রাজস্থানে আবারও মব লিঞ্চিংয়ের ভয়াবহ ঘটনা: আকলেরায় বৃদ্ধের উপর নির্মম অত্যাচার

রাজস্থানে আবারও মব লিঞ্চিংয়ের ভয়াবহ ঘটনা: আকলেরায় বৃদ্ধের উপর নির্মম অত্যাচার

রাজস্থানের ঝালাওয়াড় জেলার আকলেরা এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এক বৃদ্ধকে গরুর মাংস (বিফ) খাওয়ার অভিযোগে একদল উগ্রবাদী লোক নির্মমভাবে প্রহার করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বয়স্ক ওই ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে লাথি-ঘুষি মারা হচ্ছে, তাকে ‘রোহিঙ্গা বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করা হচ্ছে এবং অকথ্য ভাষায় অপমান করা হচ্ছে। এই নৃশংস দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন কোথায়?

ঘটনার ভিডিওটি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেত্রী অনিতা যাদব। তিনি লেখেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এ ধরনের মব লিঞ্চিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে অ্যাঞ্জেল চকমা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার মিল রয়েছে। অনিতা যাদবের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ এর নিন্দা জানান। অনেকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনের নীরবতার সমালোচনা করেছেন।এই ঘটনা ভারতে গো-রক্ষার নামে চলা সাম্প্রদায়িক হিংসার একটি নতুন অধ্যায়। গত এক দশকে গরু সংক্রান্ত অভিযোগে অসংখ্য মানুষকে মারধর করা হয়েছে, অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। রাজস্থানে আগেও আলওয়ার, ভরতপুরের মতো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে পেহলু খানের লিঞ্চিংয়ের ঘটনা এখনও মানুষের মনে তাজা। রাজ্যে অ্যান্টি-মব লিঞ্চিং আইন থাকা সত্ত্বেও তার কার্যকর প্রয়োগ নেই।

জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ ধরনের হিংসা বেড়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর।এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অভিযোগের ভিত্তি। কোনও প্রমাণ ছাড়াই শুধু সন্দেহের বশে একজন বয়স্ক মানুষকে প্রহার করা হয়েছে। তাকে ‘বাংলাদেশি রোহিঙ্গা’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে উদ্ভূত। এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই মিথ্যা প্রমাণিত হয়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন ও সম্মান ফিরে আসে না।রাজস্থান পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে।এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং সমাজে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতা ও আইনহীনতার প্রতিফলন। যতদিন না সরকার ও প্রশাসন এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে, ততদিন এমন নৃশংসতা চলতেই থাকবে। সময় এসেছে সকল রাজনৈতিক দল, সমাজের সচেতন নাগরিক ও মিডিয়াকে একত্রিত হয়ে এই হিংসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। একজন নিরীহ বৃদ্ধের উপর এমন অত্যাচার কোনও সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। ন্যায়বিচার দ্রুত প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি আরও বিপন্ন হবে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply