রাজ্য – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 22 Jul 2026 10:09:36 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 রাজ্য – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/ https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:20:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2953 কলকাতা, ২২ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসমাবেশ ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ থাকে তুঙ্গে। তবে এ বার সমাবেশের মঞ্চে বক্তাদের তালিকা এবং ভাষণের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবাদ রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশের দৈর্ঘ্য এবং তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাবের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হতেই তোলপাড় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল

ঐতিহাসিক ধর্মতলার মঞ্চে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে। এই বিশেষ দিনে দলের মূল বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সাধারণত তাঁর বক্তব্যের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, মন্ত্রী এবং তরুণ নেতৃত্বের একাংশকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিনের সমাবেশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠলে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে এক প্রকার অসন্তোষ তৈরি হয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ যখন বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারিত সূচি মেনে মূল বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময় এগিয়ে আসছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন অনুযায়ী, প্রধান বক্তার বক্তব্যের আগে অন্যান্য নেতাদের সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় মঞ্চেই তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলের অন্দরের খবর, ভাষণের দৈর্ঘ্য ছোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত আসায় ক্ষোভ গোপন রাখেননি প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের চাপা টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। কল্যাণ ঘনিষ্ঠদের মতে, সাংসদ হিসেবে লোকসভায় এবং জনসভায় দলের হয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। সেখানে শহিদ তর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়াটা তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমোর অনুগামীদের সাফ কথা— ২১ জুলাইয়ের জনসভার মূল আকর্ষণ থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের লাখো সমর্থক মূলত নেত্রীর নির্দেশিকা শুনতেই মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য বক্তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই দস্তুর। সময় ব্যবস্থাপনার সেই তাগিদ থেকেই বক্তব্য সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিবাদের জায়গা নেই।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ আসলে একটা গোষ্ঠীকোন্দলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব যে ক্রমেই বাড়ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশে সেটাই প্রমাণিত।

তবে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল এক বিশাল পরিবার। সেখানে বক্তব্য পেশ বা সময়ের সমন্বয় নিয়ে দু’-একটি অনভিপ্রেত কথা বা ক্ষোভ সাময়িক ঘটনা মাত্র। একুশে জুলাইয়ের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করাই দলের মূল উদ্দেশ্য, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ আগামী দিনে দলীয় সংগঠনে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/feed/ 0 2953
একদা ঘাসফুলের একচ্ছত্র আধিপত্য, এবার চতুর্মুখী টানাটানি: সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন রিপোর্ট সামনে এনে ২১ জুলাই নিয়ে ময়দানে বিজেপি ! https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/ https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/#respond Tue, 21 Jul 2026 08:02:59 +0000 https://banglakal.com/?p=2936 কলকাতা, ২১ জুলাই: দীর্ঘ তিন দশক ধরে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র শক্তি প্রদর্শনের বার্ষিক মঞ্চ। কিন্তু সময়ের চক্রে ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে ২০২৬ সালের এই ২১ জুলাই প্রত্যক্ষ করছে অভূতপূর্ব এক রাজনৈতিক টানাপোড়েন। একদিকে তৃণমূলের একাধিক উপদল ও কংগ্রেসের উত্তরাধিকারের দাবি, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় তদন্ত কমিশন রিপোর্ট পেশ— সব মিলিয়ে এককালের একক স্মারক অনুষ্ঠান এখন চতুর্মুখী লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত হয়েছে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার দাবিতে আন্দোলন চলছিল। পুলিশি গুলিতে মৃত্যু হয় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেই ঘটনার পর থেকে বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চিহ্ন হিসেবে দিনটিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনের উত্তরাধিকারকে নিজের দলের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তর করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই স্মৃতির ওপর এখন একাধিক শিবির নিজস্ব দাবি ঠুকছে।


তিন টুকরো তৃণমূল: কার নিয়ন্ত্রণে আসল ২১ জুলাই?
চলতি বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব বিভাজন শহিদ দিবসকে এক নজিরবিহীন জায়গায় নিয়ে গেছে।


১. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী:অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন দাবি করে এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি চেয়ে তারা মেয়ো রোডে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে পৃথক সমাবেশের আয়োজন করেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এই মঞ্চে অভিভাবক বা ‘মার্গদর্শক’ হিসেবে যোগ দিতে পারেন।
২. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল শিবির: ভিক্টোরিয়া হাউসের প্রথাগত স্থান না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে তারা বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে সভার আয়োজন করেছে। দলের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, ২১ জুলাইয়ের আন্দোলন ও মমতার ত্যাগ সমার্থক; একে তৃণমূলের থেকে আলাদা করা অসম্ভব।
৩. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ২০ জন সংসদ সদস্যের গোষ্ঠী: তারা সম্প্রতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার (NCPI) সাথে যুক্ত হয়ে সংসদ অধিবেশন চলায় দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করছে।


‘ইতিহাস বিকৃতি’ ও কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন
অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক ফাটলকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে সরব হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহিদ মিনারের কংগ্রেসের সভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে মন্তব্য করেন, অতীতে কংগ্রেস ত্যাগ করা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা স্বীকার করে নিয়ে মমতার ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নেওয়া উচিত। একই সাথে অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুর্শিদাবাদের পলাশীতে যুব কংগ্রেসের র্যালি থেকে আরজিকর কাণ্ডের নির্যাতিতা চিকিৎসক এবং কালিগঞ্জের ১০ বছরের শিশু তামান্না খাতুনকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে সুবিচারের দাবিতে সরব হন।


বিজেপির বড় পদক্ষেপ: সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন রিপোর্ট
তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক দড়িটানাকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের তদন্ত কমিশন রিপোর্ট উপস্থাপন করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।


শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ২০১৪ ও ২০২৪ সালে রিপোর্ট জমা পড়া সত্ত্বেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার তা চেপে রেখেছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়নি। কমিশন প্রতি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছিল। বিজেপি সরকার জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বকেয়া ক্ষতিপূরণ মেটানো হবে এবং পরিবারগুলোকে নতুন করে এফআইআর (FIR) করতে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সাথে, ঘটনার সময় প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং মূল নথি কীভাবে গায়েব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে, কলকাতা শহর আজ এমন এক ২১ জুলাই প্রত্যক্ষ করছে যেখানে একদিকে তৃণমূলের দলীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, কংগ্রেসের মূল ইতিহাস দাবির চেষ্টা এবং বিজেপির সরকারি রিপোর্টকে হাতিয়ার করে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল একসঙ্গে মুখোমুখি।


বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/state/once-tmcs-exclusive-domain-now-a-four-way-tug-of-war-bjp-enters-july-21-martyrs-day-arena-by-releasing-sushanta-chatterjee-commission-report/feed/ 0 2936
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে : কল্যাণ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:36:35 +0000 https://banglakal.com/?p=2925 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরের তীব্র ফাটল। লোকসভার আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন, রবিবার সেই রাজনৈতিক তরজা এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। দলত্যাগী ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে লোকসভায় আলাদা বসার আসন (Separate Seating Arrangement) বরাদ্দ করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের প্রধান আপত্তি— যেখানে দলত্যাগী সাংসদদের বরখাস্তের আবেদন (Disqualification Petition) এখনও স্পিকারের দরবারে ঝুলে রয়েছে, সেখানে কোন যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এই পদক্ষেপকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির।

শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের জন্য আলাদা বসার আসনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এই সাংসদরা দল ছেড়ে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই ২০ জন সাংসদের নতুন দলে সংযুক্তিকরণ বা ‘মার্জার’-এর বিষয়টি এখনও স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আবহে রবিবার হুগলিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আমরা ইতিমধ্যেই ওই ২০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে বরখাস্তের পিটিশন দাখিল করেছি। সেই সমস্ত আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি না করেই স্পিকার যেভাবে তাদের আলাদা বসার অনুমতি দিয়ে একপ্রকার স্বীকৃতি দিলেন, তা একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল।”

সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে রবিবার প্রথামাফিক একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল কেন্দ্র সরকার। সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই (NCPI)-র প্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আমন্ত্রণ জানান। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় গোটা বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো দলগুলি একজোট হয়ে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করে।

তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যে ২০ জন সাংসদ মানুষের রায়কে অপমান করে দল ছেড়েছেন, স্পিকার এখনও তাদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার আইনি বৈধতা দেননি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে কীভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডেকে তৃণমূলের শক্তিকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত বিরোধী দল একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছি।” একই সুরে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “মোদী সরকার যেভাবে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের ‘পার্কিং প্লেস’ এনসিপিআই-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাল, তার প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট। কারণ মূল বিষয়টি এখনও স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী এই ২০ জন সাংসদকে পদচ্যুত করার জন্য ২০টি পৃথক আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তৃণমূলের যুক্তি, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে গেলে মূল দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের অন্য দলে विलय বা মার্জার জরুরি। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন চলে যাওয়ায় গাণিতিক হিসেবে তারা দুই-তৃতীয়াংশ হলেও, আইনি ও পদ্ধতিগত স্ক্রুটিনি এখনও শেষ হয়নি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন জুড়েই এই দলত্যাগ এবং লোকসভার নতুন আসন বিন্যাস নিয়ে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হতে চলেছে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে শাসকদলের রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা, যার প্রভাব আগামী দিনে সংসদের অন্দরে স্পষ্ট দেখা যাবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/feed/ 0 2925
কেন্দ্রের ‘স্বীকৃতি’ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে! বাদল অধিবেশনের আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে নজিরবিহীন তোলপাড় https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/ https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/#respond Sun, 19 Jul 2026 13:30:57 +0000 https://banglakal.com/?p=2904 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিনই জাতীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হলো। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে নিয়ে গঠিত নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-কে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর পরই এই চরম রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নতুন দলে মিশে যাওয়ার আবেদন বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আবেদনের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তার আগেই কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল সহ সমগ্র ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট সর্বদলীয় বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করে।

সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এই প্রথামাফিক সর্বদলীয় বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র অংশ নেন। তবে বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি দেখেই প্রবল আপত্তি তোলেন বিরোধী নেতারা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সংসদের টেবিল অফিসের তালিকা অনুযায়ী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ২৮টি। এই ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার আবেদন এখনও স্পিকার অনুমোদন করেননি। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০টি দলত্যাগ বিরোধী পিটিশন এখনও ঝুলে রয়েছে। সংবিধানের ৯১তম সংশোধনীর পর সংসদে কোনো পৃথক ব্লকের স্বীকৃতি দেওয়ার নিয়ম নেই। তাহলে কোন আইনের ভিত্তিতে সংসদীয় মন্ত্রী এই তথাকথিত এনসিপিআই দলকে আমন্ত্রণ জানালেন?” এই ঘটনার প্রতিবাদেই কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, বামপন্থী ও আম আদমি পার্টি সহ গোটা বিরোধী জোট বৈঠক বয়কট করে বাইরে বেরিয়ে আসে।

তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের মুখে পড়েও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। केंद्रीय সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সরকারের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আবেদন জানানো হয়েছে। একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে কোনো দলের আবেদনকে সরকার কীভাবে অগ্রাহ্য করতে পারে? সংসদের সমস্ত দল এবং গোষ্ঠীর মতামত শোনা সরকারের দায়িত্ব, এবং সেই নিয়ম মেনেই এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।” রিজিজু আরও যোগ করেন যে, সংখ্যার ভিত্তিতে আলোচনা হলেও গণতন্ত্রে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। বিরোধীদের এই ওয়াকআউটকে তিনি একটি ‘প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বাদল অধিবেশনে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ তথা বর্তমান এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি আজ সম্পূর্ণ নতুন একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৫ বছর ধরে আমি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা ছিলাম। কিন্তু আজ আমি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেতা হিসেবে এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছি। দল বদলালেও আমরা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং অখণ্ডতার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি। আমাদের এই ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা সংসদের ভেতরেও বজায় থাকবে।” লোকসভা সচিবালয় সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম এই নতুন দলের চিফ হুইপ হিসেবে কেন্দ্রের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদ নিজেদের পদ বাঁচাতে সংবিধানের দশম তফসিলের আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ত্রিপুরার এই নিবন্ধিত আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কৌশল নিয়েছেন। যেহেতু তারা তৃণমূলের মোট লোকসভা শক্তির (২৮ জন) দুই-তৃত্যাংশের বেশি, তাই তারা আইনি সুরক্ষার দাবি করছেন। লোকসভা সচিবালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ সার্কুলারে ইতিমধ্যেই এই ২০ জন সাংসদকে মূল তৃণমূল বেঞ্চ থেকে সরিয়ে পৃথক বসার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে এই সাংসদদের পদ খারিজের জন্য যে আবেদন জানিয়েছেন, তার ফয়সালা এখনও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই ‘সবুজ সংকেত’ সংসদের বাদল অধিবেশনে যে এক চরম সংघातের পরিবেশ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/centre-signals-recognition-of-ncpi-with-trinamool-rebels-triggers-row/feed/ 0 2904
মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা: স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/ https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/#respond Fri, 17 Jul 2026 08:32:02 +0000 https://banglakal.com/?p=2859 মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে শুক্রবার সকালে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি স্কুলগাড়ি (পুল কার) রেললাইন পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি পরিণত হয় মৃত্যু ও আর্তনাদের দৃশ্যে। ঘটনাটি ঘটে কর্ণসুবর্ণ রেলস্টেশন ও গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ের মাঝামাঝি আজিমগঞ্জ–কাটোয়া রেল শাখায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালে স্কুলগাড়িতে একাধিক ছাত্রছাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং একাধিক শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে, পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ও আহতের পরিসংখ্যান তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকায় স্কুলগাড়িটি রেললাইন পার হতে শুরু করে। সেই সময় নিমতিতা–কাটোয়া ডাউন লোকাল ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়িটি কয়েক মিটার ছিটকে যায় এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে নিশ্চিত করা হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ভাঙাচোরা গাড়ি থেকে আহত ছাত্রছাত্রীদের বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রেলগেট পরিচালনায় গাফিলতি না থাকলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। অন্যদিকে, পূর্ব রেল জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গেটম্যানের ভূমিকা, সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং ঘটনাক্রমের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও রেল লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে যেখানে প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ধরনের ত্রুটি মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবহুল এলাকায় আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গেট, উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা আরও জোরদার করা জরুরি।

প্রশাসন ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত কারণ সামনে আসে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কর্ণসুবর্ণের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক বা রেল দুর্ঘটনা নয়; এটি অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। যে শিশুরা প্রতিদিনের মতো বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল, তাদের অনেকেই আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। এই শোক কোনও একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের। তাই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব উন্নয়নই হতে পারে এই নিরীহ প্রাণগুলোর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

]]>
https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/feed/ 0 2859
দেশদ্রোহিতার অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশে ১ বছরের নরকযন্ত্রণা শেষে ঘরে ফিরল দুই ভারতীয় পরিবার: কাঠগড়ায় প্রশাসন https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/ https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/#respond Thu, 16 Jul 2026 08:01:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2833 কলকাতা, ১৬ জুলাই: সন্দেহের বশে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়ার এক চরম অমানবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওপার বাংলায় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চরম মানবিক দুর্ভোগ সহ্য করার পর অবশেষে নিজেদের মাতৃভূমি ভারতে ফিরে এসেছেন দুটি পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলের প্রশাসনিক গাফিলতি এবং নিরপরাধ ভারতীয়দের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

আজ এই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করেন রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি সুইটি বিবি, তাঁর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং সুনালি খাতুনের স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর স্বদেশে ফিরলেও তাঁদের চোখে-মুখে এখনও ওপার বাংলার সেই বন্দিদশার আতঙ্ক স্পষ্ট। সাংসদ সুনালির ছোট্ট সন্তানের সাথেও বেশ কিছুটা সময় কাটান এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিরে আসা এই মানুষগুলো প্রত্যেকেই আইনত এবং জন্মসূত্রে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হয় এবং কোনো রকম পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়াই সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করা হয়।

সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রশাসনিক ভুল শুধু একটি সাধারণ আইনি ত্রুটি বা গাফিলতি নয়; এটি নিরপরাধ মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং মানবিক নিরাপত্তার উপর এক গভীর ও অপূরণীয় আঘাত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কীভাবে বৈধ নাগরিকদের এভাবে নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের কাছেই জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। দাবি উঠেছে, এই পরিবারগুলোর দ্রুত ও উপযুক্ত পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক-মানসিক সহায়তা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এমন একটি কার্যকর ও নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে বা প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দেশের কোনো নাগরিকেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। সার্বভৌম রাষ্ট্রের সুরক্ষায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই হবে। কিন্তু তার নামে প্রকৃত ও নিরপরাধ ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি করা, জোরপূর্বক নির্বাসন দেওয়া এবং অমানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

ভারতবর্ষ আমাদের সকলের মাতৃভূমি। জাত, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দেশ প্রতিটি ভারতীয়ের সমান আশ্রয় ও অধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বহন করে। একজন মা যেমন তাঁর প্রতিটি সন্তানকে সমান স্নেহ ও নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনই রাষ্ট্রেরও পরম দায়িত্ব প্রতিটি প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের মর্যাদা, আইনি অধিকার ও জীবনযাপনের নিরাপত্তা অটুট রাখা। এই ঘটনায় জড়িত দোষী আধিকারিকদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/international/free-from-the-stigma-of-traitors-after-a-year-of-hell-in-bangladesh-two-indian-families-return-home-administration-questioned/feed/ 0 2833
অভিষেকের কারণেই দলত্যাগ ও কারাবাস, বিস্ফোরক অনুব্রত! চরম সংকটে ঘাসফুল শিবির https://banglakal.com/world/international/anubratas-explosive-allegations-quits-party-and-jailed-due-to-abhishek-trinamool-faces-severe-crisis/ https://banglakal.com/world/international/anubratas-explosive-allegations-quits-party-and-jailed-due-to-abhishek-trinamool-faces-severe-crisis/#respond Wed, 15 Jul 2026 15:25:34 +0000 https://banglakal.com/?p=2787 কলকাতা, ১৬ জুলাই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক এবং বীরভূমের প্রাক্তন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল এখন বিদ্রোহী নেতাদের শিবিরে যোগ দিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অনুব্রতর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নয়, বরং অভিষেকের কারণেই তাঁকে দলত্যাগ করতে হয়েছে।

বুধবার নিউ টাউনের এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অনুব্রত মণ্ডল বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমি দল ছাড়িনি, ছাড়তে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণে। অভিষেকের জন্যই আমাকে কারাবাস করতে হয়েছে। আমি মনে করি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের মূল কারণ। আমি বারবার মমতাদিকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে ওই বিদ্রোহী শিবিরের বীরভূম জেলার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর মতো একজন প্রভাবশালী নেতার শিবির পরিবর্তন তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিল।

বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক সূত্রে খবর, এদিন রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মদন মিত্রসহ দলের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সমান্তরাল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। অনুব্রতর যোগদানে সেই শক্তি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য।

সাংবাদিকদের কাছে অনুব্রতর আরও অভিযোগ, দলের পুরনো কর্মীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্বের প্রভাবের কারণে প্রবীণরা কোণঠাসা। তিনি বলেন, “অভিষেকের নেতৃত্বে দলের যে বর্তমান পরিস্থিতি, তা সকলেরই জানা। পুরনো কর্মীরা আর স্বস্তিতে নেই।”

যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে দলের অভ্যন্তরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও প্রবীণদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে এমন কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ আগে আসেনি। দুর্নীতির অভিযোগ ও সাংগঠনিক কোন্দলের জেরে দল যেভাবে ভাঙনের মুখে পড়েছে, তাতে অনুব্রত মণ্ডলের এই বিদ্রোহ আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করল। আগামী দিনে আরও কোন কোন হেভিওয়েট নেতা এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই ভাঙন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কোনো হস্তক্ষেপ করেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/international/anubratas-explosive-allegations-quits-party-and-jailed-due-to-abhishek-trinamool-faces-severe-crisis/feed/ 0 2787
ধর্মতলায় না, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শর্তসাপেক্ষে ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি কালীঘাট তৃণমূলকে https://banglakal.com/state/alcutta-high-court-allows-tmc-kalighats-july-21-rally-with-conditions/ https://banglakal.com/state/alcutta-high-court-allows-tmc-kalighats-july-21-rally-with-conditions/#respond Wed, 15 Jul 2026 09:15:21 +0000 https://banglakal.com/?p=2777 কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৬: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উচ্চ আদালতের সবুজ সংকেত পেল মমতাপন্থী বা কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের (তারামণ্ডল) সামনেই সমাবেশ করতে পারবে তারা। তবে ট্রাফিকের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এবং জনজীবন সচল রাখতে বুধবার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চিরাচরিত জায়গায় সভা করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু লালবাজারের পক্ষ থেকে সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকায় তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কলকাতার মূল প্রাণকেন্দ্র এবং ব্যস্ততম চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউকে সভার জন্য কোনোভাবেই স্তব্ধ করতে দেওয়া যাবে না। এরপর আদালতের পর্যবেক্ষণে বিকল্প জায়গার কথা উঠলে শেষ পর্যন্ত বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের অংশে সভার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া কঠোর শর্তাবলি:

আদালত জানিয়েছে, সভার অনুমতি দেওয়া হলেও উদ্যোক্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে:

  • জমায়েতের ঊর্ধ্বসীমা: বিপুল জনস্রোতের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের পথচলতি সমস্যা বা মেট্রো রেলে যানজট না হয়, তাই সভায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।
  • নির্দিষ্ট সময়সীমা: ২১ জুলাইয়ের এই সমাবেশ কেবল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত চালানো যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টার এই আঁটসাঁট সময়ের পর কোনোভাবেই সভার কাজ দীর্ঘায়িত করা যাবে না।
  • রাস্তা সচল রাখা: তারামণ্ডলের সামনের রাস্তার একধারে সভার মঞ্চ ও বসার জায়গা গড়ে তুলতে হবে। রাস্তার অন্য পাশটি সম্পূর্ণ গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
  • যোগাযোগের তথ্য: আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে সভার মূল আয়োজকদের নাম এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর কলকাতার জয়েন্ট সিপি হেডকোয়ার্টারে জমা দিয়ে নথিভুক্ত করাতে হবে।

রাজনৈতিক শিবিরের তৎপরতা

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও সংকটের আবহে এবারের ২১ জুলাইয়ের তাৎপর্য অনেকটাই আলাদা। একদিকে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অন্য দিকে কংগ্রেস শহিদ মিনারে সমাবেশের ডাক দিয়েছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা তারামণ্ডলের সামনে নিজেদের শক্তিরক্ষার পরীক্ষায় নামছেন।

আদালতের এই রায় সামনে আসার পরেই কালীঘাট শিবিরের আইনজীবীরা জানান, আদালতের সব নির্দেশ মেনেই নির্দিষ্ট সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে শহিদ স্মরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, ওইদিন মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর।

]]>
https://banglakal.com/state/alcutta-high-court-allows-tmc-kalighats-july-21-rally-with-conditions/feed/ 0 2777
‘ভুল স্বীকার করলে তবেই স্বাগত’, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মমতাকে শর্তসাপেক্ষ আমন্ত্রণ কংগ্রেসের https://banglakal.com/state/mamata-banerjee-if-she-publicly-says-congress-extends-martyrs-day-invite-to-mamata-but-with-a-condition/ https://banglakal.com/state/mamata-banerjee-if-she-publicly-says-congress-extends-martyrs-day-invite-to-mamata-but-with-a-condition/#respond Wed, 15 Jul 2026 08:59:05 +0000 https://banglakal.com/?p=2774 কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ : রাজ্য রাজনীতিতে এবার ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে এক নতুন সংঘাতের আবহ তৈরি হল。 এক সময়ের সহযোদ্ধা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আমন্ত্রণ জানাল প্রদেশ কংগ্রেস। তবে এই আমন্ত্রণের পেছনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক শর্ত। কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, তিন দশক আগে কংগ্রেস দল ছেড়ে যাওয়া যে একটি মস্ত বড় ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল, তা মমতাকে জনসমক্ষে স্বীকার করতে হবে।

শহিদ মিনারে কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যিই সাহস থাকে, তবে তাঁর উচিত ইতিহাস বিকৃত না করা। অতীতের ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে তিনি শহিদ মিনারের মঞ্চে এসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পারেন, তাঁকে স্বাগত।”

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী। পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন এবং এই দিনটিকে প্রতি বছর সাড়ম্বরে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। এতদিন তৃণমূলের এই মেগা র‍্যালির দাপটে কংগ্রেসের অনুষ্ঠান কিছুটা ম্লান থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোলবদল ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে এখন বহুমুখী বিদ্রোহ।

শুভঙ্কর সরকারের দাবি:

“১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই আন্দোলন হয়েছিল যুব কংগ্রেসের পতাকার তলায়। এটা ইতিহাসের অংশ, যা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য ব্যানারে এই অনুষ্ঠান করে ইতিহাসকে নতুন করে লেখার চেষ্টা করছেন।”

প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জনসমক্ষে স্বীকার করেন যে কংগ্রেস ছাড়া তাঁর ভুল ছিল, তবে সেটি হবে একটি বড় রাজনৈতিক প্রায়শ্চিত্ত। এতে অতীতের ভুল সংশোধনের একটি প্রয়াস অন্তত দেখা যাবে। কংগ্রেসের মঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু ইতিহাসের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।

এদিকে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চিরাচরিত জায়গায় সভা করার অনুমতি পুলিশ দেয়নি মমতা-শিবিরকে, যা এখন আদালত চত্বরে বিচারাধীন। অন্যদিকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আলাদা সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেসের এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ আমন্ত্রণ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

]]>
https://banglakal.com/state/mamata-banerjee-if-she-publicly-says-congress-extends-martyrs-day-invite-to-mamata-but-with-a-condition/feed/ 0 2774
পশ্চিম মেদিনীপুরে স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রের যৌন নির্যাতন: প্রতিবাদে উত্তাল এলাকা, অভিযুক্ত গ্রেফতার https://banglakal.com/state/sexual-assault-of-first-grade-student-in-west-midnapore-protest-erupts-in-area-accused-arrested/ https://banglakal.com/state/sexual-assault-of-first-grade-student-in-west-midnapore-protest-erupts-in-area-accused-arrested/#respond Tue, 14 Jul 2026 08:31:23 +0000 https://banglakal.com/?p=2747 পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একটি সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে ঘটেছে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। ১১ জুলাই (শুক্রবার) ছয় বছরের ক্লাস ওয়ানের এক ছাত্রকে বিদ্যালয়ের ছেলেদের টয়লেটের অ্যাটেন্ড্যান্টের বিরুদ্ধে ‘ওরাল মলেস্টেশন’-এর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির মা জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরে এসে ছেলে তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। অ্যাটেন্ড্যান্ট টয়লেটের দরজা বন্ধ করে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ।

ঘটনা জানাজানি হতেই বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে প্রধানশিক্ষক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রধানশিক্ষক নাকি বলেছিলেন, “এতে স্কুলের বদনাম হবে”। অভিভাবকরা প্রধানশিক্ষকের অপসারণসহ দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।

পুলিশের ভূমিকা 
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা রুজু করা হয়েছে। শিশু ভিকটিম হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত অ্যাটেন্ড্যান্টকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি পাপিয়া সুলতানা বিদ্যালয়কে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ছাত্রদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা
টয়লেটের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো
টয়লেটের বাইরে অ্যাটেন্ড্যান্ট নিয়োগ করে শিশুদের সাহায্য করা
নতুন কর্মী নিয়োগের আগে পুরোপুরি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা

এই ঘটনা স্কুলগুলিতে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে সাপোর্ট স্টাফদের নিয়োগে যাচাই-বাছাইয়ের অভাব প্রকট। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথিত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অনেক সময় শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়।

পশ্চিমবঙ্গে শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এই ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের বিক্ষোভ প্রায়ই পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। পাপিয়া সুলতানা আগেও বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তবে বর্তমানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করায় তা ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও বাস্তবে তার কার্যকর রূপায়ণ জরুরি।

এই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মীরা দ্রুত বিচার ও বিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে স্কুল সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

]]>
https://banglakal.com/state/sexual-assault-of-first-grade-student-in-west-midnapore-protest-erupts-in-area-accused-arrested/feed/ 0 2747