কলকাতা: দেশের টেলিকম মানচিত্রে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করল ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-র প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০২৫-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহক সংখ্যার দৌড়ে বেসরকারি এই দুই সংস্থা যখন হু হু করে এগিয়ে চলেছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিএসএনএল (BSNL) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vi) ক্রমাগত তাদের পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে।
ট্রাই-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ভারতী এয়ারটেলের ঝুলিতে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স জিও তাদের শীর্ষস্থান বজায় রাখলেও গ্রাহক বৃদ্ধির হারের নিরিখে এয়ারটেলের থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিএসএনএল-এর জন্য, যারা বেশ কয়েক মাস ধরে গ্রাহক বাড়ানোর প্রবণতা দেখালেও ডিসেম্বরে ফের লোকসানের মুখ দেখেছে।
গ্রাহক সংখ্যার খতিয়ান: এক নজরে
ডিসেম্বর মাসে ভারতের প্রধান টেলিকম অপারেটরদের পারফরম্যান্স নিচে দেওয়া হলো:
- ভারতী এয়ারটেল: ৫৪.২৮ লক্ষের বেশি নতুন ওয়্যারলেস গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। এর ফলে তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬.৩৩ কোটি।
- বিশেষ দ্রষ্টব্য: এম২এম (M2M) কানেকশন অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এয়ারটেলের এই বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে।
- রিলায়েন্স জিও: ২৯.৬০ লক্ষের বেশি নতুন গ্রাহক পেয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে ৪৮.৯০ কোটি গ্রাহক নিয়ে জিও ভারতের বাজার দখলের লড়াইয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে।
- ভোডাফোন আইডিয়া (Vi): টানা গ্রাহক হ্রাসের ধারা অব্যাহত রেখে ডিসেম্বরে প্রায় ৯.৪০ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছে এই সংস্থা।
- বিএসএনএল (BSNL): ২.০৬ লক্ষের বেশি গ্রাহক কমেছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার। বর্তমানে তাদের বাজার শেয়ার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৪৬ শতাংশে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও এমএনপি (MNP)
রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১১৬ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে টেলিকম পরিষেবার ঘনত্ব (Tele-density) এখনও অনেক কম।
“ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১.৬১ কোটি গ্রাহক মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (MNP) জন্য আবেদন করেছেন, যা স্পষ্ট করে যে উন্নত পরিষেবা এবং ৫জি নেটওয়ার্কের টানে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অপারেটর বদল করছেন।”
ব্রডব্যান্ডে নতুন মাইলফলক
দেশের ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি (১ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। ৫জি ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস (5G FWA) বা ‘এয়ার ফাইবার’ পরিষেবার দ্রুত বিস্তার এই বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। রিলায়েন্স জিও এক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহক নিয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা এবং অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলে জিও এবং এয়ারটেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিএসএনএল-এর ওপর থেকে গ্রাহকদের আস্থা ক্রমশ কমছে।

