WestBengalNews – বাংলাকাল https://banglakal.com বাংলা আজ যা ভাবে, দুনিয়া ভাবে কাল। Wed, 12 Aug 2026 20:19:22 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.4 https://i0.wp.com/banglakal.com/wp-content/uploads/2026/08/cropped-645620059_1464002491756680_8204546671402832666_n.jpg?fit=32%2C32&ssl=1 WestBengalNews – বাংলাকাল https://banglakal.com 32 32 242431868 নায়ক হওয়ার স্বপ্নে বাড়ি ছেড়েছিলেন, মুম্বইয়ের বদলে পৌঁছে যান গুয়াহাটি! ৩৫ বছর ঘরে ফিরলেন নদিয়ার প্রৌঢ় https://banglakal.com/state/left-home-to-become-a-hero-emotion-runs-high-as-dead-son-returns-to-nadia-village-after-35-years/ https://banglakal.com/state/left-home-to-become-a-hero-emotion-runs-high-as-dead-son-returns-to-nadia-village-after-35-years/#respond Wed, 12 Aug 2026 20:19:21 +0000 https://banglakal.com/?p=3831 কলকাতা, ১৩ আগস্ট:

সিনেমার রূপোলি পর্দায় নায়ক হওয়ার এক অদম্য নেশা। আর সেই রঙিন স্বপ্নের টানেই ঘর ছেড়েছিল এক কিশোর। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ পঁয়ত্রিশটি বছর। কালের নিয়মে কিশোর থেকে সে আজ প্রৌঢ়। পরিবারের মানুষজনও একপ্রকার মেনেই নিয়েছিলেন যে, তাঁদের হারিয়ে যাওয়া ছেলে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু সমস্ত হিসেব নিকেশ উলটে দিয়ে দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পর একেবারে নাটকীয়ভাবে নিজের জন্মভিটেতে ফিরে এলেন সেই হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি। এই অভাবনীয় ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া জেলার থানারপাড়া থানা এলাকার পিপুলখোলা গ্রামে। ৩৫ বছর পর হঠাৎ করে ‘মৃত’ ছেলের এমন আবির্ভাবের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, সকলেই যেন নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। হারানো ঘরের ছেলেকে এত বছর পর ফিরে পেয়ে ওই পরিবারে এখন খুশির জোয়ার, আনন্দাশ্রুতে ভাসছেন বৃদ্ধ বাবা ও পরিজনেরা। গোটা এলাকার পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে এক আবেগঘন উৎসবের আকার ধারণ করেছে।

পিপুলখোলা গ্রামের বাসিন্দা রেন্টু শেখ আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে হঠাৎ করেই একদিন নিখোঁজ হয়ে যান। জানা গিয়েছে, সেই সময় তাঁর চোখে ছিল শুধুই সিনেমার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন। গ্ল্যামার জগতের সেই হাতছানিতেই কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি একদিন নিঃশব্দে বাড়ি ছেড়েছিলেন। পরিবারের তরফ থেকে সেই সময় সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজখবর করা হয়েছিল। আত্মীয়দের বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেশনে মাসের পর মাস খোঁজ চালিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজনের মনে হতাশা গ্রাস করেছিল। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে একসময় পরিবারের লোকজন আশা সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া রেন্টুকে প্রায় ‘মৃত’ বলেই ধরে নিয়েছিলেন সকলে। স্মৃতি থেকে যখন তাঁর মুখচ্ছবিও প্রায় ফিকে হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে। পঁয়ত্রিশ বছর পর হঠাৎই একদিন গ্রামের চেনা রাস্তায় উদয় হন এক অচেনা ব্যক্তি। খোঁজ করতে করতে এসে পৌঁছান নিজের পুরনো বাড়ির ঠিকানায়। কিন্তু এতগুলো বছর পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর চেহারায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

দীর্ঘ সময় পর ঘরের ছেলেকে সামনে দেখে প্রাথমিকভাবে পরিজনদের কিছুটা সমস্যা হয়। পঁয়ত্রিশ বছর আগের সেই কিশোরের চেহারার সঙ্গে বর্তমান প্রৌঢ়ের চেহারার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। ফলে প্রথমে তাকে চিনতে রীতিমতো দ্বিধায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সন্তানের নাড়ির টান কি আর ভোলা যায়! এই অসাধ্য সাধন করলেন রেন্টুর বৃদ্ধ বাবা উহাব শেখ। ছেলের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লেও, একজন পিতার স্মৃতি থেকে সন্তানের চিহ্ন একেবারে মুছে যায়নি। জানা গিয়েছে, রেন্টুর কানের কাছে একটি বিশেষ ভাঁজ বা জন্মগত দাগ ছিল। সেই ছোটবেলার পরিচিত চিহ্নটি দেখেই বৃদ্ধ উহাব শেখের মনে প্রথম সন্দেহ জাগে। এরপর একে একে পুরনো কিছু স্মৃতির কথা জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেন তিনি। হারানো ছেলে যখন নিখুঁতভাবে অতীতের সেইসব ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, পরিবারের পুরনো গোপন কথা এবং শৈশবের টুকরো স্মৃতিগুলো বলতে শুরু করেন, তখন আর কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এই ব্যক্তিই তাঁদের হারিয়ে যাওয়া রেন্টু।

মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ্ব কেটে যায়। চোখের জলে দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের জমে থাকা কষ্ট এক নিমেষে ধুয়ে যায়। বৃদ্ধ বাবা উহাব শেখ তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এই আবেগঘন দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত প্রতিবেশীদেরও চোখে জল চলে আসে। খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ রেন্টুকে এক ঝলক দেখার জন্য তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। যে ছেলে একসময় নায়ক হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিল, সে হয়তো সিনেমার পর্দায় হিরো হতে পারেনি, কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর পর নিজের বাড়িতে ফিরে এসে সে যেন গোটা পরিবারের কাছে এক নতুন জীবনের নায়ক হয়েই ধরা দিল। দীর্ঘ সময় পর এমন এক অপ্রত্যাশিত এবং রূপকথার মতো পুনর্মিলনে নদিয়ার পিপুলখোলা গ্রামে এখন শুধুই আনন্দ আর উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/state/left-home-to-become-a-hero-emotion-runs-high-as-dead-son-returns-to-nadia-village-after-35-years/feed/ 0 3831
আবাস প্লাস সমীক্ষার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৫ অগস্ট, যোগ্য উপভোক্তাদের দ্রুত নাম তোলার আর্জি পঞ্চায়েত মন্ত্রীর https://banglakal.com/state/awas-plus-survey-ends-on-august-15-panchayat-minister-urges-eligible-beneficiaries-to-register-quickly/ https://banglakal.com/state/awas-plus-survey-ends-on-august-15-panchayat-minister-urges-eligible-beneficiaries-to-register-quickly/#respond Wed, 12 Aug 2026 20:02:50 +0000 https://banglakal.com/?p=3822 কলকাতা, ১৩ আগস্ট:

রাজ্য জুড়ে জোরকদমে চলছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত ‘আবাস প্লাস’ প্রকল্পের নিখুঁত সমীক্ষার কাজ। যোগ্য অথচ নিরাশ্রয় এবং গরিব মানুষদের নিজস্ব পাকা ছাদের বন্দোবস্ত করে দিতেই রাজ্য প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী ১৫ অগস্ট এই সমীক্ষার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে চলেছে। তার আগেই রাজ্যের সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাদের নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কোনো যোগ্য ও গরিব পরিবার যাতে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ আবাসন পরিষেবা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের তরফ থেকে শেষ মুহূর্তের এই ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের লাগাতার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে প্রায় তেইশ লক্ষ গৃহহীন পরিবারকে আবাস প্লাস প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনও বেশ কিছু প্রান্তিক পরিবার এই তালিকার বাইরে থেকে গিয়ে থাকতে পারে বলে খোদ প্রশাসন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সেই কারণেই পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানিয়েছেন, যাদের বাড়িতে এখনও পর্যন্ত সরকারি সমীক্ষক দল পৌঁছায়নি বা যাদের সার্ভে অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে, তাদের অবিলম্বে আবেদন জানাতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি গরিব মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সঠিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

সমীক্ষার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে এবং গোটা প্রক্রিয়াটিকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফ থেকে অভিনব ‘সেলফ সার্ভে’ বা নিজস্ব সমীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে আবেদনকারীদের আর সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হবে না। এই আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উপভোক্তারা বাড়িতে বসেই নিজেদের স্মার্টফোনের সাহায্যে অতি সহজেই আবাস যোজনার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। এর জন্য আবেদনকারীকে গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধার ফেস আরডি’ নামের দুটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নিজস্ব আধার নম্বর ব্যবহার করে অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে নিজের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের জব কার্ড এবং ব্যাঙ্কের বিস্তারিত বিবরণ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। গোটা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বর্তমান ভগ্নপ্রায় বা কাঁচা বাসস্থানের ছবি এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ফাঁকা জমির ছবিও নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করতে হবে। যাবতীয় তথ্য ও ছবি আপলোড করার পর চূড়ান্ত সার্ভে অপশনে ক্লিক করলেই প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

সেলফ সার্ভের মাধ্যমে আবেদন জমা পড়ার পর সরকারি আধিকারিকরা নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমস্ত আপলোড করা তথ্যের বাস্তব সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবেন। ১৫ অগস্টের মধ্যে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে নতুন করে আবাস যোজনায় নাম তোলা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে সরকারি স্তরে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নির্দেশিকায় বেশ কিছু অত্যন্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের ভারতের কোথাও নিজস্ব পাকা বাড়ি থাকলে তিনি কোনোভাবেই এই আবাস প্লাস প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পরিবারে কোনো সরকারি চাকরিজীবী সদস্য থাকলে তাঁর আবেদন শুরুতেই বাতিল বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কারও নামে চার চাকা বা দু-চাকার কোনো মোটরচালিত গাড়ি থাকলেও তিনি এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। এর পাশাপাশি, পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন কিসান ক্রেডিট কার্ড থাকলেও সংশ্লিষ্ট পরিবার আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার যোগ্য বলে একেবারেই বিবেচিত হবেন না। এই সমস্ত নিয়মের বেড়াজাল পেরিয়েই প্রকৃত গরিব ও গৃহহীন মানুষদের চিহ্নিত করার কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলছে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাধারণ মানুষের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন সরকারের এই মহতী প্রয়াস সফল করতে প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রশাসন যেমন বদ্ধপরিকর, তেমনই বেআইনিভাবে তথ্য গোপন করে কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

]]>
https://banglakal.com/state/awas-plus-survey-ends-on-august-15-panchayat-minister-urges-eligible-beneficiaries-to-register-quickly/feed/ 0 3822