ওড়িশা : সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ওড়িশা রাজ্যে বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিক ও বিক্রেতাদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটেছে জাজপুর জেলায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালি মুসলিম বিক্রেতাকে স্থানীয় লোকজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ করে মারধর করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আক্রমণকারীরা তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে, আধার কার্ড দেখাতে বাধ্য করছে এবং ‘জয় শ্রী রাম‘ ধ্বনি দিতে বলছে। এই হামলা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।এই ধরনের ঘটনা একক নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওড়িশায় অন্তত চারটি অনুরূপ হামলার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্বলপুর জেলায় একজন ১৯ বছরের বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে লিঞ্চ করে হত্যা করা হয়। আরেকটি ঘটনায় মিদনাপুরের কাছে একজন ৩৫ বছরের বিক্রেতাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এছাড়া হুগলি জেলার একজন মুসলিম কম্বল বিক্রেতাকে গ্রামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় আক্রমণকারীরা প্রায়শই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ অভিযোগ তুলে হামলা চালায়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন।এই ঘটনার খবর প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ওড়িশার স্থানীয় সাংবাদিক ও কংগ্রেস নেতা অমিয় পাণ্ডব (@AmiyaPandav) তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওসহ পোস্ট করে এই হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিজেপি শাসনকালে ওড়িশায় এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠেছে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ জুবায়েরের মতো সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিরোধী নেতা এটি শেয়ার করে জাতীয় মাত্রায় আলোচনা তৈরি করেন।এই ঘটনাগুলির সমাজে গভীর প্রভাব পড়েছে। বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা ওড়িশায় কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে কাজ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন। এতে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে #HateCrime ও #StopMobViolence-এর মতো হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলি বিজেপি সরকারের উপর দোষারোপ করে বলেছে যে এই ঘৃণামূলক প্রচারণা রাজনৈতিকভাবে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি সহ পশ্চিমবঙ্গের নেতারা এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।এই ঘটনাগুলি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের উপর আঘাত। ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ করা দেশের সংবিধানবিরোধী। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ধরনের হামলা বন্ধ করা। অন্যথায় এই ঘৃণার চক্র আরও বিস্তৃত হবে, যা সমাজের জন্য মারাত্মক।
