#HumanRights – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Sun, 01 Feb 2026 04:42:56 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.1 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 #HumanRights – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলি হামলায় ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত, ছয় শিশুসহ বহু নিরীহ প্রাণহানি https://banglakal.com/world/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%98%e0%a6%a8/ https://banglakal.com/world/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%98%e0%a6%a8/#respond Sun, 01 Feb 2026 04:37:19 +0000 https://banglakal.com/?p=1799 গাজা,১ ফেব্রুয়ারি : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও এই হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি শনিবার ভোর থেকে, যা অক্টোবর ২০২৫-এ কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সবচেয়ে মারাত্মক দিনগুলির একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হামলাগুলি গাজা সিটি এবং খান ইউনিসে কেন্দ্রীভূত ছিল, যার মধ্যে তাঁবু শিবির, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সীমিত ভাবে পুনরায় খোলার কথা রয়েছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে একাধিক হামলায় মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু শিবিরে একটি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি পরিবারের তিন শিশু এবং তাদের দাদা রয়েছেন। নাসের হাসপাতালে মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়েছে এবং হামলায় আগুন লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় পাঁচজন নিহত হন—তিন শিশু, তাদের খালা এবং দাদি।

শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানিয়েছেন, গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ অফিসার, চারজন মহিলা পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজন বন্দি রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এই হামলাগুলিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা দাবি করেছে, শুক্রবার রাফাহতে একটি টানেল থেকে আটজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধা বেরিয়ে আসার ঘটনা এবং অন্যান্য লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আইডিএফ জানিয়েছে, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের কয়েকজন কমান্ডার এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, হামাস এই হামলাগুলিকে “যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও নতুন লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কাছে ইসরায়েলকে থামানোর আহ্বান জানিয়েছে। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে “নৃশংস অপরাধ” এবং এটি অঞ্চলের শান্তি প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করছে। মিশর ও কাতারও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

Independent MP from UK

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হয়েছে, যার দ্বিতীয় পর্যায়ে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা, গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের জন্য নতুন প্রশাসন গঠনের বিষয় রয়েছে। কিন্তু চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। সমগ্র যুদ্ধে (২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে) মোট নিহতের সংখ্যা ৭১,০০০-এরও বেশি। রাফাহ ক্রসিং খোলার ফলে চিকিৎসা, মানবিক সাহায্য এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল, কিন্তু এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। গাজার বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—প্রতিদিনই মৃত্যু ও ধ্বংস অব্যাহত রয়েছে।এই ঘটনা গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলি তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছে, শিশুরা খাদ্য ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই কার্যকর হচ্ছে, নাকি এটি শুধুমাত্র কাগজে-কলমে? গাজার জনগণের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা এখনও দূরের স্বপ্ন।

]]>
https://banglakal.com/world/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%98%e0%a6%a8/feed/ 0 1799
গাজায় সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি https://banglakal.com/world/torture-of-journalists-in-gaza-situation-worse-than-world-war-ii/ https://banglakal.com/world/torture-of-journalists-in-gaza-situation-worse-than-world-war-ii/#respond Tue, 20 Jan 2026 04:45:13 +0000 https://banglakal.com/?p=1615 ২০ জানুয়ারী: গাজায় চলমান যুদ্ধে সাংবাদিকদের উপর হামলা এক অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে, যা ঐতিহাসিক যুদ্ধগুলোর চেয়েও ভয়াবহ। জাতিসংঘের স্বীকৃত প্যালেস্টাইনীয় কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিবেদন অনুসারে, গত দু’বছরে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (৬৯-৭৯ জন, ৪ বছরে), দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (৬৭-৬৯ জন, ৬ বছরে), ভিয়েনাম যুদ্ধ (৬৩ জন, ২০ বছরে) এবং অন্যান্য যুদ্ধগুলোর মোট সাংবাদিক হত্যার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই তথ্য কমিটি টু প্রটেক্ট Commite to Protect Journalist  এর তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় ২৪৯ জনের বেশি সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সাফার পোস্টে একটি ছবি রয়েছে যাতে একটি বোমা বিস্ফোরিত ‘প্রেস’ চিহ্নিত গাড়ি দেখা যায়, যা সাংবাদিকদের উপর লক্ষ্যবস্তু হামলার প্রমাণ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ব কি মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিকদের হত্যাকে নিন্দা করবে, নাকি এটি ‘জটিল’ বলে এড়িয়ে যাবে? এই প্রতিবেদনের থ্রেডে আরও উল্লেখ আছে যে ইসরায়েল গাজায় ৭০০ জনের বেশি সাংবাদিকের আত্মীয়কে হত্যা করেছে, যা প্যালেস্টাইনীয় সাংবাদিক সিন্ডিকেটের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত।


এটি সাংবাদিকতাকে দমন করার জন্য সম্মিলিত শাস্তির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।গাজায় সাংবাদিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। সিপিজে-র তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ১২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৮৬ জন।
এই যুদ্ধ সাংবাদিকতার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক বলে চিহ্নিত। হামলা, আটক, আঘাত এবং মিডিয়া অফিসের ধ্বংস সত্য প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।এই প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় সরকার এই গণহত্যাকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র বিক্রি একটি প্রধান কারণ। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ইসরায়েলে রকেট এবং বিস্ফোরক রপ্তানি করছে।
আদানি-এলবিট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ড্রোন এবং অস্ত্র সরবরাহ চলছে, যা গাজায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২৪ সালে ভারত ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির ৩৭ শতাংশ গ্রহণ করেছে, কিন্তু এখন ভারত নিজেও সরবরাহকারী। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির অংশ, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও সংকটে। ২০২৫ ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ভারত ১৫১তম স্থানে রয়েছে, স্কোর ৩২.৯৬।
সাংবাদিকদের উপর সহিংসতা, মিডিয়া মালিকানার একচেটিয়াকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব এর কারণ। বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটি আরও খারাপ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার সত্য প্রকাশ করা কঠিন, এবং ভারতীয় মিডিয়া এটি বোঝে না।এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।

]]>
https://banglakal.com/world/torture-of-journalists-in-gaza-situation-worse-than-world-war-ii/feed/ 0 1615
উমর খালিদের মুক্তি ও সুসংগঠিত বিচারের দাবি জানিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ৮ মার্কিন আইনপ্রণেতার চিঠি https://banglakal.com/world/usa-lawmaker-letter-to-indian-embassy-for-umar-khalid/ https://banglakal.com/world/usa-lawmaker-letter-to-indian-embassy-for-umar-khalid/#respond Sat, 03 Jan 2026 11:31:52 +0000 https://banglakal.com/?p=1326 উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদের মুক্তি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে সরব হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮ জন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। গত ৩০ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রাকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে তাঁরা এই আরজি জানিয়েছেন। মূলত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জিম ম্যাকগভার্ন এবং জেমি রাসকিনের নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চিঠির মূল বক্তব্য সূত্রের খবর, এই চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা উমর খালিদের দীর্ঘকালীন বিচারহীন বন্দিদশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ‘ইউএপিএ’ (UAPA)-র আওতায় খালিদকে যেভাবে বছরের পর বছর জামিনহীনভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনি মানদণ্ডের পরিপন্থী। চিঠিতে সই করেছেন সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন, পিটার ওয়েলচ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য প্রমিলা জয়পাল, রাশিদা তলাইব, জান শাকোস্কি ও লয়েড ডগেট। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ভারত সরকারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে হয় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, নতুবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। আইনপ্রণেতাদের মতে, প্রাক-বিচার আটক দণ্ড নিজেই এক প্রকার শাস্তিতে পরিণত হয়েছে এবং এটি ভারত ও আমেরিকার যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মামদানি ও ম্যাকগভার্নের উদ্যোগ এই চিঠির কয়েক দিন আগেই নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি উমর খালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একটি হাতে লেখা বার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি খালিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখেছিলেন, “তিক্ততা নিয়ে তোমার কথাগুলো আমি প্রায়ই ভাবি, আর নিজেকে তা গ্রাস করতে না দেওয়ার গুরুত্বের কথাও মনে পড়ে। তোমার বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করে সত্যিই ভালো লেগেছে।আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।” খালিদের পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা করার পর মামদানি এই বার্তা পাঠান। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের এই চিঠির ক্ষেত্রেও অনুরূপ প্রেক্ষাপট রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জিম ম্যাকগভার্ন ওয়াশিংটনে উমর খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তখনই তিনি এই বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জোহরান মামদানির বার্তার পরেই এই ৮ জন আইনপ্রণেতার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্তরে বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচার বিভাগীয় বিষয়ে বিদেশের এই হস্তক্ষেপ নিয়ে দেশে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, ভারতের বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই। তিনি বিষয়টিকে ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের ওপর অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই দাবির পাশে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, খালিদ বা অন্যান্য কর্মীদের জামিন না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইনি নীতি অনুযায়ী ‘জামিন একটি নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম’ইন্ডিয়ান-আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল (IAMC) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগ রয়েছে। চার্জশিটে পুলিশ দাবি করেছে যে, খালিদ এবং অন্যান্যরা মিলে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এই দাঙ্গা বাধানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও খালিদের আইনজীবীরা চার্জশিটের তথ্যের সত্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে বোনের বিয়েতে যোগ দিতে আদালত তাঁকে কিছুদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল। ৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও মামলার বিচার শুরু না হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষে এই বিষয়ে এখন কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি ।

]]>
https://banglakal.com/world/usa-lawmaker-letter-to-indian-embassy-for-umar-khalid/feed/ 0 1326
দুন মেডিক্যাল কলেজে মাজার ভাঙল দেরাদুন প্রশাসন — এক সপ্তাহে দ্বিতীয় ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে https://banglakal.com/nation/dehradun-administration-demolishes-shrine-at-doon-medical-college-second-religious-structure-razed-in-a-week/ https://banglakal.com/nation/dehradun-administration-demolishes-shrine-at-doon-medical-college-second-religious-structure-razed-in-a-week/#respond Mon, 28 Apr 2025 14:59:40 +0000 https://banglakal.com/?p=664

দুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চত্বরে অবস্থিত একটি মাজার শুক্রবার ভোর রাতে দেরাদুন কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেয়। এর মাধ্যমে এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তরাখণ্ডে দ্বিতীয় কোনো ইসলামী ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হলো।

রাত প্রায় ২টার সময় রাজস্ব বিভাগ, পৌর কর্পোরেশন, জনপথ বিভাগ (PWD), এবং হাসপাতাল প্রশাসনের এক যৌথ টিম এই শতবর্ষী সুফি সাধক বাবা কামাল শাহের মাজারটি ভেঙে ফেলে।
কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মাজারটি হাসপাতালের জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং এর কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। তাই এটিকে দখল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দুন পৌর কমিশনার নমামি বংশাল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে অভিযোগ আসার পর এবং মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। “দুন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এই স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। প্রশাসনের অনুরোধে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) পাঠানো হয় এবং রাজস্ব বিভাগের মাধ্যমে ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা হয়,” তিনি বলেন।
চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. রবীন্দ্র বিশ্বাস জানান, চার মাস আগে এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। “মাজারের বৈধতা প্রমাণে কোনো নথিপত্র চাইলে আমরা কিছু দিতে পারিনি,” তিনি বলেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মাজারের তত্ত্বাবধায়ককে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এই মাজারটি রেজিস্টার্ড ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল এবং এর ভাঙচুর সুপ্রিম কোর্টের ওয়াকফ জমি সংক্রান্ত নির্দেশনার লঙ্ঘন। ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান শাদাব শামস নিশ্চিত করেছেন, মাজারটি বোর্ডের নথিভুক্ত ছিল।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে রুদ্রপুরে একটি রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের সময় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) আরেকটি ইসলামী স্থাপনা ভেঙে দেয়। এই দুটি ঘটনা রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

]]>
https://banglakal.com/nation/dehradun-administration-demolishes-shrine-at-doon-medical-college-second-religious-structure-razed-in-a-week/feed/ 0 664