FreeSpeech – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Mon, 10 Aug 2026 11:05:42 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.3 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2026/08/cropped-645620059_1464002491756680_8204546671402832666_n.jpg?fit=32%2C32&ssl=1 FreeSpeech – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 দারুল উলুম দেওবন্দে ‘জলাভিষেক’-এর ঘোষণার চেয়ে সাংবাদিকের খবরেই বেশি উদ্বিগ্ন পুলিশ! উত্তরপ্রদেশে বাকস্বাধীনতা নিয়ে জোর বিতর্ক https://banglakal.com/nation/north-india/police-more-worried-about-journalists-post-than-the-announcement-of-jalabhishek-at-darul-uloom-deoband-debate-on-free-speech-in-up/ https://banglakal.com/nation/north-india/police-more-worried-about-journalists-post-than-the-announcement-of-jalabhishek-at-darul-uloom-deoband-debate-on-free-speech-in-up/#respond Mon, 10 Aug 2026 11:05:38 +0000 https://banglakal.com/?p=3643 কলকাতা, ১০ অগাস্ট:

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় একটি বিতর্কিত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দল সম্প্রতি ঘোষণা করে যে, তারা ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দে গিয়ে ‘জলাভিষেক’ করবেন। এই উসকানিমূলক ঘোষণার খবর প্রকাশ করার পর, মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে পুলিশ উলটে খবরটি প্রকাশকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে উত্তরপ্রদেশে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানা গিয়েছে, সাংবাদিক শচীন গুপ্ত তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে হিন্দু রক্ষা দলের ওই বিতর্কিত ঘোষণার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে বলা হয়েছিল যে, হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল নিয়ে গিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দে তা অর্পণ করা হবে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাহারানপুর পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেল এক্স কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশে শচীন গুপ্তের পোস্টটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং অবিলম্বে সেটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, পুলিশের তরফে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে সাংবাদিক শচীন গুপ্তের আইপি অ্যাড্রেস, লগ-ইন ও লগ-আউটের সময়কাল, মোবাইল নম্বর এবং আইএমইআই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও তলব করা হয়েছে।

সাহারানপুর ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাইবার ক্রাইম সেলের তদন্তকারী আধিকারিক সুরেন্দ্র কুমার এক্স কর্তৃপক্ষকে এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন। নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, ওই ভিডিওটিতে থাকা বার্তা স্থানীয় বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং তা সাহারানপুর জেলার শান্তি, শৃঙ্খলা ও জনজীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। পুলিশ এক্স-এর কাছে ১ অগাস্ট থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টের যাবতীয় প্রযুক্তিগত তথ্য তদন্তের স্বার্থে চেয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন, যেখানে ভিডিওটির মূল বক্তা প্রকাশ্যে একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানে গিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালানোর কথা বলছেন, সেখানে পুলিশ কেন সেই মূল উৎসকে প্রতিহত না করে সাংবাদিকের অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করতে ব্যস্ত।

এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন আরেক পরিচিত সাংবাদিক পীযূষ রাই। তিনি পুরো বিষয়টিকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার চরম অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন। পীযূষ রাই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে লিখেছেন যে, যারা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উলটে সেই খবরটি মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য একজন সাংবাদিককে হেনস্থা করছে। তাঁর মতে, এটি সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা এবং এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উসকানিমূলক কার্যকলাপকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং শচীন গুপ্তও। তিনি জানিয়েছেন, পিঙ্কি চৌধুরীর দলের এই প্রকাশ্য ঘোষণার কারণে স্থানীয় প্রশাসন যতটা না উদ্বিগ্ন, তার চেয়ে অনেক বেশি চাপে পড়েছে তাঁর একটি সাধারণ এক্স পোস্ট নিয়ে। তাঁর কথায়, পুলিশ মনে করছে তাঁর পোস্টের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, কিন্তু যারা প্রকাশ্যে এমন উসকানিমূলক ঘোষণা করে সম্প্রীতি নষ্ট করার হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এই পুরো পরিস্থিতি উত্তরপ্রদেশে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে যে, কোনোভাবেই জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে আইনের যে কঠোর প্রয়োগ হওয়ার কথা, তা এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত বলে মনে করছেন সমালোচকরা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর সরকারের এই ধরনের চাপ সৃষ্টির ঘটনা দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে কলুষিত করে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/nation/north-india/police-more-worried-about-journalists-post-than-the-announcement-of-jalabhishek-at-darul-uloom-deoband-debate-on-free-speech-in-up/feed/ 0 3643
উত্তরপ্রদেশে এক সরকারি স্কুল শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, কাশ্মীরের পাহেলগাঁও হামলা নিয়ে করা তাঁর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর। https://banglakal.com/communalism/uttar-pradesh-teacher-suspended-over-facebook-post-on-patriotism-sparks-controversy/ https://banglakal.com/communalism/uttar-pradesh-teacher-suspended-over-facebook-post-on-patriotism-sparks-controversy/#respond Mon, 05 May 2025 10:37:53 +0000 https://banglakal.com/?p=738

প্রাথমিক বিদ্যালয় মালোঘাটের সহকারী শিক্ষিকা জেবা আফরোজের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে, যদিও অনেকের মতে, তাঁর পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি ভারতের মুসলিমদের দেশভক্তি রক্ষার চেষ্টার জন্য অন্যায়ভাবে টার্গেট হচ্ছেন। জেবা তাঁর এখন মুছে ফেলা পোস্টে লিখেছিলেন, ‘‘দেশপ্রেমিকরা সবসময় মুসলিম, আর বিশ্বাসঘাতকরা সবসময় সংঘী।” পাশাপাশি, আগ্রায় গুলফাম নামে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডেরও তিনি তীব্র নিন্দা করেছিলেন। তাঁর পোস্টটি মুসলিমদের দেশভক্তি নিয়ে বারবার ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে লেখা হলেও, ডানপন্থী মহলে তা উস্কানিমূলক বলে চিহ্নিত হয় এবং চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং স্থানীয় ফোরামে পোস্টটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে, জনমত তৈরি হয় তাঁর বরখাস্তের দাবিতে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেবাকে বরখাস্ত করেন, জানান, ‘‘একজন শিক্ষকের উচিত শান্তি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। এই ধরনের মন্তব্য পরিষেবা আচরণবিধির লঙ্ঘন।”

এই বরখাস্তের ঘটনায় বৃহত্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকার কর্মী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, জেবার পোস্ট রাজনৈতিক অভিব্যক্তি, ঘৃণামূলক ভাষা নয়। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মের প্রয়োগ কি সবার ক্ষেত্রেই সমান? কারণ বহু ঘৃণামূলক পোস্টের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘‘প্রতিদিন মুসলিমদের দেশদ্রোহী বলা হয়, তখন প্রশাসন চুপ থাকে। আর আমরা যখন আমাদের দেশপ্রেমের কথা বলি, তখন তা সাম্প্রদায়িকতার তকমা পায়। এটি দ্বিচারিতা।” আইন বিশেষজ্ঞ ইরফান হায়দার জানান, ‘‘সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত, তবে নিয়ম সবার জন্য সমান হতে হবে। রাজনৈতিক বক্তৃতা সংবিধানিক অধিকার, যতক্ষণ না তা হিংসা উসকে দেয়।” বিগত কয়েক বছরে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বহু মুসলিম পেশাজীবীকে তাঁদের পরিচয় রক্ষায় মত প্রকাশের জন্য শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে — জেবার ঘটনা সেই ধারারই অংশ।

জেবার সহকর্মীরা তাঁকে সহানুভূতিশীল ও সৎ বলে বর্ণনা করেছেন, ১২ বছরের কর্মজীবনে তাঁর কোনো কলঙ্কের ইতিহাস নেই। বরখাস্তের ফলে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি, তাঁর পরিবারও হতবাক।

তদন্ত চলছে, তবে এই বিতর্ক এক বড় প্রশ্ন উসকে দিয়েছে: ভারতের মুসলিমরা কি তাঁদের দেশপ্রেম এবং যন্ত্রণার কথা বিনা ভয়ে বলতে পারবেন? অনেকের কাছে জেবার ঘটনা কেবল এক ফেসবুক পোস্টের নয়, বরং একটি মেরুকৃত ভারতের মতপ্রকাশ ও পরিচয়ের সংকুচিত পরিসরের প্রতীক।

]]>
https://banglakal.com/communalism/uttar-pradesh-teacher-suspended-over-facebook-post-on-patriotism-sparks-controversy/feed/ 0 738