Arab World – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 01 Jul 2026 06:23:00 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 Arab World – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 “আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি জানতাম না আপনি ফিলিস্তিনি”: দোহায় চুরি যাওয়া ব্যাগ চিরকুটসহ ফেরত দিল চোর, নেটদুনিয়ায় শোরগোল https://banglakal.com/world/forgive-me-i-didnt-know-you-were-palestinian-stolen-bag-returned-with-apology-in-doha/ https://banglakal.com/world/forgive-me-i-didnt-know-you-were-palestinian-stolen-bag-returned-with-apology-in-doha/#respond Wed, 01 Jul 2026 06:22:58 +0000 https://banglakal.com/?p=2508 দোহা (কাতার): অপরাধের জগতেও কি নীতি-আদর্শ বলে কিছু থাকে? নাকি চরম অপরাধের মাঝেও কখনো কখনো জেগে ওঠে মানবিকতা বা কোনো বিশেষ সহানুভূতি? কাতার থেকে আসা এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনা বর্তমান যুগে এই প্রশ্নগুলোকেই আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর চুরি যাওয়া হ্যান্ডব্যাগ সমস্ত টাকাপয়সা ও নথিপত্রসহ অক্ষত অবস্থায় ফেরত দিয়ে গেছে চোর। শুধু ফেরত দেওয়াই নয়, ব্যাগটির সাথে চোর একটি হাতে লেখা ক্ষমাপ্রার্থনার চিরকুটও রেখে গেছে, যা দেখে হতবাক খোদ ভুক্তভোগী নারী এবং স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার বিবরণ ও ব্যাগের সন্ধান

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোহায় বসবাসকারী এক ফিলিস্তিনি নারীর একটি হ্যান্ডব্যাগ সম্প্রতি চুরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাগটি হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুরির ঠিক পরদিন সকালে নিজের বাড়ির দরজার বাইরে ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চমকে ওঠেন।

ব্যাগটি খোলার পর দেখা যায়, ভেতরে থাকা কোনো জিনিসেই হাত দেওয়া হয়নি। ব্যাগের মধ্যে থাকা নগদ ২৭৫ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৩ হাজার টাকা), অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং ওই নারীর চিকিৎসার কিছু জরুরি কাগজপত্র—সবকিছুই একদম ঠিকঠাক ছিল।

মন গলানো সেই চিরকুট

ব্যাগটি অক্ষত পাওয়ার চেয়েও বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছিল ব্যাগের ভেতরে থাকা একটি ছোট্ট চিরকুটে। চোর ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সময় নিজের অপরাধ স্বীকার করে একটি আবেগঘন নোট বা চিরকুট রেখে যায়। তাতে লেখা ছিল: “আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আমি আগে থেকে জানতাম, তবে কোনোদিনও আপনার জিনিস চুরি করতাম না।”

অন্য একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, চিরকুটে লেখা বাক্যটি ছিল কিছুটা এইরকম: “আমাদের ক্ষমা করে দিন। আমরা যদি জানতাম যে আপনি ফিলিস্তিনি, তবে কখনোই আপনার ব্যাগ চুরি করতাম না। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।”

কীভাবে মন বদলাল চোরের?

ধারণা করা হচ্ছে, চুরির পর ব্যাগের ভেতরের নথিপত্র ও চিকিৎসার কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে চোর বা চোর চক্র জানতে পারে যে, ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে ফিলিস্তিনের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত চোরের মনে অপরাধবোধ চাড়া দিয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই বিশেষ সহানুভূতি ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই চোর তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এবং চুরির মাল ফেরত দেওয়ার ঝুঁকি নেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও রসাত্মক আলোচনা

এই অদ্ভুত চুরির ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ব্যাপক ভাইরাল হয়ে গেছে। নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে বেশ কৌতুকপূর্ণ ও চোরের এই আচরণকে ‘আজব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ওই অজ্ঞাতপরিচয় চোরকে রসিকতা করে “নীতিবান চোর” (Thief with principles) বা “বিবেকবান অপরাধী” বলে অভিহিত করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণত চোরেরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই চোরের আবেগ সত্যি অনুকরণীয়। আবার অনেকে বলেছেন, অপরাধ অপরাধই, তবে এই চোরের ভেতরে এখনো যেটুকু মানবিকতা অবশিষ্ট রয়েছে, তা সত্যিই বিরল।

দোহায় ঘটে যাওয়া এই অনন্য ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে কতটা গভীর আবেগ ও সহানুভূতি জড়িয়ে রয়েছে—তা সে কোনো সাধারণ নাগরিকই হোক কিংবা সমাজের চোখে অপরাধী কোনো চোর!

]]>
https://banglakal.com/world/forgive-me-i-didnt-know-you-were-palestinian-stolen-bag-returned-with-apology-in-doha/feed/ 0 2508
যুদ্ধ মানবতার জন্য অভিশাপ’: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালা-পোড়ার মাঝে শান্তির দুর্গ স্পেন https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/ https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/#respond Wed, 04 Mar 2026 17:39:06 +0000 https://banglakal.com/?p=2289 ওয়াসিম আকরাম, সংবাদদাতা, বাংলাকাল

কলকাতা, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমাগত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধ্বসের মুখে, তখন ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো বিবেকের কণ্ঠস্বর। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সরকারি বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধের দানবের মুখে শান্তির এক অটল উচ্চারণ।

গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা হামলায় গোটা অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। নয়টি দেশ এবং সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী এখন অনিশ্চয়তার নামান্তর।

এই ভয়াল পরিস্থিতিতে স্পেনের অবস্থান স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং—সবচেয়ে বড় কথা—ঐতিহাসিকভাবে সংগতিপূর্ণ।

২০০৩ সালের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি নয়

সানচেজ তাঁর বিবৃতিতে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব ও তাদের সঙ্গীদের। আজোরেস ত্রয়ী (বুশ, ব্লেয়ার, আজনার) নামে পরিচিত এই নেতারা যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? ইরাকে শান্তি আসেনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়া আইএস-এর। ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে, শরণার্থী সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে।

“সেই যুদ্ধ তাত্ত্বিকভাবে সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করতে, গণতন্ত্র আনতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছিল,” স্মরণ করিয়ে দেন সানচেজ। “কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দিয়েছে—বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।”

আজকের যুদ্ধের শুরুটাও কি একই পথে হাঁটছে না? অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

চারটি ‘না’ এবং একটি ‘দাবি’

সানচেজের বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারটি স্পষ্ট প্রত্যয়:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ। যারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। এক অবৈধতার জবাবে আরেক অবৈধতা দেওয়া যায় না—এটাই সভ্যতার মৌলিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত, বোমার জোরে সমস্যা সমাধানের মায়া প্রত্যাখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ কখনো প্রকৃত সমাধান আনে না; এটি কেবল পুরোনো সমস্যার সাথে নতুন সমস্যা যুক্ত করে।

তৃতীয়ত, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করা। ২০০৩-এ যে ভুল আমরা করেছি, ২০২৬-এ কেন সেই একই পথে হাঁটব?

চতুর্থত, যুদ্ধের সামগ্রিক প্রত্যাখ্যান—’না টু ওয়ার’।

শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, সানচেজ এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে তিনি এই দাবি জানানোর অধিকার রাখেন। কারণ এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি স্পেনেরও, ইউরোপেরও, গোটা বিশ্বেরও।

স্পেনের অবস্থান: সহমর্মিতা ও বাস্তব পদক্ষেপ

শুধু বক্তৃতা নয়, স্পেন বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছে। বিবৃতিতে সানচেজ চারটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:

এক. মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া স্পেনীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। আকাশপথ বিপজ্জনক হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দুই. এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত করছে সরকার। অতীতের অর্থনৈতিক সংকটে যেমনটা করেছে, তেমনই সমাজসেবী সংস্থাগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করবে স্পেন।

তিন. এই অঞ্চলের শান্তিকামী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ইউক্রেন, ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলগুলোতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে যাবে। সানচেজের ভাষায়, “আমাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান দাবি করতে হবে—অতিরিক্ত দেরি হওয়ার আগেই।”

ইতিহাসের শিক্ষা: সারায়েভো থেকে হরমুজ

বিবৃতির সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক অংশটি সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উল্লেখ। ১৯১৪ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কীভাবে মহাযুদ্ধ শুরু হলো, তিনি নাকি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “যদি আমি জানতাম!”

সানচেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অধিকাংশ মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অপ্রত্যাশিত ঘটনার শৃঙ্খল থেকে। এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই ঘটতে পারে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে

সমালোচকরা হয়তো বলবেন, ইরানের আয়াতুল্লাহদের শাসনের পক্ষে স্পেন? সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের শাসনের পক্ষে কেউ নয়—স্পেনীয় জনগণ certainly নয়, স্পেন সরকার certainly নয়।” প্রশ্নটি হলো আমরা আয়াতুল্লাহদের সমর্থন করছি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি?

ইরাকে সাদ্দামের স্বৈরাচারকে স্পেনীয় সমাজ ঘৃণা করত, কিন্তু ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ সেটি ছিল অবৈধ, অন্যায় এবং সমস্যার সমাধান না এনে বরং নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, আমরা ইরানের নারী-পুরুষ নির্যাতনকারী শাসনকে ঘৃণা করি, কিন্তু একইসাথে এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করি।

স্পেন একা নয়

কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, শান্তির এই ডাকে স্পেন নিঃসঙ্গ। সানচেজের জবাব স্পষ্ট: “স্পেন সরকার তাদের সাথে আছে যাদের সাথে থাকা উচিত। এটি আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধের সাথে আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানিক নীতির সাথে আছে, জাতিসংঘ সনদের সাথে আছে।”

আমরাও আছি অসংখ্য সরকারের সাথে যারা আমাদের মত চিন্তা করে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সাথে যারা আরও যুদ্ধ নয়—আরও শান্তি ও সমৃদ্ধি চান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: দূরের আগুন কাছের শঙ্কা

বাংলাদেশের পাঠকদের মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন আমাদেরও দোরগোড়ায় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে ধস, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া—এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। ১৯৭১-এ আমাদের নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান আজও আমরা মনে রেখেছি। তাই অন্য জাতির যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নীরব থাকার বিলাসিতা আমাদের নেই।

পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান শুধু একটি দেশের সরকারি বক্তব্য নয়; এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর। একটি স্পষ্ট বার্তা যে যুদ্ধ কখনো সমাধান নিয়ে আসে না, বরং এটি মানবতার জন্য অভিশাপ। বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও যদি এই পথে হাঁটেন, তবেই সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যের ধোঁয়াশা কাটিয়ে ওঠা।

]]>
https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/feed/ 0 2289
যুদ্ধের ঢেউ কি পৌঁছে গেল ভারত মহাসাগরে! শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া: সাবমেরিন হামলার অভিযোগে ঘনীভূত রহস্য https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/ https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/#respond Wed, 04 Mar 2026 10:14:29 +0000 https://banglakal.com/?p=2269 রয়টার্সের প্রতিবেদন । ৪ মার্চ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারত মহাসাগরে ঘটল এক নাটকীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে বিপদসংকেত পাঠায়। দুপুরের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনাটি শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—বরং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের পরিধি কতদূর বিস্তৃত হয়েছে, তার এক গভীর ইঙ্গিত বহন করছে।

শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডুবতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Vijitha Herath পার্লামেন্টে জানান, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গলের Karapitiya Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

কিন্তু এখনো ১০১ জন নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জাহাজটি কি চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল?

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক তৎপরতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। বিরোধী সাংসদরা পার্লামেন্টে সরাসরি জানতে চান, জাহাজটি কি সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে?

কিন্তু শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি। সরকারি নীরবতা কূটনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। এই নীরবতা কি কৌশলগত? নাকি সত্যিই তথ্যের ঘাটতি?

Islamic Republic of Iran Navy-এর জন্য এই ডুবি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার নৌবাহিনীকে পারস্য উপসাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর পর্যন্ত সক্রিয় রাখতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা উপকূলে এমন একটি জাহাজডুবি ইরানের ‘পাওয়ার প্রজেকশন’-এর উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি হামলার ফল হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে সংঘাতের ভৌগোলিক সীমানা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আর যদি এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনা হয়, তবুও তা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করবে।

ভারত মহাসাগরে অস্থিরতা?

শ্রীলঙ্কা ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপকূলে এমন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ঘটনার সৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভারত মহাসাগর ইতিমধ্যেই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সেখানে ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবে যাওয়া নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের বাইরে, এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো মানবিক ক্ষয়ক্ষতি। ১০১ জন নাবিকের ভাগ্য এখনো অজানা। তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তা এক অসহনীয় অপেক্ষা।

শ্রীলঙ্কা উপকূলে IRIS Dena-র ডুবি কেবল একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—এটি বর্তমান সংঘাতের বিস্তার, কৌশলগত বার্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের অংশ।

সরকারি নীরবতা যত দীর্ঘ হবে, ততই জল্পনা বাড়বে। আর একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধ আর কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ নেই। তার ঢেউ পৌঁছে গেছে ভারত মহাসাগরের গভীরে।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/feed/ 0 2269
গাজা থেকে কাউকে উৎখাত করা হচ্ছে না: মত বদলালেন ট্রাম্প https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/ https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/#respond Thu, 13 Mar 2025 10:14:52 +0000 https://banglakal.com/?p=347

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশেষে অবস্থান পরিবর্তন করলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, গাজা থেকে কাউকে উৎখাত করা হবে না। বুধবার (১২ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের ঘোষণার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে তিনি গাজা দখলের পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অঞ্চলটিকে মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা (পর্যটন কেন্দ্র) বানানোর কথা বলেছিলেন। গত মাসে গাজা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে।”

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ট্রাম্পের এই প্রস্তাব বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে পড়ে। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন যে, তাদের স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র চলছে। ট্রাম্পের মন্তব্য সেই আশঙ্কাকে আরও উসকে দেয়।

ট্রাম্পের বিতর্কিত পরিকল্পনার পর আরব রাষ্ট্রগুলো হুঁশিয়ারি দেয় যে, এমন কোনো পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এরপরই মিসরের নেতৃত্বে আরব দেশগুলো গাজার পুনর্গঠনের জন্য ৫৩ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যা ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কাজ করবে।

ট্রাম্পের এই নরম অবস্থান কি কূটনৈতিক চাপে নেওয়া কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি তিনি সত্যিই গাজার জনগণকে তাদের ভূমিতে থাকতে দেওয়ার পক্ষে? বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে, কারণ আমেরিকায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ এবং মুসলিম ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সামনের দিনগুলোতে দেখা যাবে, তার নতুন অবস্থান বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না।

]]>
https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/feed/ 0 347