MPLDAS তহবিল ব্যবহারে নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের কাইরানার তরুণ সাংসদ ইকরা হাসান চৌধুরীর

MPLDAS তহবিল ব্যবহারে নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের কাইরানার তরুণ সাংসদ ইকরা হাসান চৌধুরীর

কাইরানা, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ : ভারতীয় গণতন্ত্রে সাংসদদের কাজকর্মের স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। অধিকাংশ সাংসদের MPLADS (সাংসদ স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল) প্রোফাইল হয় অসম্পূর্ণ, নয়তো বছরের পর বছর আপডেট হয় না। ফলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস জন্ম নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

এই প্রেক্ষাপটে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান চৌধুরী একেবারেই ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উত্তরপ্রদেশের কাইরানা লোকসভা কেন্দ্রের এই তরুণ সাংসদ নিজের MPLADS প্রোফাইল সম্পূর্ণ আপডেট রেখে প্রমাণ করেছেন—স্বচ্ছতা চাইলে করা যায়।

কে এই ইকরা চৌধুরী?
ইকরা চৌধুরীর জন্ম ১৯৯৪ সালে কাইরানায়।তিনি লন্ডনের SOAS University থেকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাজনীতিতে এমএসসি সম্পন্ন করেন। বিদেশে উজ্জ্বল শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি দেশে ফিরে আসেন রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে।২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থীকে ৬৯,১১৬ ভোটে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন।
মাত্র ৩০ বছর বয়সে সংসদে প্রবেশ করে তিনি নিজেকে একজন শিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক চিন্তার নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।কিন্তু তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এসেছে, অগ্নিঝরা বক্তব্য ও MPLADS তহবিল ব্যবহারে নজিরবিহীন স্বচ্ছতার মাধ্যমে।

MPLADS প্রোফাইলে কী দেখা যাচ্ছে?

সরকারি পোর্টাল mplads.gov.in-এ থাকা তথ্য অনুযায়ী ১৮তম লোকসভায় তাঁর জন্য বরাদ্দ: ৯.৮০ কোটি টাকা তার মধ্যে  খরচ হয়েছে: ১.৮৮ কোটি টাকা মোট প্রকল্পের সুপারিশ: ৪৯টি
সম্পূর্ণ হয়েছে: ১২টি প্রকল্প তার সংসদের মেয়াদ আছে এখনো এখনো তিন বছর । জিও-ট্যাগিং তার স্বচ্ছতার আসল চাবিকাঠি
ইকরা চৌধুরীর প্রোফাইলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি সম্পূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে জিও-ট্যাগযুক্ত আগে পরে ছবি আপলোড করা হয়েছে।যে কোনও নাগরিক দেখতে পারেন কাজটি ঠিক কোথায় হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ও পরে কী পরিবর্তন হয়েছে ছবি ও লোকেশন মিলিয়ে কাজের সত্যতা যাচাই করা যায়।এই ধরনের ডিজিটাল স্বচ্ছতা ভারতের অধিকাংশ সাংসদের মধ্যেই অনুপস্থিত।



#YeThikKarkeDikhao ক্যাম্পেইন ও ইকরার ভূমিকা
দেশজুড়ে নাগরিকদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে
‘#YeThikKarkeDikhao’ (যে ঠিক করে দেখাও) ক্যাম্পেইন।
এই ক্যাম্পেইনের মূল দাবি—
👉 সাংসদরা MPLADS তহবিল কীভাবে খরচ করছেন, তার পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করুন।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বহু সাংসদ চাপের মুখে তথ্য আপডেট করতে শুরু করেন।কিন্তু ইকরা চৌধুরী শুরু থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।ইন্ডিয়া টুডে-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম রিপোর্টে জানিয়েছে—“ইকরা চৌধুরীর MPLADS প্রোফাইল এখন দেশের অন্যতম স্বচ্ছ ও আপডেটেড প্রোফাইল।”
একটি ছোট ত্রুটি, তবু প্রায় নিখুঁত
তাঁর প্রোফাইলে মাত্র একটি ছোটখাটো ত্রুটি নজরে এসেছে দুটি আলাদা প্রকল্পে একই ছবি আপলোড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কারিগরি বা মানবিক ভুল হতে পারে।
এর বাইরে তাঁর প্রোফাইল প্রায় নিখুঁত বলেই ধরা হচ্ছে।


ইকরা চৌধুরীর রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে।
কিন্তু জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহারে এই স্বচ্ছতা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে
“এই ধরনের স্বচ্ছতা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি গণতান্ত্রিক আদর্শ তৈরি করে।”
তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা

ইকরা চৌধুরীর উদ্যোগ প্রমাণ করে—
রাজনীতিতে শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব এলে পরিবর্তন সম্ভব,স্বচ্ছতা কোনও অসম্ভব বিষয় নয়,দায়বদ্ধতা থাকলে জনগণের আস্থা ফেরানো যায়।
কাইরানার এই তরুণ সাংসদ দেখিয়ে দিয়েছেন—
ক্ষমতা নয়, মানসিকতাই আসল পরিবর্তনের চাবিকাঠি।

ইকরা চৌধুরীর এই উদ্যোগ শুধু কাইরানার মানুষের জন্য নয়,
সমগ্র দেশের জন্য একটি শিক্ষা।

তিনি প্রমাণ করেছে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা কেবল স্লোগান নয়, বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়।
“স্বচ্ছতাই গণতন্ত্রের আসল শক্তি। আর ইকরা চৌধুরী সেই শক্তিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন।”

আজ যখন রাজনীতি নিয়ে মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে,
তখন ইকরার মতো দৃষ্টান্ত আশার আলো দেখায়।

নিঃসন্দেহে, কাইরানার এই কন্যা প্রশংসার দাবিদার।
আমরা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং আশা করি
অন্যান্য সাংসদরাও এই পথ অনুসরণ করবেন।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply