Middle East – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 04 Mar 2026 17:40:39 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.1 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 Middle East – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 যুদ্ধ মানবতার জন্য অভিশাপ’: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালা-পোড়ার মাঝে শান্তির দুর্গ স্পেন https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/ https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/#respond Wed, 04 Mar 2026 17:39:06 +0000 https://banglakal.com/?p=2289 ওয়াসিম আকরাম, সংবাদদাতা, বাংলাকাল

কলকাতা, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমাগত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধ্বসের মুখে, তখন ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো বিবেকের কণ্ঠস্বর। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর সরকারি বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধের দানবের মুখে শান্তির এক অটল উচ্চারণ।

গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েল জোট ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা হামলায় গোটা অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। নয়টি দেশ এবং সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালী এখন অনিশ্চয়তার নামান্তর।

এই ভয়াল পরিস্থিতিতে স্পেনের অবস্থান স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং—সবচেয়ে বড় কথা—ঐতিহাসিকভাবে সংগতিপূর্ণ।

২০০৩ সালের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তি নয়

সানচেজ তাঁর বিবৃতিতে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব ও তাদের সঙ্গীদের। আজোরেস ত্রয়ী (বুশ, ব্লেয়ার, আজনার) নামে পরিচিত এই নেতারা যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার ফলাফল কী দাঁড়ায়? ইরাকে শান্তি আসেনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়া আইএস-এর। ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে, শরণার্থী সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে।

“সেই যুদ্ধ তাত্ত্বিকভাবে সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করতে, গণতন্ত্র আনতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছিল,” স্মরণ করিয়ে দেন সানচেজ। “কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দিয়েছে—বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।”

আজকের যুদ্ধের শুরুটাও কি একই পথে হাঁটছে না? অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

চারটি ‘না’ এবং একটি ‘দাবি’

সানচেজের বিবৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারটি স্পষ্ট প্রত্যয়:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ। যারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। এক অবৈধতার জবাবে আরেক অবৈধতা দেওয়া যায় না—এটাই সভ্যতার মৌলিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত, বোমার জোরে সমস্যা সমাধানের মায়া প্রত্যাখ্যান। ইতিহাস সাক্ষী, যুদ্ধ কখনো প্রকৃত সমাধান আনে না; এটি কেবল পুরোনো সমস্যার সাথে নতুন সমস্যা যুক্ত করে।

তৃতীয়ত, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করা। ২০০৩-এ যে ভুল আমরা করেছি, ২০২৬-এ কেন সেই একই পথে হাঁটব?

চতুর্থত, যুদ্ধের সামগ্রিক প্রত্যাখ্যান—’না টু ওয়ার’।

শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, সানচেজ এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হয়ে তিনি এই দাবি জানানোর অধিকার রাখেন। কারণ এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি স্পেনেরও, ইউরোপেরও, গোটা বিশ্বেরও।

স্পেনের অবস্থান: সহমর্মিতা ও বাস্তব পদক্ষেপ

শুধু বক্তৃতা নয়, স্পেন বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছে। বিবৃতিতে সানচেজ চারটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:

এক. মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া স্পেনীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। আকাশপথ বিপজ্জনক হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দুই. এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত করছে সরকার। অতীতের অর্থনৈতিক সংকটে যেমনটা করেছে, তেমনই সমাজসেবী সংস্থাগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করবে স্পেন।

তিন. এই অঞ্চলের শান্তিকামী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ইউক্রেন, ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলগুলোতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে যাবে। সানচেজের ভাষায়, “আমাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাধান দাবি করতে হবে—অতিরিক্ত দেরি হওয়ার আগেই।”

ইতিহাসের শিক্ষা: সারায়েভো থেকে হরমুজ

বিবৃতির সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক অংশটি সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উল্লেখ। ১৯১৪ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কীভাবে মহাযুদ্ধ শুরু হলো, তিনি নাকি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “যদি আমি জানতাম!”

সানচেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অধিকাংশ মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অপ্রত্যাশিত ঘটনার শৃঙ্খল থেকে। এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই ঘটতে পারে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে

সমালোচকরা হয়তো বলবেন, ইরানের আয়াতুল্লাহদের শাসনের পক্ষে স্পেন? সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের শাসনের পক্ষে কেউ নয়—স্পেনীয় জনগণ certainly নয়, স্পেন সরকার certainly নয়।” প্রশ্নটি হলো আমরা আয়াতুল্লাহদের সমর্থন করছি নাকি আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি?

ইরাকে সাদ্দামের স্বৈরাচারকে স্পেনীয় সমাজ ঘৃণা করত, কিন্তু ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ সেটি ছিল অবৈধ, অন্যায় এবং সমস্যার সমাধান না এনে বরং নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে, আমরা ইরানের নারী-পুরুষ নির্যাতনকারী শাসনকে ঘৃণা করি, কিন্তু একইসাথে এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করি।

স্পেন একা নয়

কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, শান্তির এই ডাকে স্পেন নিঃসঙ্গ। সানচেজের জবাব স্পষ্ট: “স্পেন সরকার তাদের সাথে আছে যাদের সাথে থাকা উচিত। এটি আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধের সাথে আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানিক নীতির সাথে আছে, জাতিসংঘ সনদের সাথে আছে।”

আমরাও আছি অসংখ্য সরকারের সাথে যারা আমাদের মত চিন্তা করে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সাথে যারা আরও যুদ্ধ নয়—আরও শান্তি ও সমৃদ্ধি চান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: দূরের আগুন কাছের শঙ্কা

বাংলাদেশের পাঠকদের মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন আমাদেরও দোরগোড়ায় প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে ধস, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া—এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। ১৯৭১-এ আমাদের নিজেদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান আজও আমরা মনে রেখেছি। তাই অন্য জাতির যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে নীরব থাকার বিলাসিতা আমাদের নেই।

পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান শুধু একটি দেশের সরকারি বক্তব্য নয়; এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর। একটি স্পষ্ট বার্তা যে যুদ্ধ কখনো সমাধান নিয়ে আসে না, বরং এটি মানবতার জন্য অভিশাপ। বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও যদি এই পথে হাঁটেন, তবেই সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যের ধোঁয়াশা কাটিয়ে ওঠা।

]]>
https://banglakal.com/world/war-is-a-curse/feed/ 0 2289
চীনকে সমর্থনের প্রতিদান, অন্য দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ চীনের জন্য খোলা https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/ https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/#respond Wed, 04 Mar 2026 13:09:30 +0000 https://banglakal.com/?p=2281
chinses ship on straight of hormuz source x.com chinanow24

চিন সংবাদ মাধ্যম, চাইনা নউ ২৪ থেকে প্রতিবেদনঃ

ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে শুধুমাত্র চীনের জাহাজগুলিকে যেতে দেবে, যুদ্ধের সময় বেইজিংয়ের সমর্থনমূলক অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অন্যান্য সমস্ত দেশের জাহাজের জন্য এই জলপথ বন্ধ থাকবে, এবং ইরানি বাহিনী অনুমোদিত নয় এমন যেকোনো জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ স্ট্রেইট অফ হরমুজ বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায়, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২০% ।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। চীন, যারা ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, তাদের তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকবে, কিন্তু অন্যান্য দেশগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে ।

ইরানের এই ঘোষণার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলি তাদের নৌবাহিনীকে এই অঞ্চলে পাঠানোর বিবেচনা করছে, যাতে তেল সরবরাহ নিরাপদ থাকে ।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কি মতামত? ইরানের এই পদক্ষেপ কি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে?

]]>
https://banglakal.com/world/china-support-reward-closed/feed/ 0 2281
যুদ্ধের ঢেউ কি পৌঁছে গেল ভারত মহাসাগরে! শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া: সাবমেরিন হামলার অভিযোগে ঘনীভূত রহস্য https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/ https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/#respond Wed, 04 Mar 2026 10:14:29 +0000 https://banglakal.com/?p=2269 রয়টার্সের প্রতিবেদন । ৪ মার্চ

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারত মহাসাগরে ঘটল এক নাটকীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে বিপদসংকেত পাঠায়। দুপুরের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনাটি শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—বরং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের পরিধি কতদূর বিস্তৃত হয়েছে, তার এক গভীর ইঙ্গিত বহন করছে।

শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডুবতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Vijitha Herath পার্লামেন্টে জানান, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গলের Karapitiya Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

কিন্তু এখনো ১০১ জন নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জাহাজটি কি চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল?

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক তৎপরতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। বিরোধী সাংসদরা পার্লামেন্টে সরাসরি জানতে চান, জাহাজটি কি সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে?

কিন্তু শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি। সরকারি নীরবতা কূটনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। এই নীরবতা কি কৌশলগত? নাকি সত্যিই তথ্যের ঘাটতি?

Islamic Republic of Iran Navy-এর জন্য এই ডুবি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার নৌবাহিনীকে পারস্য উপসাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর পর্যন্ত সক্রিয় রাখতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা উপকূলে এমন একটি জাহাজডুবি ইরানের ‘পাওয়ার প্রজেকশন’-এর উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি হামলার ফল হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে সংঘাতের ভৌগোলিক সীমানা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আর যদি এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনা হয়, তবুও তা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করবে।

ভারত মহাসাগরে অস্থিরতা?

শ্রীলঙ্কা ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপকূলে এমন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ঘটনার সৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভারত মহাসাগর ইতিমধ্যেই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সেখানে ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবে যাওয়া নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের বাইরে, এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো মানবিক ক্ষয়ক্ষতি। ১০১ জন নাবিকের ভাগ্য এখনো অজানা। তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তা এক অসহনীয় অপেক্ষা।

শ্রীলঙ্কা উপকূলে IRIS Dena-র ডুবি কেবল একটি নৌদুর্ঘটনা নয়—এটি বর্তমান সংঘাতের বিস্তার, কৌশলগত বার্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের অংশ।

সরকারি নীরবতা যত দীর্ঘ হবে, ততই জল্পনা বাড়বে। আর একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধ আর কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ নেই। তার ঢেউ পৌঁছে গেছে ভারত মহাসাগরের গভীরে।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-navy-sinking-sri-lanka/feed/ 0 2269
প্রতিশোধের পথে ইরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/ https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/#respond Wed, 04 Mar 2026 08:45:49 +0000 https://banglakal.com/?p=2260 মধ্যপ্রাচ্যে এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার এমন এক সময় চলছে যেখানে আকাশ থেকে মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে। দুবাই হোক বা দোহা—আজকের মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থান শতভাগ নিরাপদ নয়। সামরিক হোক বা বেসামরিক, কেউই নিশ্চিন্ত নয়। ইরান—যা সম্প্রতি তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর গভীর শোকে ডুবে আছে—এখন প্রতিশোধের পথে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে যাচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ৪০টিরও বেশি কমান্ডার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে। এর ফলে ইরানের নেতৃত্বের বড় অংশ কার্যত ‘ডেক্যাপিটেটেড’ হয়েছে। আগেই তার বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
তবু ইরান হাল ছাড়ছে না। তার বিকেন্দ্রীকৃত “মজাইক প্রতিরক্ষা” কৌশল ও বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে ইরান এখন আক্রমণ চালাচ্ছে—রেড লাইন বা নিয়ম-রেখা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা দেখায় না এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে দ্বিধা করছে না।
অপারেশন নাম: ইরানের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে রিপোর্ট করা হয়েছে “Operation Epic Fury” নামে; এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুকে মধ্যপ্রাচ্যে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো। ইরান সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে অন্য দেশগুলোও ফল ভোগ করবে। ব্রিটেনের সাইপ্রাস ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের সমর্থনের পর ঘটেছে বলে রিপোর্ট।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে ইরান সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত করেছে; এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বাড়ে এবং শেয়ারবাজারে ধাক্কা লাগে। হুথিদের মাধ্যমে সৌদি আরামকোকে লক্ষ্য করার খবরও এসেছে।
আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: দুবাই, ওমানের বাণিজ্যিক বন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে আঘাত করে ইরান গালফের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে চায়।
ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময়; অনুমান করা হয় প্রায় ২,০০০–২,৫০০ কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, রেঞ্জ ২,৫০০ কিমি পর্যন্ত। উন্নত সিস্টেমগুলোর মধ্যে ফাত্তাহ হাইপারসনিক ও খোররমশাহর-৪ উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পুনঃপ্রবেশের সময় ডিকয়-সোয়াম ছাড়ে, যা প্যাট্রিয়ট, থাড ও অ্যারো-৩ মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে। ইরানের ৩১টি স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট নিয়ে গঠিত মজাইক প্রতিরক্ষা নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে আইআরজিসি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

আঞ্চলিক হামলা ও লক্ষ্যবস্তুসমূহ
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল: রেকর্ডিংয়ের সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছিল; জেরুজালেমে বিস্ফোরণের খবর, তেল আবিবে সাইরেন, এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলে রিপোর্ট অনুযায়ী ১০ জন নিহত ও ১০০+ আহত।


বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে বারবার আক্রমণের খবর।
দুবাই—হোটেল ও বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কুয়েতে সাইরেন চলমান; রিপোর্ট আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
ওমানে দুকুম বাণিজ্যিক বন্দর লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরাকে একটি মার্কিন গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর, ক্ষতি সীমিত।
নৌযান ও বিমান: ইরান দাবি করেছে যে USS Abraham Lincoln এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে; যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে ইরান বলেছে ক্যারিয়ারটি পরে এলাকা থেকে সরে গেছে। একটি আমেরিকান F-15 যুদ্ধবিমান গুলি করে নেমে গেছে—রিপোর্টে বলা হয়েছে সম্ভবত প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ফ্রেন্ডলি ফায়ারের কারণে।

Smoke rises in the sky after blasts were heard in Manama, Bahrain, on Saturday, February 28, 2026 [Reuters]
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাহরাইনের মানামাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া উড়ছে [রয়টার্স]

রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ জন আমেরিকান সার্ভিস মেম্বার নিহত; ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি—২০০+ নিহত, যার মধ্যে স্কুলে বোমাবর্ষণে ১৫০+ মেয়ের মৃত্যু বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক। গাঁধী হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবরও এসেছে, ফলে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, ইরাকে ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থানে আঘাত—বিশেষত শিশুদের ওপর আঘাত—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। বহু পরিবার শোকাহত, আহত ও গৃহহীন। চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি।
অর্থনৈতিক প্রভাব: হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। গালফের পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ স্থানীয় অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতি: ইরান একা লড়ছে—কোনো মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশ বা বৈশ্বিক শক্তি প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়নি। তবে ইরানের আক্রমণগুলো গালফের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে দিতে পারে। ইরান মনে করে যুদ্ধবিরতি এখনই মানে পরাজয়; তারা চায় আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হোক।
নিউক্লিয়ার ও গোয়েন্দা প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) বলেছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণের শিকার হয়নি, যা প্রাথমিক হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তৎক্ষণাৎ আক্রমণ করতে যাচ্ছিল না—এটি প্রাক-হামলার যুক্তি চ্যালেঞ্জ করে।


অনেক ইরানী দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট; বিদ্রোহ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মাধ্যমে রেজিম পরিবর্তনের আশা করেছিল, কিন্তু খামেনির হত্যার পরে সিস্টেমের কিছু অংশ অভ্যন্তরীণভাবে সংহত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসে ঘটায় তা শিয়া সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি: কাগজে ইরানের জয় অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলো জোরালো হয়ে উঠছে—ইরানের কৌশল কী, কতদিন তারা বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে, এবং এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য কী। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও সামরিক সম্পদ মোতায়েন করে—ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, B-2 স্টেলথ বোমারু, পারমাণবিক সাবমেরিন, ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র—তবে লক্ষ্য প্রদর্শন করা হলেও একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা বাড়ায় ঝুঁকি বাড়ে।

বায়ু হামলা ও কৌশলগত আঘাত দিয়ে রেজিম পরিবর্তন আনা কঠিন; স্থল বাহিনী ছাড়া তা অসম্ভবের কাছাকাছি। স্থল অভিযান মানে ব্যাপক হতাহত ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত—আফগানিস্তানের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা।
যুদ্ধটি যদি আরও তীব্র হয়, তা আঞ্চলিক বিস্তার ঘটাতে পারে এবং মানবিক বিপর্যয়কে গভীর করবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি ঘটে, প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবর্তন কোথায় ঘটবে: ইরানে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে; অর্থাৎ এই সংঘাতের রাজনৈতিক ফলাফল কাদের ওপর পড়বে।


এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা মানুষের কষ্ট ও ভয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ইরানের শোক ও প্রতিশোধের অনুভূতিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা যায়, তবু সহিংসতা যত বাড়বে নিরীহ মানুষের কষ্ট ততই বাড়বে। আন্তর্জাতিক সমাজের তাত্ক্ষণিক কর্তব্য হলো কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়—এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। প্রশ্নগুলো এখনো অনুত্তরিত: এই যুদ্ধের শেষ কোথায়, এবং এর মূল্য কে বহন করবে—সামরিক শক্তি নাকি সাধারণ মানুষ।

]]>
https://banglakal.com/world/iran-responds-to-conflict/feed/ 0 2260
গাজা থেকে কাউকে উৎখাত করা হচ্ছে না: মত বদলালেন ট্রাম্প https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/ https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/#respond Thu, 13 Mar 2025 10:14:52 +0000 https://banglakal.com/?p=347

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশেষে অবস্থান পরিবর্তন করলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, গাজা থেকে কাউকে উৎখাত করা হবে না। বুধবার (১২ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের ঘোষণার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে তিনি গাজা দখলের পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অঞ্চলটিকে মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা (পর্যটন কেন্দ্র) বানানোর কথা বলেছিলেন। গত মাসে গাজা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে।”

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ট্রাম্পের এই প্রস্তাব বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে পড়ে। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন যে, তাদের স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র চলছে। ট্রাম্পের মন্তব্য সেই আশঙ্কাকে আরও উসকে দেয়।

ট্রাম্পের বিতর্কিত পরিকল্পনার পর আরব রাষ্ট্রগুলো হুঁশিয়ারি দেয় যে, এমন কোনো পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এরপরই মিসরের নেতৃত্বে আরব দেশগুলো গাজার পুনর্গঠনের জন্য ৫৩ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যা ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কাজ করবে।

ট্রাম্পের এই নরম অবস্থান কি কূটনৈতিক চাপে নেওয়া কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি তিনি সত্যিই গাজার জনগণকে তাদের ভূমিতে থাকতে দেওয়ার পক্ষে? বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে, কারণ আমেরিকায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ এবং মুসলিম ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সামনের দিনগুলোতে দেখা যাবে, তার নতুন অবস্থান বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না।

]]>
https://banglakal.com/world/gaza-eviction-trump-policy-change/feed/ 0 347