নয়াদিল্লি, ৪ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বুধবার তীব্র বিতর্কের মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম কোনও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়ের করা মামলায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে আদালতে বক্তব্য রাখলেন। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না-র নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চলা শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে—যাঁদের আপিলের কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, “যখন সবকিছু শেষ হয়ে যায়, যখন আমরা কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না, যখন ন্যায়বিচার দরজার পিছনে কাঁদছে—তখনই আমরা ভেবেছি কোথাও ন্যায় পাওয়া যাচ্ছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নামের বানানের সামান্য অমিল, উপাধি বা স্থানীয় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণে (Logical Discrepancy বা LD) বহু নাম কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের সময় এই সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এটা শুধুমাত্র নাম কাটার প্রক্রিয়া। বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির উপাধি নিলে কেন তার নাম মিলছে না? গরিব মানুষ ঘর বদল করলে কেন তারা বাদ পড়বে? এটা নারী-বিরোধী।”
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানান, স্থানীয় ভাষা ও উপভাষার সংবেদনশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “যদি স্থানীয় উপভাষার কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে সত্যিকারের ভোটারদের বাদ দেওয়া যাবে না।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ECI) পরামর্শ দেন যে, রাজ্য সরকার যদি বাংলা ও স্থানীয় উপভাষায় দক্ষ আধিকারিকদের দল দিতে পারে, তাহলে তারা যাচাই করে কমিশনকে জানাতে পারে—এতে মাইক্রো-অবজার্ভারদের প্রয়োজন কমে যাবে।
সিজেআই বলেন, “আমরা সংবেদনশীল হতে বলছি যাতে সত্যিকারের ভোটার বাদ না পড়েন।”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, ৮,৩০০ মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে—যাদের অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে এসেছেন। তাঁদের দিয়ে অফিসে বসে নাম কাটানো হচ্ছে। ফর্ম-৬ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। অনেক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন শুধু বাংলা? অন্য রাজ্যে কেন নয়? অসমে কেন নয়? ফসল কাটার মরসুমে, মানুষ যখন ভ্রমণ করছে—তখন কেন এত তাড়াহুড়ো? ১০০-র বেশি BLO মারা গিয়েছেন, অনেকে হাসপাতালে।”নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে (প্রায় ৭০ লক্ষ) নামের বানানের সামান্য পার্থক্য (যেমন দত্ত, দত্তা, গাঙ্গুলি, রায় ইত্যাদি)। রাজ্য সরকার যথেষ্ট গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারেনি বলেই মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে।শুনানির শেষে প্রধান বিচারপতি জানান, সোমবার আবার মামলা উঠবে। এদিন নির্বাচন কমিশনের নতুন কাউন্টার অ্যাফিডেভিট দাখিলের কথা উল্লেখ করে তা বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে, সোমবারের মধ্যে কতজন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে তার তালিকা জমা দিতে।
