Education – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Fri, 27 Feb 2026 15:12:08 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 Education – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 বাবার শরীরে মারণ রোগ, অপরাধ কী শিশুর? স্কুল থেকে ছাত্রকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ICDS দিদিমণির বিরুদ্ধে https://banglakal.com/state/father-has-fatal-disease-is-it-the-childs-fault-icds-didimani-accused-of-expelling-student-from-school/ https://banglakal.com/state/father-has-fatal-disease-is-it-the-childs-fault-icds-didimani-accused-of-expelling-student-from-school/#respond Fri, 27 Feb 2026 15:11:14 +0000 https://banglakal.com/?p=2232 নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট: সমাজে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হয় রোজ, অথচ বাস্তবের ছবিটা যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে। বাবা দুরারোগ্য ব্যাধি এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত, এই ‘অপরাধে’ চার বছরের এক শিশুকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (ICDS) থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক দিদিমণির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের মথুরাপুর এলাকায়। ইতিউতি ছিছিক্কার শুরু হয়েছে এই ঘটনায়।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​স্থানীয় সূত্রে খবর, মথুরাপুরের এক বাসিন্দা গত কয়েকদিন ধরে এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাবার অসুস্থতার মধ্যেই প্রতিদিনের মতো ওই এলাকার আইসিডিএস কেন্দ্রে পড়তে গিয়েছিল তার চার বছরের সন্তান। অভিযোগ, শিশুটি স্কুলে পৌঁছাতেই সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত দিদিমণি ছবি হালদার তাকে স্কুল থেকে চলে যেতে বলেন।

​বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়লে তার মা তাকে নিয়ে পুনরায় স্কুলে যান। শিশুটির মায়ের দাবি, দিদিমণি মুখের ওপর জানিয়ে দেন— “তোমার স্বামীর ওই রোগ হয়েছে, তাই তোমার ছেলেকে আর স্কুলে রাখা যাবে না।” ### প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার

অপমানে ও ভয়ে শিশুটি এবং তার পরিবার ভেঙে পড়লেও দমে যাননি তারা। উপযুক্ত বিচারের আশায় বসিরহাট মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে ই-মেলের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট CDPO অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির মা। পরিবারের দাবি একটাই, অন্য পাঁচটা শিশুর মতো তাদের সন্তানও যেন সুস্থভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। কোনো রোগের সামাজিক কলঙ্ক যেন শিশুর ভবিষ্যতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

​”আমার বাচ্চাটার কী দোষ? ওর বাবা অসুস্থ বলে ও কেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে?” — আর্তনাদ শিশুটির মায়ের।

​অভিযোগ অস্বীকার দিদিমণির

​যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দিদিমণি ছবি হালদার। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমি কোনো অন্যায় করিনি বা বাচ্চাটিকে বের করে দিইনি। আমার কাছে ছবি তোলা আছে। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে বদনাম করা হচ্ছে।”

​সামাজিক ও আইনি অবস্থান

​চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তাঁর পরিবারের সাথে মেলামেশা করলে এই রোগ ছড়ায় না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এইচআইভি-র কারণে কাউকে শিক্ষা বা কাজ থেকে বঞ্চিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

]]>
https://banglakal.com/state/father-has-fatal-disease-is-it-the-childs-fault-icds-didimani-accused-of-expelling-student-from-school/feed/ 0 2232
স্বপ্ন জয়ের গল্প: আতিয়া রহমানের WBCS সাফল্য এবং নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক https://banglakal.com/state/dreams-of-success/ https://banglakal.com/state/dreams-of-success/#respond Thu, 12 Feb 2026 14:36:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2077 ভূমিকা: ইতিহাস রচনার এক অনন্য অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে ২০২১ সালের WBCS পরীক্ষার ফলাফল একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। কলকাতার এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজে নারীশক্তি ও প্রতিনিধিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পারিবারিক পটভূমি: স্বপ্নের বীজ বপন

আতিয়া রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতার এক যৌথ পরিবারে। তার মা ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে জনসেবা এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন। যৌথ পরিবারের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে তিনি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা পেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তার পরিবারের সমর্থন ছিল অসাধারণ। আতিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন যে পরিবার পাশে না থাকলে এই কঠিন যাত্রায় সফল হওয়া সম্ভব হতো না। এই পারিবারিক সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

শিক্ষাজীবন: মেধার পরিচয়

আতিয়ার শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত সফল এবং সুপরিকল্পিত:

মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর:

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক: মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড একাডেমি (২০১৪-২০১৬)
  • স্নাতক (সম্মান): আশুতোষ কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ভূগোল বিভাগ (২০১৯, প্রথম শ্রেণি)
  • স্নাতকোত্তর: বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ, ভূগোল বিভাগ (২০২১, ৭৩%)

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময়েই WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০২১ সালে M.Sc ডিগ্রি লাভের সময়কালেই তিনি WBCS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা তার সময় ব্যবস্থাপনা এবং একাগ্রতার চরম পরিচয় বহন করে।

WBCS ২০২১: প্রতিযোগিতা এবং সাফল্য

পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক। ২০২১ সালে প্রায় ২৮৮ জন প্রার্থীকে ব্যক্তিত্ব যাচাই পর্বের জন্য ডাকা হয়েছিল। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।

তার পরীক্ষার বিবরণ:

  • গ্রুপ-বি (WBPS): ৪র্থ র‍্যাঙ্ক (দ্বিতীয় প্রচেষ্টা)
  • নির্বাচিত পদ: ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP)
  • গ্রুপ-এ (Executive): উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)
  • গ্রুপ-সি ও ডি: উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)

প্রস্তুতির কৌশল: সাফল্যের মূলমন্ত্র

আতিয়া রহমানের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং সুপরিকল্পিত। তিনি শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং ‘স্মার্ট ওয়ার্ক’ এবং ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

১. সমন্বিত অধ্যয়ন পদ্ধতি

অধিকাংশ পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি এবং মেইনস পরীক্ষাকে আলাদাভাবে দেখেন। কিন্তু আতিয়া প্রথম থেকেই মেইনস পরীক্ষার সিলেবাসকে ভিত্তি করে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মেইনস পরীক্ষার জন্য গভীর জ্ঞান অর্জন করলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার MCQ সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।

২. ভূগোল: ঐচ্ছিক বিষয়ের সুবিধা

ভূগোল তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের বিষয় হওয়ায় তিনি একেই ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। WBCS মেইনস পরীক্ষায় ৪০০ নম্বরের দুটি ঐচ্ছিক পেপার থাকে, যা সাফল্যের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।

ভূগোলে নম্বর বাড়ানোর কৌশল:

  • মানচিত্র এবং ডায়াগ্রামের সর্বোচ্চ ব্যবহার
  • প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা বজায় রাখা
  • নিজস্ব নোট তৈরি এবং নিয়মিত রিভিশন
৩. বই নির্বাচন এবং রিসোর্স ব্যবস্থাপনা

আতিয়া অসংখ্য বই পড়ার চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানসম্মত বই বারবার পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন:

  • আধুনিক ভারতের ইতিহাস: Spectrum, Arihant Magbook
  • ভূগোল: NCERT ১১ ও ১২, Atlas, ‘Know Your State’
  • ভারতীয় সংবিধান: M. Laxmikanth
  • অর্থনীতি: Nitin Singhania
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: Shamim Sarkar
  • কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: YouTube চ্যানেল ‘Parcham’, খবরের কাগজের সম্পাদকীয়

৪. ব্যক্তিত্ব যাচাই: মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

আতিয়া ‘WBCS Made Easy’ এবং ‘Apti Plus’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে মক ইন্টারভিউ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। তার প্রকৃত ইন্টারভিউ বোর্ড অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল:

  • ব্যক্তিগত শখ (আবৃত্তি, জীবনানন্দ দাশের কবিতা)
  • কারিগরি জ্ঞান (টেকটোনিক প্লেট থিওরি)
  • সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি (সুফিবাদ, শিয়া-সুন্নি পার্থক্য)
  • সংবিধান (প্রস্তাবনা পাঠ)

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয়: একজন মুসলিম নারীর সংগ্রাম

আতিয়া রহমানের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের বহু সামাজিক সংকীর্ণতা ভেঙে ফেলার এক সাহসী পদক্ষেপ।

পুলিশ সার্ভিস: পুরুষশাসিত ক্ষেত্রে নারীর প্রবেশ

প্রথমে আতিয়া নিজেও ভেবেছিলেন পুলিশ সার্ভিস সম্ভবত তার জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে সমাজের অর্ধেক অংশ প্রশাসনের বাইরে থাকলে সুশাসন সম্ভব নয়। একজন নারী হিসেবে তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে আরও বেশি সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবেন।

ধর্মীয় পরিচয় এবং পেশাগত দায়িত্ব

হিজাব এবং পুলিশ ইউনিফর্মের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নে আতিয়া অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। ইউনিফর্ম হলো সংবিধান এবং আইনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক, যা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: IPS হওয়ার লক্ষ্য

DSP হিসেবে নির্বাচিত হলেও আতিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বর্তমানে IPS (Indian Police Service) হওয়ার লক্ষ্যে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করে যে সাফল্য একটি ধারাবাহিক যাত্রা।

বর্তমানে তিনি ব্যারাকপুরের স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং একজন দক্ষ মাঠপর্যায়ের অফিসার হিসেবে নিজেকে তৈরি করছেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশ

আতিয়া রহমান তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন WBCS পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন:

১. সময় ব্যবস্থাপনা: কত ঘণ্টা পড়া হচ্ছে তার চেয়ে কতটা মনোযোগ দিয়ে পড়া হচ্ছে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. বিশ্লেষণাত্মক লিখন: মেইনস পরীক্ষায় শুধু তথ্য নয়, সঠিক বিশ্লেষণ এবং কাঠামোগত উপস্থাপন প্রয়োজন।

৩. মক টেস্ট: প্রচুর মক টেস্ট দিয়ে নিজের ভুল সংশোধন করা অপরিহার্য।

৪. আত্মবিশ্বাস: দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্বে ‘সেলফ-মোটিভেশন’ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিনিধিত্ব

আতিয়া রহমানের এই অর্জন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসমাজে উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। TDN Bangla সহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা তার সাফল্যকে মুসলিম মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

যখন আতিয়ার মতো মেধাবীরা প্রশাসনের উচ্চপদে বসেন, তখন তা কেবল একটি পদ পূরণ করে না, বরং সমাজের বঞ্চিত অংশের মনে আশার আলো জাগায়। তার সাফল্য প্রমাণ করে যে সুযোগ এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় বাধাই অজেয় নয়।

উপসংহার: নতুন পথের দিশারী

আতিয়া রহমানের জীবনগল্প আমাদের শিখিয়ে দেয় যে স্বপ্ন দেখার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। একজন মুসলিম নারী হিসেবে তিনি যে প্রতিকূলতা জয় করেছেন এবং যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন, তা রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তার কৌশলগত প্রস্তুতি, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনসেবার প্রতি অদম্য স্পৃহা তাকে আরও উচ্চতর শিখরে নিয়ে যাবে। আতিয়া রহমান আজ নারীশক্তি, প্রতিনিধিত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত উদাহরণ, যিনি আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন।

মূল শিক্ষা:

  • মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই
  • পারিবারিক সমর্থন সাফল্যের মূল ভিত্তি
  • সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব
  • স্মার্ট ওয়ার্ক এবং ধারাবাহিকতা সফলতার চাবিকাঠি
  • স্বপ্ন দেখার এবং তা পূরণ করার কোনো সীমা নেই

আতিয়া রহমানের এই সাফল্য শুধু তার একার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাজারো সংগ্রামী তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার যাত্রা প্রমাণ করে যে সঠিক দিক-নির্দেশনা, পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

]]>
https://banglakal.com/state/dreams-of-success/feed/ 0 2077
আসানসোলে শুরু হল তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব https://banglakal.com/literature/asansol-has-started-the-tree-days-international-children-cholo-chitra-festival/ https://banglakal.com/literature/asansol-has-started-the-tree-days-international-children-cholo-chitra-festival/#respond Sat, 22 Mar 2025 07:15:18 +0000 https://banglakal.com/?p=490

শুক্রবার থেকে আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী—মলয় ঘটক, ইন্দ্রনীল সেন, ও চন্দ্রনাথ সিনহা, এবং আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক, এবং আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ। এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে আগামী রবিবার, ২৩ মার্চ পর্যন্ত। তবে দর্শকদের বিশেষ চাহিদার কারণে সোমবার আরও দুটি শো আয়োজন করা হবে। সেই শোগুলিতে দেখানো হবে সত্যজিৎ রায়ের দুটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র—“সোনার কেল্লা” এবং “হীরক রাজার দেশে”। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানান, এই বছর প্রথমবার আসানসোলে শিশু চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী বছর থেকে শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালারও আয়োজন করা হবে, যাতে তারা চলচ্চিত্রের জগৎ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা লাভ করতে পারে। আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে সরকার গঠনের পরে আসানসোলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিন্তু চলচ্চিত্র উৎসব কখনও আয়োজিত হয়নি। এবার সেটাও শুরু হলো।” তিনি আরও জানান, দর্শকদের চাহিদার কারণে উৎসবের নির্ধারিত সময়ের পরেও অতিরিক্ত শো দেখানো হবে। আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” উৎসবের প্রথম দিন দেখানো হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি “সোনার কেল্লা”। এই উৎসবের আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শিশু কিশোর একাডেমি, এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। সহযোগিতায় রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও আসানসোল ফিল্ম একাডেমি। আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে আসানসোলের শিশু-কিশোররা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র দেখার আনন্দই উপভোগ করবে না, বরং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তাদের আগ্রহ ও জ্ঞানও বাড়বে। এই উদ্যোগ আসানসোলের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ

]]>
https://banglakal.com/literature/asansol-has-started-the-tree-days-international-children-cholo-chitra-festival/feed/ 0 490