জম্মুতে ক্রিকেট ম্যাচে হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা: কাশ্মীরি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু

জম্মুতে ক্রিকেট ম্যাচে হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা: কাশ্মীরি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু

জম্মুতে আয়োজিত একটি ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহার করার কারণে এক কাশ্মীরি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঘটা এই ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৭৩(৩) ধারার অধীনে ১৪ দিনের একটি প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, জম্মুর মুঠি এলাকার কেসি ডোর গ্রাউন্ডে খেলা চলাকালীন এক ক্রিকেটার তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকার লোগো লাগিয়ে মাঠে নেমেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করার কথা নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত ওই ক্রিকেটারের নাম ফুরকান ভাট। তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার তাঙ্গিপুনা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে জম্মু জেলায় চলমান ‘জম্মু ও কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ (JKSL) নামক একটি টুর্নামেন্টে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ফুরকান ভাট স্থানীয় দল ‘জেকে ১১’-এর হয়ে ‘জম্মু ট্রেইলব্লেজার্স’-এর বিরুদ্ধে ব্যাট করছিলেন এবং সেই সময়ই তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জম্মুর কিছু অংশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। অনলাইন মাধ্যমে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পরই জম্মু পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে ক্রিকেটার ফুরকান ভাট এবং টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ ভাটকে সমন পাঠানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং এর ফলে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা জনবিক্ষোভের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ মূলত ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য এবং তার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। এছাড়া, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিতর্কিত সংযোগ বা সূত্র রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই ক্রিকেটার এবং টুর্নামেন্টের আয়োজককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রাথমিক তদন্তের সময়সীমা ১৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশ তাদের অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে, ঘটনার জলঘোলা হতেই জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেকেসিএ) দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জেকেসিএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, অভিযুক্ত খেলোয়াড় তাদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত স্তরের টুর্নামেন্ট ছিল।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জম্মুর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং বিধায়ক আর.এস. পাঠানিয়া ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘অরুচিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আজ একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে কাশ্মীরের এক স্থানীয় ক্রিকেটারকে তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা লাগিয়ে খেলতে দেখা গেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমরা মনে করি এটি ক্রিকেট মাঠকে ব্যবহার করে কোনো নাশকতামূলক বা বিতর্কিত এজেন্ডা প্রচারের একটি জঘন্য প্রচেষ্টা। অথবা এটি ভারতের জাতীয় অবস্থানের প্রতি চরম অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।” বিধায়ক পাঠানিয়া প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন এই পুরো বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং বিস্তারিত তদন্ত করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, একটি ক্রিকেট ম্যাচে হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহারের এই ঘটনাটি বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রীড়া এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply