বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Sun, 19 Jul 2026 13:20:31 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 মাস্কের কোপে হারিয়ে যাননি পরাগ, গুগল-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২ বিলিয়ন ডলারের এআই সার্চ স্টার্টআপে বাজিমাত টুইটারের প্রাক্তন সিইও-র https://banglakal.com/world/not-lost-after-musks-ouster-former-twitter-ceo-parag-agrawal-hits-jackpot-with-his-2-billion-ai-search-startup-by-deepening-ties-with-google/ https://banglakal.com/world/not-lost-after-musks-ouster-former-twitter-ceo-parag-agrawal-hits-jackpot-with-his-2-billion-ai-search-startup-by-deepening-ties-with-google/#respond Sun, 19 Jul 2026 13:20:28 +0000 https://banglakal.com/?p=2900 সান ফ্রান্সিসকো, ১৯ জুলাই: ইলন মাস্কের হাতে টুইটারের (বর্তমানে এক্স) মালিকানা যাওয়ার পর চাকরি খোয়াতে হয়েছিল তাঁকে। অনেকেই ভেবেছিলেন, প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ স্তর থেকে হয়তো মুছেই গেলেন পরাগ আগরওয়াল। কিন্তু তিনি যে হারিয়ে যাননি, বরং আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে কোমর বাঁধছিলেন, তা এবার স্পষ্ট হল। প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংস্থা গুগলের সাথে এক মেগা পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্বমহিমায় ফিরলেন টুইটারের এই প্রাক্তন সিইও। তাঁর নতুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) সার্চ স্টার্টআপ ‘প্যারালাল ওয়েব সিস্টেমস’ (Parallel Web Systems) প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে চলেছে। বর্তমানে এই স্টার্টআপটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা।

বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের সাথে পরাগ আগরওয়ালের স্টার্টআপ ‘প্যারালাল’-এর একটি অত্যন্ত গভীর প্রযুক্তিগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই নতুন অংশীদারিত্বের ফলে গুগল ক্লাউডের যে সমস্ত গ্রাহকরা গুগলের জেমিনি (Gemini) মডেল ব্যবহার করে এআই এজেন্ট তৈরি করছেন, তাঁরা এখন থেকে প্যারালালের আধুনিক সার্চ প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। এই চুক্তি প্রসঙ্গে পরাগ আগরওয়াল জানান, “এটি একটি হাইপারস্কেলার মডেল ল্যাবের সাথে আমাদের এযাবৎকালের সবচেয়ে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন।” গুগল ক্লাউডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের কাজের সুবিধার্থে এবং এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে আরও নিখুঁত করতে তারা প্যারালালের ডেটা ইন্টিগ্রেশনকে তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে।

আমরা সাধারণত যে সব সার্চ ইঞ্জিন (যেমন গুগল সার্চ) ব্যবহার করি, তা তৈরি করা হয়েছে মানুষের পড়ার উপযোগী করে। কিন্তু পরাগ আগরওয়াল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দূরদর্শী ভাবনা থেকে আড়াই বছর আগে এই স্টার্টআপের সূচনা করেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে এআই এজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবটরাই ইন্টারনেট ও ওয়েব দুনিয়ায় বেশি অনুসন্ধান বা সার্চ চালাবে। আর সেই কারণে এআই এজেন্টদের জন্য প্রয়োজন এক বিশেষ সার্চ পরিকাঠামো।

প্যারালাল ওয়েব সিস্টেমস মূলত এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা ইন্টারনেটের বিভিন্ন নথিপত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা জটিল তথ্যও খুব সহজে খুঁজে বের করে এআই মডেলগুলোর সামনে উপস্থাপন করতে পারে। প্রযুক্তি পরিভাষায় একে বলা হয় ‘গ্রাউন্ডিং’ (Grounding)। এর ফলে এআই এজেন্টরা অত্যন্ত নির্ভুল এবং রিয়েল-টাইম তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে সক্ষম হয়।

পরাগের এই স্টার্টআপটি ইতিমধ্যে সিলিকন ভ্যালির তাবড় তাবড় বিনিয়োগকারী সংস্থার মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। সেকোয়া ক্যাপিটাল, খোসলা ভেঞ্চারস এবং ক্লাইনার পারকিন্সের মতো বিশ্বখ্যাত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডগুলো প্যারালালের পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এখনও পর্যন্ত সংস্থাটি প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও প্যারালাল দ্রুত নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করছে। আইনি ক্ষেত্রে এআই নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত স্টার্টআপ ‘হার্ভে’ (Harvey) বর্তমানে প্যারালালের সার্চ টুল ব্যবহার করে তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সাথে লাইভ ওয়েব ডেটার সংযোগ ঘটাচ্ছে। গুগলের সাথে এই নতুন জোট প্যারালালের বাজার সম্প্রসারণকে আরও বহুগুণ তরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেল্লার প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের কৌশল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরাগ যেভাবে টুইটার অধ্যায়ের পর নিজেকে নতুন করে মেলে ধরলেন, তা এককথায় নজিরবিহীন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/not-lost-after-musks-ouster-former-twitter-ceo-parag-agrawal-hits-jackpot-with-his-2-billion-ai-search-startup-by-deepening-ties-with-google/feed/ 0 2900
আমেরিকার প্রযুক্তিগত একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে চিনা এআই স্টার্ট-আপ সংস্থা ‘মুনশট এআই’ (Moonshot AI) https://banglakal.com/world/chinese-startup-launches-worlds-largest-open-ai-model-kimi-k3-nears-fable-and-gpt-5-6-level-performance/ https://banglakal.com/world/chinese-startup-launches-worlds-largest-open-ai-model-kimi-k3-nears-fable-and-gpt-5-6-level-performance/#respond Sat, 18 Jul 2026 03:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2881 বেজিং, ১৮ জুলাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) দুনিয়ায় বিশ্বকে চমকে দিল চিন। আমেরিকার প্রযুক্তিগত একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে চিনা এআই স্টার্ট-আপ সংস্থা ‘মুনশট এআই’ (Moonshot AI) বাজারে নিয়ে এল বিশ্বের বৃহত্তম ওপেন-ওয়েট এআই মডেল ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3)। ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার সমৃদ্ধ এই মডেলটি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যানথ্রোপিকের (Anthropic) ‘ক্লড ফেবল ৫’ এবং ওপেনএআই-এর (OpenAI) ‘জিপিটি-৫.৬ সল’-এর মতো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রোপাইটরি (বন্ধ সোর্স) মডেলগুলোর সমকক্ষ পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। চিনের এই অভাবনীয় অগ্রগতি সিলিকন ভ্যালির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেন-সোর্স বা ওপেন-ওয়েট ক্যাটাগরিতে এত বড় এআই মডেল এর আগে পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। সাধারণত ওপেন-ওয়েট মডেলগুলোর ক্ষেত্রে যে কেউ এর কোড বা সিস্টেম ডাউনলোড করে নিজের মতো করে কাস্টমাইজ বা পরিবর্তন করতে পারেন, যা জিপিটি বা ক্লডের মতো বন্ধ সিস্টেমে সম্ভব নয়। মুনশট এআই জানিয়েছে, তাদের নতুন এই কিমি কে৩ ফ্ল্যাগশিপ মডেলটি মূলত অত্যন্ত জটিল কোডিং, অ্যাডভান্সড রিজনিং (যুক্তি নির্ধারণ) এবং গভীর গবেষণামূলক কাজের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ১ মিলিয়ন টোকেনের বিশাল কনটেক্সট উইন্ডো, যার ফলে এটি একবারে একটি সম্পূর্ণ বিশাল কোডবেস বা শত শত পৃষ্ঠার প্রযুক্তিগত নথি অনায়াসে প্রসেস করতে পারে।

আমেরিকার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সম্প্রতি কিছু শীর্ষ মার্কিন এআই মডেল বিশ্ববাজার থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই চিনের এই পাল্টা চাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বেঞ্চমার্কিং প্ল্যাটফর্ম ‘এরিনা ডট এআই’ (Arena.ai)-এর থার্ড-পার্টি মূল্যায়নে দেখা গেছে, ফ্রন্টএন্ড কোড তৈরির ক্ষেত্রে কিমি কে৩ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেবল ৫ এবং জিপিটি-৫.৬ সল-কে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর স্থান দখল করেছে। এছাড়া জটিল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায়, যা সমাধান করতে একজন জ্যেষ্ঠ গবেষকের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে, তা কিমি কে৩ মাত্র দুই ঘণ্টায় নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে দেখিয়েছে। মুনশট এআই-এর নিজস্ব রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জিপিইউ কার্নেল অপ্টিমাইজেশনের ক্ষেত্রে এই মডেলটি জিপিটি-৫.৫ এবং ক্লড ওপাস ৪.৮-এর চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে।

আমেরিকান এআই সংস্থাগুলো যখন তাদের বিশাল পরিকাঠামোগত খরচ তুলতে টোকেনের দাম বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই চিন সম্পূর্ণ বিপরীত কৌশল নিয়েছে। মুনশট এআই এই বিশ্বমানের মডেলটির প্রতি ১০ লক্ষ ইনপুট টোকেনের মূল্য নির্ধারণ করেছে মাত্র ৩ ডলার এবং আউটপুটের জন্য ১৫ ডলার। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রাসী ও সস্তা প্রাইসিং মডেলের কারণে বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং করপোরেট সংস্থাগুলো মার্কিন প্রযুক্তির মায়া ত্যাগ করে চিনা ওপেন মডেলের দিকে ঝুঁকতে পারে। আলিবাবা এবং টেনসেন্টের মতো চিনা টেক জায়ান্টদের বিনিয়োগপুষ্ট মুনশট এআই জানিয়েছে, আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই মডেলটির সম্পূর্ণ ওয়েটস (weights) বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহার ও কাস্টমাইজেশনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। চিনের এই ঝোড়ো গতি আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্বকে যে বড়সড় ধাক্কা দিল, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/chinese-startup-launches-worlds-largest-open-ai-model-kimi-k3-nears-fable-and-gpt-5-6-level-performance/feed/ 0 2881
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপজ্জনক মোড়: এবার মুখ খুললেন জেপি মর্গ্যান প্রধান জেমি ডিমন https://banglakal.com/world/international/jpmorgan-chief-jamie-dimon-warns-against-anthropics-dangerous-mythos-ai-model-compares-it-to-supplying-ballistic-missiles/ https://banglakal.com/world/international/jpmorgan-chief-jamie-dimon-warns-against-anthropics-dangerous-mythos-ai-model-compares-it-to-supplying-ballistic-missiles/#respond Fri, 17 Jul 2026 06:02:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2842 নিউ ইয়র্ক, ১৭ জুলাই:কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর জগতে সাম্প্রতিকতম সংযোজন ‘অ্যানথ্রপিক মিথস’ (Anthropic Mythos) মডেলটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা যখন এই প্রযুক্তির অমিত সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত, ঠিক তখনই এর অন্তর্নিহিত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন ধনকুবের তথা বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গ্যান চেজ-এর সিইও জেমি ডিমন। সেনেটর ডেভ ম্যাককরমিকের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ‘পেনসিলভেনিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিমন অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই প্রযুক্তির লাগামহীন ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, অনভিজ্ঞ কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো ব্যক্তির হাতে এই উন্নত এআই মডেল তুলে দেওয়া এবং সাধারণের হাতে ‘ব্যালিস্টিক মিসাইল’ বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দেওয়া কার্যত একই বিষয়।

প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যানথ্রপিক’-এর তৈরি করা এই ‘মিথস’ মডেলটি মূলত সাইবার নিরাপত্তার ত্রুটি খোঁজার জন্য অত্যন্ত দক্ষ করে তৈরি করা হয়েছে। জেপি মর্গ্যান ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব করপোরেট সফটওয়্যার এবং ব্যাংকিং পরিকাঠামোয় এই এআই মডেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেছে। ব্যাংক সূত্রের খবর, পরীক্ষা চলাকালীন এই মডেলটি করপোরেট সফটওয়্যারগুলির মধ্যে এমন হাজার হাজার নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ও দুর্বলতা (Vulnerabilities) চিহ্নিত করেছে, যা সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা প্রচলিত প্রযুক্তির পক্ষে ধরা অসম্ভব ছিল।

জেমি ডিমন জানান, প্রযুক্তিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এর অপব্যবহারের আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ও ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে ‘বাস্তব ও গভীর সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। ইতিপূর্বে মার্কিন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ অ্যানথ্রপিক-এর এই মডেলের ওপর কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার ফলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য এর ব্যবহারে রাশ টানা হয়। পরবর্তীকালে সংস্থাটি অতিরিক্ত সুরক্ষাকবচ বা সেফগার্ড যুক্ত করার পর সেই বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল করা হয়।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিমন স্পষ্ট করেন যে, এআই মডেল যেমন একদিকে সাইবার পরিকাঠামো মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে, ঠিক তেমনি অপরাধীদের হাতে পড়লে এটি এক বিধ্বংসী সাইবার অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। জেপি মর্গ্যানের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) জেরেমি বারনামও এই সুর মেলালেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধ জগতের কুচক্রীরা এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো বড় ব্যাংক, বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা সংবেদনশীল ডেটা সার্ভারের নিরাপত্তা ভেঙে ফেলতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের এই ব্যাংকের প্রধান মনে করেন, শুধু ব্যাংকিং ক্ষেত্র নয়, বিশ্বজুড়ে সমস্ত এক্সচেঞ্জ, ডেটা শেয়ারিং নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউড স্টোরেজ যেভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত, তাতে একটি জায়গার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার চেইন রিঅ্যাকশন বা পারস্পরিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক।

এই অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত জটিলতার মুখে দাঁড়িয়েও জেমি ডিমন সনাতনী বা বুনিয়াদি সাইবার নিরাপত্তার অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই যতই উন্নত হোক না কেন, ডেটা সুরক্ষার প্রাথমিক নিয়মাবলি যেমন- নিয়মিত পাসকোড পরিবর্তন, রাউটার ও হার্ডওয়্যারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সঠিক ডেটা হাইজিন মেনে চললে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে মিথস-এর মতো মডেলে সাধারণের প্রবেশাধিকার যে কোনোভাবেই অবাধ রাখা উচিত নয়, সে বিষয়ে মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/international/jpmorgan-chief-jamie-dimon-warns-against-anthropics-dangerous-mythos-ai-model-compares-it-to-supplying-ballistic-missiles/feed/ 0 2842
৭০০ কোটির বাইক-ক্ষতি! ৭০ বছরে প্রথমবার খোদ সরকারই বেচছে ভেজাল পেট্রোল? নেহা সিং রাঠোরের বিস্ফোরক পোস্টে তোলপাড় দেশ https://banglakal.com/nation/rs-700-crore-bike-damage-is-the-government-itself-selling-adulterated-petrol-for-the-first-time-in-70-years-country-stirred-by-neha-singh-rathores-explosive-post/ https://banglakal.com/nation/rs-700-crore-bike-damage-is-the-government-itself-selling-adulterated-petrol-for-the-first-time-in-70-years-country-stirred-by-neha-singh-rathores-explosive-post/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:50:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2804 নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই: স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে বিগত ৭০ বছরে যা কখনও ঘটেনি, এবার তা-ই করে দেখাল নরেন্দ্র মোদী সরকার! এই প্রথম কোনও বেসরকারি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বা কালোবাজারি নয়, খোদ দেশের সরকারই প্রকাশ্য দিবালোকে নাগরিকদের কাছে ‘ভেজাল’ পেট্রোল বিক্রি করছে। এমনই এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন প্রখ্যাত ভোজপুরী লোকসঙ্গীতশিল্পী তথা সমাজকর্মী নেহা সিং রাঠোর। তাঁর এই মারাত্মক অভিযোগের পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

অতীতে পেট্রোলে ভেজাল মেশানোর দায়ে যেখানে বেসরকারি ব্যবসায়ী বা পাম্প মালিকদের সোজা শ্রীঘরে যেতে হতো, সেখানে আজ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মাধ্যমে সরকার নিজেই সেই কাজ করছে বলে দাবি করেছেন নেহা। এই পোস্টের সাথে তিনি একটি ভিডিও-ও যুক্ত করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

নেহা সিং রাঠোরের শেয়ার করা ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক মেকানিক একটি মোটরবাইকের ফুয়েল কম্পোনেন্ট বা জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং ইঞ্জিনের অংশগুলি একে একে খুলছেন। যন্ত্রাংশগুলি খুলতেই বেরিয়ে আসছে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। দেখা যাচ্ছে, বাইকের ফুয়েল লাইনের ভেতরে সাদা, মোমের মতো ঘন আস্তরণ জমে রয়েছে এবং তার সাথে মিশে আছে প্রচুর নোংরা ও আবর্জনা।

ওই মেকানিকের দাবি, নিম্নমানের এবং অতিরিক্ত ভেজালযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের ফলেই ইঞ্জিনের এই দশা হয়েছে। এই আস্তরণ ইঞ্জিনের ভেতরে জ্বালানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে গাড়িটি মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। নেহা এই ভিডিওটিকে সরকারের ‘ভেজাল পেট্রোল’ বিক্রির প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

হঠাৎ কেন জ্বালানির এই ভয়াবহ গুণগত পতন? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সাম্প্রতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। গত এপ্রিল ২০২৬-এ ভারত সরকার দেশজুড়ে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ (E20 Ethanol Blending) বাধ্যতামূলক করেছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হলেও, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা একেবারেই সুখকর হচ্ছে না। বহু বছর পুরোনো গাড়ি বা বাইকগুলি এই E20 জ্বালানির সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না, যার ফলে ইঞ্জিনের ভেতরে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় এই ধরনের সাদা মোমের মতো আস্তরণ জমছে।

এরই পাশাপাশি, গত জুন ২০২৬-এ পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) তৈরি হওয়া চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে ভারতসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লাগে। তেল আমদানির এই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে এবং দেশের ভেতরের জোগান স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে জ্বালানির গুণগত মানের সাথে আপস করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আমজনতার মনে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই সারা দেশ থেকে বাইক ও গাড়ির পারফরম্যান্স খারাপ হওয়া এবং মাঝরাস্তায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার অজস্র অভিযোগ জমা পড়ছিল। নেহা সিং রাঠোরের পোস্ট যেন সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বারুদ ছিটাল।

নেহা সিং রাঠোর তাঁর পোস্টে স্পষ্ট লিখেছেন, ভারতের বিগত ৭০ বছরের ইতিহাসে যখনই পেট্রোলে ভেজাল দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। ভেজালকারীরা জেল খেটেছে। কিন্তু বর্তমান জমানায় খোদ সরকারই যখন নীতিগতভাবে জ্বালানির রূপ বদলে দিচ্ছে এবং তার ফলে সাধারণ মানুষের লক্ষাধিক টাকার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন এর দায় কে নেবে? যেখানে সাধারণ মানুষ চড়া ট্যাক্স দিয়ে পেট্রোল কিনছেন, সেখানে এই ধরনের নিম্নমানের জ্বালানি সরবরাহকে ‘আইনি ভেজাল’ ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়, এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/rs-700-crore-bike-damage-is-the-government-itself-selling-adulterated-petrol-for-the-first-time-in-70-years-country-stirred-by-neha-singh-rathores-explosive-post/feed/ 0 2804
টিকিট বুকিং আরও সহজ করতে বিটা ভার্সনে আত্মপ্রকাশ করল নতুন আইআরসিটিসি ওয়েবসাইট https://banglakal.com/nation/ad-free-and-clean-look-new-irctc-website-debuts-in-beta-version-to-make-train-ticket-booking-easier/ https://banglakal.com/nation/ad-free-and-clean-look-new-irctc-website-debuts-in-beta-version-to-make-train-ticket-booking-easier/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2805 কলকাতা, ১৬ জুলাই:ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন আইআরসিটিসি (IRCTC) ওয়েবসাইটের বিটা ভার্সনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৫ জুলাই রাত ৯টা থেকে এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি পাবলিক টেস্টিং তথা জনসাধারণের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য লাইভ করা হয়েছে। টেক পোর্টাল ‘বিবম’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন পোর্টালটির প্রধান আকর্ষণ হলো এর সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনহীন রূপ এবং পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইন্টারফেস। বহু বছর ধরে যাত্রীরা টিকিট কাটার সময় যেসব অপ্রয়োজনীয় পপ-আপ ও চটকদার বিজ্ঞাপনের সম্মুখীন হতেন, নতুন সাইটে তা সম্পূর্ণ দূর করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটটির হোমপেজে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ছে একটি আধুনিক ও পরিমার্জিত ডিজাইন, যার মূল ট্যাগলাইন রাখা হয়েছে “Your journey, made simple” বা “আপনার যাত্রা হোক আরও সহজ”। সম্পূর্ণ নতুন ট্রেনের ছবির কোলাজ এবং স্ট্রিমলাইন্ড সার্চ ফর্মের মাধ্যমে মূল টিকিট খোঁজার প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পিএনআর (PNR) স্ট্যাটাস চেক, ট্রেনের সময়সূচি এবং জরুরি সতর্কবার্তা বা অ্যালার্টের জন্য আলাদা ও নির্দিষ্ট সেকশন রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যান।

রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MNIT)-র শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ইন্টারফেসটি তৈরি করা হয়েছে। মূলত চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • ক্যাপচা ও বিজ্ঞাপনের ঝামেলামুক্তি: নতুন বিটা সংস্করণে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল ক্যাপচা যাচাইকরণের সমস্যা দূর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো ফ্ল্যাশিং গ্রাফিক্স বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন থাকছে না।
  • এক স্ক্রিনে আসনের প্রাপ্যতা: আগে প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদাভাবে ক্লিক করে সিট অ্যাভেইলেবিলিটি দেখতে হতো। এখন একটি একক স্ক্রিনেই স্লিপার থেকে শুরু করে সমস্ত এসি (AC) ক্লাসের আসনের স্থিতি একসাথে দেখা যাবে।
  • দ্রুত চেকআউট: টিকিট বুকিংয়ের ধাপ সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে পেমেন্ট এবং কনফার্মেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
  • সহজে পুনরায় বুকিং: বারবার যাত্রী তালিকা টাইপ করার ঝামেলা এড়াতে যাত্রীদের বিবরণী আগে থেকেই সেভ করে রাখার উন্নত ব্যবস্থা থাকছে।

বিটা সংস্করণটি বাজারে আসার পরই এটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ রেলযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এর নমনীয় নান্দনিকতা, আধুনিক ডিজাইন এবং বিশেষ করে কোনো বিজ্ঞাপন না থাকার বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে সমান্তরালভাবে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও উঠে এসেছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেস (UI/UX) এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয় এবং কিছু কিছু জায়গায় নেভিগেশন বেশ জটিল ও অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি বিটা সংস্করণ, তাই ব্যবহারকারীদের এই সমস্ত মতামত ও ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে চূড়ান্ত সংস্করণে আরও পরিবর্তন আনা হবে বলে আইআরসিটিসি সূত্রে খবর।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/ad-free-and-clean-look-new-irctc-website-debuts-in-beta-version-to-make-train-ticket-booking-easier/feed/ 0 2805
দেশি গৌরবের আবরণে জার্মান আমদানি: চিকিৎসা বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের ব্যয়বহুল ‘হোমিওপ্যাথি’ প্রীতি https://banglakal.com/nation/a-german-import-wrapped-in-desi-pride-indias-expensive-defiance-of-medical-science/ https://banglakal.com/nation/a-german-import-wrapped-in-desi-pride-indias-expensive-defiance-of-medical-science/#respond Fri, 10 Jul 2026 09:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2719 বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো যেখানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর পেছনে পাবলিক ফান্ডিং বা সরকারি অনুদান দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে ভারত হাঁটছে ঠিক তার উল্টো পথে। ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যের ভাষার দোহাই দিয়ে ভারত সরকার এমন একটি পশ্চিমা ছদ্ম-বিজ্ঞানকে (Western Pseudoscience) কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে, যা খোদ পশ্চিমের দেশগুলো বহু আগেই বর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউজলন্ড্রি’ (Newslaundry)-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভারতের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা-নীতি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে ভারতের কমপ্লিট অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর একটি পারফরম্যান্স অডিটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশের আয়ুষ (AYUSH) বিভাগের ওপর একটি অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কেবল উত্তরপ্রদেশেই হোমিওপ্যাথি সেবার জন্য ২,৭১৭.৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অডিটররা যখন রাজ্যের বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক ডিসপেনসারি বা দাতব্য চিকিৎসালয়গুলোতে সরজমিনে তদন্ত চালান, তখন দেখা যায় যে প্রায় ৮১ শতাংশ ডিসপেনসারিতে সাধারণ ড্রেসিং করার সামগ্রী বা প্রাথমিক চিকিৎসার (First-aid) কোনো ন্যূনতম উপকরণই নেই। অর্থাৎ, যে চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা নিয়ে খোদ চিকিৎসা বিজ্ঞানেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে, তার পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালা হলেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় গজ-ব্যান্ডেজটুকুও ডিসপেনসারিগুলোতে মিলছে না।

বিশ্বের বহু দেশের স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ নিয়ামক সংস্থাগুলো বিস্তর গবেষণার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় ২০০৯ সাল থেকে হওয়া ৬৪টি নিয়মতান্ত্রিক গবেষণার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে—যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রে, যেকোনো রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা কেবল একটি ‘প্লাসবো এফেক্ট’ (Placebo Effect) বা মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার এই প্রমাণিত সত্যকে উপেক্ষা করে চলেছে।

বিশ্বের তিনটি বড় দেশ যেভাবে হোমিওপ্যাথি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. অস্ট্রেলিয়া (২০১৫): দেশটির ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল টানা দুই বছর ধরে ১৭৬টি স্বতন্ত্র গবেষণা ও ৬৮টি স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর করা ৫৭টি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা খতিয়ে দেখে এক বাক্যে জানিয়ে দেয়—এমন কোনো রোগ বা স্বাস্থ্য সমস্যা নেই, যেখানে হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২. যুক্তরাজ্য (২০১৭): যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) ২০১৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হোমিওপ্যাথির প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। তৎকালীন এনএইচএস প্রধান সাইমন স্টিভেন্স সরাসরি একে “সরকারি ফান্ডের অপচয়” বলে অভিহিত করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ হোমিওপ্যাথিক অ্যাসোসিয়েশন আদালতে গেলেও হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে।

৩. ফ্রান্স (২০১৯-২০২১): ফ্রান্সে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯ সালে দেশটির ‘হাউতে অথরিটি ডি সান্তে’ প্রায় ১,২০০টি হোমিওপ্যাথিক পণ্যের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সরকারি ভরতুকি বন্ধের সুপারিশ করে। ফলস্বরূপ, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ফ্রান্স সরকার তাদের সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল থেকে হোমিওপ্যাথির জন্য অর্থ বরাদ্দ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যা ২০১৮ সালেও ফরাসি সরকারের প্রায় ১২৬.৮ মিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করে।

যেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য প্রকৃত অর্থ বরাদ্দ সংকুচিত হচ্ছে, সেখানে সম্পূর্ণ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্যকে অস্বীকার করে ভারতের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা একটি আত্মঘাতী নীতি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নিজস্ব ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার নামে মূলত ১৭৯৬ সালে জার্মানিতে আবিষ্কৃত একটি চিকিৎসা পদ্ধতিকে ‘দেশি গৌরব’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার বদলে কেবল বিভ্রান্তিই বাড়াচ্ছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/a-german-import-wrapped-in-desi-pride-indias-expensive-defiance-of-medical-science/feed/ 0 2719
দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনের ১৮তম দিন: সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১০ দিনে পদার্পণ, এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল ফিরিয়ে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানালেন অভিজিৎ দীপকে https://banglakal.com/nation/sonam-wangchuk-hungar-strike-in-delhi/ https://banglakal.com/nation/sonam-wangchuk-hungar-strike-in-delhi/#respond Wed, 08 Jul 2026 13:06:17 +0000 https://banglakal.com/?p=2666 নতুন দিল্লি,৮ জুলাই ২০২৬:: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলমান ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) ১৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন দিনে দিনে আরও তীব্র রূপ ধারণ করছে। এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শুরু করা আমরণ অনশন আজ দশম দিনে প্রবেশ করেছে। অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় আন্দোলনস্থলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আন্দোলনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলটি সচল করার বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে নিজেদের আন্দোলনের এক বিশাল জয় হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, গত ১০ দিন ধরে একটানা অনশন করার ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবক্ষয় ঘটছে। অনশন শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৬ থেকে ৭ কেজি হ্রাস পেয়েছে এবং তাঁর রক্তচাপ (Blood Pressure) অত্যন্ত নিচে নেমে গেছে। চিকিৎসকদের একটি দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখছে। অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “দেশের যুবসমাজ ও বিশিষ্ট নাগরিকরা যখন নিজেদের অধিকারের জন্য জীবন বাজি রাখছেন, তখন সরকারের ঘুম কবে ভাঙবে?” এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন মঞ্চে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM)-এর একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপন করেছে। কৃষক নেতারাও শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্ব পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডিজিটাল যুদ্ধে বড় জয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ

আন্দোলনের মাঠের উত্তেজনার মাঝেই আইনি লড়াইয়ে এক বড়সড় সাফল্য পেয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া সিজেপি-র আদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলটি (@CJP_2029) অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার একক বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেন।

শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, গত মে মাসে NEET পরীক্ষার বাতিলের খবর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার আশঙ্কায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সেকশন ৬৯এ (Section 69A)-এর অধীনে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে যেহেতু গত ২১ জুনের নিট (NEET) রি-টেস্ট এবং মূল পরীক্ষাসমূহ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে, তাই সরকারের এখন এই অ্যাকাউন্টটি আটকে রাখার আর কোনো আপত্তি নেই। আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর পর্যবেক্ষণ করে যে, যেহেতু পরীক্ষার সময়কাল পার হয়ে গেছে, তাই অ্যাকাউন্টটি ব্লক রাখার প্রাথমিক কারণটি আর প্রাসঙ্গিক নয়। ফলস্বরূপ, অবিলম্বে অ্যাকাউন্টটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কৌশল

হাইকোর্টের এই রায়কে মুক্তিসংগ্রাম ও বাকস্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক জয় বলে অভিহিত করেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তিনি এই আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য প্রবীণ আইনজীবী অখিল সিব্বাল এবং বৃন্দা গ্রোভারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দীপকে বলেন, “এটি কেবল আমাদের অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া নয়, বরং এটি দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর রোধ করার সরকারি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে মুক্ত চিন্তার জয়। আমরা অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই দেশের যুবসমাজের অধিকারের লড়াই জারি রাখব।”

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মৌখিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মে মাসে এই ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিট (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর দেশব্যাপী এক বিশাল ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। জন্তর মন্তরে বর্তমানে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-র সদস্যরাও পৃথক মঞ্চে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্টের এই রায়ের পর আন্দোলনকারীরা ডিজিটাল মাধ্যমে আরও বেশি জনমত গঠন করতে সক্ষম হবে, যা মোদী সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।

]]>
https://banglakal.com/nation/sonam-wangchuk-hungar-strike-in-delhi/feed/ 0 2666
কাজের ফাঁকে বা বিশ্রামের সময়েও আপনার কাজ শেষ করবে ‘ক্লড কাউয়ার্ক’ (Claude Cowork): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগের সূচনা https://banglakal.com/world/international/claude-cowork-can-now-browse-research-and-finish-your-work-while-you-are-away/ https://banglakal.com/world/international/claude-cowork-can-now-browse-research-and-finish-your-work-while-you-are-away/#respond Wed, 08 Jul 2026 12:10:44 +0000 https://banglakal.com/?p=2665 ৮ জুলাই ২০২৬:প্রযুক্তিবিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার এখন আর শুধু সাধারণ চ্যাট বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। টেক জায়ান্ট অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) তাদের শক্তিশালী এআই মডেল ‘ক্লড’ (Claude)-এর পরিধিকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী ফিচার—‘ক্লড কাউয়ার্ক’ (Claude Cowork)

এখন আপনি যখন কম্পিউটারের সামনে থাকবেন না, ঘুমাতে যাবেন কিংবা কফির কাপে চুমুক দেবেন, ঠিক তখনই আপনার হয়ে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করা, গভীর গবেষণা (Research) করা এবং আপনার অসমাপ্ত কাজগুলো নিখুঁতভাবে শেষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে এই ভার্চুয়াল সহকর্মী।

নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো কীভাবে ‘ক্লড কাউয়ার্ক’ কাজ করে এবং এটি আপনার কর্মক্ষমতাকে কতটা বদলে দিতে পারে:

১. স্বয়ংক্রিয় ব্রাউজিং ও ইনফরমেশন গ্যাদারিং (Autonomous Browsing)

সাধারণত কোনো বিষয়ে কাজ করতে গেলে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। ক্লড কাউয়ার্ক-এর ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু আপনার কাজের মূল বিষয়টি বা লক্ষ্যটি জানিয়ে দিতে হবে। আপনি কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে দূরে থাকলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেটের নির্ভরযোগ্য সোর্সগুলো ব্রাউজ করবে, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং ডেটা ফিল্টার করে আপনার জন্য গুছিয়ে রাখবে।

২. গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণ (Deep Research Capacity)

এটি কেবল তথ্য সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং প্রাপ্ত ডেটা বা তথ্যের সত্যতা এবং কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করতে পারে। বিভিন্ন পিডিএফ (PDF), এক্সেল শিট, বা ওয়েবসাইটের দীর্ঘ আর্টিকেল পর্যালোচনা করে একটি সুসংগঠিত রিপোর্ট বা সারসংক্ষেপ তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে এর। এর ফলে জটিল কোনো প্রজেক্টের ব্যাকগ্রাউন্ড রিসার্চের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো চোখের পলকে ব্যাকগ্রাউন্ডেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

৩. প্রজেক্টের সমাপ্তি এবং টাস্ক এক্সিকিউশন (Finishing the Work)

সবচেয়ে চমৎকার বিষয়টি হলো, এটি আপনার কাজের খসড়া বা ‘ড্রাফট’ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজটিও করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ—আপনি যদি একটি ইমেইল ক্যাম্পেইন, কোনো কোডিংয়ের সমস্যা সমাধান বা একটি বড় আর্টিকেলের কাঠামো তৈরি করে রেখে যান, তবে ক্লড কাউয়ার্ক আপনার পূর্ববর্তী কাজের ধরন ও নির্দেশনা অনুধাবন করে নিখুঁতভাবে পুরো কাজটি শেষ করে ফাইল সেভ করে রাখবে।

৪. ব্যাকগ্রাউন্ডে নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা (Asynchronous Workflows)

রিয়েল-টাইম চ্যাটের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে ক্লড কাউয়ার্ক ‘অ্যাসিঙ্ক্রোনাস’ বা আপনার অনুপস্থিতিতে কাজ করার সুবিধা দেয়। আপনি আপনার কাজের প্রম্পট বা কমান্ড সেট করে দিয়ে ডিভাইস বন্ধ করে দিলেও এর এআই এজেন্ট সার্ভার স্তরে আপনার দেওয়া টাস্কটি প্রসেস করতে থাকে। কাজ শেষ হলে আপনাকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এটি ব্যবহারের সুবিধা কী কী?
  • সময়ের বিপুল সাশ্রয়: যেসব রুটিন বা গবেষণামূলক কাজে প্রচুর সময় নষ্ট হতো, সেগুলো এআই-এর ওপর ছেড়ে দিয়ে আপনি অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মনোযোগ দিতে পারবেন।
  • ২৪/৭ কর্মক্ষমতা: আপনি যখন বিশ্রাম নিচ্ছেন বা অন্য কোনো মিটিংয়ে ব্যস্ত, তখনও আপনার প্রজেক্টের কাজ সচল থাকবে।
  • ভুলত্রুটি হ্রাস: মানুষের ক্লান্তিজনিত কারণে কাজে যে ধরনের সাধারণ ভুল (Typo বা Clerical Error) হতে পারে, স্বয়ংক্রিয় ডেটা চেকিং ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লড কাউয়ার্ক তা অনেকটাই কমিয়ে আনে।

ক্লড কাউয়ার্ক-এর এই নতুন ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর কেবল একটি সাধারণ টুল নয়, বরং এটি একজন দক্ষ ‘সহকর্মী’ বা ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে রূপ নিচ্ছে। কাজের গতি বাড়াতে এবং মানুষের সৃজনশীলতাকে আরও উন্নত করতে এই প্রযুক্তি আগামী দিনে ফ্রিল্যান্সার, গবেষক, কোডার এবং কর্পোরেট পেশাদারদের কাজের ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে।

]]>
https://banglakal.com/world/international/claude-cowork-can-now-browse-research-and-finish-your-work-while-you-are-away/feed/ 0 2665
হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম রিজার্ভেশন: ফোন নাম্বার ছাড়াই চ্যাটের নতুন যুগ https://banglakal.com/world/international/meta-owned-whatsapp-introduced-username/ https://banglakal.com/world/international/meta-owned-whatsapp-introduced-username/#respond Sun, 05 Jul 2026 16:00:23 +0000 https://banglakal.com/?p=2614 মেটার জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) তাদের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাইভেসি ফিচার নিয়ে এসেছে। এখন থেকে নতুন কারো সাথে চ্যাট শুরু করার জন্য আর নিজের ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার শেয়ার করতে হবে না। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ‘ইউজারনেম’ (Username) ব্যবহার করেই যোগাযোগ করা যাবে। বিশ্বজুড়ে ৩ বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী থাকায় পছন্দের নামটি আগেভাগে বুক করার জন্য ‘ইউজারনেম রিজার্ভেশন’ বা নাম সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।

কীভাবে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম রিজার্ভ করবেন?

হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল ব্লগ ও সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, এই ইউজারনেম সংরক্ষণ করা অত্যন্ত সহজ:

ধাপ ১.আপনার স্মার্টফোনে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি সর্বশেষ সংস্করণে (Latest Version) আপডেট করে নিন।

ধাপ ২.হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করে ডানদিকের কোণায় থাকা আপনার প্রোফাইল আইকন বা Settings অপশনে ট্যাপ করুন।

ধাপ ৩.সেটিংস মেনু থেকে Account অপশনে ক্লিক করুন এবং সেখানে নতুন যুক্ত হওয়া Username অপশনটি বেছে নিন।

ধাপ ৪.আপনার পছন্দের ও অনন্য (Unique) ইউজারনেমটি টাইপ করে রিজার্ভ বা সংরক্ষণ করুন। ৩ থেকে ৩৫ ক্যারেক্টারের মধ্যে নামটি হতে হবে।

কেন এই ফিচারটি গুরুত্বপূর্ণ?

১. ব্যক্তিগত সুরক্ষার নতুন স্তর: অপরিচিত ব্যক্তি, কোনো ইভেন্টের সহকর্মী বা ফেসবুক গ্রুপের কারো সাথে কথা বলার সময় নিজের ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার গোপন রাখা যাবে।

২. কোনো পাবলিক ডিরেক্টরি নেই: ইনস্টাগ্রাম বা এক্স (টুইটার)-এর মতো হোয়াটসঅ্যাপে কোনো পাবলিক সার্চ ডিরেক্টরি থাকবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি আপনার হুবহু ইউজারনেমটি না জানে, তবে সে আপনাকে খুঁজে পাবে না।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্র্যান্ডিং: কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ব্যবসার সুবিধার্থে নিজের ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের ইউজারনেমটিই সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে মেটা।

বিশেষ সিকিউরিটি টিপস: অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ একটি ৪ ডিজিটের ঐচ্ছিক Username Key বা পিন কোড যুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে। এই কি (Key) জানা না থাকলে সরাসরি ইউজারনেম দিয়েও কেউ প্রথমবার মেসেজ পাঠাতে পারবে না।

ধাপে ধাপে বিশ্বের সব অঞ্চলে এই ফিচারটি রোল-আউট করা হচ্ছে। তাই আপনার অঞ্চলে ফিচারটি সচল হওয়া মাত্রই নিজের পছন্দের নামটি দ্রুত বুক করে নিন, না হলে অন্য কেউ আপনার প্রিয় নামটি নিয়ে নিতে পারে!

তথ্যসূত্র ও বিস্তারিত সোর্স:

  • মেটা নিউজ রুম এবং সাপোর্ট সেন্টার (Meta Support Center Guidelines)
]]>
https://banglakal.com/world/international/meta-owned-whatsapp-introduced-username/feed/ 0 2614
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে চলন্ত টোটো বন্ধ! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, কীভাবে ঘটছে এই ঘটনা? https://banglakal.com/nation/mobile-app-used-to-stop-moving-e-rickshaws-viral-videos-raise-concerns-how-is-it-happening/ https://banglakal.com/nation/mobile-app-used-to-stop-moving-e-rickshaws-viral-videos-raise-concerns-how-is-it-happening/#respond Fri, 03 Jul 2026 07:10:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2593 ডিজিটাল ডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে চলন্ত ই-রিকশা বা টোটোর সঙ্গে ব্লুটুথ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। ভিডিওগুলোর দাবি, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ই-রিকশাটি হঠাৎ থেমে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ই-রিকশা চালক, মালিক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিই সম্ভব, নাকি কেবল ভাইরাল হওয়ার জন্য তৈরি করা কনটেন্ট?

ভাইরাল ভিডিওগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে BAT-BMS নামের একটি অ্যাপ। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাতার নিজস্ব BMS (Battery Management System) অ্যাপও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এসব অ্যাপ মূলত ব্যাটারির চার্জ, ভোল্টেজ, তাপমাত্রা, সেলের অবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপগুলোর উদ্দেশ্য ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করা, ই-রিকশা বন্ধ করা নয়।

প্রযুক্তিগতভাবে একটি ই-রিকশার লিথিয়াম ব্যাটারির সঙ্গে একটি Battery Management System (BMS) যুক্ত থাকে। এই BMS ব্যাটারির নিরাপত্তা, চার্জিং এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক BMS-এ ব্লুটুথ সুবিধা থাকে, যাতে মোবাইল ফোন থেকে ব্যাটারির তথ্য দেখা যায়।

সমস্যা দেখা দেয় যখন কোনো BMS-এ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। যদি ব্লুটুথ সংযোগে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, অথেনটিকেশন বা এনক্রিপশন না থাকে, তাহলে কাছাকাছি অবস্থান থেকে অন্য কেউ সেই BMS-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে।

কিছু ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সংযোগ স্থাপনের পর BMS-এর নির্দিষ্ট একটি সেটিং পরিবর্তন করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, এর ফলে ব্যাটারির আউটপুট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে ই-রিকশার মোটরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গাড়িটি থেমে যাচ্ছে। তবে ভিডিওতে দেখানো প্রতিটি ঘটনা ঠিক এই পদ্ধতিতেই ঘটেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বাজারে থাকা অনেক ই-রিকশায় ব্লুটুথ-সক্ষম BMS-ই নেই। আবার যেসব BMS-এ ব্লুটুথ রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাসওয়ার্ড এবং অথেনটিকেশন ব্যবহার করা হয়। ফলে সব ই-রিকশাকে একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমন ধারণা সঠিক নয়।

ঝুঁকি মূলত সেইসব ব্যাটারিতে বেশি, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল অথবা ডিফল্ট কনফিগারেশন পরিবর্তন করা হয়নি।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন ই-রিকশা চালকেরা। চলন্ত অবস্থায় গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া দিন আনা দিন খাওয়া বহু চালকের জন্য গাড়ি অচল হয়ে যাওয়া মানে তাৎক্ষণিকভাবে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। ফলে বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিক ও জননিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা একটি বড় বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। বর্তমানে যানবাহন, ব্যাটারি, ক্যামেরা, তালা থেকে শুরু করে নানা ডিভাইস স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু যদি এসব ডিভাইসে যথেষ্ট নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সেগুলো অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকেই যায়।

ভাইরাল ভিডিওগুলো সেই সম্ভাব্য দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তবে “একটি অ্যাপ দিয়ে যেকোনো চলন্ত টোটো মুহূর্তে বন্ধ করে দেওয়া যায়”—এমন দাবি প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক নয়। এটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশায় ব্যবহৃত BMS-এর ধরন, নির্মাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সফটওয়্যার কনফিগারেশনের ওপর।

বর্তমানে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ই-রিকশায় ব্যবহৃত স্মার্ট ব্যাটারি প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/mobile-app-used-to-stop-moving-e-rickshaws-viral-videos-raise-concerns-how-is-it-happening/feed/ 0 2593