ওড়িশা, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি – দেশজুড়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা বাড়তে থাকায়, ওড়িশার ধেনকানাল জেলার পারজাং গ্রামে একটি নতুন ঘটনা ঘটেছে। বজরং দলের সদস্যসহ হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রায় ৪০ জনের একটি দল পাস্টর বিপিন বিহারী নাইককে নির্মমভাবে মারধর করে, গোবর খাওয়ায় এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। পাস্টরের স্ত্রী বন্দনা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “আমার স্বামীকে হনুমান মন্দিরে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার হাত পিছনে রডের সঙ্গে বাঁধা ছিল। তাকে গোবর খাওয়ানো হয়েছে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। লোকেরা তাকে চড় মারছিল এবং ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করছিল।”ঘটনাটি ঘটেছে একটি প্রার্থনা সভায়, যেখানে পাস্টর নাইক, তার স্ত্রী এবং গ্রামের মাত্র সাতটি খ্রিস্টান পরিবার উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামে খ্রিস্টানদের উপর জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ তুলে দলটি ঘরে ঢুকে সকলকে মারধর করে। পাস্টরকে টেনে বের করে নিয়ে গিয়ে গ্রামে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, লাল সিঁদুর মাখিয়ে, চটির মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। পুলিশ দুই ঘণ্টা পরে এসে উদ্ধার করে, কিন্তু তাৎক্ষণিক চিকিত্সা না দিয়ে পুলিশ স্টেশনে বসিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ দায়ের করা হলেও, গ্রামের সর্পঞ্চের অভিযোগে পাস্টরের বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তরণের কাউন্টার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।পাস্টরের স্ত্রী বলেছেন, “আমরা দুজনেই গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি। তিনি ঘুমাতে পারছেন না, ওষুধ খাচ্ছেন। কিন্তু আমি গর্বিত যে তিনি কোনো মারধরের পরেও ‘জয় শ্রী রাম’ বলেননি।” পরিবার এবং অন্যান্য খ্রিস্টান পরিবারগুলি এখন আত্মীয়দের বাড়িতে লুকিয়ে আছে, কারণ গ্রামবাসীরা তাদের বয়কট করেছে এবং বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।ওড়িশায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের আক্রমণ বাড়ছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর অন্যান্য অনুরূপ ঘটনাহিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি (বিশেষ করে বজরং দল, গৌরক্ষক দল ইত্যাদি) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান) উপর আক্রমণের ঘটনায় প্রায়ই গোবর খাওয়ানোর মতো অপমানজনক শাস্তি ব্যবহার করেছে।
এসব ঘটনায় সাধারণত অভিযোগ উঠে যে পুলিশ অনেক সময় দেরি করে বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাউন্টার কেস করে। এই ঘটনাগুলি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ‘গৌরক্ষা’র নামে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। দেশজুড়ে খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের আক্রমণ ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং সংবিধানের মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করছে।
Posted inদেশ সাম্প্রদায়ীকতা
ওড়িশায় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর আক্রমণ: পাস্টরকে গোবর খাওয়ানো এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান করতে বাধ্য করা

Facebook Comments Box
Pingback: ওড়িশায় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতার উপর হামলা: সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা – বাংলাকাল