নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট:
জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামোর (NCF-SE) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কুল স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড়সড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। চলতি সপ্তাহে এক নির্দেশিকা জারি করে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নতুন রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ও পঠন-পাঠন সামগ্রী তৈরির জন্য একটি নতুন ২০ সদস্যের দল গঠন করেছে শীর্ষ এই শিক্ষা সংস্থা। শিক্ষা জগতে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত শিকড়ের মজবুতি এবং ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থার সফল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনসিইআরটি অধিকর্তা দীনেশ প্রসাদ সাকলানির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৪ আগস্ট এই সংশোধিত টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট টিম (TDT) বা পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন দলের ঘোষণা করা হয়েছে।কর্নাটকভিত্তিক ডিমড ইউনিভার্সিটি ‘নিট্টে’-র উপ-উপাচার্য তথা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সন্দীপ শাস্ত্রীকে এই নতুন প্যানেলের প্রধান বা লিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে গঠিত পূর্ববর্তী প্যানেলটিকে বাতিল করেই এই নতুন বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হলো, যা স্কুল ও উচ্চশিক্ষা স্তরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
এই নতুন পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন প্যানেল গঠনের পর থেকেই শিক্ষামহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ২০ সদস্যের প্যানেলের অন্তত চারজন সদস্যের রাষ্ট্রী স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) বা তার সহযোগী সংগঠন যেমন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক যোগ রয়েছে।
তালিকায় থাকা যদুনাথ দেশপাণ্ডে অতীতে এবিভিপির মহারাষ্ট্রের যুগ্ম রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট। এছাড়া জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং এবিভিপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক বন্দনা মিশ্রও এই দলে রয়েছেন। পুনের জ্ঞান প্রবোধিনী সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুক্ত থাকা প্রশান্ত দিবেকর এবং জেএনইউ-এর অপর অধ্যাপক রবি আর শুক্লা—যিনি সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন—তাঁদের নামও এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের জন্য নির্দিষ্ট কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এনসিইআরটি। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের কাজ শেষ করার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং নতুন বইয়ের প্রকাশনার মধ্যকার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনসিইআরটির এই নতুন পাঠ্যপুস্তকের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা (IKS), সাংস্কৃতিক শেকড় এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা গড়ে তোলা।এছাড়া শিক্ষায় সমতা, অন্তর্ভুক্তি (inclusion), এবং আধুনিক শিক্ষণ প্রযুক্তির (ICT) ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।খসড়া প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পরই জাতীয় পাঠ্যক্রম oversight কমিটির পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত পাঠ্যপুস্তকগুলি প্রকাশিত হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

