নজিব আহমেদ নিখোঁজ মামলা বন্ধ করার অনুমতি দিল দিল্লি আদালত, নতুন প্রমাণ মিললে ফের খোলা হতে পারে তদন্ত

নজিব আহমেদ নিখোঁজ মামলা বন্ধ করার অনুমতি দিল দিল্লি আদালত, নতুন প্রমাণ মিললে ফের খোলা হতে পারে তদন্ত

নয় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র নজিব আহমেদের মামলার তদন্ত বন্ধ করার জন্য সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (CBI)-কে অনুমতি দিল দিল্লির একটি আদালত। অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি মহেশ্বরী সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে জানান, নতুন কোনো প্রমাণ এলে মামলাটি পুনরায় খোলা যেতে পারে।

২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শেষবার দেখা গিয়েছিল নজিবকে। তারপর থেকে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করলেও তার কোনও খোঁজ মেলেনি। ২০১৮ সালেই সিবিআই তার তদন্ত সম্পন্ন করে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতির ভিত্তিতে ট্রায়াল কোর্টে ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয়।

তবে নজিবের মা ফাতিমা নাফিস এই তদন্ত বন্ধের বিরোধিতা করেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে জানান, সিবিআই রাজনৈতিক চাপে মাথা নত করেছে এবং গোটা মামলাটিকেই তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।

নিখোঁজ হওয়ার সময় নজিব জেএনইউ-তে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছিলেন এবং মাহী-মাণ্ডভি হোস্টেলে থাকতেন। ঘটনার আগের দিন তিনি কিছু ছাত্রের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, যাদেরকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র সদস্য বলে অভিযোগ ওঠে। তবে হোস্টেল ওয়ার্ডেন নিশ্চিত করেছিলেন যে, নজিব একটি অটোয় করে ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন।

প্রথমে দিল্লি পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে তা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই আদালতে জানায়, মারপিটের ঘটনার পর নজিব সাফদারজং হাসপাতালে যান, তবে চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করেন। হাসপাতালের কোনও মেডিকেল নথি না থাকায় চিকিৎসক বা কর্মীদের বয়ান যাচাই করা যায়নি। তদন্তকারী আধিকারিক আরও জানান, নজিবকে মেডিকো-লিগ্যাল সার্টিফিকেট (MLC) করাতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে তার বন্ধু মোহাম্মদ কাসিমের সঙ্গে হোস্টেলে ফিরে যায় ও পরে আর কোনো চিকিৎসা করায়নি।

২০১৬-এ কী ঘটেছিল?

ফাতিমা নাফিসের কথায়, তাঁর ছেলে নজিব ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে সেমিস্টার বিরতির পর জেএনইউ-তে ফিরে আসে। ১৫ অক্টোবর রাতে সে তাকে ফোন করে জানায় যে কিছু “ভয়ঙ্কর” ঘটেছে। ফাতিমা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, নজিবের রুমমেট কাসিম তাঁকে জানিয়েছিল যে নজিব মারপিটে জড়িয়ে পড়েছিল এবং আহত হয়েছিল।

পরদিন ফাতিমা উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে দিল্লি আসেন। তিনি ফোনে ছেলেকে হোস্টেলে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু যখন তিনি মাহী-মাণ্ডভি হোস্টেলের ১০৬ নম্বর ঘরে পৌঁছান, সেখানে নজিব ছিলেন না। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।

আজ অবধি তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি, এবং এখন আদালতের নির্দেশে এই বহু বিতর্কিত ও সংবেদনশীল মামলার তদন্ত বন্ধ করা হল — যদিও নতুন তথ্য এলে মামলাটি আবার খোলা যাবে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply