Banglakal – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 04 Mar 2026 18:03:34 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.1 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 Banglakal – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন নীতীশ কুমার? https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/ https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/#respond Wed, 04 Mar 2026 18:02:57 +0000 https://banglakal.com/?p=2295 পাটনা, ৪ মার্চ: বিহারের রাজনৈতিক অন্দরে জোর জল্পনা—দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar কি এবার রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন? নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, ১৬ মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তিনি প্রার্থীপদ দাখিল করতে পারেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সম্ভাব্য শেষ তারিখ ৫ মার্চ।

এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিহারের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী একইসঙ্গে রাজ্য বিধানসভার সদস্য এবং সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য থাকা যায় না। ফলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।

NITISH KUMAR BIHAR CHIEF MINISTER

জেডিইউ-এনডিএ শিবিরে তৎপরতা

বর্তমানে Janata Dal (United)-এর প্রধান হিসেবে নীতীশ কুমার National Democratic Alliance-এর সমর্থনে বিহারে জোট সরকার পরিচালনা করছেন। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট উল্লেখযোগ্য জয় পায়। যদিও নীতীশ কুমার টানা দশমবারের মতো শপথ নেন, তবে আসনসংখ্যার বিচারে Bharatiya Janata Party একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভায় তাঁর সম্ভাব্য গমন জোট রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

উত্তরসূরি কে?

দলীয় সূত্রে আলোচনা চলছে, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু জেডিইউ-র ভেতরে উত্তরাধিকার প্রশ্নে নীরব তৎপরতা স্পষ্ট।

এদিকে রাজ্যসভায় বিহারের পাঁচটি আসন খালি হচ্ছে। জেডিইউ-র দখলে থাকা দুটি আসনের একটি থেকে বর্তমান সাংসদ Ram Nath Thakur-কে তৃতীয়বারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতরত্ন প্রাপ্ত কর্পূরী ঠাকুরের পুত্র।

দিল্লিমুখী নীতীশ—রাজনীতির নতুন অধ্যায়?

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতিতে এক অনিবার্য নাম। জোটবদল, কৌশলী অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। এবার যদি তিনি রাজ্যসভায় যান, তবে তা হবে রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে তাঁর ভূমিকার পুনর্নির্ধারণ।

প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজ্য রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত, নাকি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ? বিজেপির উত্থান ও এনডিএ-র ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে কৌশলগত বলেই মনে করছেন।

সরকারিভাবে এখনো কিছু ঘোষণা না হলেও পাটনার রাজনৈতিক মহল উত্তেজনায় টগবগ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাই স্পষ্ট করে দিতে পারে—বিহারের শীর্ষপদে কি সত্যিই আসছে নতুন মুখ, আর নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রা কি এবার দিল্লিমুখী?

]]>
https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/feed/ 0 2295
যুদ্ধ মানবতার জন্য অভিশাপ’: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালা-পোড়ার মাঝে শান্তির দুর্গ স্পেন https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/ https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/#respond Wed, 04 Mar 2026 17:39:06 +0000 https://banglakal.com/?p=2289 ওয়াসিম আকরাম, সংবাদদাতা, বাংলাকাল

কলকাতা, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমাগত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধ্বসের মুখে, তখন ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো বিবেকের কণ্ঠস্বর। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সরকারি বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধের দানবের মুখে শান্তির এক অটল উচ্চারণ।

গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা হামলায় গোটা অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। নয়টি দেশ এবং সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী এখন অনিশ্চয়তার নামান্তর।

এই ভয়াল পরিস্থিতিতে স্পেনের অবস্থান স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং—সবচেয়ে বড় কথা—ঐতিহাসিকভাবে সংগতিপূর্ণ।

২০০৩ সালের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি নয়

সানচেজ তাঁর বিবৃতিতে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব ও তাদের সঙ্গীদের। আজোরেস ত্রয়ী (বুশ, ব্লেয়ার, আজনার) নামে পরিচিত এই নেতারা যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? ইরাকে শান্তি আসেনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়া আইএস-এর। ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে, শরণার্থী সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে।

“সেই যুদ্ধ তাত্ত্বিকভাবে সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করতে, গণতন্ত্র আনতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছিল,” স্মরণ করিয়ে দেন সানচেজ। “কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দিয়েছে—বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।”

আজকের যুদ্ধের শুরুটাও কি একই পথে হাঁটছে না? অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

চারটি ‘না’ এবং একটি ‘দাবি’

সানচেজের বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারটি স্পষ্ট প্রত্যয়:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ। যারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। এক অবৈধতার জবাবে আরেক অবৈধতা দেওয়া যায় না—এটাই সভ্যতার মৌলিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত, বোমার জোরে সমস্যা সমাধানের মায়া প্রত্যাখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ কখনো প্রকৃত সমাধান আনে না; এটি কেবল পুরোনো সমস্যার সাথে নতুন সমস্যা যুক্ত করে।

তৃতীয়ত, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করা। ২০০৩-এ যে ভুল আমরা করেছি, ২০২৬-এ কেন সেই একই পথে হাঁটব?

চতুর্থত, যুদ্ধের সামগ্রিক প্রত্যাখ্যান—’না টু ওয়ার’।

শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, সানচেজ এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে তিনি এই দাবি জানানোর অধিকার রাখেন। কারণ এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি স্পেনেরও, ইউরোপেরও, গোটা বিশ্বেরও।

স্পেনের অবস্থান: সহমর্মিতা ও বাস্তব পদক্ষেপ

শুধু বক্তৃতা নয়, স্পেন বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছে। বিবৃতিতে সানচেজ চারটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:

এক. মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া স্পেনীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। আকাশপথ বিপজ্জনক হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দুই. এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত করছে সরকার। অতীতের অর্থনৈতিক সংকটে যেমনটা করেছে, তেমনই সমাজসেবী সংস্থাগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করবে স্পেন।

তিন. এই অঞ্চলের শান্তিকামী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ইউক্রেন, ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলগুলোতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে যাবে। সানচেজের ভাষায়, “আমাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান দাবি করতে হবে—অতিরিক্ত দেরি হওয়ার আগেই।”

ইতিহাসের শিক্ষা: সারায়েভো থেকে হরমুজ

বিবৃতির সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক অংশটি সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উল্লেখ। ১৯১৪ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কীভাবে মহাযুদ্ধ শুরু হলো, তিনি নাকি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “যদি আমি জানতাম!”

সানচেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অধিকাংশ মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অপ্রত্যাশিত ঘটনার শৃঙ্খল থেকে। এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই ঘটতে পারে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে

সমালোচকরা হয়তো বলবেন, ইরানের আয়াতুল্লাহদের শাসনের পক্ষে স্পেন? সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের শাসনের পক্ষে কেউ নয়—স্পেনীয় জনগণ certainly নয়, স্পেন সরকার certainly নয়।” প্রশ্নটি হলো আমরা আয়াতুল্লাহদের সমর্থন করছি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি?

ইরাকে সাদ্দামের স্বৈরাচারকে স্পেনীয় সমাজ ঘৃণা করত, কিন্তু ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ সেটি ছিল অবৈধ, অন্যায় এবং সমস্যার সমাধান না এনে বরং নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, আমরা ইরানের নারী-পুরুষ নির্যাতনকারী শাসনকে ঘৃণা করি, কিন্তু একইসাথে এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করি।

স্পেন একা নয়

কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, শান্তির এই ডাকে স্পেন নিঃসঙ্গ। সানচেজের জবাব স্পষ্ট: “স্পেন সরকার তাদের সাথে আছে যাদের সাথে থাকা উচিত। এটি আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধের সাথে আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানিক নীতির সাথে আছে, জাতিসংঘ সনদের সাথে আছে।”

আমরাও আছি অসংখ্য সরকারের সাথে যারা আমাদের মত চিন্তা করে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সাথে যারা আরও যুদ্ধ নয়—আরও শান্তি ও সমৃদ্ধি চান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: দূরের আগুন কাছের শঙ্কা

বাংলাদেশের পাঠকদের মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন আমাদেরও দোরগোড়ায় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে ধস, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া—এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। ১৯৭১-এ আমাদের নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান আজও আমরা মনে রেখেছি। তাই অন্য জাতির যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নীরব থাকার বিলাসিতা আমাদের নেই।

পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান শুধু একটি দেশের সরকারি বক্তব্য নয়; এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর। একটি স্পষ্ট বার্তা যে যুদ্ধ কখনো সমাধান নিয়ে আসে না, বরং এটি মানবতার জন্য অভিশাপ। বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও যদি এই পথে হাঁটেন, তবেই সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যের ধোঁয়াশা কাটিয়ে ওঠা।

]]>
https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/feed/ 0 2289
চীনকে সমর্থনের প্রতিদান, অন্য দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ চীনের জন্য খোলা https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/ https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/#respond Wed, 04 Mar 2026 13:09:30 +0000 https://banglakal.com/?p=2281
chinses ship on straight of hormuz source x.com chinanow24

চিন সংবাদ মাধ্যম, চাইনা নউ ২৪ থেকে প্রতিবেদনঃ

ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে শুধুমাত্র চীনের জাহাজগুলিকে যেতে দেবে, যুদ্ধের সময় বেইজিংয়ের সমর্থনমূলক অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অন্যান্য সমস্ত দেশের জাহাজের জন্য এই জলপথ বন্ধ থাকবে, এবং ইরানি বাহিনী অনুমোদিত নয় এমন যেকোনো জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ স্ট্রেইট অফ হরমুজ বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায়, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২০% ।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। চীন, যারা ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, তাদের তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকবে, কিন্তু অন্যান্য দেশগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে ।

ইরানের এই ঘোষণার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলি তাদের নৌবাহিনীকে এই অঞ্চলে পাঠানোর বিবেচনা করছে, যাতে তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকে ।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কি মতামত? ইরানের এই পদক্ষেপ কি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে?

]]>
https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/feed/ 0 2281
ভিড় নেই ফাঁকা চেয়ার! চৈতন্যের জন্মভূমিতে নাড্ডার পরিবর্তনযাত্রার উদ্বোধনেই থুবড়ে গেল মুখ বিজেপির https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/ https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/#respond Wed, 04 Mar 2026 11:48:42 +0000 https://banglakal.com/?p=2272
দিগনগরে পরিবর্তন যাত্রাতে খালি চেয়ার , ওয়াসিম আক্রামের তোলা চিত্র

কৃষ্ণনগর । ওয়াসিম আকরাম। ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধনী কর্মসূচি। জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে পতাকা নেড়ে সূচনা করেন এই যাত্রার। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, অমিত মাল্ব্যা সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তবে প্রত্যাশিত জনসমাগমের অভাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ফাঁকা চেয়ার ও রাজনৈতিক বার্তা

অনুষ্ঠানস্থলে বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল না। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও দাবি করেছে, এটি ছিল সাংগঠনিক সূচনা এবং বুথস্তরের কর্মীদের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া। শুরুতে জনগণের ভিড় থাকলেও নাড্ডার হিন্দিতে বক্তব্য শুরু হতেই জনগণ বেরোতে চালু করেদেই। কিন্তু বিরোধীরা একে “মাঠের বাস্তবতা” বলেই ব্যাখ্যা করছে।

video by Wasim Akram

SIR 2026 ও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ

এই কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। ‘SIR 2026’ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বহু হিন্দু ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন উপস্থিত কিছু মানুষ। তাঁদের দাবি, সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছিল বুথস্তরের কর্মীদের মারফতে।

কয়েকজন অভিযোগ করেন, “গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণেই আমাদের নাম কাটা হয়েছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি নথি বা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে আসেনি, তবু ঘটনাস্থলে এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, আর তারই জেরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংগঠনের চ্যালেঞ্জ না কি রাজনৈতিক অসন্তোষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষ যদি বাস্তবেই বড় আকার নেয়, তবে তা নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধনী দিনের চিত্র তাই দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—একদিকে ফাঁকা আসনের ছবি, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভের দাবি। বিজেপি নেতৃত্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ, এই অভিযোগগুলির যথাযথ উত্তর দেওয়া এবং মাঠের সমর্থন পুনর্গঠনের পথ খোঁজা।

রাজনীতির ময়দানে জনসমর্থনই শেষ কথা। সেই সমর্থন কতটা বাস্তব এবং কতটা প্রতীকী—তারই পরীক্ষার সূচনা যেন হয়ে গেল এই ‘ফাঁকা আসন’-এর মধ্য দিয়ে।

]]>
https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/feed/ 0 2272
প্রতিশোধের পথে ইরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/ https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/#respond Wed, 04 Mar 2026 08:45:49 +0000 https://banglakal.com/?p=2260 মধ্যপ্রাচ্যে এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার এমন এক সময় চলছে যেখানে আকাশ থেকে মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে। দুবাই হোক বা দোহা—আজকের মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থান শতভাগ নিরাপদ নয়। সামরিক হোক বা বেসামরিক, কেউই নিশ্চিন্ত নয়। ইরান—যা সম্প্রতি তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর গভীর শোকে ডুবে আছে—এখন প্রতিশোধের পথে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ৪০টিরও বেশি কমান্ডার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে। এর ফলে ইরানের নেতৃত্বের বড় অংশ কার্যত ‘ডেক্যাপিটেটেড’ হয়েছে। আগেই তার বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
তবু ইরান হাল ছাড়ছে না। তার বিকেন্দ্রীকৃত “মজাইক প্রতিরক্ষা” কৌশল ও বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে ইরান এখন আক্রমণ চালাচ্ছে—রেড লাইন বা নিয়ম-রেখা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা দেখায় না এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে দ্বিধা করছে না।
অপারেশন নাম: ইরানের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে রিপোর্ট করা হয়েছে “Operation Epic Fury” নামে; এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুকে মধ্যপ্রাচ্যে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো। ইরান সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে অন্য দেশগুলোও ফল ভোগ করবে। ব্রিটেনের সাইপ্রাস ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের সমর্থনের পর ঘটেছে বলে রিপোর্ট।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে ইরান সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত করেছে; এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বাড়ে এবং শেয়ারবাজারে ধাক্কা লাগে। হুথিদের মাধ্যমে সৌদি আরামকোকে লক্ষ্য করার খবরও এসেছে।
আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: দুবাই, ওমানের বাণিজ্যিক বন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে আঘাত করে ইরান গালফের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে চায়।
ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময়; অনুমান করা হয় প্রায় ২,০০০–২,৫০০ কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, রেঞ্জ ২,৫০০ কিমি পর্যন্ত। উন্নত সিস্টেমগুলোর মধ্যে ফাত্তাহ হাইপারসনিক ও খোররমশাহর-৪ উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পুনঃপ্রবেশের সময় ডিকয়-সোয়াম ছাড়ে, যা প্যাট্রিয়ট, থাড ও অ্যারো-৩ মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে। ইরানের ৩১টি স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট নিয়ে গঠিত মজাইক প্রতিরক্ষা নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে আইআরজিসি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

আঞ্চলিক হামলা ও লক্ষ্যবস্তুসমূহ
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল: রেকর্ডিংয়ের সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছিল; জেরুজালেমে বিস্ফোরণের খবর, তেল আবিবে সাইরেন, এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলে রিপোর্ট অনুযায়ী ১০ জন নিহত ও ১০০+ আহত।


বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে বারবার আক্রমণের খবর।
দুবাই—হোটেল ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কুয়েতে সাইরেন চলমান; রিপোর্ট আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
ওমানে দুকুম বাণিজ্যিক বন্দর লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরাকে একটি মার্কিন গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর, ক্ষতি সীমিত।
নৌযান ও বিমান: ইরান দাবি করেছে যে USS Abraham Lincoln এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে; যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে ইরান বলেছে ক্যারিয়ারটি পরে এলাকা থেকে সরে গেছে। একটি আমেরিকান F-15 যুদ্ধবিমান গুলি করে নেমে গেছে—রিপোর্টে বলা হয়েছে সম্ভবত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ফ্রেন্ডলি ফায়ারের কারণে।

Smoke rises in the sky after blasts were heard in Manama, Bahrain, on Saturday, February 28, 2026 [Reuters]
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাহরাইনের মানামাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া উড়ছে [রয়টার্স]

রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ জন আমেরিকান সার্ভিস মেম্বার নিহত; ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি—২০০+ নিহত, যার মধ্যে স্কুলে বোমাবর্ষণে ১৫০+ মেয়ের মৃত্যু বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক। গাঁধী হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবরও এসেছে, ফলে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, ইরাকে ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থানে আঘাত—বিশেষত শিশুদের ওপর আঘাত—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। বহু পরিবার শোকাহত, আহত ও গৃহহীন। চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি।
অর্থনৈতিক প্রভাব: হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। গালফের পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ স্থানীয় অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতি: ইরান একা লড়ছে—কোনো মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশ বা বৈশ্বিক শক্তি প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়নি। তবে ইরানের আক্রমণগুলো গালফের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে দিতে পারে। ইরান মনে করে যুদ্ধবিরতি এখনই মানে পরাজয়; তারা চায় আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হোক।
নিউক্লিয়ার ও গোয়েন্দা প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) বলেছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণের শিকার হয়নি, যা প্রাথমিক হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তৎক্ষণাৎ আক্রমণ করতে যাচ্ছিল না—এটি প্রাক-হামলার যুক্তি চ্যালেঞ্জ করে।


অনেক ইরানী দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট; বিদ্রোহ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাধ্যমে রেজিম পরিবর্তনের আশা করেছিল, কিন্তু খামেনির হত্যার পরে সিস্টেমের কিছু অংশ অভ্যন্তরীণভাবে সংহত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসে ঘটায় তা শিয়া সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি: কাগজে ইরানের জয় অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলো জোরালো হয়ে উঠছে—ইরানের কৌশল কী, কতদিন তারা বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে, এবং এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য কী। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও সামরিক সম্পদ মোতায়েন করে—ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, B-2 স্টেলথ বোমারু, পারমাণবিক সাবমেরিন, ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র—তবে লক্ষ্য প্রদর্শন করা হলেও একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা বাড়ায় ঝুঁকি বাড়ে।

বায়ু হামলা ও কৌশলগত আঘাত দিয়ে রেজিম পরিবর্তন আনা কঠিন; স্থল বাহিনী ছাড়া তা অসম্ভবের কাছাকাছি। স্থল অভিযান মানে ব্যাপক হতাহত ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত—আফগানিস্তানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা।
যুদ্ধটি যদি আরও তীব্র হয়, তা আঞ্চলিক বিস্তার ঘটাতে পারে এবং মানবিক বিপর্যয়কে গভীর করবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি ঘটে, প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবর্তন কোথায় ঘটবে: ইরানে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে; অর্থাৎ এই সংঘাতের রাজনৈতিক ফলাফল কাদের ওপর পড়বে।


এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা মানুষের কষ্ট ও ভয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ইরানের শোক ও প্রতিশোধের অনুভূতিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা যায়, তবু সহিংসতা যত বাড়বে নিরীহ মানুষের কষ্ট ততই বাড়বে। আন্তর্জাতিক সমাজের তাত্ক্ষণিক কর্তব্য হলো কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়—এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। প্রশ্নগুলো এখনো অনুত্তরিত: এই যুদ্ধের শেষ কোথায়, এবং এর মূল্য কে বহন করবে—সামরিক শক্তি নাকি সাধারণ মানুষ।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/feed/ 0 2260
স্বপ্ন জয়ের গল্প: আতিয়া রহমানের WBCS সাফল্য এবং নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক https://banglakal.com/state/dreams-of-success/ https://banglakal.com/state/dreams-of-success/#respond Thu, 12 Feb 2026 14:36:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2077 ভূমিকা: ইতিহাস রচনার এক অনন্য অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে ২০২১ সালের WBCS পরীক্ষার ফলাফল একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। কলকাতার এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজে নারীশক্তি ও প্রতিনিধিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পারিবারিক পটভূমি: স্বপ্নের বীজ বপন

আতিয়া রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতার এক যৌথ পরিবারে। তার মা ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে জনসেবা এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন। যৌথ পরিবারের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে তিনি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা পেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তার পরিবারের সমর্থন ছিল অসাধারণ। আতিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন যে পরিবার পাশে না থাকলে এই কঠিন যাত্রায় সফল হওয়া সম্ভব হতো না। এই পারিবারিক সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

শিক্ষাজীবন: মেধার পরিচয়

আতিয়ার শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত সফল এবং সুপরিকল্পিত:

মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর:

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক: মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড একাডেমি (২০১৪-২০১৬)
  • স্নাতক (সম্মান): আশুতোষ কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ভূগোল বিভাগ (২০১৯, প্রথম শ্রেণি)
  • স্নাতকোত্তর: বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ, ভূগোল বিভাগ (২০২১, ৭৩%)

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময়েই WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০২১ সালে M.Sc ডিগ্রি লাভের সময়কালেই তিনি WBCS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা তার সময় ব্যবস্থাপনা এবং একাগ্রতার চরম পরিচয় বহন করে।

WBCS ২০২১: প্রতিযোগিতা এবং সাফল্য

পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক। ২০২১ সালে প্রায় ২৮৮ জন প্রার্থীকে ব্যক্তিত্ব যাচাই পর্বের জন্য ডাকা হয়েছিল। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।

তার পরীক্ষার বিবরণ:

  • গ্রুপ-বি (WBPS): ৪র্থ র‍্যাঙ্ক (দ্বিতীয় প্রচেষ্টা)
  • নির্বাচিত পদ: ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP)
  • গ্রুপ-এ (Executive): উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)
  • গ্রুপ-সি ও ডি: উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)

প্রস্তুতির কৌশল: সাফল্যের মূলমন্ত্র

আতিয়া রহমানের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং সুপরিকল্পিত। তিনি শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং ‘স্মার্ট ওয়ার্ক’ এবং ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

১. সমন্বিত অধ্যয়ন পদ্ধতি

অধিকাংশ পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি এবং মেইনস পরীক্ষাকে আলাদাভাবে দেখেন। কিন্তু আতিয়া প্রথম থেকেই মেইনস পরীক্ষার সিলেবাসকে ভিত্তি করে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মেইনস পরীক্ষার জন্য গভীর জ্ঞান অর্জন করলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার MCQ সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।

২. ভূগোল: ঐচ্ছিক বিষয়ের সুবিধা

ভূগোল তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের বিষয় হওয়ায় তিনি একেই ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। WBCS মেইনস পরীক্ষায় ৪০০ নম্বরের দুটি ঐচ্ছিক পেপার থাকে, যা সাফল্যের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।

ভূগোলে নম্বর বাড়ানোর কৌশল:

  • মানচিত্র এবং ডায়াগ্রামের সর্বোচ্চ ব্যবহার
  • প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা বজায় রাখা
  • নিজস্ব নোট তৈরি এবং নিয়মিত রিভিশন
৩. বই নির্বাচন এবং রিসোর্স ব্যবস্থাপনা

আতিয়া অসংখ্য বই পড়ার চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানসম্মত বই বারবার পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন:

  • আধুনিক ভারতের ইতিহাস: Spectrum, Arihant Magbook
  • ভূগোল: NCERT ১১ ও ১২, Atlas, ‘Know Your State’
  • ভারতীয় সংবিধান: M. Laxmikanth
  • অর্থনীতি: Nitin Singhania
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: Shamim Sarkar
  • কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: YouTube চ্যানেল ‘Parcham’, খবরের কাগজের সম্পাদকীয়

৪. ব্যক্তিত্ব যাচাই: মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

আতিয়া ‘WBCS Made Easy’ এবং ‘Apti Plus’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে মক ইন্টারভিউ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। তার প্রকৃত ইন্টারভিউ বোর্ড অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল:

  • ব্যক্তিগত শখ (আবৃত্তি, জীবনানন্দ দাশের কবিতা)
  • কারিগরি জ্ঞান (টেকটোনিক প্লেট থিওরি)
  • সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি (সুফিবাদ, শিয়া-সুন্নি পার্থক্য)
  • সংবিধান (প্রস্তাবনা পাঠ)

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয়: একজন মুসলিম নারীর সংগ্রাম

আতিয়া রহমানের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের বহু সামাজিক সংকীর্ণতা ভেঙে ফেলার এক সাহসী পদক্ষেপ।

পুলিশ সার্ভিস: পুরুষশাসিত ক্ষেত্রে নারীর প্রবেশ

প্রথমে আতিয়া নিজেও ভেবেছিলেন পুলিশ সার্ভিস সম্ভবত তার জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে সমাজের অর্ধেক অংশ প্রশাসনের বাইরে থাকলে সুশাসন সম্ভব নয়। একজন নারী হিসেবে তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে আরও বেশি সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবেন।

ধর্মীয় পরিচয় এবং পেশাগত দায়িত্ব

হিজাব এবং পুলিশ ইউনিফর্মের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নে আতিয়া অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। ইউনিফর্ম হলো সংবিধান এবং আইনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক, যা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: IPS হওয়ার লক্ষ্য

DSP হিসেবে নির্বাচিত হলেও আতিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বর্তমানে IPS (Indian Police Service) হওয়ার লক্ষ্যে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করে যে সাফল্য একটি ধারাবাহিক যাত্রা।

বর্তমানে তিনি ব্যারাকপুরের স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং একজন দক্ষ মাঠপর্যায়ের অফিসার হিসেবে নিজেকে তৈরি করছেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশ

আতিয়া রহমান তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন WBCS পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন:

১. সময় ব্যবস্থাপনা: কত ঘণ্টা পড়া হচ্ছে তার চেয়ে কতটা মনোযোগ দিয়ে পড়া হচ্ছে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. বিশ্লেষণাত্মক লিখন: মেইনস পরীক্ষায় শুধু তথ্য নয়, সঠিক বিশ্লেষণ এবং কাঠামোগত উপস্থাপন প্রয়োজন।

৩. মক টেস্ট: প্রচুর মক টেস্ট দিয়ে নিজের ভুল সংশোধন করা অপরিহার্য।

৪. আত্মবিশ্বাস: দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্বে ‘সেলফ-মোটিভেশন’ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিনিধিত্ব

আতিয়া রহমানের এই অর্জন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসমাজে উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। TDN Bangla সহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা তার সাফল্যকে মুসলিম মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

যখন আতিয়ার মতো মেধাবীরা প্রশাসনের উচ্চপদে বসেন, তখন তা কেবল একটি পদ পূরণ করে না, বরং সমাজের বঞ্চিত অংশের মনে আশার আলো জাগায়। তার সাফল্য প্রমাণ করে যে সুযোগ এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় বাধাই অজেয় নয়।

উপসংহার: নতুন পথের দিশারী

আতিয়া রহমানের জীবনগল্প আমাদের শিখিয়ে দেয় যে স্বপ্ন দেখার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। একজন মুসলিম নারী হিসেবে তিনি যে প্রতিকূলতা জয় করেছেন এবং যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন, তা রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তার কৌশলগত প্রস্তুতি, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনসেবার প্রতি অদম্য স্পৃহা তাকে আরও উচ্চতর শিখরে নিয়ে যাবে। আতিয়া রহমান আজ নারীশক্তি, প্রতিনিধিত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত উদাহরণ, যিনি আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন।

মূল শিক্ষা:

  • মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই
  • পারিবারিক সমর্থন সাফল্যের মূল ভিত্তি
  • সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব
  • স্মার্ট ওয়ার্ক এবং ধারাবাহিকতা সফলতার চাবিকাঠি
  • স্বপ্ন দেখার এবং তা পূরণ করার কোনো সীমা নেই

আতিয়া রহমানের এই সাফল্য শুধু তার একার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাজারো সংগ্রামী তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার যাত্রা প্রমাণ করে যে সঠিক দিক-নির্দেশনা, পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

]]>
https://banglakal.com/state/dreams-of-success/feed/ 0 2077
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের খোলা চিঠি: নির্বাচনের আগে ড. ইউনূসের কাছে মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/ https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/#respond Wed, 11 Feb 2026 18:27:59 +0000 https://banglakal.com/?p=2072 ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করেছে। এই চিঠিতে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনকালীন সময়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। সকল বাংলাদেশি নাগরিক যাতে নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে—সেটি নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আন্তরিক নেতৃত্ব দেখাতে হবে। বিশেষ করে জীবনের অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ যেন শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করার জন্য জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় না পায়—এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বারবার ঘটছে। এসব বিষয়কে সংস্থাটি ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে অ্যামনেস্টির এই খোলা চিঠি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলেও অভিহিত করেছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই চিঠি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার রক্ষা কোনো বিকল্প নয়—এটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

]]>
https://banglakal.com/world/ammnesty-warn-dr-yunus-for-bangladesh-general-election/feed/ 0 2072
টেলিকম দুনিয়ায় এয়ারটেল ও জিও-র দাপট: গ্রাহক হারাল বিএসএনএল ও ভি https://banglakal.com/nation/airtel-and-jio-dominent-in-telecom-industari/ https://banglakal.com/nation/airtel-and-jio-dominent-in-telecom-industari/#respond Wed, 11 Feb 2026 18:10:23 +0000 https://banglakal.com/?p=2066 কলকাতা: দেশের টেলিকম মানচিত্রে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করল ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-র প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০২৫-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহক সংখ্যার দৌড়ে বেসরকারি এই দুই সংস্থা যখন হু হু করে এগিয়ে চলেছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিএসএনএল (BSNL) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vi) ক্রমাগত তাদের পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে।

ট্রাই-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ভারতী এয়ারটেলের ঝুলিতে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স জিও তাদের শীর্ষস্থান বজায় রাখলেও গ্রাহক বৃদ্ধির হারের নিরিখে এয়ারটেলের থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিএসএনএল-এর জন্য, যারা বেশ কয়েক মাস ধরে গ্রাহক বাড়ানোর প্রবণতা দেখালেও ডিসেম্বরে ফের লোকসানের মুখ দেখেছে।

গ্রাহক সংখ্যার খতিয়ান: এক নজরে

ডিসেম্বর মাসে ভারতের প্রধান টেলিকম অপারেটরদের পারফরম্যান্স নিচে দেওয়া হলো:

  • ভারতী এয়ারটেল: ৫৪.২৮ লক্ষের বেশি নতুন ওয়্যারলেস গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। এর ফলে তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬.৩৩ কোটি।
    • বিশেষ দ্রষ্টব্য: এম২এম (M2M) কানেকশন অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এয়ারটেলের এই বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে।
  • রিলায়েন্স জিও: ২৯.৬০ লক্ষের বেশি নতুন গ্রাহক পেয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে ৪৮.৯০ কোটি গ্রাহক নিয়ে জিও ভারতের বাজার দখলের লড়াইয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে।
  • ভোডাফোন আইডিয়া (Vi): টানা গ্রাহক হ্রাসের ধারা অব্যাহত রেখে ডিসেম্বরে প্রায় ৯.৪০ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছে এই সংস্থা।
  • বিএসএনএল (BSNL): ২.০৬ লক্ষের বেশি গ্রাহক কমেছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার। বর্তমানে তাদের বাজার শেয়ার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৪৬ শতাংশে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও এমএনপি (MNP)

রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১১৬ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে টেলিকম পরিষেবার ঘনত্ব (Tele-density) এখনও অনেক কম।

“ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১.৬১ কোটি গ্রাহক মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (MNP) জন্য আবেদন করেছেন, যা স্পষ্ট করে যে উন্নত পরিষেবা এবং ৫জি নেটওয়ার্কের টানে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অপারেটর বদল করছেন।”

ব্রডব্যান্ডে নতুন মাইলফলক

দেশের ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি (১ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। ৫জি ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস (5G FWA) বা ‘এয়ার ফাইবার’ পরিষেবার দ্রুত বিস্তার এই বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। রিলায়েন্স জিও এক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহক নিয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে।

পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা এবং অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলে জিও এবং এয়ারটেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিএসএনএল-এর ওপর থেকে গ্রাহকদের আস্থা ক্রমশ কমছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/airtel-and-jio-dominent-in-telecom-industari/feed/ 0 2066
নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা: ওআইসি’র নিন্দা ও সংহতি প্রকাশ https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/ https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/#respond Thu, 05 Feb 2026 12:26:16 +0000 https://banglakal.com/?p=1928 কলকাতা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা (Kwara) রাজ্য এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাৎসিনা (Katsina) রাজ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (Organization of Islamic Cooperation – OIC)।

ওআইসি’র মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (Hissein Brahim Taha) এক বিবৃতিতে এই হামলাকে “জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রেড ক্রস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোয়ারা রাজ্যের ওরো (Woro) ও নুকু (Nuku) গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের বেঁধে ফেলে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে এবং অনেককে আগুনে পুড়িয়ে মারে। বাড়িঘর, দোকান ও রাজপ্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই হামলায় অন্তত ১৬২ থেকে ১৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে কাৎসিনা রাজ্যের ডোমা (Doma) এলাকায় আরেকটি হামলায় ২১ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এর কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় কর্মকর্তা ও গভর্নর আব্দুলরহমান আব্দুলরাজাক এই হামলাকে “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দুর্বলতার প্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত লাকুরাওয়া (Lakurawa) গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকতে পারে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলা হয়েছে বোকো হারাম জড়িত থাকতে পারে।

এই ঘটনার পর ওআইসি’র অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে @OIC_OCI প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“আমরা নাইজেরিয়ার কোয়ারা ও কাৎসিনা রাজ্যে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। ওআইসি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম, আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং স্থানীয় সশস্ত্র ব্যান্ডিট গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের হামলা, অপহরণ ও লুণ্ঠন নিয়মিত ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রতিশোধমূলক হামলার সংখ্যা বেড়েছে।

]]>
https://banglakal.com/world/terrorist-attack-on-nigeria/feed/ 0 1928
৫০ জনের মধ্যে ৪৭ জন মুসলিম: ভর্তি তালিকা ঘিরে বিতর্ক, চাপ ও অনুমতি প্রত্যাহার—শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিক্যাল কলেজের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট https://banglakal.com/nation/nmc-withdraws-mbbs-permission-to-jk-medical-college-facing-bjp-led-protests/ https://banglakal.com/nation/nmc-withdraws-mbbs-permission-to-jk-medical-college-facing-bjp-led-protests/#respond Thu, 08 Jan 2026 09:56:37 +0000 https://banglakal.com/?p=1422 মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পড়ুয়াদের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক ও বিক্ষোভের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরের একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি প্রত্যাহার করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন। ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলছে—উচ্চশিক্ষায় মেধা কি সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে টিকে থাকতে পারছে

জম্মু ও কাশ্মীরের রেয়াসি জেলার কেকরিয়ালে অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল এক্সেলেন্স (SMVDIME)—একটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজটি ৫০টি এমবিবিএস আসনের জন্য অনুমোদন পায়। অঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো জোরদার করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম ব্যাচের ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই কলেজটি এমন এক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, যেখানে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে শিক্ষার মান নয়, বরং ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের ধর্মীয় পরিচয়।

ভর্তি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৫০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৪৭ জন মুসলিম, একজন শিখ এবং মাত্র দু’জন হিন্দু। ভর্তি প্রক্রিয়াটি জাতীয় যোগ্যতা-সহ প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-এর মেধা তালিকা ও বিদ্যমান নিয়ম অনুসারেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবুও এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—হিন্দু তীর্থস্থানের নামে একটি কলেজে মুসলিম পড়ুয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রশ্ন একটি প্রশাসনিক ইস্যু ছাড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিতর্কে পরিণত হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই গড়ে ওঠে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির দাবি ছিল, কলেজের ভর্তি তালিকা হিন্দুদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং এই মেডিক্যাল কলেজে মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তি হওয়া উচিত নয়। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, একটি ধর্মীয় তীর্থস্থানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদেরই পড়ার অধিকার থাকা উচিত। এই দাবিকে কেন্দ্র করে জম্মু শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়, সিভিল সেক্রেটারিয়েটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয় এবং কলেজ বন্ধের দাবিও ওঠে। কিছু সংগঠনের তরফে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হস্তক্ষেপ করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। কমিশনের তরফে কলেজে একটি আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়। পরিদর্শনের পর জানানো হয়, কলেজে শিক্ষাদানকারী কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, টিউটর ও সিনিয়র রেসিডেন্টের সংখ্যা নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে, রোগীর উপস্থিতি কম এবং একাধিক অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আছে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এমবিবিএস কোর্স চালানোর অনুমতি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এই সিদ্ধান্তের সময়কাল ও প্রেক্ষাপট নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি কলেজকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার সময়ও বিদ্যমান ছিল কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। সমালোচকদের মতে, ভর্তি তালিকা প্রকাশের পর ধারাবাহিক চাপ ও বিক্ষোভ না হলে এই ‘সারপ্রাইজ’ পরিদর্শন আদৌ হতো কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ভর্তি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনুমতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই পদক্ষেপকে নিছক প্রশাসনিক বলে মানতে নারাজ অনেকেই।

সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, এই কলেজে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের অন্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অতিরিক্ত আসনের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হবে এবং কোনও শিক্ষার্থী তাদের আসন হারাবে না। তবুও এই ঘটনা ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি প্রত্যাহারের বিষয় নয়; এটি সেই বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া পড়ুয়াদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে পড়ছে, এবং সেই চাপের মধ্যেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।


]]>
https://banglakal.com/nation/nmc-withdraws-mbbs-permission-to-jk-medical-college-facing-bjp-led-protests/feed/ 0 1422