অসাম|৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬: ২৭ শে জানুয়ারি আসামের তিনসুকিয়া জেলার দিগবয়ে এক সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও বিভাজনকারী মন্তব্য করেছেন।
তিনি ‘মিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করে (যা আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রতি প্রায়শই অবমাননাকর অর্থে ব্যবহৃত হয়) বলেন যে, বিজেপি ও তিনি নিজে সরাসরি ‘মিয়া’দের বিরোধী এবং তাদের কষ্ট দেওয়া, হয়রানি করা তাঁর দায়িত্ব। তিনি প্রকাশ্যে আহ্বান জানান যে, রিকশাচালক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘মিয়া’দের কম মজুরি দেওয়া, দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা সৃষ্টি করা উচিত যাতে তারা পীড়িত হয়ে আসাম ছেড়ে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, “যদি রিকশার ভাড়া ৫ টাকা হয়, তাদের ৪ টাকা দাও। কষ্ট পেলেই তারা চলে যাবে।” এছাড়া, তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গে জানান যে, চলতি স্পেশাল রিভিশন (এসআর)-এর পর বিশেষ তীব্র সংশোধন (এসআইআর)-এর সময় ৪ থেকে ৫ লক্ষ ‘মিয়া’ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি ফর্ম নম্বর ৭-এর মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করে এই কাজ করার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করেন এবং বলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় শুধু ‘মিয়া’রাই সমস্যায় পড়ছে, হিন্দু বা আসামি মুসলিমরা নয়। তিনি দাবি করেন যে, উচ্চ আসামের জেলাগুলিতে (যেমন দুলিয়াজান, দিগবয়, তিনসুকিয়া) ‘মিয়া’দের জমি কেনার প্রবণতা বাড়ছে এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন রোধ করতে সতর্ক থাকতে হবে।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬-এ অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যান্ড বোর্ড (AIMPLB) একটি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে বিবৃতি প্রকাশ করে। বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস বলেন, এই ধরনের ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সাংবিধানিক অবমাননা এখন বিজেপির রাজনৈতিক ভাষণের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীরা একের পর এক এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। এআইএমপিএলবি সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সুও মোটু) এই বিষয়ে নোটিশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। বোর্ড আসামের মুসলিমদের শান্ত থেকে আইনি ও সাংবিধানিক পথে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং সেক্যুলার দল ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়ে সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান করেছে।এই ঘটনা আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এটিকে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে, যখন শর্মা নিজে দাবি করেছেন যে, তাঁর মন্তব্য অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের (যাদের তিনি ‘মিয়া’ বলে উল্লেখ করেন) বিরুদ্ধে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
