West bengal – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 04 Mar 2026 18:03:34 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.1 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2025/03/cropped-Logo-with-BG.png?fit=32%2C32&ssl=1 West bengal – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন নীতীশ কুমার? https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/ https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/#respond Wed, 04 Mar 2026 18:02:57 +0000 https://banglakal.com/?p=2295 পাটনা, ৪ মার্চ: বিহারের রাজনৈতিক অন্দরে জোর জল্পনা—দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar কি এবার রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন? নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, ১৬ মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তিনি প্রার্থীপদ দাখিল করতে পারেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সম্ভাব্য শেষ তারিখ ৫ মার্চ।

এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিহারের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী একইসঙ্গে রাজ্য বিধানসভার সদস্য এবং সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য থাকা যায় না। ফলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।

NITISH KUMAR BIHAR CHIEF MINISTER

জেডিইউ-এনডিএ শিবিরে তৎপরতা

বর্তমানে Janata Dal (United)-এর প্রধান হিসেবে নীতীশ কুমার National Democratic Alliance-এর সমর্থনে বিহারে জোট সরকার পরিচালনা করছেন। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট উল্লেখযোগ্য জয় পায়। যদিও নীতীশ কুমার টানা দশমবারের মতো শপথ নেন, তবে আসনসংখ্যার বিচারে Bharatiya Janata Party একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভায় তাঁর সম্ভাব্য গমন জোট রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

উত্তরসূরি কে?

দলীয় সূত্রে আলোচনা চলছে, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু জেডিইউ-র ভেতরে উত্তরাধিকার প্রশ্নে নীরব তৎপরতা স্পষ্ট।

এদিকে রাজ্যসভায় বিহারের পাঁচটি আসন খালি হচ্ছে। জেডিইউ-র দখলে থাকা দুটি আসনের একটি থেকে বর্তমান সাংসদ Ram Nath Thakur-কে তৃতীয়বারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতরত্ন প্রাপ্ত কর্পূরী ঠাকুরের পুত্র।

দিল্লিমুখী নীতীশ—রাজনীতির নতুন অধ্যায়?

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতিতে এক অনিবার্য নাম। জোটবদল, কৌশলী অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। এবার যদি তিনি রাজ্যসভায় যান, তবে তা হবে রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে তাঁর ভূমিকার পুনর্নির্ধারণ।

প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজ্য রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত, নাকি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ? বিজেপির উত্থান ও এনডিএ-র ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে কৌশলগত বলেই মনে করছেন।

সরকারিভাবে এখনো কিছু ঘোষণা না হলেও পাটনার রাজনৈতিক মহল উত্তেজনায় টগবগ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাই স্পষ্ট করে দিতে পারে—বিহারের শীর্ষপদে কি সত্যিই আসছে নতুন মুখ, আর নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রা কি এবার দিল্লিমুখী?

]]>
https://banglakal.com/nation/bihar-political-changes/feed/ 0 2295
ভিড় নেই ফাঁকা চেয়ার! চৈতন্যের জন্মভূমিতে নাড্ডার পরিবর্তনযাত্রার উদ্বোধনেই থুবড়ে গেল মুখ বিজেপির https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/ https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/#respond Wed, 04 Mar 2026 11:48:42 +0000 https://banglakal.com/?p=2272
দিগনগরে পরিবর্তন যাত্রাতে খালি চেয়ার , ওয়াসিম আক্রামের তোলা চিত্র

কৃষ্ণনগর । ওয়াসিম আকরাম। ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধনী কর্মসূচি। জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে পতাকা নেড়ে সূচনা করেন এই যাত্রার। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, অমিত মাল্ব্যা সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তবে প্রত্যাশিত জনসমাগমের অভাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ফাঁকা চেয়ার ও রাজনৈতিক বার্তা

অনুষ্ঠানস্থলে বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল না। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও দাবি করেছে, এটি ছিল সাংগঠনিক সূচনা এবং বুথস্তরের কর্মীদের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া। শুরুতে জনগণের ভিড় থাকলেও নাড্ডার হিন্দিতে বক্তব্য শুরু হতেই জনগণ বেরোতে চালু করেদেই। কিন্তু বিরোধীরা একে “মাঠের বাস্তবতা” বলেই ব্যাখ্যা করছে।

video by Wasim Akram

SIR 2026 ও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ

এই কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। ‘SIR 2026’ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বহু হিন্দু ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন উপস্থিত কিছু মানুষ। তাঁদের দাবি, সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছিল বুথস্তরের কর্মীদের মারফতে।

কয়েকজন অভিযোগ করেন, “গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণেই আমাদের নাম কাটা হয়েছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি নথি বা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে আসেনি, তবু ঘটনাস্থলে এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, আর তারই জেরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংগঠনের চ্যালেঞ্জ না কি রাজনৈতিক অসন্তোষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষ যদি বাস্তবেই বড় আকার নেয়, তবে তা নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধনী দিনের চিত্র তাই দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—একদিকে ফাঁকা আসনের ছবি, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভের দাবি। বিজেপি নেতৃত্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ, এই অভিযোগগুলির যথাযথ উত্তর দেওয়া এবং মাঠের সমর্থন পুনর্গঠনের পথ খোঁজা।

রাজনীতির ময়দানে জনসমর্থনই শেষ কথা। সেই সমর্থন কতটা বাস্তব এবং কতটা প্রতীকী—তারই পরীক্ষার সূচনা যেন হয়ে গেল এই ‘ফাঁকা আসন’-এর মধ্য দিয়ে।

]]>
https://banglakal.com/state/no-crowd-empty/feed/ 0 2272
বিকেল থেকে ঝড়-বৃষ্টির ইঙ্গিত, বড় আপডেট হাওয়া অফিসের https://banglakal.com/state/indications-of-storms-and-rain-from-the-afternoon-big-update-from-the-meteorological-office/ https://banglakal.com/state/indications-of-storms-and-rain-from-the-afternoon-big-update-from-the-meteorological-office/#respond Tue, 17 Feb 2026 11:06:11 +0000 https://banglakal.com/?p=2114

নিজস্ব প্রতিবেদন:  বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে তৈরি ঘূর্ণাবর্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তার প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গ ও উপকূলীয় জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হতে পারে বিকেল বা সন্ধ্যার পর।

আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সম্পূর্ণ মেঘাচ্ছন্ন হতে পারে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এখনও জারি হয়নি, তবে নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য কমলেও আর্দ্রতা বাড়বে, ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গে সকালের দিকে কুয়াশা বজায় থাকতে পারে।

এই মুহূর্তে সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে নিম্নচাপ ঘনীভূত হলে মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি হতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাব ২–৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তি নির্ভর করবে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের অবস্থার উপর। শীতের শেষ আর গরমের শুরুর মাঝামাঝি এই সময়ে এমন অস্থির আবহাওয়া অস্বাভাবিক নয়। নতুন আপডেটের জন্য নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।

]]>
https://banglakal.com/state/indications-of-storms-and-rain-from-the-afternoon-big-update-from-the-meteorological-office/feed/ 0 2114
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন স্পষ্টীকরণ https://banglakal.com/politics/new-clarifications-on-voter-list-revision-process-in-west-bengal/ https://banglakal.com/politics/new-clarifications-on-voter-list-revision-process-in-west-bengal/#respond Mon, 16 Feb 2026 11:15:03 +0000 https://banglakal.com/?p=2108 নয়াদিল্লি, কলকাতা,১৬ ই ফেব্রুয়ারি: নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসিআই) পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR-২০২৬) প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G), ইন্দিরা আবাস যোজনা (IAY) এবং রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আর্থিক সাহায্যের স্যাংশন লেটার (sanction letter) কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ঠিকানার প্রমাণ (proof of address) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই সিদ্ধান্তটি ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা একটি অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত নির্দিষ্ট নথিপত্রই বৈধ বলে গণ্য হবে। এর মধ্যে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, ভোটার আইডি কার্ডের মতো নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসিআই-এর নির্দেশ অনুসারে গ্রহণযোগ্য।

SIR-২০২৬ প্রক্রিয়াটি ১ জানুয়ারি, ২০২৬-কে যোগ্যতার তারিখ (qualifying date) হিসেবে ধরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে এই প্রক্রিয়ায় যাতে যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া না যায়, তবে একইসঙ্গে ভুয়ো নাম বা অবৈধ অন্তর্ভুক্তি রোধ করা যায়, সেই লক্ষ্যে কঠোর নথিপত্রের নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে। পূর্বে কিছু ক্ষেত্রে স্যাংশন লেটারকে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এই নতুন চিঠির মাধ্যমে সেই বিষয়ে পুরোপুরি স্পষ্টতা আনা হল।এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা, যাঁরা PMAY-G, IAY বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং অন্যান্য প্রচলিত নথি না থাকায় স্যাংশন লেটারের উপর নির্ভর করছিলেন, তাঁদের এখন অন্য বৈধ নথি জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

]]>
https://banglakal.com/politics/new-clarifications-on-voter-list-revision-process-in-west-bengal/feed/ 0 2108
নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড, এসআইআর-এ গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ https://banglakal.com/state/election-commission-takes-strict-action-seven-aeros-suspended-in-west-bengal-serious-misconduct-alleged-in-sir/ https://banglakal.com/state/election-commission-takes-strict-action-seven-aeros-suspended-in-west-bengal-serious-misconduct-alleged-in-sir/#respond Mon, 16 Feb 2026 03:30:50 +0000 https://banglakal.com/?p=2105 নয়াদিল্লি/কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাতজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিককে (এইআরও) অবিলম্বে সাসপেন্ড করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ধারা ১৩সিসি-র ক্ষমতাবলে এই সাসপেনশন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এসআইআর-এর সময় এই আধিকারিকরা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুতর অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন। কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করতে হবে এবং এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভা কেন্দ্র নিম্নরূপ:ড. সেফাউর রহমান, কৃষি দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এবং ৫৬-সমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (মুর্শিদাবাদ জেলা)।
নীতীশ দাস, রেভিনিউ অফিসার, ফরাক্কা এবং ৫৫-ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও।
দলিয়া রায় চৌধুরী, মহিলা উন্নয়ন আধিকারিক, ময়নাগুড়ি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ১৬-ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (জলপাইগুড়ি জেলা)।
শেখ মুর্শিদ আলম, এডিএ, সুতি ব্লক এবং ৫৭-সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (মুর্শিদাবাদ)।
সত্যজিৎ দাস, যুগ্ম বিডিও এবং জয়দীপ কুন্ডু, এফইও—দু’জনেই ১৩৯-ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)।
দেবাশিস বিশ্বাস, যুগ্ম বিডিও এবং ২২৯-দেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (পশ্চিম মেদিনীপুর)।



এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এর আগে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত দেখা গিয়েছে, যার মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম যোগ-বিয়োগ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি এবং সময়সীমা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টও এই প্রক্রিয়া নিয়ে শুনানি করেছে এবং কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কোনও বাধা না ঘটে। এই সাসপেনশন রাজ্য প্রশাসনের উপর কমিশনের কড়া নজরদারির আরও একটি প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল জেলাগুলিতে ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

]]>
https://banglakal.com/state/election-commission-takes-strict-action-seven-aeros-suspended-in-west-bengal-serious-misconduct-alleged-in-sir/feed/ 0 2105
রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের নাথকুড়া গ্রামের প্রধান সড়ক এখন মরণফাঁদ! https://banglakal.com/state/the-main-road-of-nathkura-village-in-ranaghat-block-2-is-now-a-death-trap/ https://banglakal.com/state/the-main-road-of-nathkura-village-in-ranaghat-block-2-is-now-a-death-trap/#respond Fri, 13 Feb 2026 06:16:26 +0000 https://banglakal.com/?p=2083 রানাঘাট,১৩ ই ফেব্রুয়ারি: রাস্তা নাকি চাষের জমি? বোঝার উপায় নেই। যে পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, সেই রাস্তা আজ কাদা আর জলের তলায় তলিয়ে গেছে। নদীয়ার রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের দত্তপুলিয়া অঞ্চলের নাথকুড়া গ্রাম থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার প্রধান রাস্তাটির বর্তমান দশা দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো পরিত্যক্ত পথ। অথচ বাস্তবে এই রাস্তাটি এই এলাকার লাইফলাইন ।


কেন এই রাস্তাটি এতো গুরুত্বপূর্ণ?
১. প্রশাসনিক যোগাযোগ: নাথকুড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জন্য ধানতলা থানা এবং বিডিও (BDO) অফিসে যাওয়ার এটিই সবচেয়ে সহজ এবং সংক্ষিপ্ত পথ।
২. জরুরি পরিষেবা: অ্যাম্বুলেন্স বা অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর গাড়ি ঢোকার মতো পরিস্থিতি বর্তমানে এই রাস্তায় নেই। ফলে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির চরম ঝুঁকি রয়েছে।
৩. শিক্ষা ও বাণিজ্য: কৃষ্ণনগর এবং পার্শ্ববর্তী বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এই গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা এই পথটি।


বর্তমান পরিস্থিতি:
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে ডোবার আকার নিয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ এবং কর্দমাক্ত যে সাইকেল বা বাইক নিয়ে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য।
গ্রামবাসীদের আর্জি
“প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কার করা হোক। ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি পেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”

]]>
https://banglakal.com/state/the-main-road-of-nathkura-village-in-ranaghat-block-2-is-now-a-death-trap/feed/ 0 2083
স্বপ্ন জয়ের গল্প: আতিয়া রহমানের WBCS সাফল্য এবং নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক https://banglakal.com/state/dreams-of-success/ https://banglakal.com/state/dreams-of-success/#respond Thu, 12 Feb 2026 14:36:52 +0000 https://banglakal.com/?p=2077 ভূমিকা: ইতিহাস রচনার এক অনন্য অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে ২০২১ সালের WBCS পরীক্ষার ফলাফল একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। কলকাতার এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজে নারীশক্তি ও প্রতিনিধিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পারিবারিক পটভূমি: স্বপ্নের বীজ বপন

আতিয়া রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতার এক যৌথ পরিবারে। তার মা ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে জনসেবা এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন। যৌথ পরিবারের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে তিনি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা পেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তার পরিবারের সমর্থন ছিল অসাধারণ। আতিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন যে পরিবার পাশে না থাকলে এই কঠিন যাত্রায় সফল হওয়া সম্ভব হতো না। এই পারিবারিক সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

শিক্ষাজীবন: মেধার পরিচয়

আতিয়ার শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত সফল এবং সুপরিকল্পিত:

মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর:

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক: মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড একাডেমি (২০১৪-২০১৬)
  • স্নাতক (সম্মান): আশুতোষ কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ভূগোল বিভাগ (২০১৯, প্রথম শ্রেণি)
  • স্নাতকোত্তর: বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ, ভূগোল বিভাগ (২০২১, ৭৩%)

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময়েই WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০২১ সালে M.Sc ডিগ্রি লাভের সময়কালেই তিনি WBCS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা তার সময় ব্যবস্থাপনা এবং একাগ্রতার চরম পরিচয় বহন করে।

WBCS ২০২১: প্রতিযোগিতা এবং সাফল্য

পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক। ২০২১ সালে প্রায় ২৮৮ জন প্রার্থীকে ব্যক্তিত্ব যাচাই পর্বের জন্য ডাকা হয়েছিল। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় আতিয়া রহমান গ্রুপ-বি ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।

তার পরীক্ষার বিবরণ:

  • গ্রুপ-বি (WBPS): ৪র্থ র‍্যাঙ্ক (দ্বিতীয় প্রচেষ্টা)
  • নির্বাচিত পদ: ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP)
  • গ্রুপ-এ (Executive): উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)
  • গ্রুপ-সি ও ডি: উত্তীর্ণ (প্রথম প্রচেষ্টা)

প্রস্তুতির কৌশল: সাফল্যের মূলমন্ত্র

আতিয়া রহমানের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং সুপরিকল্পিত। তিনি শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং ‘স্মার্ট ওয়ার্ক’ এবং ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

১. সমন্বিত অধ্যয়ন পদ্ধতি

অধিকাংশ পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি এবং মেইনস পরীক্ষাকে আলাদাভাবে দেখেন। কিন্তু আতিয়া প্রথম থেকেই মেইনস পরীক্ষার সিলেবাসকে ভিত্তি করে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মেইনস পরীক্ষার জন্য গভীর জ্ঞান অর্জন করলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার MCQ সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।

২. ভূগোল: ঐচ্ছিক বিষয়ের সুবিধা

ভূগোল তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের বিষয় হওয়ায় তিনি একেই ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। WBCS মেইনস পরীক্ষায় ৪০০ নম্বরের দুটি ঐচ্ছিক পেপার থাকে, যা সাফল্যের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।

ভূগোলে নম্বর বাড়ানোর কৌশল:

  • মানচিত্র এবং ডায়াগ্রামের সর্বোচ্চ ব্যবহার
  • প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা বজায় রাখা
  • নিজস্ব নোট তৈরি এবং নিয়মিত রিভিশন
৩. বই নির্বাচন এবং রিসোর্স ব্যবস্থাপনা

আতিয়া অসংখ্য বই পড়ার চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানসম্মত বই বারবার পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন:

  • আধুনিক ভারতের ইতিহাস: Spectrum, Arihant Magbook
  • ভূগোল: NCERT ১১ ও ১২, Atlas, ‘Know Your State’
  • ভারতীয় সংবিধান: M. Laxmikanth
  • অর্থনীতি: Nitin Singhania
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: Shamim Sarkar
  • কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: YouTube চ্যানেল ‘Parcham’, খবরের কাগজের সম্পাদকীয়

৪. ব্যক্তিত্ব যাচাই: মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

আতিয়া ‘WBCS Made Easy’ এবং ‘Apti Plus’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে মক ইন্টারভিউ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। তার প্রকৃত ইন্টারভিউ বোর্ড অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল:

  • ব্যক্তিগত শখ (আবৃত্তি, জীবনানন্দ দাশের কবিতা)
  • কারিগরি জ্ঞান (টেকটোনিক প্লেট থিওরি)
  • সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি (সুফিবাদ, শিয়া-সুন্নি পার্থক্য)
  • সংবিধান (প্রস্তাবনা পাঠ)

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয়: একজন মুসলিম নারীর সংগ্রাম

আতিয়া রহমানের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের বহু সামাজিক সংকীর্ণতা ভেঙে ফেলার এক সাহসী পদক্ষেপ।

পুলিশ সার্ভিস: পুরুষশাসিত ক্ষেত্রে নারীর প্রবেশ

প্রথমে আতিয়া নিজেও ভেবেছিলেন পুলিশ সার্ভিস সম্ভবত তার জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে সমাজের অর্ধেক অংশ প্রশাসনের বাইরে থাকলে সুশাসন সম্ভব নয়। একজন নারী হিসেবে তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে আরও বেশি সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবেন।

ধর্মীয় পরিচয় এবং পেশাগত দায়িত্ব

হিজাব এবং পুলিশ ইউনিফর্মের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নে আতিয়া অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। ইউনিফর্ম হলো সংবিধান এবং আইনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক, যা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: IPS হওয়ার লক্ষ্য

DSP হিসেবে নির্বাচিত হলেও আতিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বর্তমানে IPS (Indian Police Service) হওয়ার লক্ষ্যে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করে যে সাফল্য একটি ধারাবাহিক যাত্রা।

বর্তমানে তিনি ব্যারাকপুরের স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং একজন দক্ষ মাঠপর্যায়ের অফিসার হিসেবে নিজেকে তৈরি করছেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশ

আতিয়া রহমান তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন WBCS পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন:

১. সময় ব্যবস্থাপনা: কত ঘণ্টা পড়া হচ্ছে তার চেয়ে কতটা মনোযোগ দিয়ে পড়া হচ্ছে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. বিশ্লেষণাত্মক লিখন: মেইনস পরীক্ষায় শুধু তথ্য নয়, সঠিক বিশ্লেষণ এবং কাঠামোগত উপস্থাপন প্রয়োজন।

৩. মক টেস্ট: প্রচুর মক টেস্ট দিয়ে নিজের ভুল সংশোধন করা অপরিহার্য।

৪. আত্মবিশ্বাস: দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্বে ‘সেলফ-মোটিভেশন’ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিনিধিত্ব

আতিয়া রহমানের এই অর্জন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসমাজে উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। TDN Bangla সহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা তার সাফল্যকে মুসলিম মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

যখন আতিয়ার মতো মেধাবীরা প্রশাসনের উচ্চপদে বসেন, তখন তা কেবল একটি পদ পূরণ করে না, বরং সমাজের বঞ্চিত অংশের মনে আশার আলো জাগায়। তার সাফল্য প্রমাণ করে যে সুযোগ এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় বাধাই অজেয় নয়।

উপসংহার: নতুন পথের দিশারী

আতিয়া রহমানের জীবনগল্প আমাদের শিখিয়ে দেয় যে স্বপ্ন দেখার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। একজন মুসলিম নারী হিসেবে তিনি যে প্রতিকূলতা জয় করেছেন এবং যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন, তা রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তার কৌশলগত প্রস্তুতি, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনসেবার প্রতি অদম্য স্পৃহা তাকে আরও উচ্চতর শিখরে নিয়ে যাবে। আতিয়া রহমান আজ নারীশক্তি, প্রতিনিধিত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত উদাহরণ, যিনি আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন।

মূল শিক্ষা:

  • মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই
  • পারিবারিক সমর্থন সাফল্যের মূল ভিত্তি
  • সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব
  • স্মার্ট ওয়ার্ক এবং ধারাবাহিকতা সফলতার চাবিকাঠি
  • স্বপ্ন দেখার এবং তা পূরণ করার কোনো সীমা নেই

আতিয়া রহমানের এই সাফল্য শুধু তার একার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাজারো সংগ্রামী তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার যাত্রা প্রমাণ করে যে সঠিক দিক-নির্দেশনা, পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

]]>
https://banglakal.com/state/dreams-of-success/feed/ 0 2077
১২ ফেব্রুয়ারি ভারত বনধ: আগামীকাল কি স্কুল ছুটি? জানুন পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের আপডেট https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/ https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/#respond Wed, 11 Feb 2026 18:19:50 +0000 https://banglakal.com/?p=2069 কলকাতা: আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। নতুন শ্রম কোড বাতিল, বেসরকারীকরণ রোধ এবং প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে দাবি আয়োজকদের। এই আবহে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন— আগামীকাল কি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে?

রাজ্যভিত্তিক পরিস্থিতির আপডেট

নিচে ভারতের প্রধান রাজ্যগুলোতে স্কুল খোলা বা বন্ধের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

  • পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা): রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুল বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কলকাতার বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল আগামীকাল পঠন-পাঠন স্থগিত রাখার বা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিভাবকদের নিজস্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের বার্তার দিকে নজর রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
  • কেরল: এই রাজ্যে বামপন্থী সংগঠনগুলোর প্রভাব বেশি থাকায় এবং ধর্মঘটের সমর্থনে বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
  • ওডিশা ও কর্ণাটক: ওডিশায় বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই অনেক জেলা প্রশাসন স্কুল ছুটির কথা বিবেচনা করছে। কর্ণাটকেও বিশেষ করে বেঙ্গালুরু ও মহীশূরে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
  • দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ: দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় স্কুল খোলা থাকার কথা। তবে স্কুল বাস ও পরিবহণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। উত্তরপ্রদেশেও সরকারিভাবে কোনো ছুটির ঘোষণা নেই।
  • পাঞ্জাব ও হরিয়ানা: এখানে কৃষক সংগঠনগুলো বনধকে সমর্থন জানানোয় গ্রামবাংলার দিকে জনজীবন ব্যাহত হতে পারে, তবে শহরাঞ্চলে স্কুল খোলা রাখারই প্রাথমিক ইঙ্গিত রয়েছে।

কী খোলা আর কী বন্ধ থাকবে?

বনধের প্রভাব জনজীবনের বিভিন্ন স্তরে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও জরুরি পরিষেবাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিভাগস্থিতি (সম্ভাবনা)
ব্যাঙ্ক পরিষেবাপাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের কর্মীরা ধর্মঘটে সামিল হওয়ায় লেনদেন ব্যাহত হতে পারে। এটিএম পরিষেবা সচল থাকবে।
গণপরিবহণসরকারি ও বেসরকারি বাস, অটো ও ট্যাক্সি চলাচল অনেক জায়গায় সীমিত হতে পারে।
জরুরি পরিষেবাহাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান ও দমকল স্বাভাবিক থাকবে।
বিমান ও রেলউড়ান ও ট্রেন পরিষেবা সচল থাকবে, তবে স্টেশনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ পরামর্শ: বনধের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল বা পিকেটিংয়ের জেরে যানজট হতে পারে। তাই আগামীকাল বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া এবং স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো শেষ মুহূর্তের বিজ্ঞপ্তি (Notification) দেওয়া হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

]]>
https://banglakal.com/nation/12-february-indian-bandh/feed/ 0 2069
এক ভোটারের জন্য আলাদা শুনানি কেন্দ্র! হাইকোর্টের নির্দেশে নজির কমিশনের https://banglakal.com/state/separate-hearing-center-for-one-voter-high-court-orders-precedent-commission/ https://banglakal.com/state/separate-hearing-center-for-one-voter-high-court-orders-precedent-commission/#respond Sun, 08 Feb 2026 15:41:27 +0000 https://banglakal.com/?p=2000

নিজস্ব প্রতিবেদন: হাইকোর্টের নির্দেশে এক ভোটারের শুনানির জন্য আলাদা কেন্দ্র খুলে নজির গড়ল নির্বাচন কমিশন। বীজপুর বিধানসভা এলাকার একটি মামলায় রবিবার হালিশহরের রামপ্রসাদ বিদ্যাপীঠ স্কুলে বিশেষ শুনানি শিবির বসানো হয়, যেখানে একমাত্র আবেদনকারী হিসেবেই হাজির ছিলেন এক ভোটার।

তিনি হলেন হালিশহর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজেপি নেতা সুদীপ্ত দাস। নির্বাচন কমিশন ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটার সংক্রান্ত শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করলেও নতুন করে দিন ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই ব্যতিক্রমীভাবে এই শুনানির আয়োজন করা হয়।

শুনানি শেষে সুদীপ্ত দাস জানান, আগে তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ভোটার ছিলেন। পরে হালিশহরে বসবাস শুরু করলেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। নতুন আবেদন করলে তাঁকে কাঁচরাপাড়ায় হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে বীজপুর থানা এলাকায় তাঁর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে আলাদা শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

]]>
https://banglakal.com/state/separate-hearing-center-for-one-voter-high-court-orders-precedent-commission/feed/ 0 2000
ভোরের শিশিরে শীতের মায়া, বসন্তের আগে ফের কি কাঁপবে বাংলা? https://banglakal.com/state/the-illusion-of-winter-in-the-morning-dew-will-bengal-tremble-again-before-spring/ https://banglakal.com/state/the-illusion-of-winter-in-the-morning-dew-will-bengal-tremble-again-before-spring/#respond Fri, 06 Feb 2026 16:22:12 +0000 https://banglakal.com/?p=1964

নিজস্ব প্রতিবেদন: ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষের মুখে, অথচ শীতের বিদায়ঘণ্টা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদরা। সকাল-সন্ধ্যায় হিমেল আমেজ আর ভোরের শিশিরভেজা ঘাস জানান দিচ্ছে, লেপ-কম্বল আলমারিতে তোলার সময় বোধহয় এখনই আসেনি। তবে কি মরসুমের শেষবেলায় ফের কামব্যাক করবে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা? এই নিয়ে বড় আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

আর কি ফিরবে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা? কী বলছে হাওয়া অফিস
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, নতুন করে বড়সড় পারদ পতনের সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। তবে এখনই শীত একেবারে বিদায় নিচ্ছে না। আগামী অন্তত সাতদিন বঙ্গে বজায় থাকবে এই মনোরম আবহাওয়া।

উত্তরবঙ্গে শীতের আমেজ দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় কিছুটা বেশি। বিশেষ করে দার্জিলিং ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে কনকনে ভাব বজায় থাকবে। দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা বর্তমানে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আগামী কয়েকদিন এখানে তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না।

জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে। তাপমাত্রার বড় কোনো বদল না থাকলেও দৃশ্যমানতা কম থাকায় যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

কলকাতায় শীতের দাপট অনেকটাই কমেছে। আজ বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি।

চলতি সপ্তাহে মহানগরে আর নতুন করে পারদ পতনের সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া মূলত শুকনো ও মনোরম থাকবে। বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোরের দিকে কুয়াশা থাকবে। রাতের দিকে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও তাকে ‘শীতের কামড়’ বলা চলে না।

]]>
https://banglakal.com/state/the-illusion-of-winter-in-the-morning-dew-will-bengal-tremble-again-before-spring/feed/ 0 1964