bjp – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 22 Jul 2026 10:17:13 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 bjp – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 NEET বিতর্ক ও শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজ্যসভা, বেলা ৩টে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/ https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/#respond Wed, 22 Jul 2026 11:15:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2959 নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও হইচইয়ের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ ভবন। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চরম বাগযুদ্ধ শুরু হয়। একদিকে কেন্দ্র সরকারের দাবি, তারা নিট সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে অবিলম্বে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজির মুখে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ বাধ্য হয়ে রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর ৩টে পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেন।

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র একাধিক সাংসদ নিট পরীক্ষা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র গাফিলতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হন। বিরোধীদের আপত্তির জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, সরকার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি।

মন্ত্রী রিজিজু রাজ্যসভায় বলেন, “অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে এসেছে যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জড়িয়ে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্যসভায় আলোচনা করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।” তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিরোধীরা হট্টগোল তৈরি করে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করছে এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলি জনগণের সামনে তুলে ধরতে দিচ্ছে না।

একই সুরে সুর মিলিয়ে লোকসভার দলনেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বিরোধী সাংসদদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী জোট দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং সংসদের মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে নিট ইস্যুতে সরকার কোনো আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে না।”

সরকার আলোচনার আশ্বাস দিলেও বিরোধী পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানান, সাধারণ নোটিসে আলোচনা হলে তা দিয়ে এই সমস্যার গুরুত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার নিয়মাবলীর ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে অন্য সমস্ত নির্ধারিত কাজ মুলতুবি রেখে অবিলম্বে নিট পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে হবে।

এর পাশাপাশি, পরীক্ষার দুর্নীতি ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ফেলার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানায় বিরোধী দলগুলি। খাড়গে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রী দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফা দিচ্ছেন এবং ২৬৭ নম্বর ধারায় আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বিরোধীরা তাদের সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

গণ্ডগোল চলাকালীন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবাংশ আগের বিভিন্ন নজির তুলে ধরে কক্ষ শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত চার দশকে ২৬৭ নম্বর ধারার অধীনে সভা মুলতুবি রেখে আলোচনার নজির অত্যন্ত বিরল এবং কেবল ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী’ পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

কিন্তু ডেপুটি চেয়ারম্যানের এই ব্যাখ্যার পরেও সন্তুষ্ট হননি বিরোধী সাংসদরা। ওয়েলে নেমে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়লে ডেপুটি চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে বেলা ৩টে পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিট বিতর্ক এবং শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলিতেও সংসদের উভয় কক্ষে শাসক ও বিরোধী তরজা আরও তীব্র রূপ নিতে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/rs-adjourned-till-3-pm-govt-says-ready-for-debate-on-neet-oppn-presses-for-pradhans-resignation/feed/ 0 2959
সংসদের বাদল অধিবেশনে ৫টি নতুন বিল আনছে কেন্দ্র, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়ে জারি চরম ধোঁয়াশা https://banglakal.com/nation/centre-lists-5-bills-for-monsoon-session-suspense-on-delimitation-bill/ https://banglakal.com/nation/centre-lists-5-bills-for-monsoon-session-suspense-on-delimitation-bill/#respond Sat, 18 Jul 2026 01:22:44 +0000 https://banglakal.com/?p=2875 নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই: আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের হাইভোল্টেজ বাদল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। আসন্ন এই অধিবেশনে পেশ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৫টি নতুন বিলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যে সাময়িক কার্যতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে স্থান পায়নি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বহুল চর্চিত লোকসভা আসন বা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিল (Delimitation Bill)। ফলে এই বিলটি এই অধিবেশনে শেষ পর্যন্ত পেশ করা হবে কি না, তা নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে চরম ধোঁয়াশা এবং সাসপেন্স তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি নিয়ে মোদী সরকারের অন্দরে এখনও গভীর কৌশলগত আলোচনা চলছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি এবং নারী সংরক্ষণ বিলকে একসঙ্গে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় তৎকালীন সময়ে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ গত কয়েক মাসে অনেকটাই বদলে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন এবং রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদলের ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তথা এনডিএ (NDA)-র অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার ব্যবধান এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তা সত্ত্বেও সাময়িক তালিকায় এই বিলের অনুপস্থিতি বিরোধী শিবিরকে নতুন করে রণকৌশল সাজানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, তালিকায় না থাকলেও সরকার চাইলে অধিবেশন চলাকালীন যেকোনো সময় বিশেষ ক্ষমতাবলে এই বিলটি টেবিলে উত্থাপন করতে পারে।

তালিকায় থাকা ৫টি নতুন বিলের খুঁটিনাটি

বাদল অধিবেশনে যে ৫টি নতুন বিল আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি সামাজিক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিলগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • জাতীয় সম্মানহানি প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬: এই বিলটির মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মূল আইনটিকে সংশোধন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারতের জাতীয় গীতি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করেন বা বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধনী) বিল: এই বিলের মাধ্যমে দেশে জন্ম ও মৃত্যুর বিলম্বিত নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।
  • আয়কর (সংশোধনী) বিল, ২০২৬: দেশের সার্বভৌম ঋণ বাজারকে আরও গভীর করতে এবং আন্তর্জাতিক পুঁজি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশকে প্রতিস্থাপন করতে এই বিলটি আনা হচ্ছে।
  • সুপ্রিম কোর্ট (বিচারক সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬: দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও সংখ্যাগত ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার লক্ষ্যে এই বিলটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
  • ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬: এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো এমএসএমই (MSME) খাতের বকেয়া অর্থপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও দ্রুততর করা এবং রাজ্যগুলিকে আরও নমনীয়তা প্রদান করা।

আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলের পাশাপাশি ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলটিও এই তালিকায় জায়গা পায়নি। এই বিলটিতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বা কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ যেকোনো জনপ্রতিনিধি যদি ৩০ দিনের বেশি সময় জেলে বন্দি থাকেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর পদ খারিজ হয়ে যাবে। ২০২৫ সালে এটি পেশ হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের মুখে তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (JPC) পাঠানো হয়েছিল।

নতুন ৫টি বিলের পাশাপাশি পূর্ববর্তী অধিবেশনগুলোতে আটকে থাকা দুটি পুরোনো বিলও এই অধিবেশনে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল বা এফসিআরএ (FCRA) বিল এবং ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫’।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তিন সপ্তাহের এই বাদল অধিবেশনে সরকারের এই বিল পাশের চেষ্টা এবং বিরোধীদের পালটা প্রতিরোধে সংসদের আবহ উত্তপ্ত হতে বাধ্য। আসন পুনর্নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তামিলনাড়ুর ডিএমকে বা অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/centre-lists-5-bills-for-monsoon-session-suspense-on-delimitation-bill/feed/ 0 2875
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি নুশলি ওয়াদিয়া ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ছিলেন। https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/ https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/#respond Fri, 17 Jul 2026 07:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2848 কলকাতা, ১৭ জুলাই: আম আদমি পার্টি (AAP)-র একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই পোস্টে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’র অভিযোগ এনে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি নুশলি ওয়াদিয়া ভারতীয় জনসংঘের (যা বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি) অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি শাসনের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও (PMO) তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল বলে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এই রাজনৈতিক তরজার আবহে ভারতের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক বিনয় সীতাপতির লেখা ‘জুগলবন্দি’ (Jugalbandi) বইটির ঐতিহাসিক তথ্য সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, পার্সি শিল্পপতি নুশলি ওয়াদিয়ার সঙ্গে জনসংঘ এবং পরবর্তীকালে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক ছিল।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নুশলি ওয়াদিয়া মাতৃসূত্রে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাতি হলেও, পিতৃসূত্রে তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পার্সি শিল্পপতি পরিবারের সন্তান। বিনয় সীতাপতির বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশকে বাবার মৃত্যুর পর নুশলি ওয়াদিয়া পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন এবং সেই সময় থেকেই তিনি আরএসএস (RSS) ও জনসংঘের ভাবধারার প্রতি আকৃষ্ট হন।

তৎকালীন সময়ে ভারতীয় জনসংঘ যখন রাজনৈতিকভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করছিল, তখন ওয়াদিয়া তাদের পাশে এসে দাঁড়ান। সত্তরের দশক থেকে তিনি জনসংঘকে বিপুল পরিমাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে শুরু করেন। বইটিতে দাবি করা হয়েছে, তিনি শুধুমাত্র দলীয় তহবিলেই অনুদান দেননি, বরং দলের পূর্ণ সময়ের কর্মীদের জন্য মাসিক ভাতার (Stipend) ব্যবস্থাও করেছিলেন।

আম আদমি পার্টির পোস্ট করা ভিডিওটিতে মূলত ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর একটি প্যানেল আলোচনার অংশ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সীতাপতির এই বইটি নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হয়। আলোচনায় ওয়াদিয়াকে জনসংঘ ও বিজেপির ‘মূল অর্থদাতা’ (Original Funder) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর্থিক সম্পর্কের সমীকরণটি কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ওয়াদিয়ার সঙ্গে জনসংঘের তৎকালীন অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নানাজী দেশমুখের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানীর মতো বিজেপির শীর্ষ সারির নেতাদের সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্তরে গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষে বাজপেয়ী সরকার যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে, তখন ওয়াদিয়ার এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে (PMO) তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আপ-এর এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপির চেনা জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। বিজেপি সাধারণত জিন্নাহর আদর্শ বা পাকিস্তানের নাম নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে থাকে। সেই জায়গায় জিন্নাহর নিজের বংশধরের কাছ থেকে বিজেপির পূর্বসূরিদের আর্থিক সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনে আপ এটিকে বিজেপির ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় রাজনীতির এই অধ্যায়টি আসলে আদর্শগত বৈরিতার আড়ালে থাকা এক জটিল পারস্পরিক ও পারিবারিক মেলবন্ধনের চিত্র প্রদর্শন করে। নুশলি ওয়াদিয়া নিজে কখনো মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং ভারতের মাটিতে একজন প্রথম সারির পার্সি শিল্পপতি হিসেবেই তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তা সত্ত্বেও, জিন্নাহর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রটিকে হাতিয়ার করে বর্তমান রাজনীতিতে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলার এই কৌশল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/nation/jinnahs-grandson-was-the-predecessor-of-bjps-main-funder-aap-sharpens-attack-citing-historical-documents/feed/ 0 2848
ফড়নবিস ‘কুত্তা’ মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত: ‘মিসিং লিঙ্ক’ প্রকল্পে গাফিলতির অভিযোগে সরব শিবসেনা ও এনসিপি https://banglakal.com/nation/fadnavis-kutta-remark-ignites-political-row-shiv-sena-ncp-call-out-negligence-in-missing-link-project/ https://banglakal.com/nation/fadnavis-kutta-remark-ignites-political-row-shiv-sena-ncp-call-out-negligence-in-missing-link-project/#respond Fri, 10 Jul 2026 08:00:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2711 মুম্বই১০ জুলাই ২০২৬: ভারী বর্ষণের জেরে মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের নবনির্মিত কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট ‘মিসিং লিঙ্ক’ (Missing Link)-এ ধস নামা…

]]>
মুম্বই,১০ জুলাই ২০২৬: ভারী বর্ষণের জেরে মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের নবনির্মিত কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট ‘মিসিং লিঙ্ক’ (Missing Link)-এ ধস নামা এবং তা সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঝড় উঠেছে। এই পরিকাঠামোগত ব্যর্থতা ও গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া সমালোচকদের উদ্দেশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য এই রাজনৈতিক বাদানুবাদকে চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় ফড়নবিস সমালোচকদের ‘কুকুর’ এবং ‘ভাড়াটে তট্টু’ (ভাড়াটে ট্রোল) বলে কটাক্ষ করেন, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রবল বৃষ্টির কারণে ৬,৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের ‘মিসিং লিঙ্ক’ সেকশনের একটি টানেলের (সুড়ঙ্গ) বাইরে ভয়াবহ ধস নামে। এই ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয় এবং সুড়ঙ্গ পথটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধীরা এই প্রকল্পের মান ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

সমালোচনার জবাবে বিধানসভায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাতি যখন চলে, তখন পিছন থেকে কুকুররা ঘেউ ঘেউ করেই। কিছু ভাড়াটে তট্টু (ভাড়াটে ট্রোল) সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে এই মেগা প্রজেক্টের নামে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরা সরাসরি জনগণের অবমাননা এবং ক্ষমতার অহংকার বলে তীব্র নিন্দা শুরু করেছে।

ফড়নবিসের এই ভাষার প্রয়োগের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT) এবং শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি (SP)। শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, “৬,৬৯৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়ল, তিনজনের প্রাণ গেল, আর তার জবাব না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের যৌক্তিক প্রশ্নকে ‘কুকুরের ঘেউ ঘেউ’ বলছেন? এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতির পরিপন্থী।”

এনসিপি-র পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কীভাবে ‘মহারাষ্ট্রের অপমান’ হতে পারে? প্রথম বর্ষার বৃষ্টিও সহ্য করতে না পারা এই মেগা প্রজেক্ট সরাসরি প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দুর্নীতিরই স্পষ্ট প্রমাণ।

মহারাষ্ট্র সরকারের এই মনোভাবের সমালোচনা করেছেন বিজেপির কৌশলগত মিত্র ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রধান রাজ ঠাকরেও। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রাজ ঠাকরে সরাসরি দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে নিশানা করে বলেন, “সরকারের কাজের সমালোচনা করা বা মিসিং লিঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে কোনোভাবেই মহারাষ্ট্রকে অপমান করা নয়। আপনারা যখন বিরোধী আসনে ছিলেন, তখন কি নিজেরা প্রশ্ন তোলেননি? বর্তমান কেন্দ্রে বা রাজ্যে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাকে দেশদ্রোহী বা রাজ্য-বিরোধী তকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরির প্রসঙ্গ টেনে রাজ ঠাকরে আরও বলেন, “যদি কেউ ভক্তদের ১৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে তাকে ধর্ম-বিরোধী বলে দেওয়া হয়। ঠিক একইভাবে এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন তুললে বলা হচ্ছে মহারাষ্ট্রের অপমান। এই অহংকার সাধারণ মানুষ বরদাস্ত করবে না।”

]]>
https://banglakal.com/nation/fadnavis-kutta-remark-ignites-political-row-shiv-sena-ncp-call-out-negligence-in-missing-link-project/feed/ 0 2711
হুগলির পুরশুড়ায় ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ শাহ আলম খুনের নেপথ্যে টানা হুমকি ও তোলাবাজি https://banglakal.com/state/weeks-of-threats-extortion-and-violence-preceded-lynching-of-71-year-old-sheikh-shah-alam-in-bengals-hooghly/ https://banglakal.com/state/weeks-of-threats-extortion-and-violence-preceded-lynching-of-71-year-old-sheikh-shah-alam-in-bengals-hooghly/#respond Thu, 09 Jul 2026 10:52:40 +0000 https://banglakal.com/?p=2696 হুগলি/কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার পুরশুড়ার কেলেপাড়া গ্রামে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধ শেখ শাহ আলমকে পিটিয়ে হত্যার (Lynching) ঘটনার নেপথ্যে উঠে এলো এক দীর্ঘ ও সুপরিকল্পিত হিংসার খতিয়ান। শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশে নয়, বরং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারকে লাগাতার হুমকি, তোলাবাজি এবং শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকিং পোর্টাল ‘অল্ট নিউজ’ (Alt News)-এর এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৫ জুনের এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। কেলেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ শাহ আলমকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সমর্থক বলে মিথ্যা তকমা দিয়ে টার্গেট করা হয়েছিল। ঘটনার দিন এক চরমপন্থী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় একদল কর্মী-সমর্থক আচমকা শাহ আলমের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনে এবং তৃণমূলকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে চরম বর্বরতায় মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অল্ট নিউজের গ্রাউন্ড রিপোর্টে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং স্থানীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যে মূল বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

  • ধারাবাহিক হুমকি: ভোট-পরবর্তী বা রাজনৈতিক হিংসার আবহ তৈরি করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শাহ আলমের পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
  • জোরপূর্বক তোলাবাজি: স্থানীয় একটি উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শাহ আলমের ওপর আর্থিক জরিমানা বা মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর ক্ষোভ আরও বাড়ে।
  • পরিকল্পিত হামলা: ঘটনার দিন কোনো আকস্মিক বচসা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পনা মাফিক লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে শাহ আলমের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল যাতে তিনি কোনোভাবেই পালাতে না পারেন।

একজন ৭১ বছরের প্রবীণ নাগরিককে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অল্ট নিউজের রিপোর্ট অনুসারে, নিহতের পরিবার ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় নির্দিষ্ট অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

]]>
https://banglakal.com/state/weeks-of-threats-extortion-and-violence-preceded-lynching-of-71-year-old-sheikh-shah-alam-in-bengals-hooghly/feed/ 0 2696
‘ওরা বিজেপির লোক, সাধারণ মানুষ নয়’: নদিয়ায় পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে সরব মহুয়া https://banglakal.com/state/they-are-bjp-workers-not-ordinary-people-mahua-moitra-alleges-planned-attack-in-nadia/ https://banglakal.com/state/they-are-bjp-workers-not-ordinary-people-mahua-moitra-alleges-planned-attack-in-nadia/#respond Thu, 02 Jul 2026 06:50:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2533 নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে আসা একদল ব্যক্তি ডিম, সবজি ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে হামলার চেষ্টা করে। ঘটনার পর তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা সাধারণ মানুষ নন, তাঁরা বিজেপির কর্মী এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে লক্ষ্য করেই এই কর্মসূচি চালানো হয়।

মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যখন দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, তখন বাইরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে দীর্ঘ সময় কার্যালয়ের ভেতরেই থাকতে হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যালয় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং বাইরে থেকে ক্রমাগত স্লোগান দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মহুয়া মৈত্র। সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা সাধারণ প্রতিবাদকারী নন, বরং বিজেপির কর্মী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ভয় দেখানো এবং জনসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

অন্যদিকে, বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় অসন্তোষ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে দোষারোপ করার উদ্দেশ্যেই মহুয়া মৈত্র এই অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মীরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, জনগণের ক্ষোভকে রাজনৈতিক হামলা বলে তুলে ধরা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার অভিযোগ বা পাল্টা দাবির সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এ ধরনের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নিরাপদ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করা সব পক্ষেরই দায়িত্ব। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে এলে তবেই এই বিতর্কের সুরাহা সম্ভব হবে।

]]>
https://banglakal.com/state/they-are-bjp-workers-not-ordinary-people-mahua-moitra-alleges-planned-attack-in-nadia/feed/ 0 2533
জমি-বিবাদের জেরে পুকুরে বিষ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট—শান্তিনিকেতনে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে https://banglakal.com/state/land-dispute-causes-pond-to-become-poisoned-fish-worth-lakhs-of-rupees-destroyed-bjp-accused-in-shantiniketan/ https://banglakal.com/state/land-dispute-causes-pond-to-become-poisoned-fish-worth-lakhs-of-rupees-destroyed-bjp-accused-in-shantiniketan/#respond Sat, 14 Mar 2026 14:07:24 +0000 https://banglakal.com/?p=2358

বোলপুর: জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শান্তিনিকেতনের কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিত্যপুর গ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম সভাপতি নবকুমার লোহার অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে তাঁর পুকুরে বিষ ঢেলে লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট করে দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি জমি নিয়ে নবকুমার লোহার সঙ্গে এলাকার কিছু বিজেপি সমর্থকের বচসা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নবকুমারের দাবি, সেই হুমকিরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পুকুরে গিয়ে দেখেন একের পর এক মাছ ভেসে উঠছে। বিষয়টি দেখে তিনি প্রথমে হতবাক হয়ে যান।
নবকুমার লোহার জানান, তাঁর পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প-সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল। অনেক মাছের ওজন ছিল দুই থেকে চার কিলোগ্রাম পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ ক্যুইন্টাল মাছ পুকুরে ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। আচমকাই এত মাছ মারা যাওয়ায় তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।


ঘটনার কারণ জানতে পুকুর থেকে দুটি মৃত মাছ তুলে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় একটি পরীক্ষাগারে। নবকুমারের দাবি, পরীক্ষার রিপোর্টে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই বিজেপি কর্মীরা রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ ঢেলে দেয়। এর ফলে শুধু মাছই নয়, পুকুরের অন্যান্য জলজ প্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে। এতে পুকুরের স্বাভাবিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে, কিছু মাছ বাঁচানোর জন্য পুকুরে পাম্প বসিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবকুমার। তবে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতন থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ দায়ের হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতে বিজেপির নামে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হবেই।

]]>
https://banglakal.com/state/land-dispute-causes-pond-to-become-poisoned-fish-worth-lakhs-of-rupees-destroyed-bjp-accused-in-shantiniketan/feed/ 0 2358
বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন নীতীশ কুমার? https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/ https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/#respond Wed, 04 Mar 2026 18:02:57 +0000 https://banglakal.com/?p=2295 পাটনা, ৪ মার্চ: বিহারের রাজনৈতিক অন্দরে জোর জল্পনা—দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar কি এবার রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন? নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, ১৬ মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তিনি প্রার্থীপদ দাখিল করতে পারেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সম্ভাব্য শেষ তারিখ ৫ মার্চ।

এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিহারের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী একইসঙ্গে রাজ্য বিধানসভার সদস্য এবং সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য থাকা যায় না। ফলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।

NITISH KUMAR BIHAR CHIEF MINISTER

জেডিইউ-এনডিএ শিবিরে তৎপরতা

বর্তমানে Janata Dal (United)-এর প্রধান হিসেবে নীতীশ কুমার National Democratic Alliance-এর সমর্থনে বিহারে জোট সরকার পরিচালনা করছেন। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট উল্লেখযোগ্য জয় পায়। যদিও নীতীশ কুমার টানা দশমবারের মতো শপথ নেন, তবে আসনসংখ্যার বিচারে Bharatiya Janata Party একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভায় তাঁর সম্ভাব্য গমন জোট রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

উত্তরসূরি কে?

দলীয় সূত্রে আলোচনা চলছে, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু জেডিইউ-র ভেতরে উত্তরাধিকার প্রশ্নে নীরব তৎপরতা স্পষ্ট।

এদিকে রাজ্যসভায় বিহারের পাঁচটি আসন খালি হচ্ছে। জেডিইউ-র দখলে থাকা দুটি আসনের একটি থেকে বর্তমান সাংসদ Ram Nath Thakur-কে তৃতীয়বারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতরত্ন প্রাপ্ত কর্পূরী ঠাকুরের পুত্র।

দিল্লিমুখী নীতীশ—রাজনীতির নতুন অধ্যায়?

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতিতে এক অনিবার্য নাম। জোটবদল, কৌশলী অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। এবার যদি তিনি রাজ্যসভায় যান, তবে তা হবে রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে তাঁর ভূমিকার পুনর্নির্ধারণ।

প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজ্য রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত, নাকি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ? বিজেপির উত্থান ও এনডিএ-র ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে কৌশলগত বলেই মনে করছেন।

সরকারিভাবে এখনো কিছু ঘোষণা না হলেও পাটনার রাজনৈতিক মহল উত্তেজনায় টগবগ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাই স্পষ্ট করে দিতে পারে—বিহারের শীর্ষপদে কি সত্যিই আসছে নতুন মুখ, আর নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রা কি এবার দিল্লিমুখী?

]]>
https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/feed/ 0 2295
ভিড় নেই ফাঁকা চেয়ার! চৈতন্যের জন্মভূমিতে নাড্ডার পরিবর্তনযাত্রার উদ্বোধনেই থুবড়ে গেল মুখ বিজেপির https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/ https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/#respond Wed, 04 Mar 2026 11:48:42 +0000 https://banglakal.com/?p=2272
দিগনগরে পরিবর্তন যাত্রাতে খালি চেয়ার , ওয়াসিম আক্রামের তোলা চিত্র

কৃষ্ণনগর । ওয়াসিম আকরাম। ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধনী কর্মসূচি। জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে পতাকা নেড়ে সূচনা করেন এই যাত্রার। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, অমিত মাল্ব্যা সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তবে প্রত্যাশিত জনসমাগমের অভাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ফাঁকা চেয়ার ও রাজনৈতিক বার্তা

অনুষ্ঠানস্থলে বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল না। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও দাবি করেছে, এটি ছিল সাংগঠনিক সূচনা এবং বুথস্তরের কর্মীদের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া। শুরুতে জনগণের ভিড় থাকলেও নাড্ডার হিন্দিতে বক্তব্য শুরু হতেই জনগণ বেরোতে চালু করেদেই। কিন্তু বিরোধীরা একে “মাঠের বাস্তবতা” বলেই ব্যাখ্যা করছে।

video by Wasim Akram

SIR 2026 ও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ

এই কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। ‘SIR 2026’ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বহু হিন্দু ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন উপস্থিত কিছু মানুষ। তাঁদের দাবি, সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছিল বুথস্তরের কর্মীদের মারফতে।

কয়েকজন অভিযোগ করেন, “গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণেই আমাদের নাম কাটা হয়েছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি নথি বা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে আসেনি, তবু ঘটনাস্থলে এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, আর তারই জেরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংগঠনের চ্যালেঞ্জ না কি রাজনৈতিক অসন্তোষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষ যদি বাস্তবেই বড় আকার নেয়, তবে তা নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধনী দিনের চিত্র তাই দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—একদিকে ফাঁকা আসনের ছবি, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভের দাবি। বিজেপি নেতৃত্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ, এই অভিযোগগুলির যথাযথ উত্তর দেওয়া এবং মাঠের সমর্থন পুনর্গঠনের পথ খোঁজা।

রাজনীতির ময়দানে জনসমর্থনই শেষ কথা। সেই সমর্থন কতটা বাস্তব এবং কতটা প্রতীকী—তারই পরীক্ষার সূচনা যেন হয়ে গেল এই ‘ফাঁকা আসন’-এর মধ্য দিয়ে।

]]>
https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/feed/ 0 2272
১২ ফেব্রুয়ারি ভারত বনধ: আগামীকাল কি স্কুল ছুটি? জানুন পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের আপডেট https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/ https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/#respond Wed, 11 Feb 2026 18:19:50 +0000 https://banglakal.com/?p=2069 কলকাতা: আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। নতুন শ্রম কোড বাতিল, বেসরকারীকরণ রোধ এবং প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে দাবি আয়োজকদের। এই আবহে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন— আগামীকাল কি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে?

রাজ্যভিত্তিক পরিস্থিতির আপডেট

নিচে ভারতের প্রধান রাজ্যগুলোতে স্কুল খোলা বা বন্ধের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

  • পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা): রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুল বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কলকাতার বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল আগামীকাল পঠন-পাঠন স্থগিত রাখার বা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিভাবকদের নিজস্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের বার্তার দিকে নজর রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
  • কেরল: এই রাজ্যে বামপন্থী সংগঠনগুলোর প্রভাব বেশি থাকায় এবং ধর্মঘটের সমর্থনে বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
  • ওডিশা ও কর্ণাটক: ওডিশায় বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই অনেক জেলা প্রশাসন স্কুল ছুটির কথা বিবেচনা করছে। কর্ণাটকেও বিশেষ করে বেঙ্গালুরু ও মহীশূরে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
  • দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ: দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় স্কুল খোলা থাকার কথা। তবে স্কুল বাস ও পরিবহণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। উত্তরপ্রদেশেও সরকারিভাবে কোনো ছুটির ঘোষণা নেই।
  • পাঞ্জাব ও হরিয়ানা: এখানে কৃষক সংগঠনগুলো বনধকে সমর্থন জানানোয় গ্রামবাংলার দিকে জনজীবন ব্যাহত হতে পারে, তবে শহরাঞ্চলে স্কুল খোলা রাখারই প্রাথমিক ইঙ্গিত রয়েছে।

কী খোলা আর কী বন্ধ থাকবে?

বনধের প্রভাব জনজীবনের বিভিন্ন স্তরে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও জরুরি পরিষেবাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিভাগস্থিতি (সম্ভাবনা)
ব্যাঙ্ক পরিষেবাপাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের কর্মীরা ধর্মঘটে সামিল হওয়ায় লেনদেন ব্যাহত হতে পারে। এটিএম পরিষেবা সচল থাকবে।
গণপরিবহণসরকারি ও বেসরকারি বাস, অটো ও ট্যাক্সি চলাচল অনেক জায়গায় সীমিত হতে পারে।
জরুরি পরিষেবাহাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান ও দমকল স্বাভাবিক থাকবে।
বিমান ও রেলউড়ান ও ট্রেন পরিষেবা সচল থাকবে, তবে স্টেশনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ পরামর্শ: বনধের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল বা পিকেটিংয়ের জেরে যানজট হতে পারে। তাই আগামীকাল বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া এবং স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো শেষ মুহূর্তের বিজ্ঞপ্তি (Notification) দেওয়া হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

]]>
https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/feed/ 0 2069