myanmar – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Tue, 11 Nov 2025 07:06:43 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 myanmar – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে রোহিঙ্গা নৌডুবি: অন্তত ১১ জনের মৃত্যু, শতাধিক নিখোঁজ https://banglakal.com/world/11-rohingya-dead-as-their-ship-sanked-near-malaysia-thailand-border/ https://banglakal.com/world/11-rohingya-dead-as-their-ship-sanked-near-malaysia-thailand-border/#respond Tue, 11 Nov 2025 07:06:41 +0000 https://banglakal.com/?p=1140 মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক সীমান্তের কাছে ডুবে যাওয়ায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকাটি থাইল্যান্ডের কো তারুতাও দ্বীপের কাছে, মালয়েশিয়ার লাংকাউই দ্বীপের ঠিক উত্তরে ডুবে যায়।

রবিবার মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক কিশোরী রয়েছে। মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (MMEA) প্রধান রমলি মুস্তাফার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার থাই কর্তৃপক্ষ আরও চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। এটি ছিল প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গার একটি বৃহত্তর দলের অংশ, যারা তিন দিন আগে রাখাইন রাজ্য থেকে একাধিক নৌকায় করে মিয়ানমার ত্যাগ করেছিলেন।

এখনও পর্যন্ত ঐ দলের আরও দুটি নৌকার কোনো খোঁজ মেলেনি। মালয়েশিয়ার লাংকাউই উপকূলের প্রায় ৫৮৩ বর্গকিলোমিটার (২২৫ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে।

MMEA প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকৃত একজনকে কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে এবং আরেকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যখন উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্রে নিখোঁজদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ার কেদাহ ও পেরলিস সামুদ্রিক অঞ্চলের পরিচালক, ফার্স্ট অ্যাডমিরাল রমলি মুস্তাফা জানান, সন্ধ্যার পর অন্ধকার ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযান বন্ধ থাকলেও সোমবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে তা পুনরায় শুরু করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বর্ণনা অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৭০ জন যাত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, “আমরা সমুদ্র স্রোত, বাতাসের প্রবাহ ও সম্ভাব্য ভেসে যাওয়ার দিক বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান এলাকা বাড়িয়েছি। এখন অভিযানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ ও আকাশপথ উভয় দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।”

অভিযান জোরদার করতে MMEA পাঁচটি উদ্ধার জাহাজ ও একটি বিমান পাঠিয়েছে—এর মধ্যে রয়েছে KM SIANGIN (অন-সিন কমান্ডার), BENTENG 7, PETIR 81, PERKASA 1226, এবং Bombardier CL 415 উড়োজাহাজ।

এদিকে কেদাহ প্রদেশের পুলিশ প্রধান আদজলি আবু শাহ জানিয়েছেন, তেলুক এওয়া উপকূলে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা কোনো রোহিঙ্গা জীবিত অবস্থায় দেখতে পেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ও MMEA একসঙ্গে কাজ করছে নৌকাটি কোথায় ডুবেছে তা নির্ধারণ করতে এবং মানব পাচারকারীদের শনাক্ত করতে, যারা এই বিপজ্জনক যাত্রা সংগঠিত করেছিল।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে লাখো অভিবাসী ও শরণার্থী বসবাস করছে, যাদের অনেকেই অদলিখিত অবস্থায় নির্মাণ ও কৃষিখাতে কাজ করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রায়ই মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেন। এই যাত্রাগুলো প্রায়ই মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হয়—নৌকাডুবি, নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর খবর নিয়মিতই শোনা যায়।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত, দক্ষিণ এশিয়ার “বিদেশি” হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘ দশক ধরে নিপীড়নের শিকার। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা দক্ষিণ বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। সামরিক জান্তা ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে গৃহযুদ্ধের কারণে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রাখাইনে চলমান সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ বেড়েছে।

রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ (R4R) এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেছে:
“#Rohingya জনগণ এখনও রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, কারণ সেখানে চলছে নির্যাতন, অপহরণ, হত্যা, জোরপূর্বক শ্রম ও জোর করে সেনা নিয়োগ।”

সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, আরাকান আর্মি অনেক সময় পাচারকারীদের সঙ্গে মিলে রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশাল মুক্তিপণ আদায় করছে এবং প্রায়ই তাদের পাচারচক্রের হাতে তুলে দিচ্ছে।

#SaveRohingya এবং #Myanmar হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে আন্দামান সাগরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে মিয়ানমার উপকূলে দুটি পৃথক নৌডুবিতে অন্তত ৪২৭ রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)।

]]>
https://banglakal.com/world/11-rohingya-dead-as-their-ship-sanked-near-malaysia-thailand-border/feed/ 0 1140
৪৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে https://banglakal.com/nation/indian-thrown-out-43-rohingya-on-the-sea/ https://banglakal.com/nation/indian-thrown-out-43-rohingya-on-the-sea/#respond Thu, 15 May 2025 13:38:02 +0000 https://banglakal.com/?p=811 ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গত ৮ মে নয়াদিল্লি থেকে আটক ৪৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমার সামুদ্রিক সীমান্তের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলে ফেলে দিয়েছে। ওই অভিযানে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জোর করে জলে নামতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও তাদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে হয় তাদের।

অবাক করার বিষয়, এই ঘটনার দিনেই ভারতের সলিসিটর জেনারেল সুপ্রিম কোর্টে জানান, রোহিঙ্গাদের যেকোনো প্রত্যাবাসন “আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই” হবে।

নয়াদিল্লিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একাধিক আবেদনের শুনানিতে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যাদের ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের কাছে রাষ্ট্রহীন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। গণহত্যার কারণে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল।

মাকতুব-কে দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থী জানিয়েছেন, দিল্লির উত্তম নগর থেকে আটক তাদের আত্মীয়রা মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এক আবেদনে বলা হয়েছে, “যাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী শিশু, ১৬ বছরের নারী কিশোরী, ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ এবং ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন।”

রোহিঙ্গা খ্রিস্টান প্রতিনিধি ডেভিড নাজির জানান, তার বাবা-মাকে দিল্লি থেকে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে নৌবাহিনীর জাহাজে হাত বাঁধা ও চোখ বেঁধে তোলা হয়।

দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। অথচ ১৩ জন নারীসহ এই ৪৩ জন রোহিঙ্গা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) ভারতের রেজিস্টার্ড সদস্য।

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার জন্য তৈরি আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এক নারী বন্দি তার আত্মীয়কে জানিয়েছেন যে, জলে ফেলে দেওয়ার আগে কর্মকর্তারা তাদের যৌন নিপীড়ন ও অশ্লীলভাবে স্পর্শ করেছিলেন।

এক ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা মিয়ানমারে যেতে চান নাকি ইন্দোনেশিয়ায়। সবাই মিয়ানমারে যেতে রাজি হননি, কিন্তু পরে তাদের মিথ্যা আশ্বাসে ফেলে আন্তর্জাতিক জলে ফেলে দেওয়া হয়।

জলে ভেসে এসে তারা বুঝতে পারেন তারা মিয়ানমারে পৌঁছেছেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জানিয়েছে মিয়ানমারে তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন স্বাক্ষরকারী না হলেও, জাতিসংঘের “নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ প্রতিরোধ কনভেনশন”-এ স্বাক্ষর করেছে, যার ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার জীবনের ঝুঁকি আছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্বীকার করেছেন যে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে “পুশব্যাক” করা হয়েছে।

শরণার্থী নুর জানান, তিনি ও আরও ২৫ জন শিক্ষার্থী ৬ মে রাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা সবাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং-এ পড়ে এবং বাবা-মা ছাড়া উত্তম নগরে থাকত।

৬ ও ৭ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৬৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে।

আটক থাকা অবস্থায় নারী ও শিশুদের ১০ ঘণ্টা ধরে পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়, কোনো খাবার দেওয়া হয়নি এবং পরে ইন্দারলোক ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

নুর বলেন, “একটা নৌকায় নিয়ে তাদের হাত ও পা বাঁধা হয়, এবং জলে ফেলে দেওয়া হয়। এটা বর্বরতা ছাড়া কিছু নয়।”

আইনজীবী ফজল আবদালি বলেন, “UNHCR দ্বারা স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও, রোহিঙ্গারা ভারতের আইনে কোনো সুরক্ষা পান না। ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির লঙ্ঘন মানবিকতা সংকোচনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।”

প্রায় ৪০,০০০ রোহিঙ্গা ভারতে আশ্রয় চেয়েছে, UNHCR-এর মতে ১৮,০০০ জন তাদের সাথে নিবন্ধিত।

জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য নির্মূল কমিটি (CERD) ভারতকে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে আটক বন্ধ ও মিয়ানমারে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে, এবং লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ২০২১ সালে সেই জেনারেলরাই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে।


মাক্তুব মিডীয়ার জন্য শাহীন আব্দুল্লার লেখা, বাংলাকালের জন্য অনুবাদ করেছেন নিজাম পারভেজ। মূল লেখাটি এখানে ক্লিক করে পড়া যাবে।

]]>
https://banglakal.com/nation/indian-thrown-out-43-rohingya-on-the-sea/feed/ 0 811