পুঞ্চের ধর্মীয় শিক্ষককে ‘পাকিস্তানি জঙ্গি’ বলে অপপ্রচার: জি নিউজ ও নিউজ১৮-এর বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ আদালতের

পুঞ্চের ধর্মীয় শিক্ষককে ‘পাকিস্তানি জঙ্গি’ বলে অপপ্রচার: জি নিউজ ও নিউজ১৮-এর বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ আদালতের

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার একটি স্থানীয় আদালত শনিবার জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল জি নিউজ এবং নিউজ১৮ ইন্ডিয়া-র বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, “অপারেশন সিন্দুর” সংক্রান্ত সম্প্রচারে তারা একজন স্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষককে ভুলভাবে ‘পাকিস্তানি জঙ্গি’ হিসেবে তুলে ধরেছে, যা মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর।

এই নির্দেশ দেন সাব-জজ ও স্পেশাল মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট শফীক আহমেদ, মামলার নাম Sheikh Mohd Saleem vs. U.T. of J&K through SHO Poonch

কী অভিযোগ উঠেছে?

অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সেলিম আদালতে জানান, নিহত কারি মোহাম্মদ ইকবাল পুঞ্চ জেলার জামিয়া জিয়া-উল-উলুম মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। ৭ মে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে তিনি প্রাণ হারান।

কিন্তু পরে, অপারেশন সিন্দুর সংক্রান্ত লাইভ সম্প্রচারে জি নিউজ এবং নিউজ১৮ ইন্ডিয়া তাঁকে “কুখ্যাত জঙ্গি নেতা”, “২০১৯-র পুলওয়ামা হামলার যুক্ত অভিযুক্ত”, এবং “পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পরিচালিত জঙ্গি” হিসেবে দেখিয়ে দেয়।

চ্যানেল দুটি কারি ইকবালের পূর্ণ নাম ও ছবি প্রকাশ করে। যদিও পরে তারা “ভুল সংশোধন” করে সম্প্রচার সরিয়ে দেয়, তবে অভিযোগকারীর মতে—

“এই অপপ্রচার কারি ইকবালের পরিবার ও এলাকার মানুষের কাছে চরম মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি করেছে, যা সংশোধনের অতীত।”

চ্যানেলগুলির যুক্তি খারিজ করল আদালত

পুলিশ প্রাথমিকভাবে আদালতে যুক্তি দেয় যে, এই সম্প্রচার দিল্লি থেকে হয়েছে, তাই পুঞ্চ আদালতের কোনও অধিক্ষেত্র নেই

তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়— BNSS-এর ১৯৯ ধারার অধীনে, যেখানে অপরাধের ফল বা প্রভাব পড়ে, সেখানেও আদালতের অধিকার প্রযোজ্য।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

“একজন মৃত ধর্মীয় শিক্ষককে যাচাই না করেই জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতির লঙ্ঘন। এটি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং সামাজিক ঐক্যে আঘাত হানে।”

সাংবিধানিক প্রসঙ্গ

আদালত জানিয়েছে—সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও তা Article 19(2) অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত সীমার মধ্যে পড়ে, যেখানে মানহানি, শালীনতা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আদালত বলেছে,

“চ্যানেলগুলির পরবর্তী ক্ষমা অপর্যাপ্ত। ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।”

কোন ধারায় অভিযোগ?

আদালতের মতে, এই কার্যকলাপ পড়ে নিচের অপরাধ ধারায়:

  • BNSS 353(2): মানহানি
  • BNSS 356: জনস্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টি
  • BNSS 196: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত
  • তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৬ ধারা

পুলিশকে নির্দেশ

  • পুঞ্চ থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে
  • তদন্ত ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে
  • SSP পুঞ্চ-কে এই আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে তদারকি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply