ramadan – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Mon, 24 Mar 2025 13:32:39 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 ramadan – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 রমজানে দিল্লির ওখলা অঞ্চলে মসজিদগুলোতে নারীদের উপস্থিতি বেড়েছে। https://banglakal.com/communalism/muslim-women-embrace-mosque-spaces-this-ramadan/ https://banglakal.com/communalism/muslim-women-embrace-mosque-spaces-this-ramadan/#respond Mon, 24 Mar 2025 13:32:37 +0000 https://banglakal.com/?p=527 বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল শাইস্তা। ব্যাগে নিজের নোটবুকটি সাবধানে রেখে দিয়েছিল, যেন কিছু পড়ে না যায়। আসরের নামাজের আজান শেষ হয়েছে, আর জামাত শুরু হতে চলেছে। মসজিদের নতুন তৈরি হওয়া নারীদের অংশে ঢুকে তিনি কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ালেন। ঘরের ঠান্ডা বাতাস যেন তাকে প্রশান্তি এনে দিল। অন্যান্য ছাত্রীদের সঙ্গে নামাজের জন্য হাত তুলে দাঁড়ানোর সময় শাইস্তার মনে এক ধরনের শান্তি এবং আত্মিক সম্প্রীতির অনুভূতি সৃষ্টি হলো। মনে হলো, মসজিদের এই পরিবেশ আর জামাতে নামাজ পড়া যেন রমজানের আধ্যাত্মিকতাকে আরও গভীর করে তোলে। এই বছর, দিল্লির মুসলিম-প্রধান ওখলা অঞ্চলের মসজিদগুলোতে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। তরুণ ছাত্রী, কর্মজীবী নারী, গৃহিণী, এমনকি বয়স্ক নারীরাও মসজিদে এসে নামাজ আদায় করছেন, কোরআন তেলাওয়াত করছেন এবং আধ্যাত্মিক চর্চায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শুক্রবার, ১৪ মার্চ, আবুল ফজল এলাকার জামিয়াত উল-হিন্দ মারকাজের বেজমেন্টে অসংখ্য নারী জোহরের নামাজ আদায় করেছেন। অন্যদিকে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ৮ নম্বর গেটের ছোট মসজিদে সম্প্রতি নির্মিত নারীদের জন্য আলাদা অংশটি ছাত্রীদের জন্য বড়ই আরামদায়ক হয়ে উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস কমন রুম এবং হোস্টেলগুলোতেও রমজানের পবিত্রতা উদযাপিত হচ্ছে। ছাত্রীদের দলবদ্ধভাবে নামাজ আদায় এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাটলা হাউসের মসজিদগুলোতেও নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছোট শিশুরা তাদের মায়েদের সঙ্গে মসজিদে আসছে, আর তাদের সরল হাসি এবং আনন্দ মসজিদের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে। এটি শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের সুবিধা নয়, বরং কর্মজীবী নারী এবং পূর্ণ সময়ের ছাত্রীদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। যখন পুরো দেশ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং ইসলামোফোবিয়ার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন নারীদের জন্য মসজিদের দরজা ধীরে ধীরে খুলে যাওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। রমজানে পুরুষ-কেন্দ্রিক চিত্র থেকে সরে এসে, এই পরিবর্তন নারীদের ধর্মীয় জীবনের অংশীদারিত্বের সুযোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এটি মুসলিম নারীদের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। রমজান মাসের এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে, মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থানগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করছে। এটি শুধু আধ্যাত্মিকতাকে উদযাপন নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।

]]>
https://banglakal.com/communalism/muslim-women-embrace-mosque-spaces-this-ramadan/feed/ 0 527
ইফতার আয়োজনের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বরখাস্ত, বিতর্কে উত্তাল শিকারপুর https://banglakal.com/communalism/suspend-ed-school-principle-for-organising-iftar-in-school/ https://banglakal.com/communalism/suspend-ed-school-principle-for-organising-iftar-in-school/#respond Fri, 21 Mar 2025 10:10:17 +0000 https://banglakal.com/?p=476 উত্তরপ্রদেশের শিকারপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইরফানা নকভিকে স্কুল প্রাঙ্গণে ইফতার আয়োজনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১৭ মার্চ স্কুলে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল চত্বরে বেশ কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি ইফতার করছেন। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা ইরফানা নকভি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এই আয়োজন করেছিলেন । ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইরফানা নকভিকে বরখাস্ত করে এবং আয়োজকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। শিকারপুরের সহকারী বেসিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ABSA) আমান গুপ্তা জানান: “সরকারি স্কুল বা প্রতিষ্ঠানে কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রধান শিক্ষিকা ইরফানা নকভি এই নিয়ম ভেঙে ইফতার আয়োজন করেছেন। তাই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।” এই ঘটনার পর, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টির এক স্থানীয় নেতা মন্তব্য করেছেন: ”উত্তরপ্রদেশে দ্বৈত নীতি স্পষ্ট। যদি ইফতার আয়োজন সত্যিই গুরুতর অপরাধ হয়, তাহলে অন্যান্য ধর্মের অনুষ্ঠানের জন্য কেন একই পদক্ষেপ নেওয়া হয় না?” ইরফানা নকভির বরখাস্তের পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অধিকারকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “একই ধরনের অনুষ্ঠান যদি অন্য ধর্মের হতো, তাহলে কি এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতো?” তবে, কিছু হিন্দু দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে, এবং একে “ন্যায্য পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছে। ইফতার আয়োজনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় বৈষম্য এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ নতুন করে উত্থাপিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সব ধর্মের জন্য কি সমান নিয়ম প্রযোজ্য? নাকি একপেশে ব্যবস্থাই বাস্তব চিত্র?

]]>
https://banglakal.com/communalism/suspend-ed-school-principle-for-organising-iftar-in-school/feed/ 0 476
রমজানে রোজা ভেঙে রক্ত দিলেন নাসিম, জীবন বাঁচল সঙ্গীতার https://banglakal.com/communalism/fasting-muslim-man-donates-blood-to-hindu-women-in-west-bengal/ https://banglakal.com/communalism/fasting-muslim-man-donates-blood-to-hindu-women-in-west-bengal/#respond Thu, 20 Mar 2025 12:02:02 +0000 https://banglakal.com/?p=471 মানবতার অনন্য নজির গড়লেন নদিয়ার পলাশির নাসিম মালিতা বয়স ২৭ বছর। রমজানের পবিত্র মাসে রোজা রেখে থাকা সত্ত্বেও, এক হিন্দু মহিলা সঙ্গীতা ঘোষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান করলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে। সঙ্গীতা ঘোষ, যিনি মজদিয়ার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন, জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন ছিল। তার ছেলে সঞ্জু ঘোষ সাহায্যের জন্য Emergency Blood Service (EBS) নামক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই সংস্থার নিয়মিত রক্তদাতা নাসিম, কোনো দ্বিধা না করেই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি না জেনে বা প্রশ্ন না করেই নিজের রক্ত দান করেন, ধর্ম-পরিচয় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। EBS-এর সম্পাদক সুবীর সেন জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে মাত্র পাঁচজন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সংস্থা বর্তমানে ১৫,০০০ সদস্যের পরিবারে পরিণত হয়েছে। এখানে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক ভেদাভেদ নেই, বরং মানবতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। সঙ্গীতার ছেলে সঞ্জু ঘোষ আবেগি হয়ে বলেন, “নাসিমদা, তোমাকে ধন্যবাদ। আমার বিশ্বাস, জীবন বাঁচানোই সবচেয়ে বড় ধর্ম। জাত, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে মানবতা সবার আগে।” ধর্মের নামে যখন বিভাজনের রাজনীতি চর্চিত হয়, তখন নাসিমের এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের বিশ্বাস মানবতাকেই অগ্রাধিকার দেয়। তার এই কাজ সমাজে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিল।

]]>
https://banglakal.com/communalism/fasting-muslim-man-donates-blood-to-hindu-women-in-west-bengal/feed/ 0 471
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/ https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/#respond Thu, 13 Mar 2025 16:08:46 +0000 https://banglakal.com/?p=358

ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম যা মানবজাতির কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আসলে ইসলাম একটি জীবনধারা। একটি মানুষের জীবনে কি করণীয় আর কি করণীয় নয়, তার সুস্পষ্ট নির্দেশ ইসলামে বিদ্যমান। কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদেরকে নৈতিকতা, সহনশীলতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সদাচরণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। শুধু ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের নয়, বরং বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাহল আল্লাহর আদেশাবলী মেনে চলতে হবে, এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধার মনোভাব রাখতে হবে।

১. ধর্মীয় বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ

কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বা উগ্রতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। “তোমরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না” (সুরা নিসা: ১৭১) এই আয়াতটি আমাদের ধর্মীয় চেতনা এবং আচরণে সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে, ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম, যা অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা বা অতিরিক্ত উদারতা থেকে দূরে থাকতে বলে। ইসলাম উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, কারণ এমন আচরণ ইসলামের মূল দর্শন থেকে বিচ্যুত।

২. অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা

ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এবং দেবতাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “অন্যের দেবতাকে গালি দিও না” (সুরা আনআম: ১০৮)। এই আয়াত দ্বারা ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার মর্মার্থ প্রতীয়মান হয়। ইসলাম যে কোনো ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষ বা অপমানকে নিন্দা করে। এটি একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করে যে, কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করবে, আর কে করবে না। কেননা হেদায়েত করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. ধর্মের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি নেই

ইসলাম মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্ম নির্বাচন করার অধিকার প্রদান করেছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। আলোর পথ এখন সুস্পষ্ট” (সুরা বাকারা: ২৫৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম স্বেচ্ছায় ধর্মগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করেছে যে, কেউই জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করবে না। ইসলামের এ দৃষ্টিভঙ্গি অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা ও গ্রহণযোগ্যতার উদাহরণ। ইতিহাস তাই বলে। যদিও অনেকেই বিকৃত ইতিহাসের উপর আস্থা রেখে সত্য উদঘাটন করে না।

৪. নিরীহ মানুষের হত্যা নিষিদ্ধ

ইসলাম অত্যন্ত জোরালোভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন, “একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করার সমান অপরাধ” (সুরা মায়েদা : ৩২)। এটি মানবজীবনের মর্যাদা ও পবিত্রতা নিশ্চিত করার একটি প্রধান নীতিমালা। ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষা করাকে খুবই মহান কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান। তাই ইসলাম বলে একটি নির্দোষ ব্যাক্তিকে হত্যা করা মানে বিশ্ব মানব মান্ডলিকে হত্যা করার সমান।

৫. সহায়তা এবং সহযোগিতা

ইসলাম নৈতিক মূল্যবোধে উৎসাহ দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ বা সাহায্য করবে সে উপকৃত হবে। আর যে মন্দ কাজে প্ররোচিত বা সহযোগিতা করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে” (সুরা নিসা: ৮৫)। এই নির্দেশ ইসলামের সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি প্রকাশ করে, যেখানে মুসলমানরা ভালো কাজে একে অপরকে সাহায্য করতে বলা হয়েছে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ইসলামে ধর্মীয় আচারাদি পালন ছাড়াও ফিতরা, যাকাত, সদকা, ইত্যাদি নানাবিধ অর্থ প্রদানের কথা সেই নির্দেশকে কার্যকরী করার জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়।

ইসলামের শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা

ইসলাম সবসময়ই শান্তি, সৌহার্দ্য, এবং ন্যায়ের ধর্ম। এটি ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, এবং মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। অন্যান্য ধর্মের প্রতি ইসলাম যে সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে তা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর করুণার প্রতিফলন। ইসলামে উগ্রতা বা অতিরিক্ত কট্টরপন্থার কোনো স্থান নেই; বরং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো সবাইকে নিয়ে সহাবস্থান করা এবং নৈতিকতার পথে পরিচালিত হওয়া। কেননা ইসলামে সবাইকে নিজের নিজের কর্মফল ভোগ করতে হবে। তাই নিজস্ব কর্মের প্রতি সজাগ থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ সেবায় অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়েছে। আসলে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা পশ্চমী দুনিয়া করেনি বা ইচ্ছা করে বিকৃত ভাবে প্রকাশ করেছে। তার উজ্জ্বল উদাহরন জিহাদ শব্দের অপব্যাখ্যা। তিনটি স্তরকে একাকার করে দিয়ে আত্মশুদ্ধির পর্যায়কে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তাই বলা যায় যে, ইসলাম মানুষের জীবনের মূল্য, স্বাধীনতা, এবং ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো ন্যায়, শান্তি, ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক সমাজ গঠন করা, যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে বসবাস করতে পারে।

]]>
https://banglakal.com/opinion/islam-and-its-perspective-towards-other-religion-by-pasarul-alam/feed/ 0 358
হোলিতে মুসলমানদের ঘরে থাকার পরামর্শ, বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে বিতর্ক https://banglakal.com/communalism/bjp-mla-in-bihar-tells-muslims-to-stay-indoors-on-holi-during-ramadan/ https://banglakal.com/communalism/bjp-mla-in-bihar-tells-muslims-to-stay-indoors-on-holi-during-ramadan/#respond Mon, 10 Mar 2025 11:42:15 +0000 https://banglakal.com/?p=278

বিহারের মধুবনী জেলার বিসফি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর বাচৌল সোমবার (১১ মার্চ) বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “এ বছর হোলি শুক্রবার পড়েছে, তাই মুসলমানদের ঘরের ভেতরে থাকা উচিত।”

তিনি বলেন, “আমি মুসলমানদের উদ্দেশে বলতে চাই—বছরে ৫২টি শুক্রবার আছে। তার মধ্যে একটি হোলির সঙ্গে মিলে গেছে। হিন্দুরা যাতে শান্তিতে উৎসব উদযাপন করতে পারে, তারা যেন এতে বাধা না দেন। যদি তাদের গায়ে রঙ লাগলে আপত্তি থাকে, তবে তারা ঘরে থাকুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এটি জরুরি।”

রমজান ও শুক্রবারের নামাজ নিয়ে মন্তব্য

ঠাকুর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, “তারা রঙ বিক্রি করে টাকা উপার্জন করতে খুশি, কিন্তু যদি তাদের পোশাকে সামান্য রঙ লাগে, তবে তারা দোজখের (নরকের) ভয় পায়।”

বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া

ঠাকুরের এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলগুলোর তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।

আরজেডি বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইসরাইল মনসুরী এই মন্তব্যকে “সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা” বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে কখনো উৎসব নিয়ে সমস্যা হয়নি। হিন্দুরা আমাদের ইফতার পার্টিতে অংশ নেন। তাহলে বিজেপি বিধায়ক মুসলমানদের নিয়ে এত উদ্বিগ্ন কেন? এরা শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায় এবং নিজেদের ‘সনাতন ধর্মের রক্ষক’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়।”

শান্তি বজায় রাখার আশ্বাস সরকারের

এদিকে, বিহারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ও জেডিইউ নেতা জামা খান বলেন, “উৎসবের সময় রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রিয় ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।”

এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

]]>
https://banglakal.com/communalism/bjp-mla-in-bihar-tells-muslims-to-stay-indoors-on-holi-during-ramadan/feed/ 0 278
তারাবির নামাজ শেষে ফেরার পথে ধারাবাহিক হয়রানি ও পাথর নিক্ষেপ গুজরাটে https://banglakal.com/communalism/goons-attacking-muslims-after-taraweeh-in-gujarat/ https://banglakal.com/communalism/goons-attacking-muslims-after-taraweeh-in-gujarat/#respond Thu, 06 Mar 2025 07:18:39 +0000 https://banglakal.com/?p=113 অহমদাবাদ, গুজরাট: অহমদাবাদের ভাটভা অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায় অভিযোগ করেছেন যে, কিছু উগ্রপন্থী ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে, বিশেষত যাঁরা টুপি পরিহিত ছিলেন, এমনকি শিশুরাও এই আক্রমণের শিকার হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, মুখোশ পরিহিত কিছু লোক তাদের বাড়িঘরের দিকেও পাথর ছুড়েছে। এছাড়া, কয়েকজন মুসলিমকে ছুরির ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।

প্রতিবছর রমজানে একই ঘটনা, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নয়

ভাটভার মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি, প্রতি রমজানেই এমন ঘটনা ঘটে, কিন্তু প্রশাসন কখনোই দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দুই অভিযুক্তের নামও উল্লেখ করেছেন—অমিত ও সুনীল।

তবে, এলাকাবাসীদের অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখায় এবং দীর্ঘ এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরই তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। এমনকি দোষীদের নাম দেওয়ার পরও পুলিশ তাদের “অজ্ঞাত ব্যক্তি” হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তারা কেবল তখনই সক্রিয় হয়, যখন ক্ষতিগ্রস্তরা ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

“আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?”

এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মাহদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“যদি আমাদের কিছু হয়, তাহলে তার দায়িত্ব কে নেবে?”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবার আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয় যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায় না। অপরাধীরা শাস্তি পায় না, পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেয়।”

মাহদি অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করছে।

একটি ভিডিওবার্তায় তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে পরিবেশ অশান্ত হওয়া উচিত নয়। এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ চাই, যেখানে সবাই—নারী, শিশু—নির্ভয়ে থাকতে পারবে, কোনো ভয় বা দ্বন্দ্ব ছাড়াই।”

]]>
https://banglakal.com/communalism/goons-attacking-muslims-after-taraweeh-in-gujarat/feed/ 0 113
পবিত্র রমজান মাসে কান্দিতে ফল-সব্জি-মুদির বাজারে আগুন https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/ https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/#respond Tue, 04 Mar 2025 10:43:56 +0000 https://banglakal.com/?p=37 জৈদুল সেখ, কান্দী, মুর্শিদাবাদ: পবিত্র রমযান মাসে সিয়াম সাধনার সময় ফলের চাহিদা বাড়ার সুযোগে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা রমযানকে সবচেয়ে পুণ্যের মাস হিসেবে মনে করেন এবং পুরো মাসজুড়ে রোজা পালন করেন। এই সময় ফল, সবজি, ও মুদির সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাজারে খেজুরের খুচরা মূল্য ১৭০-১৮০ টাকা কেজি, যা আগে তুলনামূলক কম ছিল। শসার দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। আপেলের দাম ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, কলার দামও ১৫-২০ টাকা বাড়িয়ে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আঙুরের দাম প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। তরমুজসহ অন্যান্য ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে পাতিলেবুর। কয়েকদিন আগেও ১০ টাকায় পাঁচটি পাতিলেবু পাওয়া গেলেও, এখন চারটি লেবুর দাম ২০ টাকা হয়ে গেছে।

কেন রমযান এলেই ফলমূলের দাম বেড়ে যায়? খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, আড়ৎদাররা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। তাদের মতে, আড়ৎদারদের ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ালে কালোবাজারি বন্ধ হতে পারে।

কান্দির জীবন্তি এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বহরমপুরের আড়ৎ থেকে তারা বেশি দামে মাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের প্রতি ফলের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে রোজাদাররা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন।

]]>
https://banglakal.com/state/fruits-price-skyrocketted-since-ramadan-locals-complains/feed/ 0 37