ধর্ষক-খুনিকে ১৫ বার প্যারোল, বিজেপির “ডবল ইঞ্জিন” কি রাম রহিমের জন্যই চালু?

ধর্ষক-খুনিকে ১৫ বার প্যারোল, বিজেপির “ডবল ইঞ্জিন” কি রাম রহিমের জন্যই চালু?
<br>

ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দণ্ডিত ডেরা সাচ্চা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহ ফের প্যারোলে মুক্তি পেলেন। এ নিয়ে ২০১৭ সালে সাজা ঘোষণার পর থেকে এটাই তাঁর পনেরোতম বারের মতো জেলের বাইরে আসা। হরিয়ানা সরকারের অনুমতিতে ৪০ দিনের এই প্যারোল মঞ্জুর হয়েছে। জানা গিয়েছে, রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সিরসার ডেরা সদর দফতরে থাকবেন।রাম রহিমের এই ঘন ঘন প্যারোল নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালের অগস্টে পঞ্চকূলার বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। পরে ২০১৯ সালে সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতির খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হয় তাঁর। কিন্তু সাজা ভোগের মাঝেই বারবার প্যারোল বা ফার্লো পেয়ে জেলের বাইরে থাকছেন তিনি। সূত্রের খবর, ২০২০ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৫০ দিনেরও বেশি সময় জেলের বাইরে কাটিয়েছেন রাম রহিম।এবারের ৪০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর হয়েছে ২০২৬ সালের শুরুতেই। গত বছর অগস্টে (২০২৫) তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ৪০ দিনের প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। তার আগে এপ্রিলে ২১ দিনের ফার্লো, জানুয়ারিতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৩০ দিনের প্যারোল—এভাবেই একের পর এক ছাড় পেয়েছেন তিনি। অনেকের অভিযোগ, এই প্যারোলগুলি প্রায়শই নির্বাচন, উৎসব বা বিশেষ দিনের সঙ্গে মিলে যায়। হরিয়ানায় ডেরা সাচ্চা সৌদার বিরাট অনুগামী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠে আসে বারবার।বিরোধী দলগুলি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের একাংশ এই ঘন ঘন মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “ধর্ষক-খুনিরা প্যারোলে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর সাধারণ অপরাধী বা রাজনৈতিক বন্দিরা বছরের পর বছর জেলে পচছেন।” কেউ কেউ এটাকে বিচারব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসের প্রতীক বলে মনে করছেন। হরিয়ানা সরকার অবশ্য দাবি করছে, ‘ভালো আচরণের ভিত্তিতে’ আইন মেনেই প্যারোল দেওয়া হচ্ছে। হরিয়ানা গুড কন্ডাক্ট প্রিজনার্স (টেম্পোরারি রিলিজ) অ্যাক্ট, ২০২২-এর অধীনে এই সুবিধা পাওয়া যায়।রাম রহিমের ডেরা সিরসা ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের বাগপত-সহ বিভিন্ন জায়গায় শাখা রয়েছে। অনুগামীরা তাঁকে এখনও ‘মাস্তানা’ বা ‘পিতা জি’ বলে সম্বোধন করেন। প্যারোলের সময় তিনি ডেরায় থেকে অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত কয়েকবারের প্যারোলে তাঁকে কেক কাটতে, অনুগামীদের সঙ্গে মিলিত হতে দেখা গিয়েছে। এসব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের প্রতি আইনের দৃষ্টিভঙ্গি কি সকলের ক্ষেত্রে সমান? নাকি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা নিয়ম? রাম রহিমের ক্ষেত্রে এই বিতর্ক যেন কখনও থামছেই না।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply