নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ম ২০২৬: ১ এপ্রিল থেকে চার রঙের বিনে আবশ্যিক বিভাজন

নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ম ২০২৬: ১ এপ্রিল থেকে চার রঙের বিনে আবশ্যিক বিভাজন

নয়াদিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারি: ভারত সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক সম্প্রতি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (এসডব্লিউএম) রুলস, ২০২৬ জারি করেছে, যা ২০১৬ সালের পুরনো নিয়মের পরিবর্তে আসছে। এই নতুন বিধি আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর মূল লক্ষ্য হল বর্জ্যকে উৎসেই কঠোরভাবে বিভাজন করা, ল্যান্ডফিলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির (সার্কুলার ইকোনমি) ভিত্তিতে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা।নতুন নিয়ম অনুসারে, প্রত্যেক পরিবার, প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য উৎপাদককে বাধ্যতামূলকভাবে চারটি স্রোতে (four-stream) বর্জ্য বিভাজন করতে হবে। এর জন্য রঙ-কোডেড বিনের ব্যবহার নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • সবুজ বিন (Green Bin): ভিজে বর্জ্য বা জৈব বর্জ্য — রান্নাঘরের খাবারের অবশিষ্টাংশ, সবজি-ফলের খোসা, মাংস, ফুল ইত্যাদি। এগুলি কম্পোস্ট বা বায়ো-মিথেনেশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে।
  • নীল বিন (Blue Bin): শুকনো বর্জ্য বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য — প্লাস্টিক, কাগজ, ধাতু, কাচ, কাঠ, রাবার ইত্যাদি। এগুলি ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-তে পাঠাতে হবে।
  • লাল বিন (Red Bin): স্যানিটারি বর্জ্য — ব্যবহৃত ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ট্যাম্পন, কনডম ইত্যাদি। এগুলি নিরাপদে মুড়িয়ে আলাদা করে রাখতে হবে।
  • কালো বিন (Black Bin): বিশেষ যত্নের বর্জ্য বা ডোমেস্টিক হ্যাজার্ডাস ওয়েস্ট — পেইন্টের ক্যান, বাল্ব, মার্কুরি থার্মোমিটার, ওষুধ ইত্যাদি। এগুলি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে বা নির্দিষ্ট সংগ্রহ কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।

স্বচ্ছ ভারত মিশন (আরবান) ২.০-এর অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ম প্রচার করছে। স্বচ্ছভারতগভ অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে এই চার রঙের বিভাজনের ইনফোগ্রাফিক্স প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষকে সহজে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই নিয়ম পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর অধীনে জারি করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়ম ২০১৬ সালের নিয়মের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর এবং বাস্তবায়নযোগ্য। এতে বাল্ক ওয়েস্ট জেনারেটরদের (যেমন বড় হোটেল, হাসপাতাল, শপিং মল) জন্য আরও স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটাল মনিটরিং, জরিমানা এবং ‘পলিউটার পে’ নীতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে রাস্তায় এখনও পর্যাপ্ত রঙিন বিন নেই, আবর্জনা সংগ্রহের ব্যবস্থা দুর্বল, তাহলে কীভাবে এই কঠোর বিভাজন সম্ভব হবে? কেউ কেউ অ্যাপ বা সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছেন।এই নতুন নিয়ম ভারতের প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া প্রায় ১.৮৫ লক্ষ টন পৌর বর্জ্যের সমস্যা মোকাবিলায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল বাস্তবায়ন হলে ল্যান্ডফিলের চাপ কমবে এবং পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্টিংয়ের হার বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply