি এবং নিরপরাধ ভারতীয়দের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

আজ এই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করেন রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি সুইটি বিবি, তাঁর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং সুনালি খাতুনের স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর স্বদেশে ফিরলেও তাঁদের চোখে-মুখে এখনও ওপার বাংলার সেই বন্দিদশার আতঙ্ক স্পষ্ট। সাংসদ সুনালির ছোট্ট সন্তানের সাথেও বেশ কিছুটা সময় কাটান এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিরে আসা এই মানুষগুলো প্রত্যেকেই আইনত এবং জন্মসূত্রে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হয় এবং কোনো রকম পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়াই সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করা হয়।

সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রশাসনিক ভুল শুধু একটি সাধারণ আইনি ত্রুটি বা গাফিলতি নয়; এটি নিরপরাধ মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং মানবিক নিরাপত্তার উপর এক গভীর ও অপূরণীয় আঘাত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কীভাবে বৈধ নাগরিকদের এভাবে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের কাছেই জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। দাবি উঠেছে, এই পরিবারগুলোর দ্রুত ও উপযুক্ত পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক-মানসিক সহায়তা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এমন একটি কার্যকর ও নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে বা প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দেশের কোনো নাগরিকেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। সার্বভৌম রাষ্ট্রের সুরক্ষায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই হবে। কিন্তু তার নামে প্রকৃত ও নিরপরাধ ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি করা, জোরপূর্বক নির্বাসন দেওয়া এবং অমানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

ভারতবর্ষ আমাদের সকলের মাতৃভূমি। জাত, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দেশ প্রতিটি ভারতীয়ের সমান আশ্রয় ও অধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বহন করে। একজন মা যেমন তাঁর প্রতিটি সন্তানকে সমান স্নেহ ও নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনই রাষ্ট্রেরও পরম দায়িত্ব প্রতিটি প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের মর্যাদা, আইনি অধিকার ও জীবনযাপনের নিরাপত্তা অটুট রাখা। এই ঘটনায় জড়িত দোষী আধিকারিকদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/feed/ 0 2833
‘সীতার পতির নাম জপে নিতার পতির জন্য কাজ’, যন্তর মন্তরে সরকারের নীতি নিয়ে বিষ্ফোরক কুনাল কামরা https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/ https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2802 নয়া দিল্লি, ১৬ জুলাই:পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশনকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী সমাবেশে দেশের কর্পোরেট-বান্ধব নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুনাল কামরা। সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই গণঅনশন ও বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কুনাল কামরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

যন্তর মন্তরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুনাল কামরা কেন্দ্র সরকারের ব্যবসায়ী অনুগত নীতি এবং ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করার প্রবণতাকে এক সুতোয় বেঁধে আক্রমণ শানান। ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির (নীতা আম্বানির স্বামী) ব্যবসায়িক সুবিধা করে দেওয়া এবং ভোটের রাজনীতিতে শ্রীরামের (সীতার স্বামী) নাম ব্যবহারের প্রবণতাকে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার মুখে ‘সীতার পতি’-র নাম জপ করলেও, আসলে কাজ করে চলেছে ‘নিতার পতি’-র স্বার্থে। তাঁর এই ধারালো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করে। নেটিজেনদের একাংশ একে ধারালো ও সঠিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বলে সাধুবাদ জানালেও, অন্য অংশ ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে এভাবে রাজনৈতিক কুৎসা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিগত ২৫ দিন ধরে দিল্লির বুকে এই বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনের সমর্থনে এবং যুবসমাজের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক বিগত ১৮ দিন ধরে অনশন জারি রেখেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি সত্ত্বেও সরকারের অনমনীয় মনোভাবের প্রতিবাদে আজ, ১৬ জুলাই সিজেপি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী এক দিনের এক গণঅনশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই মঞ্চেই মহাত্মা গান্ধীর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরে হাজির হন কুনাল কামরা এবং পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সরকারের ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতিদের পাইয়ে দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।

কুনালের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বাক-স্বাধীনতার সীমা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গে ধর্মীয় উপমার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের নীতির সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সনাতন ধর্মের আবেগকে এভাবে উপহাস করা অনুচিত। অন্যদিকে, কামরার সমর্থক এবং সমাজকর্মীদের বক্তব্য, এটি একটি অত্যন্ত সার্থক রূপক (Metaphor), যা দিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেশের বর্তমান শাসকদলের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরা হয়েছে। এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই যন্তর মন্তরের আন্দোলন ক্রমশ দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর রূপ ধারণ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/invoking-sitas-husband-but-working-for-nitas-husband-kunal-kamras-explosive-remark-on-government-policies-at-jantar-mantar/feed/ 0 2802
দিল্লির চাঁদনি মহলে সরকারি কাজে বাধা: বিএলও-কে হেনস্থা, গ্রেফতার চার অভিযুক্ত https://banglakal.com/nation/blo-harassed-government-work-obstructed-in-delhis-chandni-mahal-4-arrested/ https://banglakal.com/nation/blo-harassed-government-work-obstructed-in-delhis-chandni-mahal-4-arrested/#respond Thu, 16 Jul 2026 07:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2793 নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই: দিল্লির বুকে সরকারি কর্তব্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজধানী। চাঁদনি মহল এলাকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন এক বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) হেনস্থা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। সরকারি আধিকারিকের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের কাজ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজের অংশ হিসেবে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ করছিলেন নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। এমনই একটি রুটিন সার্ভে চলাকালীন চাঁদনি মহল এলাকায় পৌঁছান সংশ্লিষ্ট বিএলও। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই এলাকায় যখন বিএলও নির্বাচনী সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ করছিলেন, তখন তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা কেবল কাজে বাধাই দেননি, ওই সরকারি কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করারও চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দ্রুত আয়ত্তের বাইরে চলে যায় এবং খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।

খবর পাওয়া মাত্রই চাঁদনি মহল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারি কর্মীকে হেনস্থা করা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করে তোলার ক্ষেত্রে বিএলও-দের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বিয়োজন এবং সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজগুলি সম্পন্ন করেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দিল্লি জুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের যে বিশেষ অভিযান চলছে, তার ওপর নির্বাচন কমিশনের কড়া নজর রয়েছে। এই ধরনের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের হেনস্থা করা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী এবং একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনোভাবেই সরকারি কর্মীর কাজে বাধা বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিএলও-দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এই ঘটনাটি দিল্লির মতো জনবহুল এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার প্রশ্নটিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। বিশেষ করে নির্বাচনী মরসুমে যখন বিএলও-রা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন, তখন তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ধৃত চার ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে রেখে ঘটনার পেছনের আসল উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সময় আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/blo-harassed-government-work-obstructed-in-delhis-chandni-mahal-4-arrested/feed/ 0 2793