বিশ্ব – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 04 Mar 2026 17:40:39 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 বিশ্ব – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 যুদ্ধ মানবতার জন্য অভিশাপ’: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালা-পোড়ার মাঝে শান্তির দুর্গ স্পেন https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/ https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/#respond Wed, 04 Mar 2026 17:39:06 +0000 https://banglakal.com/?p=2289 ওয়াসিম আকরাম, সংবাদদাতা, বাংলাকাল

কলকাতা, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমাগত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধ্বসের মুখে, তখন ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো বিবেকের কণ্ঠস্বর। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সরকারি বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধের দানবের মুখে শান্তির এক অটল উচ্চারণ।

গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা হামলায় গোটা অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। নয়টি দেশ এবং সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী এখন অনিশ্চয়তার নামান্তর।

এই ভয়াল পরিস্থিতিতে স্পেনের অবস্থান স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং—সবচেয়ে বড় কথা—ঐতিহাসিকভাবে সংগতিপূর্ণ।

২০০৩ সালের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি নয়

সানচেজ তাঁর বিবৃতিতে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব ও তাদের সঙ্গীদের। আজোরেস ত্রয়ী (বুশ, ব্লেয়ার, আজনার) নামে পরিচিত এই নেতারা যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? ইরাকে শান্তি আসেনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়া আইএস-এর। ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে, শরণার্থী সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে।

“সেই যুদ্ধ তাত্ত্বিকভাবে সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করতে, গণতন্ত্র আনতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছিল,” স্মরণ করিয়ে দেন সানচেজ। “কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দিয়েছে—বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।”

আজকের যুদ্ধের শুরুটাও কি একই পথে হাঁটছে না? অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

চারটি ‘না’ এবং একটি ‘দাবি’

সানচেজের বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারটি স্পষ্ট প্রত্যয়:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ। যারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। এক অবৈধতার জবাবে আরেক অবৈধতা দেওয়া যায় না—এটাই সভ্যতার মৌলিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত, বোমার জোরে সমস্যা সমাধানের মায়া প্রত্যাখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ কখনো প্রকৃত সমাধান আনে না; এটি কেবল পুরোনো সমস্যার সাথে নতুন সমস্যা যুক্ত করে।

তৃতীয়ত, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করা। ২০০৩-এ যে ভুল আমরা করেছি, ২০২৬-এ কেন সেই একই পথে হাঁটব?

চতুর্থত, যুদ্ধের সামগ্রিক প্রত্যাখ্যান—’না টু ওয়ার’।

শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, সানচেজ এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে তিনি এই দাবি জানানোর অধিকার রাখেন। কারণ এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি স্পেনেরও, ইউরোপেরও, গোটা বিশ্বেরও।

স্পেনের অবস্থান: সহমর্মিতা ও বাস্তব পদক্ষেপ

শুধু বক্তৃতা নয়, স্পেন বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছে। বিবৃতিতে সানচেজ চারটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:

এক. মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া স্পেনীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। আকাশপথ বিপজ্জনক হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দুই. এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত করছে সরকার। অতীতের অর্থনৈতিক সংকটে যেমনটা করেছে, তেমনই সমাজসেবী সংস্থাগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করবে স্পেন।

তিন. এই অঞ্চলের শান্তিকামী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ইউক্রেন, ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলগুলোতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে যাবে। সানচেজের ভাষায়, “আমাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান দাবি করতে হবে—অতিরিক্ত দেরি হওয়ার আগেই।”

ইতিহাসের শিক্ষা: সারায়েভো থেকে হরমুজ

বিবৃতির সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক অংশটি সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উল্লেখ। ১৯১৪ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কীভাবে মহাযুদ্ধ শুরু হলো, তিনি নাকি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “যদি আমি জানতাম!”

সানচেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অধিকাংশ মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অপ্রত্যাশিত ঘটনার শৃঙ্খল থেকে। এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই ঘটতে পারে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে

সমালোচকরা হয়তো বলবেন, ইরানের আয়াতুল্লাহদের শাসনের পক্ষে স্পেন? সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের শাসনের পক্ষে কেউ নয়—স্পেনীয় জনগণ certainly নয়, স্পেন সরকার certainly নয়।” প্রশ্নটি হলো আমরা আয়াতুল্লাহদের সমর্থন করছি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি?

ইরাকে সাদ্দামের স্বৈরাচারকে স্পেনীয় সমাজ ঘৃণা করত, কিন্তু ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ সেটি ছিল অবৈধ, অন্যায় এবং সমস্যার সমাধান না এনে বরং নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, আমরা ইরানের নারী-পুরুষ নির্যাতনকারী শাসনকে ঘৃণা করি, কিন্তু একইসাথে এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করি।

স্পেন একা নয়

কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, শান্তির এই ডাকে স্পেন নিঃসঙ্গ। সানচেজের জবাব স্পষ্ট: “স্পেন সরকার তাদের সাথে আছে যাদের সাথে থাকা উচিত। এটি আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধের সাথে আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানিক নীতির সাথে আছে, জাতিসংঘ সনদের সাথে আছে।”

আমরাও আছি অসংখ্য সরকারের সাথে যারা আমাদের মত চিন্তা করে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সাথে যারা আরও যুদ্ধ নয়—আরও শান্তি ও সমৃদ্ধি চান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: দূরের আগুন কাছের শঙ্কা

বাংলাদেশের পাঠকদের মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন আমাদেরও দোরগোড়ায় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে ধস, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া—এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। ১৯৭১-এ আমাদের নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান আজও আমরা মনে রেখেছি। তাই অন্য জাতির যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নীরব থাকার বিলাসিতা আমাদের নেই।

পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান শুধু একটি দেশের সরকারি বক্তব্য নয়; এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর। একটি স্পষ্ট বার্তা যে যুদ্ধ কখনো সমাধান নিয়ে আসে না, বরং এটি মানবতার জন্য অভিশাপ। বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও যদি এই পথে হাঁটেন, তবেই সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যের ধোঁয়াশা কাটিয়ে ওঠা।

]]>
https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/feed/ 0 2289
চীনকে সমর্থনের প্রতিদান, অন্য দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ চীনের জন্য খোলা https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/ https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/#respond Wed, 04 Mar 2026 13:09:30 +0000 https://banglakal.com/?p=2281
chinses ship on straight of hormuz source x.com chinanow24

চিন সংবাদ মাধ্যম, চাইনা নউ ২৪ থেকে প্রতিবেদনঃ

ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে শুধুমাত্র চীনের জাহাজগুলিকে যেতে দেবে, যুদ্ধের সময় বেইজিংয়ের সমর্থনমূলক অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অন্যান্য সমস্ত দেশের জাহাজের জন্য এই জলপথ বন্ধ থাকবে, এবং ইরানি বাহিনী অনুমোদিত নয় এমন যেকোনো জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ স্ট্রেইট অফ হরমুজ বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায়, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২০% ।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। চীন, যারা ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, তাদের তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকবে, কিন্তু অন্যান্য দেশগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে ।

ইরানের এই ঘোষণার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলি তাদের নৌবাহিনীকে এই অঞ্চলে পাঠানোর বিবেচনা করছে, যাতে তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকে ।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কি মতামত? ইরানের এই পদক্ষেপ কি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে?

]]>
https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/feed/ 0 2281
যুদ্ধের ঢেউ কি পৌঁছে গেল ভারত মহাসাগরে! শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া: সাবমেরিন হামলার অভিযোগে ঘনীভূত রহস্য https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/ https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/#respond Wed, 04 Mar 2026 10:14:29 +0000 https://banglakal.com/?p=2269 রয়টার্সের প্রতিবেদন । ৪ মার্চ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারত মহাসাগরে ঘটল এক নাটকীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে বিপদসংকেত পাঠায়। দুপুরের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনাটি শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—বরং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের পরিধি কতদূর বিস্তৃত হয়েছে, তার এক গভীর ইঙ্গিত বহন করছে।

শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডুবতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Vijitha Herath পার্লামেন্টে জানান, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গলের Karapitiya Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

কিন্তু এখনো ১০১ জন নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জাহাজটি কি চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল?

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক তৎপরতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। বিরোধী সাংসদরা পার্লামেন্টে সরাসরি জানতে চান, জাহাজটি কি সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে?

কিন্তু শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি। সরকারি নীরবতা কূটনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। এই নীরবতা কি কৌশলগত? নাকি সত্যিই তথ্যের ঘাটতি?

Islamic Republic of Iran Navy-এর জন্য এই ডুবি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার নৌবাহিনীকে পারস্য উপসাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর পর্যন্ত সক্রিয় রাখতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা উপকূলে এমন একটি জাহাজডুবি ইরানের ‘পাওয়ার প্রজেকশন’-এর উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি হামলার ফল হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে সংঘাতের ভৌগোলিক সীমানা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আর যদি এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনা হয়, তবুও তা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করবে।

ভারত মহাসাগরে অস্থিরতা?

শ্রীলঙ্কা ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপকূলে এমন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ঘটনার সৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভারত মহাসাগর ইতিমধ্যেই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সেখানে ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবে যাওয়া নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের বাইরে, এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো মানবিক ক্ষয়ক্ষতি। ১০১ জন নাবিকের ভাগ্য এখনো অজানা। তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তা এক অসহনীয় অপেক্ষা।

শ্রীলঙ্কা উপকূলে IRIS Dena-র ডুবি কেবল একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—এটি বর্তমান সংঘাতের বিস্তার, কৌশলগত বার্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের অংশ।

সরকারি নীরবতা যত দীর্ঘ হবে, ততই জল্পনা বাড়বে। আর একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধ আর কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ নেই। তার ঢেউ পৌঁছে গেছে ভারত মহাসাগরের গভীরে।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/feed/ 0 2269
তেহরান থেকে হরমুজ: লক্ষ্যহীন যুদ্ধ, কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/ https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/#respond Wed, 04 Mar 2026 09:28:26 +0000 https://banglakal.com/?p=2264
হরমুজ প্রণালী

বিশেষ প্রতিবেদন |ওয়াসিম আক্রাম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন কেবল আগুনের রেখা। চতুর্থ দিনে পা দিতেই স্পষ্ট— এই সংঘাত সাময়িক সীমিত আঘাতের পর্যায়ে নেই। Donald Trump প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের হৃদয়ভূমি Tehran-এ সরাসরি আঘাত হানছে। যে শহরকে “মুক্ত” করার রাজনৈতিক ভাষ্য শোনা গিয়েছিল, সেই শহরেই এখন ভারী বোমাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপ, আর লাশের সারি।

অন্যদিকে, নেতৃত্বে গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও ইরান পিছু হটার লক্ষণ দেখায়নি। পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে Tel Aviv, Haifa ও Jerusalem-এর দিকে। সংঘাতের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে।

এই যুদ্ধ এখন কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়— এটি লক্ষ্য-অস্পষ্টতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক জোটরাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে জর্জরিত এক জটিল ভূরাজনৈতিক সংকট।

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধের নীরব মূল্য

ইরানি সূত্রের দাবি, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই প্রক্রিয়া চললেও ঘটনাটি জনমতকে নাড়া দিয়েছে। তেহরানের রাস্তায় মানুষ নেমেছে— সরকারের সমর্থনে নয়, বরং নিহত শিশুদের জন্য শোক প্রকাশ করতে।

২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত সমুদ্রপথের কাছে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ঘটনাস্থল ছিল [স্ক্রিন গ্র্যাব/এএফপির মাধ্যমে আইআরআইবি টিভি]
২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত সমুদ্রপথের কাছে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ঘটনাস্থল ছিল [স্ক্রিন গ্র্যাব/এএফপির মাধ্যমে আইআরআইবি টিভি]

মার্কিন পক্ষ থেকেও ছয়জন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে। পাশাপাশি ইরানের ১১টি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। ইরান পাল্টা দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

রিয়াদ ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাতের পর দূতাবাস আংশিক বন্ধ। লক্ষাধিক মার্কিন নাগরিককে অঞ্চল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট— যা প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইরানের আক্রমণের পর দুবাই বিমানবন্দর x.com থেকে নেউয়া ভিডিও

নেতৃত্ব সংকট সত্ত্বেও “মোজাইক ডিফেন্স” এর ফলে যুদ্ধবিরতির জটিলতা

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের আঘাতের পর কমান্ড-চেইন কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে তেহরান তাদের বিকেন্দ্রীভূত “মোজাইক ডিফেন্স” কৌশল সক্রিয় করেছে— যার অর্থ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলেও স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালাতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় বসতে চায়, প্রশ্ন ওঠে— কার সঙ্গে? কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কাঠামো অনিশ্চিত হলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এটি এক ধরনের “এস্কেলেশন ট্র্যাপ”— যেখানে যুদ্ধ থামাতে চাইলেও তা আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিন বদলানো বয়ান

ওয়াশিংটনের সরকারি ব্যাখ্যায় স্পষ্ট ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে:

  • প্রথম দিন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস
  • দ্বিতীয় দিন: শাসন পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  • তৃতীয় দিন: ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা খর্ব করা
  • পরে: আঞ্চলিক আগ্রাসন ঠেকানো
  • সর্বশেষ: “আসন্ন হুমকি” প্রতিরোধে আগাম হামলা

মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে— গোয়েন্দা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? প্রশাসন কি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়েছে? জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য অংশের নাগরিক এই যুদ্ধে অসন্তুষ্ট। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রাজনৈতিক মূল্যও বাড়বে।

ইসরায়েল-ফ্যাক্টর: কৌশলগত প্রভাবের বিতর্ক

এই সংঘাতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ট্রাম্প-সমর্থক মহলের একাংশও প্রশ্ন তুলছেন— “অ্যান্টি-ওয়ার” প্রতিশ্রুতি কি ভেঙে গেল? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কি শুধুমাত্র ইসরায়েলের ইশারাতে এই হামলা করল?

এই বিতর্ক কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।

সৌদি আরব ও উপসাগর: জ্বালানি-রাজনীতির টানাপোড়েন

সৌদি তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রথমে ইরানকে দায়ী করা হলেও পরবর্তীতে বিকল্প তত্ত্ব সামনে আসে। রিয়াদ তদন্ত করছে। ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আঞ্চলিক অবস্থান।

এদিকে হরমুযপ্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস রপ্তানি স্থগিত করেছে। ইউরোপে জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা স্পষ্ট।যদি হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ হয়, তার অভিঘাত কেবল উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না— এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার অর্থনীতিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

রসদের যুদ্ধ: আগে কার অস্ত্র ফুরোবে?

ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত। উপসাগরীয় মিত্রদের মজুদ দ্রুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের কাছে কয়েক মাসের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে।যদি স্থল অভিযান শুরু হয়— বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা লঞ্চ-সাইট ধ্বংস করতে— তবে তা হবে দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল। আফগানিস্তান ও ইরাকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আকাশপথে আধিপত্য স্থাপন করলেই দ্রুত রাজনৈতিক ফল পাওয়া যায় না।

এক্সিট র‍্যাম্প কোথায়?

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে— যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে। অন্যদিকে চীন, ইরানি তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে, প্রকাশ্যে যুদ্ধে না জড়িয়ে হরমুজ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— একটি আহত, ক্ষতবিক্ষত অথচ এখনও প্রতিরোধক্ষম ইরান কেন আলোচনায় বসবে? যতক্ষণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব, ততক্ষণ তাদের কৌশলগত লিভারেজ অক্ষুণ্ণ থাকে।

এই সংঘাত এখন কেবল দুই রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়— এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহৎ শক্তির কৌশলগত বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।লক্ষ্য যদি স্পষ্ট না হয়, কৌশল যদি প্রতিদিন বদলায়, আর মিত্রজোট যদি দ্বিধাগ্রস্ত থাকে— তবে যুদ্ধের সমাপ্তি অনিশ্চিতই থাকে।তেহরান থেকে হরমুজ— আগুনের রেখা এখন বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র ছুঁয়ে ফেলেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই রয়ে যায়,
এই যুদ্ধ কি সীমিত সামরিক অভিযানেই থামবে, নাকি এটি আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেবে— যার মূল্য দেবে গোটা বিশ্ব?

]]>
https://banglakal.com/world/tehran-to-hormuz/feed/ 0 2264
প্রতিশোধের পথে ইরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/ https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/#respond Wed, 04 Mar 2026 08:45:49 +0000 https://banglakal.com/?p=2260 মধ্যপ্রাচ্যে এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার এমন এক সময় চলছে যেখানে আকাশ থেকে মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে। দুবাই হোক বা দোহা—আজকের মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থান শতভাগ নিরাপদ নয়। সামরিক হোক বা বেসামরিক, কেউই নিশ্চিন্ত নয়। ইরান—যা সম্প্রতি তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর গভীর শোকে ডুবে আছে—এখন প্রতিশোধের পথে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ৪০টিরও বেশি কমান্ডার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে। এর ফলে ইরানের নেতৃত্বের বড় অংশ কার্যত ‘ডেক্যাপিটেটেড’ হয়েছে। আগেই তার বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
তবু ইরান হাল ছাড়ছে না। তার বিকেন্দ্রীকৃত “মজাইক প্রতিরক্ষা” কৌশল ও বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে ইরান এখন আক্রমণ চালাচ্ছে—রেড লাইন বা নিয়ম-রেখা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা দেখায় না এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে দ্বিধা করছে না।
অপারেশন নাম: ইরানের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে রিপোর্ট করা হয়েছে “Operation Epic Fury” নামে; এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুকে মধ্যপ্রাচ্যে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো। ইরান সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে অন্য দেশগুলোও ফল ভোগ করবে। ব্রিটেনের সাইপ্রাস ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের সমর্থনের পর ঘটেছে বলে রিপোর্ট।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে ইরান সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত করেছে; এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বাড়ে এবং শেয়ারবাজারে ধাক্কা লাগে। হুথিদের মাধ্যমে সৌদি আরামকোকে লক্ষ্য করার খবরও এসেছে।
আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: দুবাই, ওমানের বাণিজ্যিক বন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে আঘাত করে ইরান গালফের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে চায়।
ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময়; অনুমান করা হয় প্রায় ২,০০০–২,৫০০ কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, রেঞ্জ ২,৫০০ কিমি পর্যন্ত। উন্নত সিস্টেমগুলোর মধ্যে ফাত্তাহ হাইপারসনিক ও খোররমশাহর-৪ উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পুনঃপ্রবেশের সময় ডিকয়-সোয়াম ছাড়ে, যা প্যাট্রিয়ট, থাড ও অ্যারো-৩ মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে। ইরানের ৩১টি স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট নিয়ে গঠিত মজাইক প্রতিরক্ষা নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে আইআরজিসি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

আঞ্চলিক হামলা ও লক্ষ্যবস্তুসমূহ
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল: রেকর্ডিংয়ের সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছিল; জেরুজালেমে বিস্ফোরণের খবর, তেল আবিবে সাইরেন, এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলে রিপোর্ট অনুযায়ী ১০ জন নিহত ও ১০০+ আহত।


বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে বারবার আক্রমণের খবর।
দুবাই—হোটেল ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কুয়েতে সাইরেন চলমান; রিপোর্ট আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
ওমানে দুকুম বাণিজ্যিক বন্দর লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরাকে একটি মার্কিন গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর, ক্ষতি সীমিত।
নৌযান ও বিমান: ইরান দাবি করেছে যে USS Abraham Lincoln এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে; যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে ইরান বলেছে ক্যারিয়ারটি পরে এলাকা থেকে সরে গেছে। একটি আমেরিকান F-15 যুদ্ধবিমান গুলি করে নেমে গেছে—রিপোর্টে বলা হয়েছে সম্ভবত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ফ্রেন্ডলি ফায়ারের কারণে।

Smoke rises in the sky after blasts were heard in Manama, Bahrain, on Saturday, February 28, 2026 [Reuters]
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাহরাইনের মানামাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া উড়ছে [রয়টার্স]

রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ জন আমেরিকান সার্ভিস মেম্বার নিহত; ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি—২০০+ নিহত, যার মধ্যে স্কুলে বোমাবর্ষণে ১৫০+ মেয়ের মৃত্যু বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক। গাঁধী হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবরও এসেছে, ফলে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, ইরাকে ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থানে আঘাত—বিশেষত শিশুদের ওপর আঘাত—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। বহু পরিবার শোকাহত, আহত ও গৃহহীন। চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি।
অর্থনৈতিক প্রভাব: হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। গালফের পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ স্থানীয় অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতি: ইরান একা লড়ছে—কোনো মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশ বা বৈশ্বিক শক্তি প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়নি। তবে ইরানের আক্রমণগুলো গালফের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে দিতে পারে। ইরান মনে করে যুদ্ধবিরতি এখনই মানে পরাজয়; তারা চায় আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হোক।
নিউক্লিয়ার ও গোয়েন্দা প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) বলেছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণের শিকার হয়নি, যা প্রাথমিক হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তৎক্ষণাৎ আক্রমণ করতে যাচ্ছিল না—এটি প্রাক-হামলার যুক্তি চ্যালেঞ্জ করে।


অনেক ইরানী দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট; বিদ্রোহ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাধ্যমে রেজিম পরিবর্তনের আশা করেছিল, কিন্তু খামেনির হত্যার পরে সিস্টেমের কিছু অংশ অভ্যন্তরীণভাবে সংহত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসে ঘটায় তা শিয়া সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি: কাগজে ইরানের জয় অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলো জোরালো হয়ে উঠছে—ইরানের কৌশল কী, কতদিন তারা বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে, এবং এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য কী। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও সামরিক সম্পদ মোতায়েন করে—ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, B-2 স্টেলথ বোমারু, পারমাণবিক সাবমেরিন, ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র—তবে লক্ষ্য প্রদর্শন করা হলেও একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা বাড়ায় ঝুঁকি বাড়ে।

বায়ু হামলা ও কৌশলগত আঘাত দিয়ে রেজিম পরিবর্তন আনা কঠিন; স্থল বাহিনী ছাড়া তা অসম্ভবের কাছাকাছি। স্থল অভিযান মানে ব্যাপক হতাহত ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত—আফগানিস্তানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা।
যুদ্ধটি যদি আরও তীব্র হয়, তা আঞ্চলিক বিস্তার ঘটাতে পারে এবং মানবিক বিপর্যয়কে গভীর করবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি ঘটে, প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবর্তন কোথায় ঘটবে: ইরানে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে; অর্থাৎ এই সংঘাতের রাজনৈতিক ফলাফল কাদের ওপর পড়বে।


এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা মানুষের কষ্ট ও ভয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ইরানের শোক ও প্রতিশোধের অনুভূতিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা যায়, তবু সহিংসতা যত বাড়বে নিরীহ মানুষের কষ্ট ততই বাড়বে। আন্তর্জাতিক সমাজের তাত্ক্ষণিক কর্তব্য হলো কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়—এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। প্রশ্নগুলো এখনো অনুত্তরিত: এই যুদ্ধের শেষ কোথায়, এবং এর মূল্য কে বহন করবে—সামরিক শক্তি নাকি সাধারণ মানুষ।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/feed/ 0 2260
ইরানের স্কুল হামলা: প্রাণ গেল ৮৫ শিক্ষার্থীর, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে চরম হুঁশিয়ারি তেহরানের https://banglakal.com/world/iran-school-attack-alert/ https://banglakal.com/world/iran-school-attack-alert/#respond Sat, 28 Feb 2026 19:10:40 +0000 https://banglakal.com/?p=2252 তেহরান, ১ মার্চ ২০২৬ (সংবাদ প্রতিবেদন): মধ্যপ্রাচ্যে যেন আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, তাতে নিহতের সংখ্যা ৮৫-এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সাথে বেড়েছে উত্তেজনাও। 

This image grab taken from Iranian state television broadcasted on February 28, 2026, show what it says is the site of deadly US and Israeli strikes that hit a girls’ elementary school in Minab, in the southern Iranian province of Hormozgan near the strategic sea route of the Strait of Hormuz. [Screengrab/IRIB TV via AFP]

রক্তাক্ত শনিবার: মিনাব শহরের বেদনা

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারায়ে তাইয়েবে বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আক্রমণের শিকার হয়। শনিবার ইরানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়, বরং কাজের সপ্তাহের প্রথম দিন। তাই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল প্রচুর। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ভেরিফায়েড ভিডিওতে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের দেয়ালে ফুল এঁকে সাজানো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে কালো ধোঁয়া, আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। 

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২৪ থেকে ৪০ জন নিহতের খবর এলেও , ইরানের জরুরি পরিষেবা ও রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে নিহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যায় . সর্বশেষ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী আইআরআইবি-র তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে, যাদের বেশিরভাগই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ছাত্রী। আহত হয়েছে আরও ৯৩ জন।  মিনাবের গভর্নর মোহাম্মদ রাধমেহর জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারে। 

সামরিক ঘাঁটির ২০০ ফুট দূরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি

প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হলো? সিএনএন-এর ভূ-অবস্থান সংক্রান্ত বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়টি মিনাব শহরের একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত। ২০১৬ সালের স্যাটেলাইট চিত্রেও বিদ্যালয় ও ঘাঁটিটির পৃথক অবস্থান দেখা গেছে।  যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, “বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” 

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এই হামলাকে “ইরানি শহরগুলিতে নির্বিচার আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নিরপরাধ তরুণীদের হত্যা করে ইতিহাসের কলঙ্ক হয়ে থাকবে।” 

পাল্টা আক্রমণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ‘সত্য প্রতিশ্রুতি-৪’ অভিযানের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবহরের পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতর, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।  দুবাই ও দোহাসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস “তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি” ও “সংযম” অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।  নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে ইসরাইলের “প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক”-এর দাবিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।  রাশিয়া এই হামলাকে আঞ্চলিক “বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে।  অন্যদিকে, সৌদি আরব ইরানের পাল্টা হামলাকে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। 

তেহরানে থমথমে অবস্থা, বন্ধ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শপিং মলসহ জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  তেহরানের রাজপথে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেকে শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টায় ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়েছেন। 

মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা রক্তমাখা স্কুলব্যাগগুলোর ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে মানবতার বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। এক ভিডিওতে আর্তনাম করে উঠেছেন এক ব্যক্তি, যিনি হয়তো তার সন্তানকে খুঁজছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নির্দোষ শিশুদেরই।

ওয়াসিম আকরামের রিপোর্ট

]]>
https://banglakal.com/world/iran-school-attack-alert/feed/ 0 2252
রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার চেষ্টা: ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর উপর প্রভাব https://banglakal.com/world/attempt-to-completely-ban-whatsapp-in-russia-impact-on-over-100-million-users/ https://banglakal.com/world/attempt-to-completely-ban-whatsapp-in-russia-impact-on-over-100-million-users/#respond Thu, 12 Feb 2026 05:17:33 +0000 https://banglakal.com/?p=2075 মস্কো, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: রাশিয়ান সরকার বুধবার মেটা-মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করার চেষ্টা চালিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থিত একটি অ্যাপে স্থানান্তরিত করা, যা সমালোচকদের মতে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই ব্লকের ফলে দেশের ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত ও নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, যা নিরাপত্তার দিক থেকে পিছিয়ে যাওয়ার মতো পদক্ষেপ।

হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্ট করে জানিয়েছে, “আজ রাশিয়ান সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে সম্পূর্ণ ব্লক করার চেষ্টা করেছে, যাতে মানুষকে রাষ্ট্রীয় নজরদারি অ্যাপে নিয়ে যাওয়া যায়। ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত ও নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা একটি পশ্চাদমুখী পদক্ষেপ, যা রাশিয়ার মানুষের নিরাপত্তা কমিয়ে দেবে। আমরা ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত রাখার জন্য সবকিছু করছি।” এই পোস্টে রুশ ভাষায়ও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।রাশিয়ান ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসকমনাডজর (Roskomnadzor) হোয়াটসঅ্যাপকে তাদের অফিসিয়াল ইন্টারনেট রেজিস্ট্রি থেকে সরিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অ্যাপটি দেশে অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে পড়েছে—ভিপিএন ছাড়া। এর আগে গত গ্রীষ্ম থেকেই হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, বিশেষ করে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে। ডিসেম্বরের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের গতি ৭০-৮০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ দেশীয় ‘সুপার অ্যাপ’ MAX-কে প্রচার করছে, যা চীনের WeChat-এর মতো মডেলে তৈরি। সমালোচকরা দাবি করেছেন যে এই অ্যাপে এনক্রিপশনের অভাব রয়েছে এবং এটি ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই পদক্ষেপ রাশিয়ার ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নীতির অংশ, যার অধীনে বিদেশি টেক কোম্পানিগুলিকে রুশ আইন মেনে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে। মেটার রাশিয়ায় কোনও প্রতিনিধি অফিস নেই এবং অবৈধ কনটেন্ট না সরানোর জন্য জরিমানা দেওয়া হয়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তাসকে বলেছেন, “এটি আইন মেনে চলার প্রশ্ন। মেটা যদি রুশ আইন মেনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপে আসে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় কোনও সম্ভাবনা নেই।”এই ঘটনা রাশিয়ার বিদেশি মেসেজিং অ্যাপের উপর ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা। এর আগে টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

]]>
https://banglakal.com/world/attempt-to-completely-ban-whatsapp-in-russia-impact-on-over-100-million-users/feed/ 0 2075
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের খোলা চিঠি: নির্বাচনের আগে ড. ইউনূসের কাছে মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/ https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/#respond Wed, 11 Feb 2026 18:27:59 +0000 https://banglakal.com/?p=2072 ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করেছে। এই চিঠিতে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনকালীন সময়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। সকল বাংলাদেশি নাগরিক যাতে নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে—সেটি নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আন্তরিক নেতৃত্ব দেখাতে হবে। বিশেষ করে জীবনের অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ যেন শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করার জন্য জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় না পায়—এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বারবার ঘটছে। এসব বিষয়কে সংস্থাটি ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে অ্যামনেস্টির এই খোলা চিঠি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলেও অভিহিত করেছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই চিঠি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার রক্ষা কোনো বিকল্প নয়—এটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

]]>
https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/feed/ 0 2072
নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা: ওআইসি’র নিন্দা ও সংহতি প্রকাশ https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/ https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/#respond Thu, 05 Feb 2026 12:26:16 +0000 https://banglakal.com/?p=1928 কলকাতা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা (Kwara) রাজ্য এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাৎসিনা (Katsina) রাজ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (Organization of Islamic Cooperation – OIC)।

ওআইসি’র মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (Hissein Brahim Taha) এক বিবৃতিতে এই হামলাকে “জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রেড ক্রস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোয়ারা রাজ্যের ওরো (Woro) ও নুকু (Nuku) গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের বেঁধে ফেলে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে এবং অনেককে আগুনে পুড়িয়ে মারে। বাড়িঘর, দোকান ও রাজপ্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই হামলায় অন্তত ১৬২ থেকে ১৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে কাৎসিনা রাজ্যের ডোমা (Doma) এলাকায় আরেকটি হামলায় ২১ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এর কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় কর্মকর্তা ও গভর্নর আব্দুলরহমান আব্দুলরাজাক এই হামলাকে “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দুর্বলতার প্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত লাকুরাওয়া (Lakurawa) গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকতে পারে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলা হয়েছে বোকো হারাম জড়িত থাকতে পারে।

এই ঘটনার পর ওআইসি’র অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে @OIC_OCI প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“আমরা নাইজেরিয়ার কোয়ারা ও কাৎসিনা রাজ্যে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। ওআইসি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম, আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং স্থানীয় সশস্ত্র ব্যান্ডিট গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের হামলা, অপহরণ ও লুণ্ঠন নিয়মিত ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রতিশোধমূলক হামলার সংখ্যা বেড়েছে।

]]>
https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/feed/ 0 1928
কাঠমান্ডু থেকে ইস্তাম্বুলগামী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে ইঞ্জিন আগুনের সতর্কতা, কলকাতায় জরুরি অবতরণ https://banglakal.com/state/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%81-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%81/ https://banglakal.com/state/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%81-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%81/#respond Wed, 04 Feb 2026 13:43:05 +0000 https://banglakal.com/?p=1916 কলকাতা, ৪ ফেব্রুয়ারি: নেপালের কাঠমান্ডু থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে উড়ে যাওয়া তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ইঞ্জিনে আগুনের সতর্কতা দেখা যাওয়ায় বিমানটিকে ভারতের কলকাতায় জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ২২৫-এরও বেশি যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা সকলে নিরাপদে রয়েছেন, কোনও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিমানটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ মডেলের, যা ২০১৬ সালে নির্মিত। এই ঘটনা আধুনিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে, যেখানে পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

english.pardafas.com ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা অনুসারে, তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর টিকে৭২৭ বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১:২৮ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের মাত্র চার মিনিট পরই বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিনে আগুনের সতর্কতা দেখা যায়। পাইলটরা তৎক্ষণাত্‌ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানান এবং বিমানটিকে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ডান ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন। এরপর বিমানটিকে পশ্চিম আকাশে প্রায় ১০-১২ মিনিট ধরে ঘুরিয়ে রাখা হয়, যাতে জ্বালানি কমানো যায় এবং জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (সিএএএন) জানিয়েছে, বিমানটি কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় দুপুর ৩:০৩ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানটি একমাত্র বামদিকের ইঞ্জিনের সাহায্যে ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে, যা বিমানের নকশা এবং পাইলটদের দক্ষতার প্রমাণ।


এই ঘটনায় নিরাপত্তা প্রোটোকলের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক বিমানগুলিতে ইঞ্জিন ফেলিওরের ক্ষেত্রে একাধিক সতর্কতা ব্যবস্থা থাকে, যা পাইলটদের সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে, পাইলটরা ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করে বিমানটিকে কলকাতায় ডাইভার্ট করেন, যেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিত্সা দল প্রস্তুত রেখেছিল। অবতরণের পর বিমানটির একটি বিস্তারিত পরীক্ষা চলছে, যাতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণ চিহ্নিত করা যায়। তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

নেপালের বিমানবন্দর কর্মকর্তা টেক নাথ সিতৌলা জানান, বিমানটির উড্ডয়নের সময় কোনও সমস্যা ছিল না, কিন্তু আগুনের সতর্কতা উড্ডয়নের পর দেখা যায়।
এই ঘটনা বিমান চলাচলের ঝুঁকি এবং সেগুলি মোকাবিলার উপায়গুলিকে সামনে তুলে ধরেছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশে ইঞ্জিন ফেলিওরের ঘটনা ঘটেছে, যেমন ২০২৫ সালে ঢাকায় একটি তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে পাখির ধাক্কায় ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা। তবে এই ক্ষেত্রে কোনও পাখির ধাক্কার খবর নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের উন্নতির ফলে এমন ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা খুব কম। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে কিছু আতঙ্ক দেখা গেলেও, পাইলটদের শান্ততা এবং দক্ষতার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর যাত্রীদের নিরাপদে নামানো হয়েছে এবং তাদের জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, যা বিশ্বের অন্যতম বড় এয়ারলাইন, এই ঘটনায় কোনও বিলম্ব না করে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়।এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিমান চলাচল যতটা সুবিধাজনক, ততটাই নিরাপত্তা-নির্ভর। নেপাল এবং ভারতের বিমান কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ফলে এই ঘটনা সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়।

যাত্রীদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু পাইলটরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন।” এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমান সংস্থাগুলিকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিমানটির পরবর্তী যাত্রা কখন শুরু হবে, তা এখনও জানা যায়নি, কিন্তু তদন্তের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের মতো বড় সংস্থাগুলি সাধারণত উচ্চমানের রক্ষণাবেক্ষণ করে, তবু যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটতে পারে। এই ক্ষেত্রে, একক ইঞ্জিনে অবতরণ সফল হওয়ায় বিমানের ডিজাইনের প্রশংসা করা হচ্ছে। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথ তদন্ত করবে। কলকাতা বিমানবন্দরে এমন ডাইভারশনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব। যাত্রীদের জন্য এই ঘটনা একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হলেও, এটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি প্রদর্শন করে।

]]>
https://banglakal.com/state/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%81-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%81/feed/ 0 1916