ভুবনেশ্বর| ১ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ ওড়িশার প্রতি অবহেলা অব্যাহত, নবীন পট্টনায়কের তীব্র সমালোচনা ভারত সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ওড়িশায় এই বাজেটকে ঘিরে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজু জনতা দলের (বিজেডি) সভাপতি এবং বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিস্তারিত পোস্টে বাজেটের প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই বাজেটে ওড়িশা ও তার জনগণের জন্য কোনও উল্লেখযোগ্য সুবিধা নেই।নবীন পট্টনায়কের মতে, ওড়িশাবাসীরা আশা করেছিলেন যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার (কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন) অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজ্যের প্রাপ্য অতিরিক্ত অনুদানের উপর জোর দিয়ে উন্নয়নের গতি বাড়াবে। কিন্তু বাস্তবে রাজ্য খুব কমই পেয়েছে। তিনি লিখেছেন, “The budget has offered no noteworthy benefits to Odisha and its people. The state has received very little.”
একদিকে তিনি ওড়িশায় ‘রেয়ার আর্থ করিডর’ (Rare Earth Corridor) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওড়িশা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অন্যতম প্রধান উৎপাদক রাজ্য হিসেবে দেশ গঠনে সবসময় অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু এই প্রস্তাবের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে গভীর অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল ও শিল্পকেন্দ্রগুলিকে বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য জাতীয় জলপথ (National Waterways) নির্মাণের প্রস্তাব আবারও ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু এটি এক দশকেরও বেশি পুরনো প্রস্তাব, যার মাটিতে কোনও অগ্রগতি হয়নি। ওড়িশাবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার বিষয় হলো সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডরের ঘোষণা, যা শহরগুলির মধ্যে ‘গ্রোথ কানেক্টর’ হিসেবে কাজ করবে। এই তালিকায় ওড়িশার কোনও স্থান নেই। এছাড়া ভুবনেশ্বর মেট্রো প্রকল্পকে ওড়িশা বিজেপি সরকার আগেই আটকে দিয়েছে, এবং জনগণের প্রয়োজনের প্রতি অবহেলা অব্যাহত রয়েছে।আরও একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়নের পর্যটন-কেন্দ্রিক প্রকল্প থেকে ওড়িশাকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া। অথচ রাজ্যে ডায়মন্ড ট্রায়াঙ্গল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ স্থান রয়েছে, যা পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারত।
সামগ্রিকভাবে বাজেট পর্যালোচনা করে নবীন পট্টনায়কের অভিযোগ, ওড়িশা শুধু তার প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে যাওয়ার জন্যই অনুদান পাচ্ছে, কিন্তু রাজ্যবাসীর কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, “Odisha is getting allocations only for taking its natural resources away and completely ignored when it comes to resource allocation for benefit of people of the State.”এই প্রেক্ষাপটে নবীন পট্টনায়ক রাজ্যের বিজেপি সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রের কাছ থেকে ওড়িশার ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে। ওড়িশা ও তার জনগণ কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে আরও ভালো ও বেশি প্রাপ্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবীন পট্টনায়কের বিজেডি দল অতীতে এনডিএ-র (NDA) সঙ্গে দীর্ঘদিন জোটে ছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিজেডি-বিজেপি জোট ওড়িশায় শাসন করেছে এবং নবীন পট্টনায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিজেডি স্বাধীনভাবে লড়াই করে এবং একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পুরনো জোটের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রতি তাঁর সমালোচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ওড়িশার মতো খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যের জন্য এই বাজেট শুধু সম্পদ নিষ্কাশনের পথ প্রশস্ত করেছে, কিন্তু জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আধুনিক অবকাঠামোর প্রতিশ্রুতি পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
