নয়ডা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে কথিত ব্যক্তিগত চ্যাটের ভুয়ো স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। সুরজিত দাসগুপ্ত নামে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল নয়ডায় পৌঁছালেও স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্যের নামও উঠে এসেছে।ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে। মহুয়া মৈত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর (নদিয়া) কোতোয়ালি থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়, সুরজিত দাসগুপ্ত তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) অ্যাকাউন্টে মহুয়া মৈত্র ও প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে কথোপকথনের কথিত স্ক্রিনশট পোস্ট করেন, যা পরবর্তীকালে ফরেনসিক পরীক্ষায় ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। নদিয়ার সিজেএম আদালত থেকে নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট জারি হয়।
এরপর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কৃষ্ণনগর থানার একটি দল ১০ ফেব্রুয়ারি নয়ডার লোটাস প্যানাচে সোসাইটিতে সুরজিতের বাড়িতে পৌঁছায়।ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ আসার পর সুরজিত দাসগুপ্ত ফোনে অমিত মালব্যকে কল করেন এবং স্পিকারে রাখেন। অমিত মালব্যকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, আপনারা কোনও অ্যাকশন নেবেন না।” এরপর পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথোপকথন চলাকালীন সুরজিত বলেন, “এখনই আপনাদের হায়ার অথরিটির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিচ্ছি।” কিন্তু এর মধ্যেই স্থানীয় নয়ডা পুলিশ এসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। এই বিলম্বের সুযোগ নিয়ে সুরজিত পালিয়ে যান বলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযোগ। মহুয়া মৈত্র এক্স-এ পোস্ট করে নয়ডা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন।এই ঘটনা রাজ্য-রাজ্যের পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দাবি, রাজনৈতিক চাপে নয়ডা পুলিশ তাদের কাজে বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি-সমর্থিত মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে যে এটি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ‘ফ্রি স্পিচ’-এর প্রশ্ন। সুরজিত দাসগুপ্তকে একসময় আপ (আম আদমি পার্টি) এবং পরে বিজেপি-সমর্থিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিতি ছিল।এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিপদকে আরও একবার সামনে এনেছে। চরিত্রহননের জন্য ভুয়ো ছবি ব্যবহার করা শুধু অপরাধই নয়, নৈতিকতারও প্রশ্ন তোলে।

