murshidabad – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Fri, 17 Jul 2026 08:33:26 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 murshidabad – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা: স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/ https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/#respond Fri, 17 Jul 2026 08:32:02 +0000 https://banglakal.com/?p=2859 মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে শুক্রবার সকালে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি স্কুলগাড়ি (পুল কার) রেললাইন পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি পরিণত হয় মৃত্যু ও আর্তনাদের দৃশ্যে। ঘটনাটি ঘটে কর্ণসুবর্ণ রেলস্টেশন ও গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ের মাঝামাঝি আজিমগঞ্জ–কাটোয়া রেল শাখায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালে স্কুলগাড়িতে একাধিক ছাত্রছাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং একাধিক শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে, পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ও আহতের পরিসংখ্যান তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকায় স্কুলগাড়িটি রেললাইন পার হতে শুরু করে। সেই সময় নিমতিতা–কাটোয়া ডাউন লোকাল ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়িটি কয়েক মিটার ছিটকে যায় এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে নিশ্চিত করা হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ভাঙাচোরা গাড়ি থেকে আহত ছাত্রছাত্রীদের বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রেলগেট পরিচালনায় গাফিলতি না থাকলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। অন্যদিকে, পূর্ব রেল জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গেটম্যানের ভূমিকা, সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং ঘটনাক্রমের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও রেল লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে যেখানে প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ধরনের ত্রুটি মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবহুল এলাকায় আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গেট, উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা আরও জোরদার করা জরুরি।

প্রশাসন ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত কারণ সামনে আসে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কর্ণসুবর্ণের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক বা রেল দুর্ঘটনা নয়; এটি অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। যে শিশুরা প্রতিদিনের মতো বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল, তাদের অনেকেই আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। এই শোক কোনও একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের। তাই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব উন্নয়নই হতে পারে এই নিরীহ প্রাণগুলোর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

]]>
https://banglakal.com/state/tragic-train-accident-in-murshidabads-karnasuvarna-train-hits-school-bus-entire-bengal-in-shock/feed/ 0 2859
মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়: শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে হাসান বাপ্পা ও জাহাঙ্গীর ফকিরের সাক্ষাৎ, নেপথ্যে কোন সমীকরণ? https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/ https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/#respond Sun, 18 Jan 2026 12:43:16 +0000 https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/


বাংলার রাজনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত কথা আছে ‘মুর্শিদাবাদ যার, বাংলার মসনদ তার কাছাকাছি।’ অন্তত ২০২১ এর ফলাফল দেখে বলায় যায়! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আপ্তবাক্যটি যেন তত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের চোরাস্রোত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এই ক্ষোভকেই মূলধন করে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাতীয় কংগ্রেস।

গত কয়েকমাস ধরে কলকাতার বিধান ভবনের অলিন্দে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস নেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি জেলা কংগ্রেসের নেতা মাহাতাব শেখ, হাসান বাপ্পা, জাহাঙ্গীর ফকির এবং সাইদুর রহমান প্রমুখেরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কখনও গোপনে, কখনও বা প্রকাশ্যে— এই নেতাদের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হলো জেলার বিভিন্ন আসন থেকে দলের টিকিট নিশ্চিত করা। এরা ছাড়াও যারা নিয়মিত সম্পর্ক রেখে চলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন  সুতির মইদুল ইসলাম এবং আলী রেজা, সামশেরগঞ্জ এর শামসুল আলম, বেলডাঙ্গার প্রাক্তন বিধায়ক শফিউজ্জামান, রাণীনগরের প্রাক্তন বিধায়িকা ফিরোজা বেগম সহ জেলা জেলা স্তরের বেশ কিছু নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে যে শাসকবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) মুর্শিদাবাদে তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে বিধানসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস।

তবে কলকাতায় বৈঠক বা দৌড়ঝাঁপ যাই হোক না কেন, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের শেষ কথা এখনও একজনই— অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মুর্শিদাবাদের মাটির নাড়ি আর রাজনীতির গতিপ্রকৃতি তাঁর চেয়ে ভালো কেউ বোঝেন না। জেলাজুড়ে তাঁর যে সাংগঠনিক দাপট এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমা রয়েছে, তাতে প্রার্থী তালিকায় তাঁর সিলমোহর ছাড়া কেউ এক ইঞ্চিও নড়তে পারবেন না। শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ থাকলেও, জেলা স্তরের টিকিট বণ্টনে অধীর চৌধুরীর সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত।

এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের লড়াই কেবল দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী নয়, বরং বহুমুখী হতে চলেছে। শাসক দল তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবির গঠন করেছেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। ভারতপুর ও রেজিনগর এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব অস্বীকার করার জায়গা নেই। তিনি যদি সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে বড়সড় ভাঙন ধরাতে পারেন, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তৃণমূল এবং কংগ্রেস উভয়ের ওপরই।

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবার মুর্শিদাবাদকে নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা সাজিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট শতাংশের হারে বিজেপি যে উত্থান ঘটিয়েছিল, বিধানসভায় তারা তাকেই সাফল্যের সোপান বানাতে চায়। বিশেষ করে হিন্দু ভোট সংহতির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে তারা ঘর গোছাচ্ছে।

মুর্শিদাবাদের ভোট মানেই সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু সমীকরণের সূক্ষ্ম অঙ্ক। তৃণমূলের বিরুদ্ধে উন্নয়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগকে অস্ত্র করছে বিরোধীরা। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন— কংগ্রেস কি পারবে তাদের পুরনো দুর্গ ফিরে পেতে? নাকি হুমায়ুন কবিরের মতো নির্দলীয় বা নতুন দলগুলি ‘ভোট কাটুয়া’র ভূমিকা পালন করে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পথ প্রশস্ত করে দেবে?

এক নজরে বর্তমান প্রেক্ষাপট:

🔹তৃণমূল কংগ্রেস: দুর্নীতির অভিযোগ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চ্যালেঞ্জ সামলানো।
🔹জাতীয় কংগ্রেস: অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে হৃত জমি পুনরুদ্ধার এবং ময়দানে থাকা এবং সংগঠন যারা তৈরি করছে সে রকম তরুণ মুখদের সামনে আনা।
🔹জনতা উন্নয়ন পার্টি: হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে থাবা বসানো।
🔹বিজেপি: হিন্দু ভোট ব্যাংক সংহত করে চমকপ্রদ ফলাফল করা।

পরিশেষে বলা যায়, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস যে ভালো ফল করার আশা করছে তাতে লড়াইটা কেবল প্রার্থী হওয়ার নয়, লড়াইটা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ব্যালট বক্সে রূপান্তর করার। অধীর চৌধুরী তাঁর তুরুপের তাস কীভাবে খেলেন, এখন সেটাই দেখার।

]]>
https://banglakal.com/opinion/murshidabad-candidate-race/feed/ 0 1585
বেঙ্গল রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান: হুমায়ুন কবিরের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ও ২০২৬-এর লক্ষ্য https://banglakal.com/state/humayun-kabir-new-party/ https://banglakal.com/state/humayun-kabir-new-party/#respond Sat, 03 Jan 2026 14:38:42 +0000 https://banglakal.com/?p=1336 মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিতর্কিত মুখ, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির, আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP)-এর যাত্রা শুরু করেছেন। ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার খাগরুপাড়া মোড়ে এক বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে [৬৫]। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কবিরের এই পদক্ষেপ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল এবং প্রধান বিরোধী দল—উভয় শিবিরের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

দল গঠনের প্রেক্ষাপট ও বাবরী মসজিদ বিতর্ক হুমায়ুন কবিরের এই নতুন দল গঠনের মূলে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সংঘাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরী ধাঁচের মসজিদ’ নির্মাণের প্রস্তাব এবং ৬ ডিসেম্বর তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা দেন কবির । তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ৪ ডিসেম্বর তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে। কবিরের দাবি, তিনি মুসলিমদের নিরাপত্তা ও পরিচয়ের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং শাসক দল সংখ্যালঘুদের কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করছে ।

২০২৬-এর লক্ষ্য: ‘কিংমেকার’ হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা হুমায়ুন কবির তাঁর নতুন দলের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১৩৫ থেকে ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে [৪৩, ৫০]। তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর দল ৯০ থেকে ১০০টি আসন জয়লাভ করে রাজ্যে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং তাঁর সমর্থন ছাড়া কেউ সরকার গড়তে পারবে না [২১, ৪৩, ৬৪]। কবির আরও জানিয়েছেন যে, তিনি হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল AIMIM-এর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ার বিষয়ে আগ্রহী ।

উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দলের নাম ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ রাখার সার্থকতা ব্যাখ্যা করে কবির জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, ওবিসি (OBC) এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা । তিনি অভিযোগ করেন যে, গত ১৪ বছরে তৃণমূল সরকার পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক প্রয়োজনে বিশেষ কাজ করেনি । সাম্প্রতিক এক ভাইরাল ভিডিওতে কবির রাজ্যের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন । তাঁর দাবি, বেসরকারি হাসপাতালগুলি পাঁচ হাজার টাকার বিলকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা লুট করছে এবং এর বিনিময়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হচ্ছে ।

বিতর্ক ও আইনি জটিলতা হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক জীবন যেমন বর্ণময়, তেমনই বিতর্কেও ঘেরা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় হিন্দুদের নিয়ে তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্য (‘ভাগীরথী নদীতে ফেলে দেওয়া’) দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল তবে তিনি বলেন এতা মমতা আমাকে দিয়ে করিয়েছিলেন, তিনি পরবর্তীতে দাবি করেন যে এটি সাম্প্রদায়িক হুমকির প্রতিবাদে বলা হয়েছিল ।

দলের যাত্রার শুরুতেই কবির নতুন আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ (সোহেল) এক পুলিশ কর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগে আটক হন । কবির এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং তৃণমূলের চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। এর প্রতিবাদে তিনি ১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমি একাই ১০০’ মন্তব্যের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে হুমায়ুন কবির এখন বড় ‘কিংমেকার’ হতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

হুমায়ুন কবিরের এই রাজনৈতিক উত্থানকে একটি নদীর তৃতীয় স্রোতের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে; যা মূল প্রবাহের সঙ্গে মিশে শক্তি বাড়াতে পারে অথবা শক্তিশালী ঘূর্ণি সৃষ্টি করে নদীর গতিপথই বদলে দিতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/state/humayun-kabir-new-party/feed/ 0 1336
গভীর রাতে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতার বাড়িতে পুলিশি হানা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ https://banglakal.com/politics/police-pay-a-visit-to-congress-leader-home-ahead-of-their-program-in-berhampore/ https://banglakal.com/politics/police-pay-a-visit-to-congress-leader-home-ahead-of-their-program-in-berhampore/#respond Wed, 26 Nov 2025 18:36:36 +0000 https://banglakal.com/?p=1247 মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপারসন সিদ্দিক আলী-র বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে (২৬ নভেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিট) মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ হানা দেয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘকাল আগে জামিনপ্রাপ্ত একটি মামলায় পুলিশ তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।

সিদ্দিক আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী সাওনী সিংহ রায় এর মিথ্যা মামলায় তিনি প্রায় তিন বছর নয় মাস আগে—২রা ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে—জামিন পেয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ ২৬শে নভেম্বর গভীর রাতে পুলিশ এসে সেই পুরনো জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায় এবং তাঁকে খুঁজে বেড়ায়।

এই অস্বাভাবিক পুলিশি তৎপরতার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, আগামীকাল, ২৭শে নভেম্বর ২০২৫, মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এই জনসভায় সিদ্দিক আলীর সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল।


পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা এবং জনসভায় যোগদান আটকাতেই ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশে পুলিশ এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড করেছে।

এই ঘটনা নিয়ে সিদ্দিক আলী বলেন, “মুর্শিদাবাদ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি এবং বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি তুলে ধরছি বলেই—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ গভীর রাতে আমার বাড়িতে এসে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি এই মামলায় প্রায় পৌনে চার বছর আগে জামিন নিয়েছি; তারা হয়তো ভেবেছিল আমার কাছে কাগজপত্র নেই এবং সেই সুযোগে আমাকে গ্রেফতার করে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াই করছে, তাদের প্রতি ভয়-ভীতি প্রদর্শনের একটি বার্তা দেবে।”

তিনি আরও বলেন,

“কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—আমি সত্যের পথে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকব। পুলিশি হেনস্থা বা রাজনৈতিক চাপ আমাকে সত্যের লড়াই থেকে এক ইঞ্চি সরাতে পারবে না।

সমাজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে যদি আমাকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হয়—আমি সেটাকেও গৌরব হিসেবে গ্রহণ করব।

এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসংখ্য দেশপ্রেমিক কারাবরণ করেছেন; ভগবান শ্রীকৃষ্ণও কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার জন্য যদি আমাকে কারাগারে যেতে হয়—আমি সেটিকে তীর্থযাত্রা হিসেবে মেনে নেব। দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক দলের জেলখানার শৃঙ্খল আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না।”


মুর্শিদাবাদ থানার এই আচরণকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছে জেলা কংগ্রেস। তারা অভিযোগ করেছে, শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ার কারণে পুলিশ প্রশাসনের এই নির্লজ্জ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ রাজ্যের গণতন্ত্রের পক্ষে এক নিন্দনীয় নজির সৃষ্টি করল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের এইভাবে হয়রানি করা হলে তা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। পুলিশি পদক্ষেপের পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

]]>
https://banglakal.com/politics/police-pay-a-visit-to-congress-leader-home-ahead-of-their-program-in-berhampore/feed/ 0 1247
সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন! মুর্শিদাবাদে খবর শেয়ার করায় পুলিশের নোটিশ: আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন আইনজীবী https://banglakal.com/state/advocate-tuhin-shabnam-take-legal-action-against-harassment-of-police/ https://banglakal.com/state/advocate-tuhin-shabnam-take-legal-action-against-harassment-of-police/#respond Sat, 15 Nov 2025 09:07:35 +0000 https://banglakal.com/?p=1148 মুর্শিদাবাদ: প্রকাশিত খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মতো মৌলিক অধিকার প্রয়োগের দায়ে এক ব্যক্তিকে পুলিশের তরফে হয়রানি করার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পুলিশের বেআইনি পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবিতে সরাসরি সুতি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (Officer-in-Charge) কড়া আইনি নোটিশ পাঠালেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তুহিন শবনম।


আইনি নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সামান্য একটি প্রকাশিত সংবাদ (যা ‘পুবের কলম ডেইলি’ পত্রিকায় প্রকাশিত) হুবহু শেয়ার করার জন্য তার মক্কেল মাহফুজুর রহমানকে unwarranted নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার অধিকার (সংবিধানের ১৯(১)(ক) ধারা), সমতার অধিকার (ধারা ১৪) এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (ধারা ২১)-এর চরম লঙ্ঘন।



আইনজীবী তুহিন শবনম তাঁর নোটিশে উল্লেখ করেছেন, মাহফুজুর রহমান কোনো ভাবেই খবরের বিষয়বস্তু পরিবর্তন, বিকৃত বা উস্কানিমূলক তথ্য যোগ করেননি। এটি একটি স্বীকৃত সংবাদপত্রের প্রকাশিত খবর যা শেয়ার করার জন্য CrPC, IPC বা IT আইনের কোনো ধারাতেই অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।
নোটিশে শ্রেয়া সিঙ্ঘল বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া এবং অনুরাধা ভাসিন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া-এর মতো সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, আইনসঙ্গতভাবে প্রকাশিত তথ্যের নিরীহ প্রচার বা বিতরণকে ফৌজদারি দায়বদ্ধতার আওতায় আনা যায় না।

মাহফুুজুর রহমান



আইনি নোটিশে স্পষ্টভাবে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, জেলার বিভিন্ন থানায় এই ধরনের বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত, সংবাদ বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।

আইনজীবী তুহিন শবনম

আইনজীবী তুহিন শবনম নোটিশে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করে নোটিশ জারির আইনি ভিত্তি জানাতে হবে। এ প্রসঙ্গে তাঁর কড়া বার্তা:
“সাংবিধানিক অধিকারের উপর এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আঘাত কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যদি পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বেআইনি পদক্ষেপ বন্ধ না করে এবং উপযুক্ত আইনি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আমার মক্কেলের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আমি অবিলম্বে কলকাতা হাইকোর্টে আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী রিট পিটিশন দাখিল করব। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হবে।”
নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পুলিশের তরফে সঠিক প্রতিক্রিয়া না এলে, যাবতীয় আইনি পদক্ষেপের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ওপর বর্তাবে।

]]>
https://banglakal.com/state/advocate-tuhin-shabnam-take-legal-action-against-harassment-of-police/feed/ 0 1148
ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের আন্দোলনকে নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি: SDPI https://banglakal.com/politics/sdpi-hit-back-to-bjp-and-urged-govt-to-take-acction/ https://banglakal.com/politics/sdpi-hit-back-to-bjp-and-urged-govt-to-take-acction/#respond Tue, 15 Apr 2025 13:58:54 +0000 https://banglakal.com/?p=568 ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫, বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে ফ্যাসিবাদী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সচেতন সমাজ ,গণতন্ত্র প্রেমী জনগণ আন্দোলন শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলাও তার ব্যতিক্রম নয় বিভিন্ন দল সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে—কখনও সংগঠনগতভাবে, কখনও যৌথভাবে। এরই মাঝে গত ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত জঙ্গীপুর মহকুমার কয়েকটি স্থানে এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।

এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম আজ রাজ্য কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এই সহিংসতার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি ছিল, যাতে মূলত কমবয়সী ছেলেরা অংশ নেয়। কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও এলাকার জনগণের মতে, এই যুবকরা স্থানীয় ছিল না—এরা ছিল বিজেপির বহিরাগত লোক। পরিকল্পিতভাবে মিছিলের উপর ইট-পাটকেল ছোঁড়ার মাধ্যমে বিজেপিই এই আন্দোলনকে সহিংস করে তোলে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ১২ এপ্রিল সকালে পুলিশের পোশাক পরে যারা এলাকায় ঘরবাড়ি ও দোকান পুড়িয়েছে, তারা আসলে পুলিশ ছিল না, বরং ছিল বিজেপির গুন্ডা বাহিনী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে।

এসডিপিআই-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি ও তাদের সহযোগী কিছু মিডিয়া, বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান, “৮ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে জঙ্গীপুর মহকুমায় ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে এসডিপিআই-এর কোনও কর্মসূচি ছিল না।”

তিনি রাজ্য সরকার ও জনগণকে এই মিথ্যা প্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাম্প্রদায়িক নন’ বলে উল্লেখ করেন। হাকিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য বাইরে থেকে লোক এনে বিজেপি এই দাঙ্গা ঘটিয়েছে।” তিনি রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান

]]>
https://banglakal.com/politics/sdpi-hit-back-to-bjp-and-urged-govt-to-take-acction/feed/ 0 568
পবিত্র রমজান মাসে কান্দিতে ফল-সব্জি-মুদির বাজারে আগুন https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/ https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/#respond Tue, 04 Mar 2025 10:43:56 +0000 https://banglakal.com/?p=37 জৈদুল সেখ, কান্দী, মুর্শিদাবাদ: পবিত্র রমযান মাসে সিয়াম সাধনার সময় ফলের চাহিদা বাড়ার সুযোগে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা রমযানকে সবচেয়ে পুণ্যের মাস হিসেবে মনে করেন এবং পুরো মাসজুড়ে রোজা পালন করেন। এই সময় ফল, সবজি, ও মুদির সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাজারে খেজুরের খুচরা মূল্য ১৭০-১৮০ টাকা কেজি, যা আগে তুলনামূলক কম ছিল। শসার দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। আপেলের দাম ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, কলার দামও ১৫-২০ টাকা বাড়িয়ে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আঙুরের দাম প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। তরমুজসহ অন্যান্য ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে পাতিলেবুর। কয়েকদিন আগেও ১০ টাকায় পাঁচটি পাতিলেবু পাওয়া গেলেও, এখন চারটি লেবুর দাম ২০ টাকা হয়ে গেছে।

কেন রমযান এলেই ফলমূলের দাম বেড়ে যায়? খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, আড়ৎদাররা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। তাদের মতে, আড়ৎদারদের ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ালে কালোবাজারি বন্ধ হতে পারে।

কান্দির জীবন্তি এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বহরমপুরের আড়ৎ থেকে তারা বেশি দামে মাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের প্রতি ফলের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে রোজাদাররা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন।

]]>
https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/feed/ 0 37