islam – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Sat, 18 Jul 2026 01:45:33 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 islam – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 ইসলামকে দেখার পশ্চিমি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়া এক ক্ষুরধার মস্তিষ্ক: বিদায় নিলেন অনন্য অধ্যাপক জন এসপোসিটো https://banglakal.com/world/john-esposito-the-mastermind-who-transformed-the-wests-understanding-of-islam-passes-away/ https://banglakal.com/world/john-esposito-the-mastermind-who-transformed-the-wests-understanding-of-islam-passes-away/#respond Sat, 18 Jul 2026 06:40:00 +0000 https://banglakal.com/?p=2890 দোহা, ১৭ জুলাই:ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে পশ্চিমি বিশ্বের চিরাচরিত ও ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দেওয়া প্রখ্যাত মার্কিন গবেষক, লেখক এবং অধ্যাপক জন এল এসপোসিটো প্রয়াত হয়েছেন। গত ১৫ জুলাই হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতার কারণে ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি একদিকে যেমন প্রাচ্যবাদী (Orientalist) অন্ধ গোঁড়ামিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে ইসলামের আধুনিক পঠন-পাঠনকে সম্পূর্ণ এক নতুন রূপ দিয়েছেন। আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধে গবেষক নাদের হাশেমি জানিয়েছেন, অধ্যাপক এসপোসিটোর প্রয়াণ বিশ্বজুড়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও বহুত্ববাদের চর্চায় এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।

১৯৪০ সালে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের এক ইতালীয়-আমেরিকান ক্যাথলিক শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জন এসপোসিটো। প্রথম জীবনে ক্যাথলিক যাজক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে তিনি ‘ক্যাপুচিন ফ্রান্সিসকান অর্ডার’-এ যোগ দিলেও, পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়েন। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান গবেষক ইসমাইল রাজি আল-ফারুকির অধীনে তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এই শিক্ষাই ইসলামের নিজস্ব সত্তা ও মূল্যবোধকে পশ্চিমি সংশয় বা আশঙ্কার ঊর্ধ্বে উঠে বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর জীবনব্যাপী দর্শনকে রূপ দিয়েছিল।

বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লব এবং পরবর্তী সময়ে ৯/১১-এর প্রোপটে যখন ইসলাম ও পশ্চিমি বিশ্বের সম্পর্ক চরম মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এসপোসিটো অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সমকালীন ভূ-রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ পশ্চিমি বুদ্ধিজীবী এবং নীতিনির্ধারকেরা যখন ইসলামকে কেবল একটি বৈশ্বিক হুমকি বা সহিংস ও উগ্রপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতেন, তখন এসপোসিটোই প্রথম সেই সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোকে সামনে আনেন, যা মুসলিম সমাজে রাজনৈতিক ইসলামের আবেদনকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

অধ্যাপক এসপোসিটোর গবেষণার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিকে কোনো পশ্চিমি কাঠামোর মাপকাঠিতে বিচার করেননি। বরং তিনি মুসলিম সমাজের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের ধর্মীয় পরিচিতির গভীরতা থেকে বিষয়টিকে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছিলেন। যেখানে অধিকাংশ মূলধারার পশ্চিমি পণ্ডিত কেবল ‘শরিয়া আইন’ বাস্তবায়নের বিষয়টির ওপর সংকীর্ণ আলোকপাত করতেন, সেখানে এসপোসিটো রাজনৈতিক ইসলামের পেছনের মূল আকাঙ্ক্ষাগুলোকে চিহ্নিত করেছিলেন, যা হলো— মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ।

উপনিবেশবাদের কালো অধ্যায়, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নেতিবাচক প্রভাব কীভাবে মুসলিম মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করেছে, তা তাঁর বিভিন্ন যুগান্তকারী লেখায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত তাঁর প্রায় ৫৫টিরও বেশি গ্রন্থ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর লেখা ‘ইসলাম: দ্য স্ট্রেইট পাথ’, ‘দ্য ইসলামিক থ্রেট: মিথ অর রিয়ালিটি?’, এবং ডালিয়া মোজাহেদের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘হু স্পিকস ফর ইসলাম? হোয়াট আ বিলিয়ন মুসলিমস রিয়ালি থিঙ্ক’ বিশ্বজুড়ে সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি অধ্যাপক এসপোসিটো। ১৯৯৩ সালে তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে ‘সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (পরবর্তীতে প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই বিশ্বজুড়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইসলামভীতি বা মুসলিম-বিদ্বেষকে রুখতে এবং তা তদারকি করতে ‘দ্য ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প চালু করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মানুষের ধর্মীয় অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে সওয়াল করে গেছেন। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে কিংবা বৈশ্বিক মঞ্চে মানবাধিকারের সুরক্ষায় তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার।

একটি গভীর ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষের যুগে জন এসপোসিটোর মতো পণ্ডিতদের অবদান ছিল আলোর দিশারির মতো। তিনি ইসলামকে কোনো বিমূর্ত শত্রু বা অচেনা সংস্কৃতি হিসেবে না দেখে মানুষের একটি বৈশ্বিক নৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রতিটি মানুষ তাঁর এই বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক অবদানের কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে।

বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিশ্বের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নিয়মিত বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

]]>
https://banglakal.com/world/john-esposito-the-mastermind-who-transformed-the-wests-understanding-of-islam-passes-away/feed/ 0 2890
আত্মমর্যাদার মাস রমজান https://banglakal.com/faith/ramadan-the-month-of-self-worth-by-umor-faruk/ https://banglakal.com/faith/ramadan-the-month-of-self-worth-by-umor-faruk/#respond Tue, 18 Mar 2025 16:35:01 +0000 https://banglakal.com/?p=433 মনে করো তুমি একটি স্বতস্ফূর্ত সামাজিক মূল্যবোধের অভাব বুঝতে পেরেছ। তোমার হাতে কিসের অভাব বুঝতে পেরেছ। তোমাকে কোথায় যেতে হবে কি করতে হবে জানতেও পেরেছ কিন্তু তোমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছে না কি করবে? তোমাকে নিয়ে ভাবার অনেক মানুষ আছে তুমি জানতে পারলে মানুষের রক্তের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু নরখাদক মানুষ নিজেদের ইঙ্গিত দিয়েছে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তোমাকে এই ধারনার বাইরে রাখার । মূল্যবোধ সবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যখন বিবেকের মৃত্যু হয় তখন মূল্যবোধ বিলুপ্ত হয়ে যায় মানুষের মন থেকে।

অনুরোধের বিস্তৃতি রয়েছে যেখানে বৃষ্টির মত ঝরে পড়ে আকাশ থেকে। বসন্তের মত সৌন্দর্য উপভোগ করি ! আমাদের সিয়াম আমাদের কে পরিবর্তনের একটি মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে। সওয়াল মাসের চাঁদ দেখে সিয়াম ধরলাম তারপর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা অবধি বেঁধে রেখেছি তিরিশ রোজায় আমাদের ইচ্ছা, নিয়ত, আশা, ত্যাগ তিতিক্ষা গুলো।

আমরা এই সুবর্ণ সুযোগটাও পেয়ে যদি হাতছাড়া করে দি তাহলে কি হবে? তোমার জন্য দ্বিতীয় সুযোগ আসবে কি আসবে না একথা নিশ্চিত বলার উপায় নাই। কত মানুষকে দেখলাম গেল রমজানে এক সাথে বসে ইফতারি করতে, একসাথে একই কাতারে তারাবি পড়তে। তারাবি শেষে গল্প গুজব, কত দিনী আলোচনা করতে কিন্তু হায়! সেই মানুষ গুলো আজ এই রমজানে নেই! কেউ বাবার সমতুল্য, কেউ বা দাদুর। আবার কেউ ছিল আমার সমবয়সী।

অনেক ভাবতে ইচ্ছে করতে যে আমি কেন বেঁচে আছি রমজানে? আমার ঠাঁই তো কবরেও হতে পারত। কিন্তু না, মহান আল্লাহ তায়ালার আবার আমাকে সুযোগ দিল। আমার গুনাহ মোচন করার প্রয়োজন আছে। যেন পাপের নর্মদায় হাবুডুবু খাচ্ছি। আমার বাম কাঁধ ভারী হয়ে গেছে। মাথার নেমে আসছে গাঢ় জমকালো মেঘ। কি করব? নিজেকে আড়াল করতে পারিনা। কেমন যেন মনে হয় এটা আমার জীবনের অন্তিম পর্যায়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কিন্তু বয়স তেমন কিছুই না।

তিন রমজান আগে আমাদের বাড়ির উঠোনের বা সাইডে একটি বাঁশঝাড় ছিল। বাঁশ ঝাড়ের পূর্বে এক বিরাট কর্দম পুকুর। পুকুরের ধারে ধারে আগাছা, ধুতুরা আর কলমি লতার জঙ্গল। জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে ছিল মাছরঙ্গা, বন মুরগি, আর সাপ বিচ্ছুদের আস্তানা। অবশ্য রাস্তায় উঠতেই এক মস্ত কদম গাছ। একবার প্যাচপ্যাচে বর্ষায় রমজান এলো। মহা খুশি। বালক বয়সে একটা খুবই আনন্দঘন মুহূর্ত। আমাদের সিয়াম পালনে কোনো বাধা ছিলোনা। খুশির জোয়ারে ভেসে ভেসে কি ভাবে কখন দিন কেটে যেত বোঝা জেতনা ।

এই রমজান আমাদের অনেক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দিয়েছি। যারা আরবী কিছুই জানেনা নিরক্ষর তাদের অন্তত অক্ষর জ্ঞানের ধারনা তৈরি করে আগামী তিন মাসের টার্গেট পবিত্র কোরআন শিখিয়ে দেয়া, মানুষকে নামাজ মুখী করা, আল্লা ও রসূল সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভ ইত্যাদি বিষয়ে নিরক্ষরতা কাটিয়ে অন্যদের কাছে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ভূমিকা পালন করত এই রমজান মাস।

কুরআন চর্চায় অতিরিক্ত নিমগ্ন থাকা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময় মত আদায়। মানুষকে উঁচু – নিচু বাচ্য না বলা। একে অন্যের সহযোগিতা। সবসময় মানুষের ভালো কিছু কামনা ইত্যাদি মহত্যই আমাদের শান্তি ও সংহতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আর একটি ভালো বিষয় যেটা
এই মাসে মানুষের প্রচুর দান সদকা। অনেক গরিব মিসকিন দান করার চেষ্টা করে। তাদের ধারণা এই মাসে এক টাকা দান করলে ৭০ টাকার সমতুল্য সব পাওয়া যায়। যেহেতু মানুষ চাঁদা সারাদিন ক্ষুধা নিবারণ না করে ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য করে সিয়াম পালন করছে তাই দান সদকা করে অধিক সওয়াবের অধিকারী হতে চাই।

অনেক গরিব মুসলিম পরিবারের পাশাপাশি অমুসলিমদের প্রচুর অর্থ দিয়ে রমজানের বিশেষ সুবিধে গ্রহণ করে। কি সেই বিশেষ সুবিধে? প্রশ্ন জাগতে পারে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারা 185 আয়াতে এরশাদ করেছেন —
রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন তাতে রোযা পালন করে। আর যে অসুস্থ অথবা মুসাফির থাকে, তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তিনি তোমাদের কষ্ট চান না। যেন তোমরা (রোযার) নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর তকবীর পাঠ (মহিমা বর্ণনা) কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার।

আমাদের কষ্ট না দিয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছেন রমজান। সুতরাং কেউ যেন তার দেয়া সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। নিশ্চয় আমাদের জন্য আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন। সেইজন্য তো মুসলিমরা এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে নারাজ। আমাদের কষ্ট গুলো ত্যাগ তিতিক্ষা এসবই আল্লাহর জন্য সপে দেয়া। এর নামই সিয়াম পালন। তবে অনেকে রোজা পালন বলে ভুল অর্থ করে। আসলে আরবী শব্দ সিয়াম যার অর্থ হলো বিরত থাকা। অনেকে মনে করে সারাদিন না খেয়ে থাকার নামই সিয়াম পালন। বিষয়টা কি মোটেও এমন হয়। পানাহার ছাড়াও যত ধরনের মন্দ কাজ, নিগ্রহ, দুশ্চরিত্র, অনিষ্টতা, কুরুচিকর মন্তব্বের মত যত ধরনের পাপ কাজ এসবই মহাসাগরে বিসর্জন দিয়ে দেয়ার নামই সিয়াম।

এই সিয়াম আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে আছে নানান স্মৃতি। তিন বছর আগেকার স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলো এখন বড্ড নাড়া দিচ্ছে। যখন ভোরের সূর্য উঠত কুরআন তিলাওয়াত শুনতে শুনতে । সেহরীর আযানের আগে অবধি শোনা যেত সুমধুর কন্ঠে নবী রাসূলের শানে গজল ও গান। চারিদিকে অন্ধকার কিন্তু আকাশ বাতাসের যেন সিয়ামের পবিত্রতা বর্ণনা। মা ও বোনেদের তন্দ্রায় যেন পাখিরাও জেগে উঠলো। কাক ভোর। পাখিদের কুজনে মুখরিত। একটি শান্তিময়, আনন্দময় স্বর্গীয় অনুভুতি।

কিন্তু হায়, বড় দুঃখের বিষয় যে মানুষগুলো হাসি কান্নার সাত রঙের মিলেমিশে আমাদের মনোরঞ্জন করে রাখত আজ তারা কেউ বেঁচে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকলেও নতুন কিছু প্রজন্মের কাছে এই অসহিষ্ণু উৎকণ্ঠায় কেঁপে উঠছে সমাজ। আদেশ–নিষেধ তাদের কাছে হাতের গুলি। কুরআন চর্চায় এত উদাসীনতা , ইফতারের পাঁচ আগে ওযু করতে বসা। এসব সিয়াম সাধনার আলো যেন ক্ষীণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয় করছে? আল্লাহ পরিবর্তন করুক। পবিত্র রমজান মাস শেষ হলেও আমাদের সওয়াবের ভান্ডার যেন শেষ না হয়। আমাদের আগামীর দিনগুলি যেন রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের ডালি দিয়ে সাঁজানো থাকে। আমাদের সিয়াম আপনি কবুল করুন।

]]>
https://banglakal.com/faith/ramadan-the-month-of-self-worth-by-umor-faruk/feed/ 0 433
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/ https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/#respond Thu, 13 Mar 2025 16:08:46 +0000 https://banglakal.com/?p=358

ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম যা মানবজাতির কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আসলে ইসলাম একটি জীবনধারা। একটি মানুষের জীবনে কি করণীয় আর কি করণীয় নয়, তার সুস্পষ্ট নির্দেশ ইসলামে বিদ্যমান। কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদেরকে নৈতিকতা, সহনশীলতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সদাচরণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। শুধু ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের নয়, বরং বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাহল আল্লাহর আদেশাবলী মেনে চলতে হবে, এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধার মনোভাব রাখতে হবে।

১. ধর্মীয় বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ

কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বা উগ্রতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। “তোমরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না” (সুরা নিসা: ১৭১) এই আয়াতটি আমাদের ধর্মীয় চেতনা এবং আচরণে সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে, ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম, যা অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা বা অতিরিক্ত উদারতা থেকে দূরে থাকতে বলে। ইসলাম উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, কারণ এমন আচরণ ইসলামের মূল দর্শন থেকে বিচ্যুত।

২. অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা

ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এবং দেবতাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “অন্যের দেবতাকে গালি দিও না” (সুরা আনআম: ১০৮)। এই আয়াত দ্বারা ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার মর্মার্থ প্রতীয়মান হয়। ইসলাম যে কোনো ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষ বা অপমানকে নিন্দা করে। এটি একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করে যে, কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করবে, আর কে করবে না। কেননা হেদায়েত করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. ধর্মের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি নেই

ইসলাম মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্ম নির্বাচন করার অধিকার প্রদান করেছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। আলোর পথ এখন সুস্পষ্ট” (সুরা বাকারা: ২৫৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম স্বেচ্ছায় ধর্মগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করেছে যে, কেউই জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করবে না। ইসলামের এ দৃষ্টিভঙ্গি অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা ও গ্রহণযোগ্যতার উদাহরণ। ইতিহাস তাই বলে। যদিও অনেকেই বিকৃত ইতিহাসের উপর আস্থা রেখে সত্য উদঘাটন করে না।

৪. নিরীহ মানুষের হত্যা নিষিদ্ধ

ইসলাম অত্যন্ত জোরালোভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করার সমান অপরাধ” (সুরা মায়েদা : ৩২)। এটি মানবজীবনের মর্যাদা ও পবিত্রতা নিশ্চিত করার একটি প্রধান নীতিমালা। ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষা করাকে খুবই মহান কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান। তাই ইসলাম বলে একটি নির্দোষ ব্যাক্তিকে হত্যা করা মানে বিশ্ব মানব মান্ডলিকে হত্যা করার সমান।

৫. সহায়তা এবং সহযোগিতা

ইসলাম নৈতিক মূল্যবোধে উৎসাহ দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ বা সাহায্য করবে সে উপকৃত হবে। আর যে মন্দ কাজে প্ররোচিত বা সহযোগিতা করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে” (সুরা নিসা: ৮৫)। এই নির্দেশ ইসলামের সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি প্রকাশ করে, যেখানে মুসলমানরা ভালো কাজে একে অপরকে সাহায্য করতে বলা হয়েছে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ইসলামে ধর্মীয় আচারাদি পালন ছাড়াও ফিতরা, যাকাত, সদকা, ইত্যাদি নানাবিধ অর্থ প্রদানের কথা সেই নির্দেশকে কার্যকরী করার জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়।

ইসলামের শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা

ইসলাম সবসময়ই শান্তি, সৌহার্দ্য, এবং ন্যায়ের ধর্ম। এটি ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, এবং মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলাম যে সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে তা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর করুণার প্রতিফলন। ইসলামে উগ্রতা বা অতিরিক্ত কট্টরপন্থার কোনো স্থান নেই; বরং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো সবাইকে নিয়ে সহাবস্থান করা এবং নৈতিকতার পথে পরিচালিত হওয়া। কেননা ইসলামে সবাইকে নিজের নিজের কর্মফল ভোগ করতে হবে। তাই নিজস্ব কর্মের প্রতি সজাগ থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ সেবায় অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়েছে। আসলে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা পশ্চমী দুনিয়া করেনি বা ইচ্ছা করে বিকৃত ভাবে প্রকাশ করেছে। তার উজ্জ্বল উদাহরন জিহাদ শব্দের অপব্যাখ্যা। তিনটি স্তরকে একাকার করে দিয়ে আত্মশুদ্ধির পর্যায়কে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তাই বলা যায় যে, ইসলাম মানুষের জীবনের মূল্য, স্বাধীনতা, এবং ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো ন্যায়, শান্তি, ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক সমাজ গঠন করা, যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে বসবাস করতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/feed/ 0 358