বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 22 Jul 2026 10:58:04 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ‘নিট’ বাতিল করার জোরালো দাবি: রাহুল গান্ধীর আটককে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন টিভিকে প্রধান বিজয় https://banglakal.com/nation/must-be-abolished-tvks-vijay-backs-neet-protests-condemns-rahuls-detention/ https://banglakal.com/nation/must-be-abolished-tvks-vijay-backs-neet-protests-condemns-rahuls-detention/#respond Wed, 22 Jul 2026 12:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2975 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় যোগ্যতা অর্জনকারী প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-র অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (TVK)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়। বুধবার এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর দল শুরু থেকেই নিট পরীক্ষার সম্পূর্ণ বিলোপ সাধনের দাবিতে অনড়।

দিল্লিতে নিট অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত ইস্যুতে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সমর্থনে পথে নেমেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতৃত্ব। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে স্থানান্তরিত করায় গোটা ঘটনাকে চরম ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং কেন্দ্রের দমনমূলক নীতি বলে তোপ দেগেছেন বিজয়। তিনি উল্লেখ করেন, দিল্লি ও সংসদ চত্বরে গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। দিল্লিতে আন্দোলনরত নেতাদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তা দেশের মৌলিক রাজনৈতিক পরিবেশের পরিপন্থী। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ চত্বরে আয়োজিত বিরোধীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন টিভিকে সুপ্রিমো।

নিট পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বিজয জানান, চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির জন্য এই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ও তাঁদের পরিবারের ওপর সীমাহীন মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ব্যবস্থা ব্যবচ্ছেদ করে তিনি বলেন, কেবল সাময়িক সংস্কার বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। নিট পরীক্ষা চিরতরে বাতিল করাই একমাত্র স্থায়ী উপায়। নির্বাচনী সুবিধা পেতে বা ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি’ করতে টিভিকে কখনো জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রস্তাব পেশ করেন বিজয়। তিনি যুক্তি দেখান যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকা (Concurrent List) থেকে শিক্ষা খাতকে পুনরায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য তালিকায় (State List) ফিরিয়ে আনা উচিত। এতে রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের শিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। আর যদি এই পদক্ষেপে কোনও আইনি বা সাংবিধানিক জটিলতা থাকে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি ‘বিশেষ যৌথ তালিকা’ (Special Concurrent List) তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে রাজ্যগুলি নিট-এর মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর বাইরে নিজস্ব পদ্ধতি প্রণয়নের অধিকার পায়।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় বলেন, কেন্দ্র সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের আবেগ, অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া। দেশের সর্বভারতীয় স্তরের একাধিক পরীক্ষায় বারবার জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার কারণে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে অবিলম্বে নিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/must-be-abolished-tvks-vijay-backs-neet-protests-condemns-rahuls-detention/feed/ 0 2975
অনলাইন ট্রোলিং ও জাতিবিদ্বেষের শিকার সিজিপি আন্দোলনকারীরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সাধারণ বর্গ’-কে দূরে থাকার হুঁশিয়ারি https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/ https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/#respond Wed, 22 Jul 2026 12:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2962 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সাম্প্রতিক ‘সংসদ চলো’ আন্দোলন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ও কুরুচিকর সাইবার আক্রমণের ঝড় উঠেছে। নজিরবিহীনভাবে ইন্টারনেটের একাংশে জাতিবিদ্বেষী (Casteist) মন্তব্য ছড়িয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত ‘সাধারণ বর্গ’ (General Category)-র মানুষদের এই প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকারও খোলাখুলি বার্তা বা হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে গড়ে ওঠা এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ যখন রাজপথে নজর কাড়ছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণীর নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিষাক্ত মনোভাব ছড়াতে শুরু করেছে। এক্স (পূর্বতন টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের মতো মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের জাতিগত পরিচয় তুলে কুরুচিকর ট্রোলিং করা হচ্ছে। একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন নির্দিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা এবং এতে যোগ দিলে ‘সাধারণ বর্গ’-এর পরীক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, যখন এনটিএ (NTA)-র গাফিলতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে, তখন আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই এই ধরণের জাতিগত বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ বর্গের পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলন দুর্বল করার এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অভিভাবক ও সমাজকর্মীদের একাংশ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ককোরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে দিল্লির জন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ ও ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। দিল্লির সংসদ ভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের শেল প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা সামলাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এই শারীরিক দমনপীড়নের পর এখন ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও আন্দোলনকারীদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য এই ধরণের জাতিগত আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে।

কেবল বাইরের ট্রোলিংই নয়, আন্দোলনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে একাধিক অনভিপ্রেত বিতর্ক। জন্তর মন্তরে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় দলীয় মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় বসে বার্গার খাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিজিপি নেতৃত্ব ঘটনাটিকে ‘সংবেদনহীন’ বলে বর্ণনা করে অবিলম্বে বিজেতা দাহিয়াকে সমস্ত দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে জানিয়েছেন, নানা ধরণের বাধা, পুলিশি অত্যাচার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ঘৃণামূলক প্রচার সত্ত্বেও তাঁদের এই ছাত্র আন্দোলন থামবে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষার স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা আগামী দিনেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে যেভাবে একটি শিক্ষাসংক্রান্ত সামাজিক আন্দোলনকে জাতিগত বিভাজনের রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/feed/ 0 2962
NEET বিতর্ক ও শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজ্যসভা, বেলা ৩টে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/ https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/#respond Wed, 22 Jul 2026 11:15:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2959 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও হইচইয়ের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ ভবন। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চরম বাগযুদ্ধ শুরু হয়। একদিকে কেন্দ্র সরকারের দাবি, তারা নিট সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে অবিলম্বে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজির মুখে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ বাধ্য হয়ে রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর ৩টে পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেন।

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র একাধিক সাংসদ নিট পরীক্ষা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র গাফিলতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হন। বিরোধীদের আপত্তির জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, সরকার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি।

মন্ত্রী রিজিজু রাজ্যসভায় বলেন, “অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে এসেছে যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জড়িয়ে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্যসভায় আলোচনা করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।” তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিরোধীরা হট্টগোল তৈরি করে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করছে এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলি জনগণের সামনে তুলে ধরতে দিচ্ছে না।

একই সুরে সুর মিলিয়ে লোকসভার দলনেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বিরোধী সাংসদদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী জোট দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং সংসদের মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে নিট ইস্যুতে সরকার কোনো আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে না।”

সরকার আলোচনার আশ্বাস দিলেও বিরোধী পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানান, সাধারণ নোটিসে আলোচনা হলে তা দিয়ে এই সমস্যার গুরুত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার নিয়মাবলীর ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে অন্য সমস্ত নির্ধারিত কাজ মুলতুবি রেখে অবিলম্বে নিট পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে হবে।

এর পাশাপাশি, পরীক্ষার দুর্নীতি ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ফেলার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানায় বিরোধী দলগুলি। খাড়গে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রী দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফা দিচ্ছেন এবং ২৬৭ নম্বর ধারায় আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বিরোধীরা তাদের সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

গণ্ডগোল চলাকালীন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ আগের বিভিন্ন নজির তুলে ধরে কক্ষ শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত চার দশকে ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে সভা মুলতুবি রেখে আলোচনার নজির অত্যন্ত বিরল এবং কেবল ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী’ পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

কিন্তু ডেপুটি চেয়ারম্যানের এই ব্যাখ্যার পরেও সন্তুষ্ট হননি বিরোধী সাংসদরা। ওয়েলে নেমে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়লে ডেপুটি চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে বেলা ৩টে পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিট বিতর্ক এবং শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলিতেও সংসদের উভয় কক্ষে শাসক ও বিরোধী তরজা আরও তীব্র রূপ নিতে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/feed/ 0 2959
আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করছে দেশবিরোধী শক্তি! সিজেপি ইস্যুতে অবস্থান বদলাতেই নেটপাড়ায় কটাক্ষের মুখে প্রীতি জিন্টা https://banglakal.com/nation/preity-zinta-blames-anti-national-elements-for-hijacking-student-protest-takes-massive-backlash-online/ https://banglakal.com/nation/preity-zinta-blames-anti-national-elements-for-hijacking-student-protest-takes-massive-backlash-online/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:54:54 +0000 https://banglakal.com/?p=2972 নতুন দিল্লি, ২২ জুলাই: দিল্লির বুকে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল চরমে। এই আবহেই আন্দোলন ঘিরে নিজের অবস্থান একপ্রকার পরিবর্তন করে চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা। সম্প্রতি সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই অবস্থান সামলে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বা ‘অসামাজিক উপাদানে’র প্রবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক নতুন বার্তায় প্রীতি লেখেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কারের দাবি তোলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও, এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেন কোনোভাবেই ‘দেশবিরোধী শক্তি’ দ্বারা অপব্যবহৃত না হয়। আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিনেত্রীর আশঙ্কা, দেশ এবং দেশের বাইরের কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি লেখেন, “অনলাইনে হিংসা ও বিভাজন দেখে মনে হচ্ছে, দেশের ভিতরের ও বাইরের কিছু অশুভ শক্তি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে ওভারটাইম কাজ শুরু করেছে।” একই সঙ্গে তিনি সরকার ও আন্দোলনকারীদের গঠনমূলক আলোচনায় বসে অসামাজিক উপাদানগুলোকে আন্দোলন থেকে ছেঁটে ফেলার আহ্বান জানান।

একদিন আগেই যেখানে প্রীতি জিন্টা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীদের এবং অসুস্থ সোনম ওয়াংচুকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে আচমকা দেশবিরোধী চক্রান্তের তত্ত্ব নিয়ে আসায় নেটিজেনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে এটি শুধুই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করার চেষ্টা।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী সরাসরি কটাক্ষ করে লেখেন, “স্ক্রিপ্ট মিল গয়া হ্যায়” (স্ক্রিপ্ট পেয়ে গেছেন)। তবে অভিনেত্রীও থেমে থাকেননি। ট্রোলের উত্তর দিতে গিয়ে পাল্টা জবাব ফিরিয়ে প্রীতি লেখেন, “স্ক্রিপ্ট সিনেমায় পাওয়া যায়, বাস্তব জীবনে নয়!”

উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে আন্দোলনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর থেকে বিতর্ক আরও বেড়েছে। শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, রিতেশ দেশমুখের মতো বেশ কয়েকজন তারকা আন্দোলনকারীদের সমর্থনে সরব হলেও প্রীতি জিন্টার এই সাম্প্রতিক ‘সতর্ক বার্তা’ নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চার জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার কথা বললেও, প্রীতির এই দ্বিমুখী বার্তা সত্যিই তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, নাকি ওপর মহল থেকে আসা চাপ—তা নিয়েই এখন উত্তাল নেটপাড়া।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/preity-zinta-blames-anti-national-elements-for-hijacking-student-protest-takes-massive-backlash-online/feed/ 0 2972
‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না, ভিডিও দেখায় আগ্রহ নেই’: সিজেআই-এর কঠোর পদক্ষেপে ধাক্কা আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের, সুপ্রিম কোর্টে খারিজ জরুরি শুনানি https://banglakal.com/nation/dont-waste-our-time-we-are-not-interested-in-videos-setback-for-protesting-students-as-cji-refuses-urgent-hearing-in-supreme-court/ https://banglakal.com/nation/dont-waste-our-time-we-are-not-interested-in-videos-setback-for-protesting-students-as-cji-refuses-urgent-hearing-in-supreme-court/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:53:16 +0000 https://banglakal.com/?p=2969 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় রাজধানীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের কথিত তাণ্ডব ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে দায়ের করা মামলায় চরম ধাক্কা খেল আবেদনকারীরা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। আদালতে পেশ করা তথাকথিত পুলিশের বর্বরতামূলক ভিডিও দেখতেও সরাসরি অস্বীকৃতি জানান প্রধান বিচারপতি। বিচারপতির মন্তব্য, “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না, আপনার নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না। আমরা কোনও ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই এবং সেগুলির জন্য আমাদের হাতে সময় নেই।”

বুধবার সকালে দেশের শীর্ষ আদালতের কাজ শুরু হতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনকে নিয়ে গঠিত তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন এক আইনজীবী। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতকে আর্জি জানান, গত ২০ জুলাই দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত হাজার হাজার পড়ুয়ার ওপর পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করেছে, তার বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা গ্রহণ করা উচিত।

আইনজীবী সওয়াল করার চেষ্টা করেন যে, ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ব্যানার তলে সমবেত ছাত্ররা জাতীয় গুরুত্ব সম্পন্ন একাধিক দাবি তুলছিল। বিশেষ করে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (NTA) আমূল সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস ধরে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে আইনজীবী তাঁর বক্তব্য শেষ করার আগেই প্রধান বিচারপতি তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।”

আইনজীবী দমে না গিয়ে পুনরায় আদালতকে জানান যে, ঘটনার দিন পুলিশের চরম বলপ্রয়োগ ও ছাত্রদের ওপর আঘাত হানার একাধিক ভিজ্যুয়াল এবং ভিডিও সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। আদালত চাইলে তিনি তা প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে প্রস্তুত। এর জবাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা ভিডিও দেখার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নই। এসব দেখার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। আদালতের মূল্যবান সময় এভাবে নষ্ট করবেন না।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও কড়া মনোভাবের পর তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

চলতি বছরের মে মাসে অপর একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে গড়ে উঠেছিল এই ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। কর্মসংস্থানহীন যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে উচ্চারিত একটি শব্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যে সমাজমাধ্যমে লাখ লাখ অনুগামী লাভ করে সংগঠনটি। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে গত এক মাস ধরে তারা লাগাতার ধর্না আন্দোলন চালিয়ে আসছে। প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশনে অংশ নিয়েছিলেন।

গত সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুর দিনে আন্দোলনকারীরা ‘সংসদ চলো’ অভিযানের ডাক দেয়। অভিযোগ, সংসদ অভিমুখে মিছিল এগোনোর চেষ্টা করতেই দিল্লি পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বহু শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ঠিক একদিন আগেই দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চও একই ধরনের একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকার করেছিল। হাই কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, “আদালতকে এর মধ্যে টানবেন না।” এদিকে এই ঘটনা কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরাও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমেছে।

শীর্ষ আদালত এবং হাই কোর্ট উভয় জায়গাতেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ হওয়ায় এখন নিয়মিত তালিকার মাধ্যমেই এই মামলার আইনি ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তবে বিচার বিভাগের এই কঠোর অবস্থান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আইনি লড়াইয়ে যে একটি বড়সড় সেটব্যাক বা ধাক্কা দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/dont-waste-our-time-we-are-not-interested-in-videos-setback-for-protesting-students-as-cji-refuses-urgent-hearing-in-supreme-court/feed/ 0 2969
‘কথা বলতে চাইলে আমাদের কাছেই আসতে হবে’: বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সিজেপি-র https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/ https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:29:12 +0000 https://banglakal.com/?p=2964 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: এখন আসল প্রশ্ন হল, কার পিঠ দেওয়ালে ঠেকবে বা আগে কে নতি স্বীকার করবে?

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল দেশের ছাত্রসমাজ। রাজপথ কাঁপানো সেই বিক্ষোভের আবহেই স্পষ্ট বার্তা দিল আন্দোলনকারী দল ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হলে এবার উদ্যোগী হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই। আলোচনার রাস্তা খোলা থাকলেও দর কষাকষি বা আপসের কোনো জায়গা রাখা হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রায় দুই মাস আগে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’। কিন্তু নিট পরীক্ষা কেন্দ্রিক কেলেঙ্কারির পর থেকে সেই সংগঠনই এখন প্রতিবাদী ছাত্রদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে। গত দু’দিন আগেই নিট প্রশ্নপত্র কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেয়। রাজধানী দিল্লির বুকে সেই সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। এর পর থেকেই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও সিজেপি নেতৃত্ব তা সহজভাবে নিচ্ছেন না। অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানান, এর আগে জে পি নাড্ডার বাসভবনে বা অন্যান্য বৈঠকে গিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালানো হচ্ছে— এই দ্বিমুখী নীতি আর বরদাস্ত করা হবে না।

তাই সিজেপি-র বার্তা পরিষ্কার: কেন্দ্র যদি সততার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে চায়, তবে তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। শুধু তাই নয়, কোনো বন্ধ দরজার গোপন বৈঠক নয়, যন্তর মন্তরের কাছে কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় এই আলোচনা হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পাশাপাশি অনশনকারী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।

প্রতি বছর দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেন। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সরাসরি লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। কেন্দ্র এখন সিজেপি-র কড়া বার্তার জবাবে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হয় নাকি নিজের অবস্থানে অনড় থাকে, সেটাই দেখার। কিন্তু আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের প্রতিবাদ থামবে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/feed/ 0 2964
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/ https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:20:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2953 কলকাতা, ২২ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসমাবেশ ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ থাকে তুঙ্গে। তবে এ বার সমাবেশের মঞ্চে বক্তাদের তালিকা এবং ভাষণের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবাদ রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশের দৈর্ঘ্য এবং তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাবের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হতেই তোলপাড় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল

ঐতিহাসিক ধর্মতলার মঞ্চে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে। এই বিশেষ দিনে দলের মূল বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সাধারণত তাঁর বক্তব্যের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, মন্ত্রী এবং তরুণ নেতৃত্বের একাংশকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিনের সমাবেশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠলে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে এক প্রকার অসন্তোষ তৈরি হয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ যখন বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারিত সূচি মেনে মূল বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময় এগিয়ে আসছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন অনুযায়ী, প্রধান বক্তার বক্তব্যের আগে অন্যান্য নেতাদের সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় মঞ্চেই তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলের অন্দরের খবর, ভাষণের দৈর্ঘ্য ছোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত আসায় ক্ষোভ গোপন রাখেননি প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের চাপা টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। কল্যাণ ঘনিষ্ঠদের মতে, সাংসদ হিসেবে লোকসভায় এবং জনসভায় দলের হয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। সেখানে শহিদ তর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়াটা তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমোর অনুগামীদের সাফ কথা— ২১ জুলাইয়ের জনসভার মূল আকর্ষণ থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের লাখো সমর্থক মূলত নেত্রীর নির্দেশিকা শুনতেই মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য বক্তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই দস্তুর। সময় ব্যবস্থাপনার সেই তাগিদ থেকেই বক্তব্য সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিবাদের জায়গা নেই।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ আসলে একটা গোষ্ঠীকোন্দলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব যে ক্রমেই বাড়ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশে সেটাই প্রমাণিত।

তবে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল এক বিশাল পরিবার। সেখানে বক্তব্য পেশ বা সময়ের সমন্বয় নিয়ে দু’-একটি অনভিপ্রেত কথা বা ক্ষোভ সাময়িক ঘটনা মাত্র। একুশে জুলাইয়ের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করাই দলের মূল উদ্দেশ্য, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ আগামী দিনে দলীয় সংগঠনে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/feed/ 0 2953
সিজেপির চতুর্থ দাবি: আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যাবে না এফআইআর, হুঁশিয়ারি আশুতোষ রাঙ্কার https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/ https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:05:42 +0000 https://banglakal.com/?p=2950 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের আঁচ ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই আবহেই আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কেন্দ্রের কাছে তাদের দাবির তালিকা আরও বাড়াল। এতদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি থাকলেও, বুধবার আন্দোলন পরিচালনা করা এই ছাত্র সংগঠন তাদের চতুর্থ দাবিটির কথা জনসমক্ষে নিয়ে এল। সংগঠনের মুখাপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত ২০ জুলাইয়ে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কোনও শান্তিকামী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর (FIR) দায়ের করা যাবে না।

সংগঠনের ৩২তম দিনে পদার্পণ করা বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আশঙ্কায় রয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও তাদের নিশানা করা হতে পারে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করছি, কোনও শান্তিকামী আন্দোলনকারীর গায়ে হাত দিতে দেওয়া হবে না। আপনাদের স্পর্শ করার আগে পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করবে।”

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে এই সংগঠনটি। এতদিন পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ছিল মূলত তিনটি মৌলিক দাবির ওপর ভিত্তি করে:

  • জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি,
  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, এবং
  • নিট অনিয়মের জেরে আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবার পিছু ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান।

তবে গত সোমবার সংসদের দিকে মিছিল বা ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ এবং বড় মাপের আটকের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নতুন আইনি সুরক্ষার চতুর্থ দাবিটি সামনে আনা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সিজেপি-র প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে বাসভবনে সাক্ষাৎ করে তাদের লিখিত দাবি সনদ পেশ করেছেন। কিন্তু সেই আলোচনার পরেও ছাত্র সংগঠনটি পিছু হটতে নারাজ। রাঙ্কার দাবি, সরকার ভেবেছিল পুলিশের কঠোর মনোভাব ও তাঁবু খাঁটাতে বাধা দিলেই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলন এখন একশো গুণ বড় আকার ধারণ করেছে। যন্তর মন্তরে ক্রমাগত নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হলেও ছাত্র সংহতি ভেঙে পড়েনি, বরং আন্দোলনকারীদের ভিড় আরও বাড়ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/feed/ 0 2950
জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার নির্দেশে ক্ষুব্ধ থারুর! যোগী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘বিকৃত’ বলে তোপ https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/ https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/#respond Wed, 22 Jul 2026 09:50:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2956 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক আদেশকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ চরমে উঠেছে। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (RDA) এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘বিকৃত ও বিবেকহীন সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে থারুর স্পষ্ট জানান, দেশে শিক্ষার অভাব থাকা সত্ত্বেও চলমান একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করা কোনো যুক্তিযুক্ত বিচার হতে পারে না।

সমাজবাদী পার্টির কারারুদ্ধ নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবনই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ধ্বংসের নোটিস পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) সরব হন থারুর। তিনি লেখেন, “যে রাজ্যে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম অভাব রয়েছে, সেখানে মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বিকৃত মানসিকতার পরিচয়”।

তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ আরও যোগ করেন, “যদি নকশা বা নির্মাণে কোনো আইনি গাফিলতি থেকে থাকে, তবে জরিমানার মতো অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এমনকি প্রয়োজন হলে সরকার এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সচল বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়”।

রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন তৈরি করা হয়েছিল। প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পর এই নির্মাণের ওপর ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, যখন এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন ওই অঞ্চলটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভৌগোলিক ও আইনি একতিয়ারভুক্ত ছিল না। ফলে তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী আরডিএ-র নকশা মঞ্জুরির প্রয়োজন পড়েনি। যদিও প্রশাসন জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ভবনগুলি সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং মোরদাবাদ ডিভিশনাল কমিশনারের আদালতে মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেবল শশী থারুরই নন, এর আগে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা থেকে শুরু করে একাধিক নাগরিক অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরেই একজন নেতার তৈরি করা শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রকে নিশানা বানানো হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোর স্বার্থে প্রশাসনিক এই ‘বুলডোজার নীতি’ অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত বলে মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/feed/ 0 2956
বাঁকিপুর উপনির্বাচনে টাকার পাহাড়! প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে বেনামি সংস্থা ও ফেক অ্যাকাউন্টের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/ https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/#respond Wed, 22 Jul 2026 07:42:11 +0000 https://banglakal.com/?p=2948 পাটনা, ২২ জুলাই: বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার জন সুরাজ পার্টির (JSP) নেতা তথা এই কেন্দ্রের প্রার্থী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী খরচের নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘন এবং বেনামি বা শেল কোম্পানির (Shell companies) মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, বিহার বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি বা মেমোরেন্ডাম জমা দিয়েছে। ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং বট নেটওয়ার্ক (Bot networks) ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার মতো গুরুতর বিষয়গুলিও এই স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজেপির এই শক্তিশালী প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বিহার সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি, বিধায়ক জীবেশ মিশ্র, বিধান পরিষদের চিফ হুইপ জনক রাম, রাজ্য বিজেপির মিডিয়া ইন-চার্জ দানিশ ইকবাল এবং দলের নির্বাচন কমিশন সেলের আহ্বায়ক রাকেশ ঠাকুর। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে নিজেদের অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর, রাজ্য বিজেপির সদর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৈয়দ শাহনওয়াজ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনও ব্যক্তির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক।



সাংবাদিক সম্মেলনে শাহনওয়াজ হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রচার চালানোর জন্য প্রশান্ত কিশোর ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ৪০ লক্ষ টাকার সর্বাধিক সীমার থেকে বহুগুণ বেশি। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, এই বিপুল পরিমাণ খরচের সপক্ষে তাদের কাছে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ (documentary evidence) রয়েছে এবং তা ইতিমধ্যেই কমিশনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি, প্রকৃত নির্বাচনী ব্যয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে। কৃত্রিম জনমত বা ‘আর্টিফিসিয়াল পাবলিক সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করার জন্য ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (influencers) অবৈধভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি নেতাদের আরও দাবি, ‘সিম্পল সেন্স অ্যানালিটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড’ (Simple Sense Analytics Pvt. Ltd.) এবং ‘নিউজ লাইটহাউস এলএলপি’ (News Lighthouse LLP)-র মতো কিছু সংস্থার মাধ্যমে এই গোটা নির্বাচনী প্রচারটি পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলির সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে স্পষ্টত মনে করা হচ্ছে। এই সমগ্র ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি, অর্থের আসল উৎস খুঁজে বের করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।



এই সাংবাদিক সম্মেলনেই বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এমন বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ-সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিহারের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার জন্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করার জন্য এই সমস্ত বিদেশি অ্যাকাউন্টগুলিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফ থেকে এই ধরনের বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিধান পরিষদের চিফ হুইপ জনক রাম জানান, বাঁকিপুরের মানুষ উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষেই নিজেদের রায় দেবেন। বাইরের লোক এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা সাধারণ ভোটাররা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি।


‘ভয়ে কাঁপছে বিজেপি’, পাল্টা তোপ জন সুরাজের
বিজেপির তোলা এই সমস্ত অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি। দলের বিহার রাজ্য সভাপতি মনোজ ভারতী ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “এর আগে বিজেপি কখনও জন সুরাজকে তাদের লড়াইয়ের ময়দানে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি। তারা সবসময় দাবি করত যে তাদের সরাসরি লড়াই শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) সঙ্গে। কিন্তু আজ বিজেপি নেতাদের এই প্রবল উদ্বেগ ও হতাশা এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তাঁরাও মনে মনে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, আসল লড়াইটা জন সুরাজের সঙ্গেই হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কমিশনের কাছে তারা আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ জমা দিয়েছে, তা আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে জানতে চাই। মূলত, বিজেপির এই পুরো আচরণটাই অত্যন্ত শিশুসুলভ। তারা যদি আমাদের তহবিলের উৎস বা ফান্ডিং নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে সবার আগে নিজেদের তহবিলের সম্পূর্ণ হিসেব প্রকাশ্যে আনুক। তারা এই নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত কত টাকা খরচ করেছে, সেই হিসেব আগে দিক।”


### আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে এবার এক হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জন সুরাজ পার্টির হয়ে খোদ প্রশান্ত কিশোর ময়দানে নামায় এই নির্বাচন সর্বভারতীয় স্তরেও নজর কেড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে নীরজ কুমার সিনহাকে। অন্যদিকে, আরজেডি-র টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেখা কুমারী। আগামী ৩০ জুলাই এই কেন্দ্রে বহু প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ৩ আগস্ট ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/mountains-of-money-in-bankipur-byelection-bjp-approaches-election-commission-against-prashant-kishor-alleging-shell-companies-and-fake-accounts/feed/ 0 2948