সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন (WBCSC) রাজ্য সরকার পোষিত কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপাল নিয়োগের জন্য একটি প্রাথমিক মেধা তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে বঞ্চনার অভিযোগ উঠছে। ১৪০ জনের এই প্রাথমিক তালিকায় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মাত্র তিনজন অধ্যাপক স্থান পেয়েছেন, যা মোট শূন্যপদের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি (২/২০২৪) অনুযায়ী, মোট ৮৭টি শূন্যপদে অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাথমিক মেধা তালিকায় ১৪০ জনের নাম রয়েছে। এই ১৪০ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন মুসলিম অধ্যাপকের নাম থাকাটা হতাশাজনক। যদিও তালিকার সবাই যে নিয়োগ পাবেন তা নিশ্চিত নয়, তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে চূড়ান্ত নিয়োগের সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব আরও কমে যেতে পারে। যদি এই তালিকা অনুসারে নিয়োগ হয়, তবে ৮৭ জন অধ্যক্ষের মধ্যে হয়তো মাত্র একজন মুসলিম সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বঞ্চনার পেছনে অন্যতম কারণ হলো ওবিসি সংরক্ষণের কাঠামোগত পরিবর্তন। যেভাবে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী কার্যত পিছিয়ে পড়ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যাঁরা পিএইচডি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন, তাঁদেরও চাকরির সুযোগ হারানোর শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এতদিন যাঁরা আশা করেছিলেন শিক্ষার মাধ্যমে জীবনে স্থিতি ও সম্মান পাবেন, তাঁদের সেই স্বপ্ন ক্রমশ ভেঙে পড়ছে।

একদিকে দেখা যাচ্ছে, আগেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও যদি একইভাবে বঞ্চনা ঘটে, তবে শিক্ষিত মুসলিম যুবসমাজের সামনে ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও যদি কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হয়, তবে সমগ্র সম্প্রদায়ের উন্নয়ন থমকে যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বৃহত্তর বঞ্চনার অংশ বলে মনে করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বিভেদ বাড়াতে পারে। আগামী ১৩ অক্টোবর দুটি ধাপে অধ্যক্ষ নিয়োগের কাউন্সিলিং অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কিন্তু এখনই যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম হয়েছে, তা শুধু কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মিটবে বলে মনে হয় না।
পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কলেজ সার্ভিস কমিশনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। নইলে উচ্চশিক্ষিত মুসলিম তরুণ-তরুণীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়া হবে, যেখানে পড়াশোনার সুযোগ সীমিত, চাকরির ক্ষেত্রেও পথ ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

