রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়া, কল্যাণী, বিধানচন্দ্র এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়েও পিএইচডি (PhD) ভর্তিতে মুসলিম ওবিসি (OBC) শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভূগোল, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, ইংরেজি এবং বাংলা এই পাঁচটি বিষয়ে ওবিসি এ (OBC A) এবং ওবিসি বি (OBC B) উভয় ক্যাটাগরিতেই মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা সংরক্ষণের সুযোগ পাননি।

সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত মুসলিম শিক্ষার্থীরা
যে পাঁচটি বিষয়ের তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ওবিসি এ ক্যাটাগরিতে সংরক্ষণের আসন থাকা সত্ত্বেও মুসলিম শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাননি। এমনকি বাংলা বিষয়ের দুটি ওবিসি-এ আসনের মধ্যে একটিতে অপেক্ষাকৃত অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা মনোনীত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পাঁচটি বিষয়ে মোট ৫০টি শূন্যপদের মধ্যে মাত্র একজন মুসলিম শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যোগ্য মুসলিম জেআরএফ (JRF) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তুলনামূলকভাবে কম যোগ্যতাসম্পন্ন নেট/সেট (NET/SET) উত্তীর্ণ অমুসলিম প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের বৈষম্য।
তারা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ওবিসি শ্রেণীবিন্যাসই এই বঞ্চনার মূল কারণ। পুরোনো নীতিতে ওবিসি-এ ক্যাটাগরিতে ১০% আসন সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের ত্রুটিপূর্ণ শ্রেণীবিন্যাস এই সুযোগটি কেড়ে নিয়েছে। এর ফলে যারা সত্যিই বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া, তারা সংরক্ষণের প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রায় ৩০% মুসলিম জনগোষ্ঠী এই নতুন সংরক্ষণ নীতির ওপর ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মূল দাবি হলো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অতিদ্রুত এই ত্রুটিপূর্ণ নীতির সংশোধন করতে হবে এবং পুরোনো ১০% ওবিসি এ সংরক্ষণের সুবিধা প্রকৃত বঞ্চিত দাবিদারদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

