Banglakal – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 22 Jul 2026 10:41:22 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 Banglakal – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 অনলাইন ট্রোলিং ও জাতিবিদ্বেষের শিকার সিজিপি আন্দোলনকারীরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সাধারণ বর্গ’-কে দূরে থাকার হুঁশিয়ারি https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/ https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/#respond Wed, 22 Jul 2026 12:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2962 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সাম্প্রতিক ‘সংসদ চলো’ আন্দোলন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ও কুরুচিকর সাইবার আক্রমণের ঝড় উঠেছে। নজিরবিহীনভাবে ইন্টারনেটের একাংশে জাতিবিদ্বেষী (Casteist) মন্তব্য ছড়িয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত ‘সাধারণ বর্গ’ (General Category)-র মানুষদের এই প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকারও খোলাখুলি বার্তা বা হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে গড়ে ওঠা এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ যখন রাজপথে নজর কাড়ছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণীর নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিষাক্ত মনোভাব ছড়াতে শুরু করেছে। এক্স (পূর্বতন টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের মতো মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের জাতিগত পরিচয় তুলে কুরুচিকর ট্রোলিং করা হচ্ছে। একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন নির্দিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা এবং এতে যোগ দিলে ‘সাধারণ বর্গ’-এর পরীক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, যখন এনটিএ (NTA)-র গাফিলতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে, তখন আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই এই ধরণের জাতিগত বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ বর্গের পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলন দুর্বল করার এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অভিভাবক ও সমাজকর্মীদের একাংশ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ককোরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে দিল্লির জন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ ও ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। দিল্লির সংসদ ভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের শেল প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা সামলাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এই শারীরিক দমনপীড়নের পর এখন ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও আন্দোলনকারীদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য এই ধরণের জাতিগত আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে।

কেবল বাইরের ট্রোলিংই নয়, আন্দোলনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে একাধিক অনভিপ্রেত বিতর্ক। জন্তর মন্তরে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় দলীয় মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় বসে বার্গার খাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিজিপি নেতৃত্ব ঘটনাটিকে ‘সংবেদনহীন’ বলে বর্ণনা করে অবিলম্বে বিজেতা দাহিয়াকে সমস্ত দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে জানিয়েছেন, নানা ধরণের বাধা, পুলিশি অত্যাচার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ঘৃণামূলক প্রচার সত্ত্বেও তাঁদের এই ছাত্র আন্দোলন থামবে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষার স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা আগামী দিনেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে যেভাবে একটি শিক্ষাসংক্রান্ত সামাজিক আন্দোলনকে জাতিগত বিভাজনের রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/casteist-attacks-on-cjp-protesters-flood-social-media-general-category-told-to-stay-away/feed/ 0 2962
NEET বিতর্ক ও শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজ্যসভা, বেলা ৩টে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/ https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/#respond Wed, 22 Jul 2026 11:15:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2959 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও হইচইয়ের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ ভবন। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চরম বাগযুদ্ধ শুরু হয়। একদিকে কেন্দ্র সরকারের দাবি, তারা নিট সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে অবিলম্বে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজির মুখে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ বাধ্য হয়ে রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর ৩টে পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেন।

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র একাধিক সাংসদ নিট পরীক্ষা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র গাফিলতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হন। বিরোধীদের আপত্তির জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, সরকার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি।

মন্ত্রী রিজিজু রাজ্যসভায় বলেন, “অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে এসেছে যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জড়িয়ে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্যসভায় আলোচনা করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।” তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিরোধীরা হট্টগোল তৈরি করে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করছে এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলি জনগণের সামনে তুলে ধরতে দিচ্ছে না।

একই সুরে সুর মিলিয়ে লোকসভার দলনেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বিরোধী সাংসদদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী জোট দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং সংসদের মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে নিট ইস্যুতে সরকার কোনো আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে না।”

সরকার আলোচনার আশ্বাস দিলেও বিরোধী পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানান, সাধারণ নোটিসে আলোচনা হলে তা দিয়ে এই সমস্যার গুরুত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার নিয়মাবলীর ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে অন্য সমস্ত নির্ধারিত কাজ মুলতুবি রেখে অবিলম্বে নিট পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে হবে।

এর পাশাপাশি, পরীক্ষার দুর্নীতি ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ফেলার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানায় বিরোধী দলগুলি। খাড়গে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রী দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফা দিচ্ছেন এবং ২৬৭ নম্বর ধারায় আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বিরোধীরা তাদের সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

গণ্ডগোল চলাকালীন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ আগের বিভিন্ন নজির তুলে ধরে কক্ষ শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত চার দশকে ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে সভা মুলতুবি রেখে আলোচনার নজির অত্যন্ত বিরল এবং কেবল ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী’ পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

কিন্তু ডেপুটি চেয়ারম্যানের এই ব্যাখ্যার পরেও সন্তুষ্ট হননি বিরোধী সাংসদরা। ওয়েলে নেমে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়লে ডেপুটি চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে বেলা ৩টে পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিট বিতর্ক এবং শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলিতেও সংসদের উভয় কক্ষে শাসক ও বিরোধী তরজা আরও তীব্র রূপ নিতে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/feed/ 0 2959
‘কথা বলতে চাইলে আমাদের কাছেই আসতে হবে’: বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সিজেপি-র https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/ https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:29:12 +0000 https://banglakal.com/?p=2964 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: এখন আসল প্রশ্ন হল, কার পিঠ দেওয়ালে ঠেকবে বা আগে কে নতি স্বীকার করবে?

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল দেশের ছাত্রসমাজ। রাজপথ কাঁপানো সেই বিক্ষোভের আবহেই স্পষ্ট বার্তা দিল আন্দোলনকারী দল ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হলে এবার উদ্যোগী হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই। আলোচনার রাস্তা খোলা থাকলেও দর কষাকষি বা আপসের কোনো জায়গা রাখা হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রায় দুই মাস আগে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’। কিন্তু নিট পরীক্ষা কেন্দ্রিক কেলেঙ্কারির পর থেকে সেই সংগঠনই এখন প্রতিবাদী ছাত্রদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে। গত দু’দিন আগেই নিট প্রশ্নপত্র কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেয়। রাজধানী দিল্লির বুকে সেই সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। এর পর থেকেই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও সিজেপি নেতৃত্ব তা সহজভাবে নিচ্ছেন না। অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানান, এর আগে জে পি নাড্ডার বাসভবনে বা অন্যান্য বৈঠকে গিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালানো হচ্ছে— এই দ্বিমুখী নীতি আর বরদাস্ত করা হবে না।

তাই সিজেপি-র বার্তা পরিষ্কার: কেন্দ্র যদি সততার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে চায়, তবে তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। শুধু তাই নয়, কোনো বন্ধ দরজার গোপন বৈঠক নয়, যন্তর মন্তরের কাছে কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় এই আলোচনা হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পাশাপাশি অনশনকারী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।

প্রতি বছর দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেন। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সরাসরি লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। কেন্দ্র এখন সিজেপি-র কড়া বার্তার জবাবে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হয় নাকি নিজের অবস্থানে অনড় থাকে, সেটাই দেখার। কিন্তু আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের প্রতিবাদ থামবে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/come-to-us-if-you-want-talks-cjps-message-to-centre-amid-protests/feed/ 0 2964
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/ https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:20:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2953 কলকাতা, ২২ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসমাবেশ ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ থাকে তুঙ্গে। তবে এ বার সমাবেশের মঞ্চে বক্তাদের তালিকা এবং ভাষণের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবাদ রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশের দৈর্ঘ্য এবং তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাবের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হতেই তোলপাড় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল

ঐতিহাসিক ধর্মতলার মঞ্চে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে। এই বিশেষ দিনে দলের মূল বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সাধারণত তাঁর বক্তব্যের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, মন্ত্রী এবং তরুণ নেতৃত্বের একাংশকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিনের সমাবেশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠলে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে এক প্রকার অসন্তোষ তৈরি হয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ যখন বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারিত সূচি মেনে মূল বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময় এগিয়ে আসছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন অনুযায়ী, প্রধান বক্তার বক্তব্যের আগে অন্যান্য নেতাদের সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় মঞ্চেই তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলের অন্দরের খবর, ভাষণের দৈর্ঘ্য ছোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত আসায় ক্ষোভ গোপন রাখেননি প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের চাপা টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। কল্যাণ ঘনিষ্ঠদের মতে, সাংসদ হিসেবে লোকসভায় এবং জনসভায় দলের হয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। সেখানে শহিদ তর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়াটা তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমোর অনুগামীদের সাফ কথা— ২১ জুলাইয়ের জনসভার মূল আকর্ষণ থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের লাখো সমর্থক মূলত নেত্রীর নির্দেশিকা শুনতেই মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য বক্তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই দস্তুর। সময় ব্যবস্থাপনার সেই তাগিদ থেকেই বক্তব্য সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিবাদের জায়গা নেই।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ আসলে একটা গোষ্ঠীকোন্দলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব যে ক্রমেই বাড়ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশে সেটাই প্রমাণিত।

তবে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল এক বিশাল পরিবার। সেখানে বক্তব্য পেশ বা সময়ের সমন্বয় নিয়ে দু’-একটি অনভিপ্রেত কথা বা ক্ষোভ সাময়িক ঘটনা মাত্র। একুশে জুলাইয়ের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করাই দলের মূল উদ্দেশ্য, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ আগামী দিনে দলীয় সংগঠনে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/dispute-over-speech-duration-at-july-21-rally-political-speculation-mounts-over-mamata-kalyan-rift/feed/ 0 2953
সিজেপির চতুর্থ দাবি: আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যাবে না এফআইআর, হুঁশিয়ারি আশুতোষ রাঙ্কার https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/ https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/#respond Wed, 22 Jul 2026 10:05:42 +0000 https://banglakal.com/?p=2950 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের আঁচ ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই আবহেই আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কেন্দ্রের কাছে তাদের দাবির তালিকা আরও বাড়াল। এতদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি থাকলেও, বুধবার আন্দোলন পরিচালনা করা এই ছাত্র সংগঠন তাদের চতুর্থ দাবিটির কথা জনসমক্ষে নিয়ে এল। সংগঠনের মুখাপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত ২০ জুলাইয়ে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কোনও শান্তিকামী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর (FIR) দায়ের করা যাবে না।

সংগঠনের ৩২তম দিনে পদার্পণ করা বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আশঙ্কায় রয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও তাদের নিশানা করা হতে পারে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করছি, কোনও শান্তিকামী আন্দোলনকারীর গায়ে হাত দিতে দেওয়া হবে না। আপনাদের স্পর্শ করার আগে পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করবে।”

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে এই সংগঠনটি। এতদিন পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ছিল মূলত তিনটি মৌলিক দাবির ওপর ভিত্তি করে:

  • জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি,
  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, এবং
  • নিট অনিয়মের জেরে আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবার পিছু ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান।

তবে গত সোমবার সংসদের দিকে মিছিল বা ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ এবং বড় মাপের আটকের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নতুন আইনি সুরক্ষার চতুর্থ দাবিটি সামনে আনা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সিজেপি-র প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে বাসভবনে সাক্ষাৎ করে তাদের লিখিত দাবি সনদ পেশ করেছেন। কিন্তু সেই আলোচনার পরেও ছাত্র সংগঠনটি পিছু হটতে নারাজ। রাঙ্কার দাবি, সরকার ভেবেছিল পুলিশের কঠোর মনোভাব ও তাঁবু খাঁটাতে বাধা দিলেই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলন এখন একশো গুণ বড় আকার ধারণ করেছে। যন্তর মন্তরে ক্রমাগত নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হলেও ছাত্র সংহতি ভেঙে পড়েনি, বরং আন্দোলনকারীদের ভিড় আরও বাড়ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/cjps-fourth-demand-no-firs-against-protesters-warns-spokesperson-ashutosh-ranka/feed/ 0 2950
জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার নির্দেশে ক্ষুব্ধ থারুর! যোগী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘বিকৃত’ বলে তোপ https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/ https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/#respond Wed, 22 Jul 2026 09:50:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2956 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক আদেশকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ চরমে উঠেছে। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (RDA) এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘বিকৃত ও বিবেকহীন সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে থারুর স্পষ্ট জানান, দেশে শিক্ষার অভাব থাকা সত্ত্বেও চলমান একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করা কোনো যুক্তিযুক্ত বিচার হতে পারে না।

সমাজবাদী পার্টির কারারুদ্ধ নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবনই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ধ্বংসের নোটিস পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) সরব হন থারুর। তিনি লেখেন, “যে রাজ্যে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম অভাব রয়েছে, সেখানে মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বিকৃত মানসিকতার পরিচয়”।

তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ আরও যোগ করেন, “যদি নকশা বা নির্মাণে কোনো আইনি গাফিলতি থেকে থাকে, তবে জরিমানার মতো অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এমনকি প্রয়োজন হলে সরকার এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সচল বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়”।

রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন তৈরি করা হয়েছিল। প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পর এই নির্মাণের ওপর ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, যখন এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন ওই অঞ্চলটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভৌগোলিক ও আইনি একতিয়ারভুক্ত ছিল না। ফলে তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী আরডিএ-র নকশা মঞ্জুরির প্রয়োজন পড়েনি। যদিও প্রশাসন জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ভবনগুলি সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং মোরদাবাদ ডিভিশনাল কমিশনারের আদালতে মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেবল শশী থারুরই নন, এর আগে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা থেকে শুরু করে একাধিক নাগরিক অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরেই একজন নেতার তৈরি করা শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রকে নিশানা বানানো হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোর স্বার্থে প্রশাসনিক এই ‘বুলডোজার নীতি’ অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত বলে মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/tharoor-outraged-over-jauhar-university-demolition-order-slams-yogi-govts-decision-as-perverse/feed/ 0 2956
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে : কল্যাণ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/ https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:36:35 +0000 https://banglakal.com/?p=2925 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরের তীব্র ফাটল। লোকসভার আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন, রবিবার সেই রাজনৈতিক তরজা এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। দলত্যাগী ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে লোকসভায় আলাদা বসার আসন (Separate Seating Arrangement) বরাদ্দ করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের প্রধান আপত্তি— যেখানে দলত্যাগী সাংসদদের বরখাস্তের আবেদন (Disqualification Petition) এখনও স্পিকারের দরবারে ঝুলে রয়েছে, সেখানে কোন যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এই পদক্ষেপকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির।

শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের জন্য আলাদা বসার আসনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এই সাংসদরা দল ছেড়ে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই ২০ জন সাংসদের নতুন দলে সংযুক্তিকরণ বা ‘মার্জার’-এর বিষয়টি এখনও স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আবহে রবিবার হুগলিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আমরা ইতিমধ্যেই ওই ২০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে বরখাস্তের পিটিশন দাখিল করেছি। সেই সমস্ত আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি না করেই স্পিকার যেভাবে তাদের আলাদা বসার অনুমতি দিয়ে একপ্রকার স্বীকৃতি দিলেন, তা একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল।”

সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে রবিবার প্রথামাফিক একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল কেন্দ্র সরকার। সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই (NCPI)-র প্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আমন্ত্রণ জানান। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় গোটা বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো দলগুলি একজোট হয়ে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করে।

তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যে ২০ জন সাংসদ মানুষের রায়কে অপমান করে দল ছেড়েছেন, স্পিকার এখনও তাদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার আইনি বৈধতা দেননি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে কীভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডেকে তৃণমূলের শক্তিকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত বিরোধী দল একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছি।” একই সুরে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “মোদী সরকার যেভাবে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের ‘পার্কিং প্লেস’ এনসিপিআই-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাল, তার প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট। কারণ মূল বিষয়টি এখনও স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী এই ২০ জন সাংসদকে পদচ্যুত করার জন্য ২০টি পৃথক আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তৃণমূলের যুক্তি, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে গেলে মূল দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের অন্য দলে विलय বা মার্জার জরুরি। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন চলে যাওয়ায় গাণিতিক হিসেবে তারা দুই-তৃতীয়াংশ হলেও, আইনি ও পদ্ধতিগত স্ক্রুটিনি এখনও শেষ হয়নি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন জুড়েই এই দলত্যাগ এবং লোকসভার নতুন আসন বিন্যাস নিয়ে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হতে চলেছে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে শাসকদলের রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা, যার প্রভাব আগামী দিনে সংসদের অন্দরে স্পষ্ট দেখা যাবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/state/tmc-slams-speakers-nod-to-rebel-mps-seating-amid-pending-pleas/feed/ 0 2925
ইরানে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/ https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2916 মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো, ১৯ জুলাই:আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলায় এবার সরাসরি ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধে আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা প্রত্যাঘাত করেছে ইরানও। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্ররাষ্ট্র কুয়েতের দুটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান, যার ফলে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল বিশুদ্ধকরণ (Desalination) প্ল্যান্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আল জাজিরার ওপেন-সোর্স ইউনিট, ইউরোপীয় সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইট ইমেজ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান হামলার নতুন ক্ষতচিহ্ন বা ক্ষয়ক্ষতির দাগ স্পষ্ট দেখা গেছে। বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান অবশ্য দাবি করেছেন যে পারমাণবিক চুল্লিটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) বারবার সতর্ক করেছে যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি থাকা এই ধরণের সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কখনই সশস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি নস্যাৎ করতে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (IRGC) শাস্তি দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই দফায় ইরানের সিরিক এলাকা, কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের শাদেগানে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকার এই লাগাতার আগ্রাসনের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী কুয়েতের দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুর বারবার আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্পের একটি মার্কিন গোলাবারুদ ডিপো এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট রাডার ও এয়ার রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ধাক্কায় মরুভূমিপ্রধান country কুয়েতের মাঙ্গাফ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রধান বিদ্যুৎ ও জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে আকাশছোঁয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এই প্ল্যান্টটি কুয়েতের অতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর অংশ।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বিগত কয়েকদিনে মার্কিন হামলার পরিধি শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ইরানের সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে। ইরানের হরমুজগান প্রদেশের বন্দর খামিরে হাইওয়ে এবং রেলপথের একাধিক সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ইরানের প্রধান বন্দর বন্দর আব্বাসকে রাজধানী তেহরান ও দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার কারণে দক্ষিণ ইরানে চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বোঞ্জি জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টটি মার্কিন হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০,০০০ মানুষ পানীয় জলের তীব্র সংকটে পড়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর জানিয়েছেন, বিগত তিন সপ্তাহের মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই আমেরিকাকে “অবিস্মরণীয় শিক্ষা” দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আমেরিকা লঙ্ঘন করায় তা বর্তমানে সম্পূর্ণ ‘স্থগিত’ রয়েছে। তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, টানা আট রাতের এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/us-attacks-iran-nuclear-site-kuwait-desalination-plant-hit-amid-escalating-conflict/feed/ 0 2916
অমুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘৃণার আগুন নেভানোর ডাক আরশাদ মদানির https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/ https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/#respond Sun, 19 Jul 2026 15:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2908 লখনউ, ১৯ জুলাই: দেশে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা এবং পারস্পরিক বিদ্বেষের আবহে সম্প্রীতির এক জোরালো বার্তা দিলেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মদানি। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে জমিয়ত উলামা উত্তরপ্রদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিন্দু-মুসলিম ইত্তেহাদ কনফারেন্স’ বা সম্প্রীতি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন অন্যান্য ধর্মের মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ— ভালোবাসা ও সহনশীলতার বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “ঘৃণার আগুন কখনও ঘৃণা দিয়ে নেভানো যায় না, তা কেবল ভালোবাসা, স্নেহ এবং ভ্রাতৃত্বের জল দিয়েই নেভানো সম্ভব”।

সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মৌলানা মদানি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি একটি বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, মুসলিমদের নিয়ে সমাজে যে ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচার বা ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা দূর করার দায়িত্ব সম্প্রদায়ের নিজেদেরই নিতে হবে। এই লক্ষ্যে তিনি পরামর্শ দেন, প্রতি বছর অন্তত একবার স্থানীয় মাদ্রাসাগুলিতে অমুসলিম প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। মাদ্রাসায় আসলে কী শেখানো হয়, মুসলিমদের জীবনধারা, নীতি ও বিশ্বাস কেমন— তা যদি অমুসলিম ভাইদের সামনে খোলামেলাভাবে তুলে ধরা যায়, তবে বহুলাংশে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বের অবসান ঘটবে।

দেশে বর্তমান সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত প্রধান। অতীতে কংগ্রেস বা অন্যান্য দলের সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেই সময়েও মুসলিমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু কখনও সরাসরি ইসলাম ধর্ম বা ধর্মীয় নীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন কেবল মুসলিম সমাজকেই নিশানা করা হচ্ছে না, বরং তাদের ধর্ম, বিশ্বাস এবং মৌলিক নীতিগুলির ওপরও ক্রমাগত আঘাত আসছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তিনি প্রত্যেকটি প্রকৃত দেশপ্রেমিক ভারতীয় নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেশে একটি ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করা যায়।

আয়োজিত এই সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৌলানা মদানি একাধিক সমসাময়িক বিষয়ে মুখ খোলেন। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৌলানা মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ ভেঙে ফেলার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি জওহর বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত, এটি ভেঙে ফেলা সম্পূর্ণ ভুল”। তিনি যুক্তি দেন, যদি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও আইনি ত্রুটি বা আনুষ্ঠানিক খামতি থেকেও থাকে, তবে সরকার জরিমানা করতে পারে, কিন্তু হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এর পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ জড়িত থাকায় বিষয়টিকে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সমাধান করা দরকার। অন্যদিকে, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, যদি উভয় পক্ষই সংলাপে বসতে রাজি না হয়, তবে জোর করে কিছু করা সম্ভব নয়।

লখনউয়ের অটল বিহারী বাজপেয়ী সায়েন্টিফিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মৌলানা মদানি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বারাণসীর সংকট মোচন মন্দিরের মহন্ত তথা আইআইটি বারাণসীর অধ্যাপক বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র, প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং সহ খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং শিখ সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা। প্রত্যেকেই একযোগে দেশের প্রাচীন মিশ্র সংস্কৃতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/message-of-harmony-arshad-madani-urges-muslims-to-stand-by-non-muslims-and-douse-the-fire-of-hatred/feed/ 0 2908
হাসপাতালে সোনাম ওয়াংচুক: সরকারের পদক্ষেপকে ‘নাটক’ বলে তোপ দেগে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ স্ত্রী গীতাঞ্জলি https://banglakal.com/nation/hospitalised-sonam-wangchuk-wife-gitanjali-terms-governments-action-a-charade-approaches-delhi-high-court/ https://banglakal.com/nation/hospitalised-sonam-wangchuk-wife-gitanjali-terms-governments-action-a-charade-approaches-delhi-high-court/#respond Sun, 19 Jul 2026 13:52:17 +0000 https://banglakal.com/?p=2915 নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই:পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে গত ২০ দিন ধরে অনশনে বসার পর প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা সমাজকর্মী ড. গীতাঞ্জলি জে. ওয়াংচুক (অ্যাংমো)। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আন্দোলনকে দমন করতেই এমন ‘উদ্বেগজনক পরিস্থিতির’ বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ বা নাটক তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন।

দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই বিচারপতি মিনি পুষ্করণার এজলাসে একটি জরুরি আর্জি দাখিল করেন গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। ওই পিটিশনে তিনি আবেদন জানান, সফদরজং হাসপাতালের ওপর তাঁদের কোনো আস্থা নেই, তাই ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দমতো অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে হাইকোর্ট এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো রোগীকে কোন হাসপাতালে রাখা হবে, সেটি সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের দল এবং মেডিকেল প্রোটোকলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। একে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বলা চলে না।

হাসপাতাল চত্বর থেকে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি অ্যাংমো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সরকার দাবি করছে যে ওঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল বলেই গভীর উদ্বেগ থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আগের দিন সন্ধ্যার মেডিকেল রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যাবে, ওঁর সমস্ত প্যারামিটার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। যদি সত্যিই সরকারের ওঁর স্বাস্থ্য নিয়ে এত মাথাব্যথা থাকত, তবে সাধারণ পোশাকে পুলিশ পাঠিয়ে কেন এত নির্মমভাবে ওঁকে স্ট্রেচারে তুলে নিয়ে আসা হলো?” গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবারকে আগাম কোনো নোটিশ বা চিকিৎসকদের পরামর্শ না জানিয়ে মাঝরাতে করা এই বলপ্রয়োগকে তিনি ‘উদ্বেগের আড়ালে রাজনৈতিক চাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

দীর্ঘ ২০ দিনের অনশনের কারণে সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওয়াংচুককে আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন) এবং ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ওয়াংচুক কোনো ধরনের ওষুধ বা কৃত্রিম তরল গ্রহণ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে গীতাঞ্জলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁর কিংবা ওঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া ওয়াংচুকের শরীরে জোর করে কোনো ওষুধ বা তরল প্রয়োগ করা যাবে না, কারণ এটি ওঁর শারীরিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওয়াংচুকের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা সামান্য কমেছে এবং ইউরিনে কিটোন বডির উপস্থিতি মিলেছে, তবে তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও মানসিকভাবে চনমনে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলা ছাত্র আন্দোলনে শামিল হন ওয়াংচুক। আগামী ২০ জুলাই সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। ওই দিনই দেশজুড়ে পড়ুয়া ও কৃষকদের নিয়ে একটি বিশাল সংসদ অভিযানের (Parliament March) ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের দাবি, এই আন্দোলনকে বানচাল করতেই ঠিক তার আগের দিন ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে বন্দি করা হলো। গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুককে আটকে রাখলেও আন্দোলন থামবে না, হাজার হাজার পড়ুয়া কাল সংসদে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করবেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/hospitalised-sonam-wangchuk-wife-gitanjali-terms-governments-action-a-charade-approaches-delhi-high-court/feed/ 0 2915