Gaza Strip – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Fri, 03 Jul 2026 06:07:52 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2026/08/cropped-645620059_1464002491756680_8204546671402832666_n.jpg?fit=32%2C32&ssl=1 Gaza Strip – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 গাজার ডিজিটাল আর্কাইভ: যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইতিহাস সংরক্ষণের নতুন অধ্যায় https://banglakal.com/middle-east/gaza-war-digital-archive-website/ https://banglakal.com/middle-east/gaza-war-digital-archive-website/#respond Fri, 03 Jul 2026 07:30:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2596 ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধ শেষ হলেও যুদ্ধের স্মৃতি শেষ হয় না। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষের জীবন, বিধ্বস্ত পরিবার কিংবা যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ফিরিয়ে আনা যায় না। আধুনিক যুগে তাই যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি, ভিডিও, সাক্ষ্য এবং ডিজিটাল নথি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশ্যে আসে একটি বহুল আলোচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—archivegenocide.com। এটি পরিচালনা করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের @IsraelExposedx উদ্যোগ, যারা দাবি করছে যে গাজা যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন ডিজিটাল আর্কাইভ তারা তৈরি করেছে।

ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ৬৪ হাজার ৫০০-এরও বেশি ভিডিও, ১৭ হাজার ৯০০-এর বেশি ছবি, অসংখ্য জিওলোকেশন ডেটা, ভিকটিম তালিকা, লাইভ ম্যাপ, অনুসন্ধানযোগ্য ডাটাবেস এবং ৩০০-এরও বেশি সাংবাদিক ও উৎসের তথ্য সংরক্ষিত হয়েছে। এর লক্ষ্য কেবল যুদ্ধের দৃশ্য সংরক্ষণ নয়; বরং ভবিষ্যতের গবেষণা, মানবাধিকার তদন্ত এবং ইতিহাস রচনার জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরি করা।

এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২০২৫ সালের শেষ দিকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের বড় ধরনের সংঘর্ষ কমলেও গাজার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, পুনর্গঠন ধীরগতিতে চলছে এবং বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবরও নিয়মিত সামনে আসছে। ফলে যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৪০ জনের বেশি মানুষ জিম্মি হন। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা পরবর্তী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে।

এই দীর্ঘ সংঘাতের সময় হাজার হাজার ভিডিও ধারণ করা হয়। স্মার্টফোন, ড্রোন, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে প্রতিদিন ধারণ হয়েছে বিমান হামলা, ভবন ধস, হাসপাতালের অবস্থা, ত্রাণ কার্যক্রম, বাস্তুচ্যুতি, উদ্ধার অভিযান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধের অসংখ্য মুহূর্ত।

সমস্যা ছিল, এসব উপাদানের বড় অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব এবং ব্যক্তিগত ক্লাউড স্টোরেজে। অনেক পোস্ট মুছে গেছে, কিছু অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়েছে, আবার কিছু ভিডিও হারিয়ে গেছে সময়ের সঙ্গে। ফলে নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্য খুঁজে পাওয়া গবেষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থার জন্য কঠিন হয়ে উঠছিল।

এই পরিস্থিতি থেকেই তৈরি হয়েছে archivegenocide.com।

ওয়েবসাইটটি মূলত একটি সার্চযোগ্য ডিজিটাল ডাটাবেস। ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঘটনার ভিডিও ও ছবি খুঁজে দেখতে পারেন।

এখানে রয়েছে—

  • ৬৪,৫০০-এর বেশি ভিডিও
  • ১৭,৯০০-এর বেশি ছবি
  • তারিখ অনুযায়ী অনুসন্ধান
  • ভৌগোলিক অবস্থান (Geolocation)
  • লাইভ ম্যাপ
  • ভিকটিম সেকশন
  • উৎসভিত্তিক ফিল্টার
  • সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য
  • টরেন্টের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকৃত ব্যাকআপ ব্যবস্থা

প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কোনো কনটেন্ট মুছে গেলেও এই ব্যাকআপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এই আর্কাইভের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর মেটাডেটা।

প্রতিটি ভিডিও বা ছবির সঙ্গে সম্ভাব্য তারিখ, স্থান, উৎস, বর্ণনা এবং কখনো কখনো জিওলোকেশন যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গবেষকরা নির্দিষ্ট সময়, এলাকা বা ঘটনার ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

মানবাধিকার গবেষণা, সাংবাদিকতা, সংঘাত বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স হতে পারে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত রয়েছে। অবকাঠামো, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, যুদ্ধের প্রমাণ সংরক্ষণ ভবিষ্যতের বিচার ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

archivegenocide.com একমাত্র উদ্যোগ নয়।

এর আগে Bearing Witness: Gaza Archive, Accountability Archive, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও গাজা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, টেলিগ্রাম চ্যানেল, মৌখিক সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও সংরক্ষণ করছে।

তবে নতুন এই আর্কাইভটি আকার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে লাইভ ম্যাপ, অনুসন্ধানযোগ্য ডাটাবেস এবং বিকেন্দ্রীকৃত ব্যাকআপ ব্যবস্থাকে অনেকেই এর বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

ওয়েবসাইটটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রকাশনা-সংক্রান্ত পোস্টটি লক্ষাধিক নয়, বরং মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে।

সমর্থকদের একটি অংশ বলছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যুদ্ধের বাস্তবতা সংরক্ষণ করা জরুরি। তাদের ভাষায়, যখন প্রত্যক্ষদর্শীরা হারিয়ে যান বা তথ্য মুছে যায়, তখন ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকে।

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—এই আর্কাইভে অন্তর্ভুক্ত তথ্য কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, যদি একটি আর্কাইভ কেবল এক পক্ষের অভিযোগ বা নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বেশি তুলে ধরে, তাহলে সেটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সম্পাদনার নীতিমালা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক তদন্ত চলছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন সংঘাত চলাকালে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে এবং হামাস বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ ভবিষ্যতের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গাজা যুদ্ধের সময় তথ্য সংগ্রহ মোটেও সহজ ছিল না।

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিদ্যুৎ সংকট, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন—সবকিছুই তথ্য সংরক্ষণকে কঠিন করে তুলেছে।

অনেক ভিডিও এমন মানুষের মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে, যারা নিজেরাই জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন।

আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট অপসারণ, কপিরাইট দাবি কিংবা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই কারণেই অনেক গবেষক দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন আর্কাইভিংয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ডিজিটাল আর্কাইভ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনের অনুসন্ধান, একাডেমিক গবেষণা, সংঘাত বিশ্লেষণ, সাংবাদিকতা এবং ভবিষ্যতের সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের মতো উদ্যোগে এ ধরনের সংরক্ষিত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একই সঙ্গে অনেক গবেষক মনে করেন, সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরতে হলে সব পক্ষের ভুক্তভোগী, বেসামরিক নাগরিক এবং বিভিন্ন ঘটনার দলিল সমান গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একপাক্ষিক তথ্য ভবিষ্যতের ইতিহাসকে অসম্পূর্ণ করে তুলতে পারে।

এই ধরনের একটি বিশাল ডিজিটাল আর্কাইভ পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—

  • তথ্যের স্বাধীন যাচাই
  • সাইবার নিরাপত্তা
  • দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ
  • তথ্য বিকৃতি প্রতিরোধ
  • ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা
  • আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুসরণ

এসব বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আর্কাইভের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

যুদ্ধ শেষ হলেও তার স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানে মূলত সংরক্ষিত দলিল, ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে archivegenocide.com শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি যুদ্ধের সময় ধারণ করা বিপুল ডিজিটাল উপাদানকে এক জায়গায় সংরক্ষণের একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ।

তবে এর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং কতটা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংঘাতের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্যকে যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতের গবেষণা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মানবিক মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের দলিল সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল আর্কাইভ আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/middle-east/gaza-war-digital-archive-website/feed/ 0 2596
গাজায় ফের গণহত্যার ছবি: এক সপ্তাহে ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত https://banglakal.com/international/photos-of-another-massacre-in-gaza-52-palestinians-killed-in-one-week/ https://banglakal.com/international/photos-of-another-massacre-in-gaza-52-palestinians-killed-in-one-week/#respond Tue, 03 Feb 2026 16:20:11 +0000 https://banglakal.com/?p=1898 রামাল্লাহ | ৩ ফেব্রুয়ারি: যুদ্ধবিরতির পরও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে (২৭ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইসরায়েলি বোমা হামলায় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৮৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১৩৬ জন।ওআইসি’র ‘ইসরায়েলি অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মিডিয়া অবজারভেটরি’র ১১৪তম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সমাবেশ, বাড়িঘর ও শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ গত যুদ্ধবিরতির আগের গণহত্যার দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই হামলাগুলো বেসামরিক এলাকা ও জনসমাগমের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।একই সপ্তাহে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। অবজারভেটরির হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে পশ্চিম তীরে মোট ১,২৮৫টি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০৯টি অভিযান, ১১০টি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং ৮০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস করে ৩৫টি বাড়ি দখল করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি সহায়তা ও সুরক্ষা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।ওআইসি’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭২,৮৮৬ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহের হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

]]>
https://banglakal.com/international/photos-of-another-massacre-in-gaza-52-palestinians-killed-in-one-week/feed/ 0 1898
গাজায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দিবে WHO https://banglakal.com/international/who-aims-to-vaccinate-40000-children-in-gaza-strip/ https://banglakal.com/international/who-aims-to-vaccinate-40000-children-in-gaza-strip/#respond Thu, 20 Nov 2025 13:03:00 +0000 https://banglakal.com/?p=1212 বাংলাকাল, ওয়েব ডেস্ক: গাজায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দিবে WHO। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা ফিলিস্তিনের গাজায় ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ইতিমধ্যেই ১০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম আট দিনে তিন বছরের কম বয়সী ১০ হাজারের বেশি শিশুকে এরই মধ্যে টিকা দিয়েছে সংস্থাটি এবং তার অংশীদাররা । এক বিবৃতি জারি করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তারা।

এই প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান  আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায় শনিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে যে এই টিকা শিশুদের হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, যক্ষ্মা, পোলিও, রোটাভাইরাস এবং নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা করবে।


যদিও যুদ্ধবিরতির এই আবহেই গাজায় প্রায় ৪০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল বলেই দাবি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। যার কারণে অনেক সময় কাজে চালিয়ে যেতে বাঁধা পেতে হচ্ছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রায় ৪০০টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) গাজার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৯৩টি নথিভুক্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান ও কামান হামলা, স্থানীয় বাসিন্দাদের ও তাদের বাড়িঘরের ওপর আক্রমণ এবং বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি আক্রমণের ঘটনা।

]]>
https://banglakal.com/international/who-aims-to-vaccinate-40000-children-in-gaza-strip/feed/ 0 1212