নিজস্ব সংবাদদাতা, নানুর: শোকের ওপর শোকের পাহাড়। বাবার মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই পারলৌকিক কাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল বড় ছেলের। বীরভূমের নানুর ব্লকের পাকুড়হাঁস গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা নিস্তব্ধ। মৃত যুবকের নাম চিরঞ্জিত অধিকারী (৩৬)।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কয়েকদিন আগেই বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় চিরঞ্জিতের বাবা সত্যেন অধিকারীর। সোমবার ছিল তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রস্তুতি। দুই ছেলে—চিরঞ্জিত ও বিজয় চাঁদ অধিকারী মিলে বাবার পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের সমস্ত আয়োজন করছিলেন। কলকাতার একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত চিরঞ্জিতই ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। বাবার শ্রাদ্ধ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত তদারকি তিনি নিজেই করছিলেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় শ্রাদ্ধের নিয়ম পালনের জন্য সাদা থান পরিহিত অবস্থায় বাড়ির বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন চিরঞ্জিত। সেই সময় বাড়ির সাবমার্সিবল পাম্পটি বিকল হয়ে যাওয়ায় এক মিস্ত্রিকে ডাকা হয়। পাম্প মেরামতের জন্য একটি বাঁশ নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটে বিপত্তি। বাড়ির সামনে তৈরি করা প্যান্ডেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি অস্থায়ী বিদ্যুতের তারে বাঁশের খোঁচা লাগে। ছিঁড়ে পড়া তারের সংস্পর্শে আসতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন চিরঞ্জিত।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও মৃত্যু
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নানুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বোলপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর দেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নার রোল পড়ে যায় গোটা পাড়ায়।
পরিবারের করুণ অবস্থা
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা চিরঞ্জিতের স্ত্রী, মা এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তান। মৃত যুবকের মামা নিখিল আচার্য্য বলেন,
”কিছুদিন আগেই দাদাকে হারিয়েছি, এখন ভাগ্নের এই অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।”
বাবার পর বড় ছেলের এই আকস্মিক প্রয়াণে পাকুড়হাঁস গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর সমাপতন আগে কখনও দেখেননি বলে আক্ষেপ করছেন গ্রামবাসী থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজনরা।
