কলকাতা: আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। নতুন শ্রম কোড বাতিল, বেসরকারীকরণ রোধ এবং প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে দাবি আয়োজকদের। এই আবহে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন— আগামীকাল কি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে?
রাজ্যভিত্তিক পরিস্থিতির আপডেট
নিচে ভারতের প্রধান রাজ্যগুলোতে স্কুল খোলা বা বন্ধের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা): রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুল বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কলকাতার বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল আগামীকাল পঠন-পাঠন স্থগিত রাখার বা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিভাবকদের নিজস্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের বার্তার দিকে নজর রাখতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
- কেরল: এই রাজ্যে বামপন্থী সংগঠনগুলোর প্রভাব বেশি থাকায় এবং ধর্মঘটের সমর্থনে বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
- ওডিশা ও কর্ণাটক: ওডিশায় বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই অনেক জেলা প্রশাসন স্কুল ছুটির কথা বিবেচনা করছে। কর্ণাটকেও বিশেষ করে বেঙ্গালুরু ও মহীশূরে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
- দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ: দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় স্কুল খোলা থাকার কথা। তবে স্কুল বাস ও পরিবহণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। উত্তরপ্রদেশেও সরকারিভাবে কোনো ছুটির ঘোষণা নেই।
- পাঞ্জাব ও হরিয়ানা: এখানে কৃষক সংগঠনগুলো বনধকে সমর্থন জানানোয় গ্রামবাংলার দিকে জনজীবন ব্যাহত হতে পারে, তবে শহরাঞ্চলে স্কুল খোলা রাখারই প্রাথমিক ইঙ্গিত রয়েছে।
কী খোলা আর কী বন্ধ থাকবে?
বনধের প্রভাব জনজীবনের বিভিন্ন স্তরে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও জরুরি পরিষেবাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
| বিভাগ | স্থিতি (সম্ভাবনা) |
| ব্যাঙ্ক পরিষেবা | পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের কর্মীরা ধর্মঘটে সামিল হওয়ায় লেনদেন ব্যাহত হতে পারে। এটিএম পরিষেবা সচল থাকবে। |
| গণপরিবহণ | সরকারি ও বেসরকারি বাস, অটো ও ট্যাক্সি চলাচল অনেক জায়গায় সীমিত হতে পারে। |
| জরুরি পরিষেবা | হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান ও দমকল স্বাভাবিক থাকবে। |
| বিমান ও রেল | উড়ান ও ট্রেন পরিষেবা সচল থাকবে, তবে স্টেশনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। |
বিশেষ পরামর্শ: বনধের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল বা পিকেটিংয়ের জেরে যানজট হতে পারে। তাই আগামীকাল বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া এবং স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো শেষ মুহূর্তের বিজ্ঞপ্তি (Notification) দেওয়া হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

