দিল্লির জমি বিতর্কে দ্বিমুখী নীতি: হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের মুখে, মুসলিম সাইট ভাঙচুর—বিজেপির সমালোচনা তীব্র

দিল্লির জমি বিতর্কে দ্বিমুখী নীতি: হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের মুখে, মুসলিম সাইট ভাঙচুর—বিজেপির সমালোচনা তীব্র

নয়াদিল্লি : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ — দিল্লিতে ওয়াকফ-সংক্রান্ত জমি দাবির ঘটনায় বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ উঠেছে। একদিকে পুরনো দিল্লির কিশনগঞ্জ এলাকায় ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর থেকে বসবাসকারী হিন্দু পরিবারগুলো দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছ থেকে আকস্মিক উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র কয়েকদিন আগে তুর্কমান গেটের কাছে শতাব্দীপুরনো ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদ সংলগ্ন অংশে এমসিডি-র বুলডোজার চালানো হয়েছে। এই দুই ঘটনা নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, সরকারের নীতি সংখ্যালঘু সাইটের ক্ষেত্রে কঠোর, কিন্তু হিন্দু বাসিন্দাদের রক্ষায় নীরব।কিশনগঞ্জের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সুদর্শন নিউজের একটি ভিডিওতে বয়স্ক হিন্দু মহিলারা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে থেকেছি… এখন ওয়াকফের জমি বলে উচ্ছেদ করছে। কোথায় যাব?” তারা অভিযোগ করছেন, দরিদ্র হওয়ায় আইনি লড়াই করার সামর্থ্য নেই।

টুইটারের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, হাজার হাজার লাইক ও রিপোস্ট পেয়েছে। ওয়াকফ অ্যাক্ট অনুসারে, বোর্ড জমি দাবি করলে বাসিন্দাদেরই প্রমাণের দায়িত্ব পড়ে। ২০২৫-এর ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন জেলা কালেক্টরদের যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছিল, কিন্তু মুসলিম সংগঠনের আপত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ অংশ স্থগিত করেছে। দেশজুড়ে ৫৮,০০০-এর বেশি বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যা প্রায়ই দরিদ্র পরিবারকে প্রভাবিত করে।

এদিকে, ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ তুর্কমান গেটের কাছে ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদ (প্রায় ১০০ বছরের পুরনো) সংলগ্ন ০.১৯৫ একর লিজড এলাকার বাইরে অবৈধ স্থাপনা—যেমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্যাঙ্কোয়েট হল, গেস্ট হাউস—ভাঙা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের নভেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশ অনুসারে এমসিডি এই অভিযান চালায়। ১৯৭০-এর গেজেট নোটিফিকেশনে এটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হলেও, আদালত আধুনিক নথির অভাব দেখিয়ে ভাঙার অনুমতি দেয়। ভোররাতে শুরু হওয়া অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়—স্থানীয়রা পাথর ছোড়ে, পাঁচ জন পুলিশ আহত হন, টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়। এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এটিকে “কালো ওয়াকফ আইন”-এর ফল বলে অভিহিত করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।সমালোচকরা বিজেপিকে দোষারোপ করছেন—যখন ওয়াকফ বোর্ড আধুনিক নথি ছাড়াই জমি দাবি করে, তখন হিন্দু বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়, কিন্তু কোনও তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেওয়া হয় না। অথচ মুসলিম সাইটের ক্ষেত্রে, শতবর্ষপুরনো ওয়াকফ নোটিফিকেশন থাকলেও আদালত ভাঙার নির্দেশ দেয়। এই দ্বৈত নীতি সংখ্যালঘু অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড কিশনগঞ্জের নোটিশ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি।এই ঘটনাগুলো ভারতের জমি ব্যবস্থাপনায় গভীর অসমতুল্যতা তুলে ধরেছে—ধর্মীয় এন্ডাউমেন্ট রক্ষা বনাম দরিদ্র বাসিন্দাদের অধিকার। কিশনগঞ্জের পরিবারগুলো অপেক্ষায়, আর তুর্কমান গেটের ঘটনা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply