সেদিনের কাকতালীয় সাক্ষাতে দেওয়া কথার ব্যাপারটা বেমালুম ভুলে গেছিল। স্কুল থেকে জুম্মার নামাজ পড়তে এসেছিল রাতুল। খুৎবার সময় সে লক্ষ্য করেছে, নামাজ শুধুমাত্র বয়স্করা পড়ে। অন্যান্য গ্রামে তবুও জুম্মার নামাযে কিছু ইয়াং ছেলেদের দেখা মেলে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ আলাদা। সবই সাদা মাথার লোক। ইমাম যিনি তিনিই একমাত্র যুবক। ভুল আরবি উচ্চারণে শতচ্ছিন্ন একটা পাতলা বই থেকে দেখে দেখে রিডিং পড়লেন। ব্যাস ওটাই এখানে খুৎবা। খুৎবা চলাকালীন মুচ্ছুলিদের অধিকাংশই প্রাই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
নামাজ শেষে বাইরে আসতেই সেই ডাক কানে এল। ঘুরে দাড়াতেই দেখতে পেল, বৃদ্ধ ভদ্রলোক হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাতুল কয়েক কদম ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল-
-কিছু বলছেন দাদাজী?
-তাহলে কবে বসবে তুমি?
-কোন বসার কথা বলছেন বুঝলাম না!
-সেই যে গ্রামের ছেলেদের সাথে বসার কথা বলেছিলাম মনে নেই তোমার?
রাতুল ভুলে গেছে দেখে সে নিজেয় লজ্জায় পড়ে গেল। কথায় কথায় সে জানাল, এসে এখন জামাল সাহেবের রাড়িতে থাকছেন। এ গ্রামে থাকছেন জেনে ভদ্রলোক খুশি হলেন। কিন্তু জামাল সাহেবের নামটা যে তার পছন্দের নয় তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। রাতুল চলে যাচ্ছিল। বৃদ্ধ আবার ডাকলেন-
-শোনো, তুমি আমায় দাদাজী ডাকলে না?
-হ্যাঁ। হাসি মুখে উত্তর দিল রাতুল।
তার পর কি যেন ভাবলেন ভদ্রলোক, বললেন ঠিক আছে তুমি যাও। আমি কাল তোমার সাথে দেখা করব।
দুজনে দুইদিকের পথ ধরে হাঁটতে শুরু করল। স্কুলে পৌঁছাতে ছাত্রছাত্রীরা রাতুলকে ছেঁকে ধরল। কে যেন রটিয়েছে, সে টিউশানি করাবে। ব্যাস ছাত্রছাত্রীরা টিউশন পড়ার জন্য আবদার করছে। কারন এ গ্রামে কোনো টিউশন মাস্টার নেই। সকল স্যারই অনেক দূর থেকে আসেন রোজ। রাতুল সামনে হেডমাস্টারকে দাঁড়িয়ে থেকতে দেখে তার দিকে স্বপ্রশ্নে তাকালেন। হেডমাস্টার মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো মতে বেরিয়ে এল।
হেডমাস্টার তাকে নিজের অফিসে ডাকলেন। ভদ্রলোক অমায়িক মানুষ। সকলের ভালোর জন্য যেন তার প্রাণ কাঁদে। আর এই দূর্বলতার সুযোগ নেন অনেক টিচার। তারা এ সরলতার অপব্যাবহার করেন। রাতুলকে তিনি বললেন-
-আমিই ওদের বলেছি তুমি পড়াবে। স্কুলের একটা ঘরও তোমার জন্য বরাদ্দ করেদিয়েছি। চাবি দিয়ে যাব তোমাকে।
-কিন্তু স্যার…
-কোনো কিন্তু নয় রাতুল। তুমি আমার ছেলের বয়সী। অন্তত এটুকু করতে দাও আমাকে।
রাতুল আর কথা বলতে পারেনি হেড স্যারের সামনে। মাথা নিচু করে অনেকক্ষন বসেছিল। একসময় স্যার বলে উঠলেন-
-রাতুল, আমাদের অনেক পিছুটান। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারাই আমাদেরও প্রাণ কাঁদে। কিন্তু কিছুই করতে পারিনা। তোমার প্রাপ্য বেতনের অর্ধেক ওরা কেড়ে নিলেও আমি কিছু করতে পারছিনা। কিন্তু অন্যভাবে কিছুটা অন্তত যদি পুষিয়ে দিতে পারি, তার জন্য এই ব্যাবস্থা। প্লিজ তুমি না করো না।
-স্যার এভাবে বলে আমাকে পাপে ফেলবেন না। আপনার মত মানুষদের জন্যই আজও পৃথিবীটা বসবাসের উপযোগী। আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ স্যার।
-হয়েছে। আর বলতে হবে না। তাহলে কাল থেকেই শুরু করে দাও। আমি ওদের বেতন ঠিক করে দিয়েছি। এবং বলেছি মাসের শুরুতে দিতে হবে।
-স্যার, গ্রামের মানুষ কীভাবে নেবে ব্যাপারটা?
-ও নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না। মানুষগুলো অশিক্ষিত হলেও ভীষণ সরল। কয়েকজন গার্জিয়ানকে আমি বলে দিয়েছি। তোমার যাতে কোনো সমস্যা না হয়। তাছাড়া…
-তাছাড়া কী স্যার? ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল রাতুল।
-আর যাই হোক জামালের বাড়িতে থাকলে কেউই তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস পাবে না।
বাইরে ঘন্টা বাজতেই রাতুল উঠে দাড়াল। তার নবম শ্রেণিতে ক্লাস আছে। হেড স্যারের কাছে পারমিশন নিয়ে ক্লাসে গেল। যেতে যেতে সে ভাবল- সত্যি আজও কিছু মানুষ আছে এই পৃথিবীতে। আর আছে বলেই সমাজ টিকে আছে। আজ অনেক দিন পর একটা প্রকৃত মানুষের সান্নিধ্য লাভ করতে পেরেছে ভেবে আনন্দিত হল। মনে মনে নিজেকে এমন পরপোকারী করে তোলার শপথ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করল।
প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য করে আসছে, ছেলেমেয়ে গুলো অপরিচ্ছন্ন হলেও সত্যিই খুব সহজ সরল। তারা আজও শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করে, ভালোও বাসে। হয়ত গ্রাম বলেই এটা সম্ভব। হয়তোবা শহরের প্রভাব সেভাবে পড়েনি বলেই এ গ্রামের ছেলেমেয়ে গুলো আজও ঋষি বালকদের মত পবিত্র হয়ে আছে। কিন্তু রাতুল কিছুতেই বুঝতে পারে না কীভাবে এই সরল শিশু কিশোররা ক্রমশ নেশায় জড়িয়ে পড়ে। কীভাবে তারা বড় হবার সাথে সাথে অপরাধ জগতের সাথে মিশে যায়! তবে কি এদের পরিকল্পিত ভাবে কেউ বা কারা ভুল পথে পরিচালিত করে? মনে মনে প্রশ্ন করতে থাকে নিজেই নিজেকে।
ক্লাসে প্রথম প্রথম রাতুলের বেশ অসুবিধা হত পড়াতে। তার প্রধান কারণ, এই এলাকার ভাষার বিশেষ উচ্চারণ প্রবণতা। প্রচুর শব্দের বিকৃত উচ্চারণ এদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট। ধীরে ধীরে সেগুলো তার পরিচিত হয়ে যাচ্ছে। সে চেষ্টা করছে ছাত্র ছাত্রীদের মান্য চলিত ভাষায় কথা বলার অভ্যাস করাতে। সে নিজেও গ্রামের ছেলে কিন্তু মা-বাবার সচেতনতাতে তার ভাষাগত দোষ নেই।
ধীরে ধীরে রাতুল এ গ্রামের মানুষদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হচ্ছে। আজকাল অনেক অভিভাবক তার কাছে নানান বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসে। কার ছেলেকে কোন বিষয়ে পড়াবে, কার মেয়ের কবে বিয়ে দেবে, এমন কি কেউ কেউ তো পারিবারিক সমস্যার কথাও তার সামনে অবলীলায় বলে যায়। এসব শুনে মাঝে মাঝে তার অস্বস্থি লাগে বইকি। কিন্তু কি আর করার। এই সব ফরমাইশ শুনতেই রাতুলের সন্ধ্যার অনেকটা সময় চলে যায়। কিছুটা সময় নষ্ট হলেও আজকাল আর খারাপ লাগেনা তার। সরল সাদাসিধে মানুষগুলোর মনের গভীরটা যেন সে স্পষ্ট দেখতে পায়।
সকলে চলে যাবার পর রাতুল মাত্র বই খুলে বসেছে। ভিতরের দরজায় টোকা পড়ল। জামাল সাহেবের বিরাট বাড়ির বাইরের অংশে কয়েকটা ঘর আছে। এই ঘর গুলোর বাসিন্দাদের জন্য বাইরে স্নান, প্রাতকৃয়া প্রভৃতির জন্য ব্যাবস্থা করা আছে। বিরাট বাড়ির পূর্ব-পশ্চিম বরাবর পরপর চার খানা ঘর বারান্দ সহ। একেবার পশ্চিম দিকের ঘরটা রাতুলের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এই ঘরের উত্তর দিকে বারান্দা, পশ্চিমে বড়ো জানলা। জানলার পরেই মূল বাড়িতে প্রবেশের ঢালাই রাস্তা। রাস্তার দুই পাশ দিয়ে নানান ধরনের পাতাবাহারের বাহার। এমন প্রাত্যান্ত গ্রামে এমন বিলাসী বাড়ি ভাবা যায় না। লোকটা অশিক্ষিত হলেও রুচি আছে বলতে হবে।
রাতুলের ঘরের একটা বৈশিষ্ট, এই ঘরের সাথে বাড়ির ভিতরে যাবার একটা দরজা আছে। সেই দরজাতেই টোকা পড়েছে। তার এ ঘরে থাকা প্রায় এক মাস হয়ে গেল। আজই প্রথম টোকা পড়ল। কী ব্যাপার এ দরজায় তো টোকা পড়ার কথা নয়! একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করতে শুরু করেছে। কে হতে পারে ওপারে? আবারও টোকা পড়লো। এবার সে ভয়ে ভয়ে উঠে গিয়ে দরজার পাশে গিয়ে দাড়াল। জিজ্ঞেস করল-
-কে আছেন ওদিকে?
-আমি জামাল। দরজা খোলো মাস্টার।
রাতুল ভয়ে ভয়ে দরজা খুলল। সেই স্কুলে প্রথম বার দেখেছিল। তারপর আর দেখা হয়নি। শুধু এ বাড়িতে আসার আগে ফোনে একবার কথা হয়েছিল। হেডমাস্টার নিজেই এসে তাকে রেখে গেছে। এ বাড়ির ভিতরে কে বা কারা থাকে তার কিছুই সে জানে না। জানার প্রয়োজন মনে করেনি।
-কেমন আছো মাস্টার? সেই কর্কশ কন্ঠে জিজ্ঞেস করল জামাল। রাতুল একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বলল-
-বসুন স্যার। এই বেশ চলছে।
-তা তোমার থাকতে টাকতে অসুবিধা হচ্ছে না তো?
-না না তেমন একটা হচ্ছে না। শুধু…
-কীসের অসুবিধা তাহলে?
-জী, এখান থেকে মসজিদ অনেকটা দূরে। ফজরের জামাত ধরতে সমস্যা হচ্ছে।
-ও এই কথা। দেখো একটু অ্যাডজাস্ট করে নাও। একটু ভেবে ঘরের চারিদিক দেখে বলল-
-খাবার আসতে কোনো সমস্যা হচ্ছেনা তো? ঘরে তো বই ছাড়া আর কিছু আনোনি।
-জী না। আর বই-ই আমার সব স্যার।
-দেখো মাস্টার আমি মূর্খ মানুষ আমাকে স্যার বলো না। শুধু জামাল বললেই হবে।
-কী বলেন, তা কি করে হয়। আপনি স্কুলের সেক্রেটারি।
-না না, তাও বলবে না।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-শোনো যে জন্য আসা সেটা বলি। শুনলাম তুমি টিউশন করাচ্ছ?
-জী, হেড স্যার…
-হ্যাঁ, স্যারই আমাকে বলল। ঠিক আছে তাহলে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে বুঝলে।
মনে মনে প্রবাদ গুনতে শুরু করল রাতুল। না জানি কি এমন কাজের কথা বলবে! তবুও বুকে সাহস এনে মুখে বলল-
-বলেন কি কাজ।
-আরে, তেমন কিছু না। পঞ্চায়েতের কিছু কাগজের মানে বুঝিয়ে দিতে হবে মাঝে মাঝে। বুঝতেই পারছ, কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। যা দিনকাল পড়েছে কে কোথায় ফাঁসিয়ে দেয়।
-আচ্ছা ঠিক আছে, সে বুঝিয়ে দেব।
-ঠিক আছে মাস্টার কাল রাতে তাহলে নিয়ে আসব।
মতামতের অপেক্ষা না করেই ভিতরের দরজা দিয়ে ঢুকে গেল। রাতুল তার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে অবাক বিস্ময়ে ভাবতে লাগল। লোকটা অশিক্ষিত হলেও বেস ধুরন্ধর।
আজ আর পড়তে বসতে ইচ্ছে করছে না। বাড়িতে ফোন করল সে। অনেকক্ষণ ধরে মা-বাবার সাথে কথা বলল। শেষে পিচ্চি বোনটা ফোনে নিল। তার সেই একই আবদার। তাকে প্রথম মাসের বেতন পেলে অনেক বই কিনে দিতে হবে। কানিজ অন্যান্য মেয়েদের মত না। পড়াশোনার প্রতি তীব্র ঝোঁক। যা করেই হোক, বোনটার পড়ালেখায় কোনো বাধা সে হতে দেবে না। কষ্টে সৃষ্টে নিজের পড়া করতে পেরেছে। বাধা বিপত্তি তারও কম আসেনি। বাবামা যথা সাধ্য যেষ্টা করেছে। এখন সময় এসেছে বোনের দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবার।
বোনের সাথে কথা বলার সময় লীনা দুই বার কল করেছিল। এখন একবার কল ব্যাক করবে নাকি সে? ভাবতেই আবার ফোনটা বেজে উঠল। রিসিভ করতেই লীনা বলে উঠল-
-কী মাস্টার মশায় ব্যাস্ততা মিটলো?
-বাড়িতে কথা বলছিলাম। কি করছ তুমি?
-কিছু না। বিছানায় গড়া গড়ি দিচ্ছি আর তোমার কথা ভাবছি।
-মানে?
– না কিছু না। তুমি কি করছ বলো? নতুন স্কুল নতুন বাসা কেমন সব?
-এত ভালোমন্দ ভেবে লাভ আছে বলো?
-কেন কি হল আবার?
-কিছু হয় নি। কদিনের অতিথি আমি!
তারপর লীনার সাথে অনেক ক্ষণ কথা হল। সে সব কথার হয়ত বাস্তবে কনো মূল্য নেই। হয়তবা অদূর ভবিষ্যতে মূল্য পেলে পেতেও পারে।
এখন রাত এগারটা তিরিশ। ফোনটা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করছে রাতুল। কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। রাত জাগার অভ্যাস তার কখনই ছিল না। এখনও বেশি রাত করে না। নিয়ম করে এগারোটা তিরিশের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আজ তার ঘুম আসছে না কেন? আজ কথার শুরুতে লীনা বলেছে সে নাকি তার কথা ভাবছিল। কিন্তু কেন ভাবছে তার কথা? আর এখন সেই বা লীনার কথা ভাবছে কেন? তাহলে কি সেও…
লীনা আর রাতুল খুব বেশি দিনের পরিচিত নয়। কিছুদিন আগে একটা আর্ট এক্সিবিশনে তাদের দেখা। অনেক বড়োলোক বাবার আদরের মেয়ে সে। সেই যেচে রাতুলের সাথে পরিচয় করেছে। অতি সাদামাটা চেহারার মানুষ রাতুল। চেহারায় কোথাও যেমন আভিজাত্যের আভাষ নেই তেমনি এতটুকু অহঙ্কারও নেই। যেটা আছে সেটা, নিপাট ভদ্রতা আর সারল্য। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান। লীনা মেধাবী স্মার্ট ভদ্র। বাবার টাকার অকারণ অহংকার নেই। আর তাই খুব সহজেই রাতুলের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
লীনাই সেদিন প্রথম কথা বলেছিল-
-ছবিটা কি আপনার আঁকা? রাতুল চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকিয়েছিল মাত্র। তার চোখে তখন বিষ্ময়। তাকে কেও এভাবে কথা বলবে সে ভাবেনি। ঘোর কাটার পর রাতুল উত্তর দিয়েছিল-
-জী না, আমি একজন দর্শক মাত্র।
-ও, আমি ভাবলাম আপনি বুঝি। যাই হোক এই ছবিটার ব্যাপারে আমাকে কিছু বলতে পারবেন?
-আমি? বোকার মত প্রশ্ন করেছিল।
-হ্যাঁ, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আর্টের উপর দখল রাখেন।
সেদিন রাতুল কি বলেছিল জানে না। তবে সেই ব্যাখ্যা তাদের বন্ধুত্ব হতে আর আটকাইনি। প্রথম দিকে রাতুল অনেক হেজিটেড করত লীনার সাথে কথা বলতে, তার সাথে ঘুরতে। এখন অবশ্য আর তেমন সমস্যা হয় না। লীনার চলাফেরা খুব সাধারন। পার্কে বসা, ফুটপাথের দোকানের খাবার খাওয়া, কেটলিতে করে ফেরি করা চাওয়ালাদের কাছে চা খাওয়া – কিছুতেই তার সমস্যা নেই। ফলে রাতুল আর লীনা এখন খুব ভালো বন্ধু।
ঘুমহীন চোখে সে তাকিয়ে আছে সিলিঙের দিকে। সেখানে ঝুলে থাকা ফ্যানটার মত তার মনটাও যেন বনবন করে ঘুরপাক খাচ্ছে।
