ওড়িশায় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতার উপর হামলা: সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ওড়িশায় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতার উপর হামলা: সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ওড়িশা : সম্প্রতি ওড়িশায় একটি ঘটনা ঘটেছে যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ওড়িশার কোনো এক স্থানে ডানপন্থী দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করে। তাঁকে জোর করে আধার কার্ড দেখাতে বলা হয়, ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয় এবং ওড়িশা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। না হলে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জন্ম নেয়।এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করেন ওড়িশার কংগ্রেস নেতা ও সাংবাদিক অমিয় পাণ্ডব। তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) অ্যাকাউন্ট@AmiyaPandav থেকে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি এই পোস্টটি করা হয়। পোস্টে তিনি লেখেন যে, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় এটি নতুন প্রবণতা হয়ে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায় কীভাবে কয়েকজন যুবক ওই বিক্রেতাকে ঘিরে ধরে অপমান করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার লাইক, রিপোস্ট ও কমেন্ট পায়। অনেকে এটিকে সাম্প্রদায়িকতার চরম উদাহরণ বলে অভিহিত করেন।এই ধরনের ঘটনা ওড়িশায় এটাই প্রথম নয়।

গত কয়েক বছরে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে। পূর্বে কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের, বিশেষ করে বাংলা বা বাংলাদেশি বলে সন্দেহ হলে, তাদের উপর আক্রমণ বা হয়রানি করা হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেন যে, এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় বা পক্ষপাতদুষ্ট। এর ফলে দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিকরা, যারা জীবিকার জন্য ওড়িশায় আসেন, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এই ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ওড়িশায় বিজেপি সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতা, যিনি সম্ভবত পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তাঁকে এভাবে অপমান করা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমাজে বিভাজনের একটি বিষাক্ত বার্তা। এটি দেখিয়ে দেয় যে, কীভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।সমাজে এই ঘটনার প্রভাব ব্যাপক। একদিকে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছেন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, কিছু লোক এটিকে সমর্থন করে বলছেন যে, ‘বহিরাগতদের’ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার

এর ফলে সামাজিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে, অনেকে পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভারতের সংবিধান যে সমতা, স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তা রক্ষা করতে হলে সকলের সচেতনতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। দরিদ্র মানুষের উপর এমন অত্যাচার শুধু তাঁদের জীবনকে বিপন্ন করে না, বরং দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন ঘটনা বারবার ঘটলে সমাজে অবিশ্বাস ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Facebook Comments Box
Show 1 Comment

1 Comment

Leave a Reply