খেলা – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Mon, 20 Jul 2026 02:37:10 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 খেলা – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ১ শূন্য গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিল ল্যামিয়েলের স্পেন https://banglakal.com/sports/lamiels-spain-snatched-the-world-cup-after-losing-1-0-in-the-final/ https://banglakal.com/sports/lamiels-spain-snatched-the-world-cup-after-losing-1-0-in-the-final/#respond Mon, 20 Jul 2026 02:36:18 +0000 https://banglakal.com/?p=2930 আমেরিকা,২০জুলাই:ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মঞ্চ—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। উত্তর আমেরিকা থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ ছিল মাঠের প্রতিটি ঘাসে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলল স্পেন। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস ফেটে পড়ছে, তখন মাঠের খেলোয়াড়দের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন এক নতুন ইতিহাসের স্বাক্ষী। কিন্তু এই ট্রফি জয় কেবল একটি শিরোপা নয়; এটি আধুনিক ফুটবলে স্পেনের এক রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। কেন এই বিশ্বকাপে স্পেন অপরাজেয় হয়ে উঠল, তা এক গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।


ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম এক দল। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই স্পেন তাদের চিরাচরিত ‘পজেশন বেসড’ ফুটবলের এক আধুনিক সংস্করণ তুলে ধরে। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত অস্থির করে রাখা—এই কৌশলেই স্পেন সফল হয়েছে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে পরিকল্পিত আক্রমণের ফসল হিসেবে পাওয়া গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ সমতায় ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষনভাগ ও গোলরক্ষকের দেয়াল ভাঙা তাদের সাধ্যের বাইরে ছিল। ১-০ ব্যবধানের এই জয় ছিল ধৈর্যের এবং বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য মিশেল।
এই টুর্নামেন্টে স্পেনের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এর পেছনে কাজ করেছে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত ও মানসিক দিক:
আধুনিক ফুটবলে মধ্যমাঠই হলো গেমের হার্টলাইন। স্পেনের মিডফিল্ড অর্কেস্ট্রা পুরো আসর জুড়ে ছিল অতুলনীয়। তাদের নিখুঁত পাসিং এবং বিপক্ষ দলের লাইন ভাঙার সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছিল।
একঝাঁক তরুণ প্রতিভার সাথে অভিজ্ঞ সেনানিদের মেলবন্ধন এই দলকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চাপের মুখে সিনিয়র খেলোয়াড়দের ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্তগুলো ছিল স্পেনের জয়ের চাবিকাঠি।
স্পেন কেবল আক্রমণের জন্য পরিচিত—এই ধারণা ভেঙে তারা দেখিয়েছে রক্ষণভাগ কতটা দুর্ভেদ্য হতে পারে। বিশেষ করে যখন বল হারাতো, তখন দলগতভাবে দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের যে প্রবণতা তাদের মধ্যে ছিল, তা অসাধারণ।
ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনার সাহস দেখিয়েছেন কোচ। প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে কৌশল বদলানো স্পেনের এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।


অনেকের ধারণা ছিল, বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলা বা তিকি-তাকা এখনকার দ্রুতগতির ফুটবলে কার্যকর নয়। কিন্তু স্পেন ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। তারা দেখিয়েছে, সঠিক খেলোয়াড় এবং আধুনিক কৌশলের মিশেল থাকলে নান্দনিক ফুটবল খেলেও বিশ্বজয়ের সিংহাসনে বসা সম্ভব। এটি মূলত তাদের ফুটবল দর্শনেরই বিজয়।


২০২৬ বিশ্বকাপ স্পেনের জন্য কেবল একটি টুর্নামেন্ট জয় নয়, বরং এটি তাদের ফুটবলীয় আভিজাত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার মঞ্চ। শৃঙ্খলা, অদম্য জেদ এবং পরিকল্পিত ফুটবলের সংমিশ্রণ কীভাবে একটি দলকে বিশ্বের সেরা বানাতে পারে, স্পেন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৬ সালটি স্পেনের পুনরুত্থান এবং তাদের নান্দনিক খেলার জয়গান হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্পেন আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—ফুটবল যেন তার প্রকৃত রাজকীয় মর্যাদা ফিরে পেল।

]]>
https://banglakal.com/sports/lamiels-spain-snatched-the-world-cup-after-losing-1-0-in-the-final/feed/ 0 2930
ক্রিকেট সাম্রাজ্যে চিরন্তন নক্ষত্রপতন: শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্স https://banglakal.com/sports/the-fall-of-an-eternal-star-in-cricket-empire-all-time-greatest-all-rounder-sir-garfield-sobers-passes-away/ https://banglakal.com/sports/the-fall-of-an-eternal-star-in-cricket-empire-all-time-greatest-all-rounder-sir-garfield-sobers-passes-away/#respond Sat, 18 Jul 2026 09:50:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2893 কলকাতা, ১৭ জুলাই: বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ক্রিকেট রোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর করে তোলা অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুকর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার গারফিল্ড ‘গ্যারি’ সোবার্স আর নেই। শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ইন্টারন্যাশন্যাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ অত্যন্ত গভীর শোকপ্রকাশের সাথে তাঁর প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর ৮৯ বছর পূর্ণ করে ৯০তম জন্মদিনের ঠিক ১০ দিন পূর্বে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত এবং প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ এক বিবৃতিতে কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন, “আজ ক্রিকেট বিশ্ব তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইকনকে হারাল। স্যার গারফিল্ড সোবার্স শুধু খেলার ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সামগ্রিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমি স্যার গারফিল্ডের পরিবার, বন্ধুবর্গ, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত ক্রিকেট ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজও তাদের অফিসিয়াল বার্তায় শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে লিখেছে, “একটি মহান ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে, আজ এবং চিরকাল আপনি থাকবেন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স।”

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক জুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে রাজত্ব করেছেন বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেট ঈশ্বর। ব্যাটিং, বোলিং থেকে শুরু করে ফিল্ডিং— ক্রিকেটের প্রতিটি বিভাগেই তিনি যে অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আধুনিক ক্রিকেটবিশ্বের জন্য এক অনন্য রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল। একজন মারকুটে বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে যেমন তিনি বোলারদের ত্রাস ছিলেন, ঠিক তেমনি বল হাতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। সোবার্স একই সাথে বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং, প্রথাগত অর্থোডক্স স্পিন এবং রিস্ট স্পিন বা গুগলি করতে পারতেন। তাঁর এই বহুমুখী বোলিং বৈচিত্র্য তৎকালীন বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল。 এর পাশাপাশি স্লিপ ফিল্ডার হিসেবেও তাঁর ক্যাচ ধরার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্যার গ্যারি সোবার্স তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। সেখানে ৫৭.৭৮ এর অবিশ্বাস্য গড়ে তিনি মোট ৮,০৩২ রান সংগ্রহ করেন। যার মধ্যে রয়েছে ২৬টি চোখ ধাঁধানো শতরান এবং ৩০টি অর্ধশতরান। অন্যদিকে, বল হাতেও তিনি লাল বলের ক্রিকেটে ২৩৫টি উইকেট শিকার করার অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ক্যারিবিয়ান দলের অধিনায়কত্ব সামলেছেন এবং মোট ৩৯টি টেস্ট ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি এসেছিল ১৯৫৮ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাবিনা পার্কে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি অপরাজিত ৩৬৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন, যা তৎকালীন সময়ে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড হিসেবে নাম লেখায়। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে এই রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ ছিল, যা পরবর্তীকালে ১৯৯৪ সালে অপর ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ভেঙেছিলেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও তাঁর একটি অবিস্মরণীয় নজির রয়েছে। ১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরে ক্রিকেট বিশ্বে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যেখানে বোলার ছিলেন ম্যালকম ন্যাশ। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারার অনন্য ঘটনা।

খেলাধুলোয় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে ‘নাইটহুড’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ২০০০ সালে উইজডেন কর্তৃক শতাব্দীসেরা পাঁচজন ক্রিকেটারের তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। এমনকি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির বার্ষিক শ্রেষ্ঠ পারফর্মারকে যে সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয়, তার নামও এই মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’ রাখা হয়েছে। তাঁর চলে যাওয়া বিশ্ব ক্রিকেটে এমন এক শূন্যতা তৈরি করল, যা কোনোদিনও পূরণ হবার নয়। মাঠের ভেতরের আগ্রাসন আর মাঠের বাইরের অমায়িক স্বভাবের কারণে ক্রিকেট দুনিয়া তাঁকে চিরকাল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/sports/the-fall-of-an-eternal-star-in-cricket-empire-all-time-greatest-all-rounder-sir-garfield-sobers-passes-away/feed/ 0 2893
‘ক্রিকেট জগতের এ এক নির্মম যুগ!’ রোহিত-বিরাটের সমর্থনে বিসিসিআই ম্যানেজমেন্টকে ধুয়ে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী অমিষা প্যাটেল https://banglakal.com/nation/this-is-a-cruel-cricketing-era-bollywood-actress-ameesha-patel-slams-bcci-management-in-support-of-rohit-sharma-and-virat-kohli/ https://banglakal.com/nation/this-is-a-cruel-cricketing-era-bollywood-actress-ameesha-patel-slams-bcci-management-in-support-of-rohit-sharma-and-virat-kohli/#respond Fri, 17 Jul 2026 13:49:15 +0000 https://banglakal.com/?p=2868 মুম্বই, ১৭ জুলাই: ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই স্তম্ভ বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা। ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে যখন বিসিসিআই (BCCI) নির্বাচকরা সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভাগ্য নির্ধারণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই জলঘোলার মধ্যে প্রবেশ ঘটল টিনসেল টাউনের। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্ষীয়ান দুই তারকা ক্রিকেটারকে যেভাবে বর্তমান ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট ট্রিট করছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী অমিষা প্যাটেল। পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে একে ক্রিকেটের এক ‘নির্মম যুগ’ বা ‘Cruel Cricketing Era’ বলে কটাক্ষ করেছেন ‘গদর’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।

শুক্রবার নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করেন অমিষা প্যাটেল। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, এই পোস্টটি কোনওভাবেই বলিউড বা সিনেমার প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ক্রিকেট নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। অমিষা লেখেন, “এই ক্রিকেট যুগে বা আমার বলা উচিত ক্রিকেট জগতের এই নির্মম যুগে, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো সিনিয়র সুপারস্টারদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি স্তম্ভিত। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” অভিনেত্রীর এই সরাসরি আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই বিসিসিআই ও ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে একপ্রকার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আসলে, বিগত কিছুদিন ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট মহলে অধিনায়ক রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও বিশেষ করে ওয়ান ডে ক্রিকেট থেকে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, বোর্ড এখন রোহিতের পরবর্তী সময়কাল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে এবং ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক নতুন রোডম্যাপ সাজাতে চাইছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রোহিত শর্মার ফিটনেস এবং ক্রমবর্ধমান বয়সকে অন্যতম কারণ হিসেবে দর্শানো হচ্ছে। যদিও রোহিত বা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে জল্পনা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মাঝে। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের ঈর্ষণীয় রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, এই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট ভক্তদের রাতের ঘুম কেড়েছে।

অমিষা প্যাটেলের এই বিতর্কিত ও সাহসী পোস্টটির পর থেকেই সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ যখন অমিষার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং রোহিত-বিরাটের মতো জীবন্ত কিংবদন্তিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, অন্য অংশ আবার এর তীব্র সমালোচনাও করেছেন। নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ এক নয়। যেখানে বিরাট কোহলি তাঁর ঈর্ষণীয় ফর্ম এবং দুর্দান্ত শারীরিক ফিটনেসের কারণে দলে নিজের জায়গা আরও সুসংহত করে রেখেছেন, সেখানে রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে ফিটনেস একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নির্বাচকরা যদি ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের নিয়ে ভাবেন, তবে তাকে ‘নির্মম’ বলা অযৌক্তিক।

সমালোচকদের অনেকেই আবার এই ঘটনার পেছনে ভিন্ন গন্ধ পাচ্ছেন। অমিষা প্যাটেলের হুট করে ক্রিকেটীয় বিষয়ে নাক গলানোকে কেউ কেউ সস্তা জনপ্রিয়তার চেষ্টা বা পিআর (PR) স্ট্যান্ট বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন লাইমলাইটের বাইরে থাকা অভিনেত্রী ক্রিকেট ভক্তদের আবেগ ব্যবহার করে নিজের প্রচারের আলো কাড়তে চাইছেন। তবে কারণ যাই হোক না কেন, অমিষা যে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার অভ্যন্তরে চলতে থাকা ঠান্ডা লড়াইকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/this-is-a-cruel-cricketing-era-bollywood-actress-ameesha-patel-slams-bcci-management-in-support-of-rohit-sharma-and-virat-kohli/feed/ 0 2868
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা আটবারের বিশ্বকাপজয়ী অ্যালিজা হিলির https://banglakal.com/sports/australia-keeper-alyssa-healy-announces-retirement-after-india-series/ https://banglakal.com/sports/australia-keeper-alyssa-healy-announces-retirement-after-india-series/#respond Tue, 13 Jan 2026 09:51:16 +0000 https://banglakal.com/?p=1464 নিজস্ব প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক- ব্যাটার অ্যালিজা হিলি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের পরেই ক্রিকেটকে আলবিদা জানাবেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলের অধিনায়ক জানান, গত কয়েক মাস ধরেই চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। এটা তাঁর জন্য মানসিক ভাবে বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। এই বছর ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হিলি ঠিক করেছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ‘বড় সিরিজ়’ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন।

‘উইলোটক ক্রিকেট পডকাস্ট’-এ হিলি বলেন, “আমি এই খবরটি জানানোর জন‍্য পডকাস্টকেই বেছে নিয়েছিলাম। আজ আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানাচ্ছি যে, ভারত সিরিজ়ের শেষেই আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। দয়া করে আমাকে কাঁদাবেন না। সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না, কিন্তু কোনও এক সময়ে তো নিতেই হতো।”

হিলি মজা করে বলেন যে, তাঁর স্বামী তথা অজি পেসার মিচেল স্টার্ক সম্প্রতি গল্ফে ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করেছেন, তাই তাঁকে হারানোর জন্য এখন এই খেলায় পুরো সময় দেওয়া প্রয়োজন।

মানসিক ক্লান্তির বিষয় নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, “এটা অনেক দিন ধরেই আমার মাথায় ছিল। আমার মনে হয় গত কয়েক বছর মানসিক ভাবে বেশি ক্লান্তিকর ছিল। বেশ কিছু চোটও ছিল। বারবার নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয়। কিন্তু আমার সেই মানসিক শক্তি ধীরে ধীরে কমে আসছিল। ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে শেষ করার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ। কারণ, আমাদের কাছে এটা অন্যতম বড় সিরিজ়। সতীর্থ এবং পরিবারের সামনে ক্রিকেটজীবন শেষ করতে পারাটা সত্যিই বিশেষ কিছু হবে। ভারতে বিশ্বকাপ জিতে শেষ করতে পারলে ভাল হতো, কিন্তু ঘরের মাঠে শেষ করাটাও দুর্দান্ত হবে।”

ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই সফরে রয়েছে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও এক দিনের ম‍্যাচ এবং একটি টেস্ট।

দেশের হয়ে ১২৩টি এক দিনের ম‍্যাচে ৩.৫৬৩ রান রয়েছে হিলির। এক দিনের ম‍্যাচ খেলেছেন ১৬২টি। রান ৩,০৫৪। দশটি টেস্ট খেলে করেছেন ৪৮৯ রান। মোট ১৭২টি ক‍্যাচ রয়েছে এই উইকেট রক্ষকের। স্টাম্প ১০৩টি।

সব মিলিয়ে  ১৫ বছরের কেরিয়ারে ৬ টি টি-২০ বিশ্বকাপ ও ২টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন স্টার্কের স্ত্রী। রান করেছেন ৭ হাজারের বেশি। উইকেটের পিছনে ২৭৫ বার আউট করেছেন। মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের( ১৭০) রেকর্ডও তাঁর দখলে। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই নজির গড়েন। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে পুরুষ ও মহিলাদের মিলিয়ে উইকেটের পিছনে থেকে সর্বোচ্চ আউট(১২৬) করার কৃতিত্বও তাঁর দখলে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের নজির গড়েছিলেন হিলি। বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য ধন্যবাদ!

]]>
https://banglakal.com/sports/australia-keeper-alyssa-healy-announces-retirement-after-india-series/feed/ 0 1464
রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা https://banglakal.com/sports/barcelona-win-the-spanish-super-cup-again-by-3-2-goals/ https://banglakal.com/sports/barcelona-win-the-spanish-super-cup-again-by-3-2-goals/#respond Mon, 12 Jan 2026 13:51:39 +0000 https://banglakal.com/?p=1457 নিজস্ব প্রতিবেদন: স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জয় বার্সেলোনার। টান টান লড়াইয়ে ৩-২ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হলেন রাফিনহারা। দুই চির প্রতিপক্ষের লড়াইয়ের প্রথম ৩০ মিনিট দেখে আঁচ পাওয়া যায়নি কী হতে চলেছে। পরস্পরকে মেপে নিতেই আধ ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছেন দু’দলের ফুটবলারেরা। মাঠে চরিত্রের অভাব ছিল না। তা-ও উত্তেজনার আঁচ পোহাতে পারেননি সমর্থকেরা। এল ক্লাসিকোর ১২৪ বছরের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করল বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিনটি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল তারা। ম্যাচ শেষে বিতর্কে জড়ালেন কিলিয়ান এমবাপে।

খেলার রং বদলাতে শুরু করে ৩০ মিনিটের পর থেকে। আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে শুরু করে বার্সেলোনা। পাল্টা চাপ তৈরি করতে শুরু করেন রিয়ালের ফুটবলারেরাও। তার আগে পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপেদের কিছুটা অগোছালই দেখিয়েছে। ডিফেন্সে বড় বড় ফাঁক চোখে পড়েছে। বল দখলে রাখতে পারছিলেন না রিয়ালের ফুটবলারেরা। প্রতি আক্রমণে উঠে কয়েক বার বার্সেলোনার রক্ষণকে ব্যস্ত করলেও গাছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছিল। প্রতিপক্ষের এমন অবাক করা ফুটবলই সম্ভবত তাতিয়ে দেয় বার্সেলোনার ফুটবলারদের। রাফিনহাদের সক্রিয়তা বাড়তেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে রিয়ালও।

৩৬ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল বার্সেলোনার। বাঁ দিক থেকে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গিয়েও রাফিনহা গোল করতে পারেননি তার মিনিট খানেক আগে। দ্বিতীয় বার আর ভুল করেননি। একই ভাবে রিয়ালের বক্সে ঢুকে দলকে এগিয়ে দেন। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার কিছু করার ছিল না। বার্সার ব্রাজিলীয় তারকা জ্বলে ওঠার পরও বাকি ছিল উত্তেজনা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পাঁচ মিনিটে তিনটি গোল হয়।

পিছিয়ে পড়ে সম্বিত ফেরে জ়াভি আলোনসোর দলের। ৪৭ মিনিটে বার্সার ‘ডি’ বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত গোলে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ২ মিনিট পরেই পেদ্রির কাছ থেকে বল পেয়ে গোল রবার্ট লেয়নডস্কির। ফুটবলের উত্তেজনা তখন মধ্য গগনে। সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন রিয়ালের ফুটবলারেরা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে রাজি ছিলেন না এমবাপেরা। ফলও এল হাতেনাতে। সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে সমতায় ফিরল রিয়াল। ৩ মিনিটের মধ্যে দলকে দ্বিতীয় বার সমতায় ফেরান গঞ্জালো গার্সিয়া। প্রথমার্ধের লড়াই শেষ হয় ২-২ ব্যবধানে। প্রথম ৩০ মিনিটের দিশাহীন ফুটবল বোধহয় ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল!

প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে উত্তেজনা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তা দেখা যায়নি। দু’দলই হিসাব করে খেলছিল। ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করছিল। মূলত প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে শুরু করে দু’দলই। তার মধ্যেই ৭১ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দূরপাল্লার শট বাঁচিয়ে দেন কুর্তোয়া। ৭৩ মিনিটে বার্সেলোনাকে তৃতীয় বার এগিয়ে দেন রাফিনহা। প্রায় একক দক্ষতায় গোল করেন তিনি। বক্সে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাঁর নেওয়া শট আসেন্সিয়োর পায়ে লেগে গোলে চলে যায়। সমতা ফেরানোর বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল রিয়ালও। কিন্তু বার্সেলোনার গোলরক্ষক হার মানেননি। ম্যাচের বয়স ৯০ মিনিট হয়ে যাওয়ার পর আবার উত্তেজনা তৈরি হয়। গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। বার্সেলোনাও রক্ষণ সংগঠন মজবুত রেখেছিল চাপের মুখে। এই সময় ৯১ মিনিটে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডে জং ফাউল করেন এমবাপেকে। রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান। শেষ কয়েক মিনিট ১০ জনের বার্সেলোনার বিরুদ্ধেও আর গোল করতে পারেননি এমবাপেরা।
খেলা শেষ হওয়ার পর উত্তেজিত ছিল রিয়াল শিবির। চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার ফুটবলাদের গার্ড অফ অনার দেওয়ার জন্য লাইন করে দাঁড়ানোর প্রস্ততি নিচ্ছিলেন রানার্স রিয়ালের ফুটবলারেরা। কিন্তু ক্ষুব্ধ এমবাপে সতীর্থদের টেনে সরিয়ে নিয়ে যান। এর পর আর রিয়ালের ফুটবলারেরা গার্ড অফ অনার দেননি বার্সেলোনাকে। এমবাপের এই আচরণে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এই নিয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের জমানায় চতুর্থ ট্রফি জিতল বার্সেলোনা। কোচ হিসাবে আটটি ফাইনালের সব ক’টিতে জয় পেলেন জার্মান কোচ। টানা দ্বিতীয় বার ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনাও। এই নিয়ে ১৬ বার। আর কোনও দল এত বার সুপার কাপ জিততে পারেনি। নতুন নজির তৈরি করল বার্সেলোনা। টানা তিনটি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল তারা। তবে এমন কীর্তি দু’বার রয়েছে রিয়ালের। ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দু’দলের টানা চারটি ফাইনাল জেতে রিয়াল। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যেও টানা তিনটি ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারায় তারা। উল্লেখ্য, বার্সালোনা ক্লাব যে রিয়ালের থেকে ভালো টিম তা এই ম্যাচে ফের প্রমাণিত হয়ে গেল। লা- লিগাতেও এগিয়ে বার্সা। কোপা দেল রে ট্রফিও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বার্সা বলে মত ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।

]]>
https://banglakal.com/sports/barcelona-win-the-spanish-super-cup-again-by-3-2-goals/feed/ 0 1457
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল https://banglakal.com/nation/india-bangladesh-cricket-conflict/ https://banglakal.com/nation/india-bangladesh-cricket-conflict/#respond Wed, 07 Jan 2026 18:27:04 +0000 https://banglakal.com/?p=1416 বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বিশাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ভারতে খেলার বিষয়ে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম অবস্থান নেওয়ায় ক্রিকেটাররা সেই দেশটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে দ্রুত আইসিসিকে (ICC) একটি চিঠি প্রেরণ করা হবে যাতে কর্তৃপক্ষ তাদের শঙ্কা বিবেচনা করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলার স্থান ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করার অনুরোধ ন্যায্যভাবে বিবেচনা করে

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতে নিরাপদে খেলার মতো পরিবেশ নেই। আমাদের ক্রিকেটার, প্রশিক্ষক, সমর্থক ও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের মর্যাদা বজায় রাখার প্রতি আমাদের কোন আপস নেই। তাই আমরা চাই একসময় ভারত ছাড়া অন্য দেশে বিশ্বকাপ ফিক্সচারগুলো আয়োজন করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই; কিন্তু খেলোয়াড়দের ও দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হলে এবং আইসিসি যদি আমাদের যুক্তিগুলো বিবেচনা না করে, তাহলে আমরা এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে যেতে পারি না।

এর আগে BCB আইসিসিকে একটি লিখিত চিঠি পাঠায়, যাতে ভারতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যান্য কোন তৃতীয় দেশে আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছিল। এই চিঠিতে বোর্ড জানিয়েছিল যে ভারতে দল এবং সাথে আসা সকল প্রতিনিধির নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত পরিস্থিতি নিয়েই তারা শঙ্কা প্রকাশ করছে।

গতকাল আইসিসি BCB-এর পাঠানো সেই চিঠির জবাবে একটি ই-মেইল পাঠায়। আইসিসি জানায় যে, ভারতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রদত্ত উদ্বেগের যে কারণ বোর্ডটি উল্লেখ করেছে, সেই রকম কোনো পরিস্থিতি নেই এবং ভারতের কর্তৃপক্ষ ক্রিকেট ইভেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি আইসিসি জানিয়েছে যে, যখন নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হবে, নিয়ম অনুযায়ী তারা বিসিবিকে সেই পরিকল্পনা পাঠাবে এবং তখন BCB যদি কোনো পর্যবেক্ষণ বা মতামত থাকে, তা জানাতে পারবে এবং আইসিসি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তবে BCB-এর উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে মন্তব্য করেন, “আমাদের কাছে পৌঁছানো আইসিসির চিঠিটি পড়ে আমরা অনুভব করেছি যে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক এবং তারা সেই অবস্থার গুরুত্বকে পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। এখানে শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটি জাতীয় মর্যাদা-সম্পর্কিত ইস্যু হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তাই আমরা আইসিসিকে পুনরায় আমাদের অবস্থান জানাব এবং তাদেরকে বোঝাব যে আমাদের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগ ও নিরাপত্তা-সমস্যা গুরুতর।

BCB-এর সভাপতি আমিনুল ইসলামও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খেলোয়াড়দের বাইরে একটি বিসৃত জনগোষ্ঠী, সাংবাদিক সমাজ, এবং ক্রিকেট সমর্থকদের উপস্থিতি থেকে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সাধারণভাবে বিদেশ সফরের সময় সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ নির্দেশনা আসে। নিরাপত্তা উন্নত না হলে আমাদের অবস্থান কঠোর থাকবে।

এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। সাধারণত নিরাপত্তা-সম্পর্কিত উদ্বেগ থাকলে ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পূর্বেও নজির রয়েছে। তবে BCB আশা করছে যে আইসিসি তাদের যুক্তিগুলো নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলার সুবিধা প্রদান করবে।


]]>
https://banglakal.com/nation/india-bangladesh-cricket-conflict/feed/ 0 1416
জম্মুতে ক্রিকেট ম্যাচে হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা: কাশ্মীরি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু https://banglakal.com/nation/helmet-with-palestinian-flag-triggers-police-investigation-in-jk-local-tournament/ https://banglakal.com/nation/helmet-with-palestinian-flag-triggers-police-investigation-in-jk-local-tournament/#respond Mon, 05 Jan 2026 04:02:00 +0000 https://banglakal.com/?p=1378 জম্মুতে আয়োজিত একটি ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহার করার কারণে এক কাশ্মীরি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঘটা এই ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৭৩(৩) ধারার অধীনে ১৪ দিনের একটি প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, জম্মুর মুঠি এলাকার কেসি ডোর গ্রাউন্ডে খেলা চলাকালীন এক ক্রিকেটার তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকার লোগো লাগিয়ে মাঠে নেমেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করার কথা নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত ওই ক্রিকেটারের নাম ফুরকান ভাট। তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার তাঙ্গিপুনা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে জম্মু জেলায় চলমান ‘জম্মু ও কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ (JKSL) নামক একটি টুর্নামেন্টে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ফুরকান ভাট স্থানীয় দল ‘জেকে ১১’-এর হয়ে ‘জম্মু ট্রেইলব্লেজার্স’-এর বিরুদ্ধে ব্যাট করছিলেন এবং সেই সময়ই তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জম্মুর কিছু অংশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। অনলাইন মাধ্যমে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পরই জম্মু পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে ক্রিকেটার ফুরকান ভাট এবং টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ ভাটকে সমন পাঠানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং এর ফলে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা জনবিক্ষোভের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ মূলত ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য এবং তার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। এছাড়া, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিতর্কিত সংযোগ বা সূত্র রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই ক্রিকেটার এবং টুর্নামেন্টের আয়োজককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রাথমিক তদন্তের সময়সীমা ১৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশ তাদের অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে, ঘটনার জলঘোলা হতেই জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেকেসিএ) দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জেকেসিএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, অভিযুক্ত খেলোয়াড় তাদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত স্তরের টুর্নামেন্ট ছিল।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জম্মুর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং বিধায়ক আর.এস. পাঠানিয়া ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘অরুচিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আজ একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে কাশ্মীরের এক স্থানীয় ক্রিকেটারকে তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা লাগিয়ে খেলতে দেখা গেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমরা মনে করি এটি ক্রিকেট মাঠকে ব্যবহার করে কোনো নাশকতামূলক বা বিতর্কিত এজেন্ডা প্রচারের একটি জঘন্য প্রচেষ্টা। অথবা এটি ভারতের জাতীয় অবস্থানের প্রতি চরম অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।” বিধায়ক পাঠানিয়া প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন এই পুরো বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং বিস্তারিত তদন্ত করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, একটি ক্রিকেট ম্যাচে হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহারের এই ঘটনাটি বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রীড়া এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/helmet-with-palestinian-flag-triggers-police-investigation-in-jk-local-tournament/feed/ 0 1378
মুস্তাফিজের বিদায়: ভারতের জন্য কৌশলগত আশীর্বাদ নাকি বড় ভুল হিসাব? https://banglakal.com/sports/bcci-asks-kkr-to-release-mustafizur-rahman-ahead-of-ipl-2026-amid-india-bangladesh-tensions/ https://banglakal.com/sports/bcci-asks-kkr-to-release-mustafizur-rahman-ahead-of-ipl-2026-amid-india-bangladesh-tensions/#respond Sun, 04 Jan 2026 11:27:28 +0000 https://banglakal.com/?p=1351 ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতির সীমারেখা যখন ধূসর হয়ে যায়, তখন মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের সমীকরণই বড় হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর প্রাক্কালে ঠিক এমনটাই ঘটেছে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে। রেকর্ড ৯.২০ কোটি রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাকে দলে নিলেও বিসিসিআই-এর বিশেষ নির্দেশে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি । এই সিদ্ধান্তটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে কতটা লাভজনক বা ক্ষতিকর, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন সময়ের দাবি।

মুস্তাফিজের বিদায়: নেপথ্য কারণ ও অতীত পরিসংখ্যান মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ কোনোভাবেই চোট বা ফর্ম নয়। বরং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু সংখ্যালঘু হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ভারতে সৃষ্ট তীব্র জনরোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখেই বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ মুস্তাফিজ বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে রয়েছেন। কেকেআর থেকে বাদ পড়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন

ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে মুস্তাফিজের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। সম্প্রতি এশিয়া কাপে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে আউট করে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন। আইপিএলে ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নেওয়া এই ‘কাটার মাস্টার’ ভারতের মন্থর পিচে সবসময়ই এক আতঙ্কের নাম।

ভারতের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা কৌশলগতভাবে মুস্তাফিজের অনুপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য এক বড় স্বস্তি হতে পারে, কিন্তু সামনে বিশ্বকাপ আর আগে বাংলাদেশের এই বলার কে ভারতীয় সবাই খেলার সুযোগ হারালো। মুস্তাফিজ বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার বিষাক্ত স্লোয়ার এবং কাটার সামলানো যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটারের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ । আইপিএলে ভারতের তরুণ ব্যাটাররা তার বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাকে মোকাবিলা করা তাদের জন্য আরও জটিল হতে পারত। এছাড়া, দেশের জাতীয় আবেগ ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার খাতিরে বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তটি জনমতকে শান্ত করতে সাহায্য করেছে ।

ঝুঁকি ও ভুল হিসাবের সম্ভাবনা তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা। মুস্তাফিজের মতো একজন বৈচিত্র্যময় বাঁহাতি পেসারকে হারানো আইপিএলের প্রতিযোগিতামূলক মানকে কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন করবে । কেকেআর-এর মতো দলগুলো যারা ইডেন গার্ডেনসের মন্থর পিচকে মাথায় রেখে তাকে দলে নিয়েছিল, তারা এখন বড় ধরনের কৌশলগত সংকটে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। মুস্তাফিজ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে ভারতে নির্ধারিত তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।বিসিবি সিধান্ত নিয়েছে আই পি এল এর খেলা তারা সম্প্রচার করবে বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন ক্রিয়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যা ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য নেতিবাচক ।

বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি একজন ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে মুস্তাফিজের অভাব কেবল একজন বোলার হিসেবে নয়, বরং একজন ‘বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল’ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অনুভূত হবে। ইডেন গার্ডেনসের মতো পিচে মুস্তাফিজের কাটার ও অফ-স্পিন ধরলে তা ডানহাতি ব্যাটারদের জন্য খেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে ]। কেকেআর-এর বোলিং লাইনআপ এখন অনেকাংশেই পাথিরানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

সার্বিকভাবে বিচার করলে, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি স্বল্প মেয়াদে ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত ও কূটনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একে ‘কোলেটারাল ড্যামেজ‘ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেশী দেশের সাথে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ‘পাকিস্তানিকরণ’-এর পথে হাঁটলে তা কেবল খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বকেই আঘাত করে না, বরং দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয় । পরিশেষে বলা যায়, মুস্তাফিজের অনুপস্থিতি ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য সাময়িক স্বস্তি আনলেও, বিশ্বকাপ ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতার নিরিখে এটি বিসিসিআই-এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।

]]>
https://banglakal.com/sports/bcci-asks-kkr-to-release-mustafizur-rahman-ahead-of-ipl-2026-amid-india-bangladesh-tensions/feed/ 0 1351
লিভারপুলের নতুন সিজনের উদ্বোধনী জয়: বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে রোমাঞ্চকর শুরু https://banglakal.com/sports/match-review-liverpool-vs-bournemouth-by-nijam-parvej/ https://banglakal.com/sports/match-review-liverpool-vs-bournemouth-by-nijam-parvej/#respond Sat, 16 Aug 2025 07:29:07 +0000 https://banglakal.com/?p=1011 ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহর একক চেষ্টার গোল, তার ঠিক আগেই ৮৮তম মিনিটে ইতালীয় সুপার সাব ফেদেরিকো কিয়েসার ভলি! দেখে মনে হচ্ছিল যেন ২-২ গোলে ড্র হয়ে যেতে পারে, কিন্তু আর্নে স্লটের দলের শেষ মুহূর্তের এই দুই গোল নিশ্চিত করল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নদের জয় ।

অ্যানফিল্ডে নিজেদের শিরোপা রক্ষার যাত্রা শুরু করেছে স্বপ্নের মতো। নতুন সিজনের প্রথম ম্যাচেই চারটি নতুন স্বাক্ষরকৃত খেলোয়াড়ের অভিষেক – ফ্লোরিয়ান ভিৎস, জেরেমি ফ্রিমপং, মিলোস কের্কেজ এবং হুগো একিতিকে। এটিই প্রথম উদাহরণ ১৯৯২-৯৩ সিজনের পর থেকে যখন রিইগনিং চ্যাম্পিয়নরা তাদের উদ্বোধনী দিনে চারজন নতুন খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছে।

প্রথম হাফেই লিভারপুল এগিয়ে গিয়েছিল। ৩৭তম মিনিটে ফরাসি স্ট্রাইকার হুগো একিতিকের প্রথম প্রিমিয়ার লীগ গোল। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস পেয়ে বোর্নমাউথের ডিফেন্স ভেদ করে স্থিরভাবে বল নেটে পাঠালেন নতুন ইনজিনিয়ার। দ্বিতীয় হাফে ৪৯তম মিনিটে একিতিকেরই সহায়তায় কোডি গাক্পো দ্বিতীয় গোলটি করেন, বাম উইং থেকে কেটে এসে নিখুঁত ফিনিশিং দেখান।

কিন্তু বোর্নমাউথ মোটেও হাল ছেড়ে দেয়নি। ৬৪তম মিনিটে ডেভিড ব্রুকসের চমৎকার ক্রস থেকে অ্যান্টনি সেমেনিয়ো প্রথম গোলটি করেনকরেন। মজার বিষয় হলো, এই ম্যাচে সেমেনিয়ো প্রথম হাফেই বর্ণবাদী গালিগালাজের শিকার হয়েছিলেন একজন দর্শকের কাছ থেকে, যার কারণে খেলা প্রায় ৪ মিনিট বন্ধ থাকে। যেই ব্যক্তি তাকে গালমন্দ করেছিল, তার বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নিয়েছেন সেমেনিয়ো তার খেলা দিয়ে।

৭৬তম মিনিটে আরও নাটকীয় হয়ে উঠল ম্যাচটি। সেমেনিয়ো প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে দৌড়ে গিয়ে ইব্রাহিমা কোনাতেকে ঘুরিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন, স্কোর হয় ২-২। এই গোলে ভ্যান ডাইকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তিনি সেমেনিয়োকে অনসাইডে রেখে দিয়েছিলেন।

যখন মনে হচ্ছিল লিভারপুল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচেই পয়েন্ট হারাতে পারে, তখনই এসেছিল নাটকীয় মোড়। আর্নে স্লট ৮২তম মিনিটে ফেদেরিকো কিয়েসাকে মাঠে নামান। মাত্র ছয় মিনিট পরেই এই ইতালীয় উইঙার একটি চমৎকার ভলি দিয়ে লিভারপুলকে আবার এগিয়ে দেন ৮৮তম মিনিটে।

শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে সালাহর একক প্রচেষ্টার গোল পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে দেয়। মিশরীয় তারকা বাম দিক থেকে কেটে এসে দুর্বল পায়ে দূরের কোণে নিখুঁত শট দেন। এটি ছিল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী দিনে তার নবম গোল, যা একটি রেকর্ড।

এই জয়ে লিভারপুল তাদের শিরোপা রক্ষার যাত্রা শুরু করেছে দুর্দান্তভাবে। স্লটের প্রথম সিজনেই গত মৌসুমে ২০তম লীগ শিরোপা জিতেছিল দলদল। এবার ২৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে নিয়ে এসেছেন নতুন তারকাদের – ভিৎস, একিতিকে, ফ্রিমপং, কের্কেজ।

দিয়েগো জোটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল এটি অ্যানফিল্ডে। ম্যাচের আগে ও পরে তাদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, নতুন স্বাক্ষরকৃত খেলোয়াড়দের চমৎকার প্রদর্শনী, এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা – সবমিলিয়ে এই ৪-২ জয় লিভারপুলের নতুন সিজনের জন্য একটি উৎকৃষ্ট শুরু। এরপর অপেক্ষা নিউক্যাসেল, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের।

আর্নে স্লটের এই দল যেভাবে শুরু করেছে, তাতে ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে লিভারপুল সমর্থকরা।

তবে যাই হোক!

You will never walk alone.

]]>
https://banglakal.com/sports/match-review-liverpool-vs-bournemouth-by-nijam-parvej/feed/ 0 1011