আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউটাউন ক্যাম্পাসে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) একদল সদস্যের বিরুদ্ধে স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ছাত্রদের উপর হামলা, পতাকা দখল এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।

স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ছাত্ররা জানিয়েছেন, তাঁরা পূর্বে টিএমসিপি’র তরফ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন। এই হুমকির লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার ছাত্রদের ডেকে পাঠান বিষয়টি বিস্তারিত জানতে। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ে ১৫-২০ জন টিএমসিপি সদস্য মিলে স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ছাত্রদের উপর হামলা চালায়।
- আব্দুল আহিদ সরদার (ইসলামিক স্টাডিজ)
- ওসামা চৌধুরী (ফিজিক্যাল সায়েন্স – স্কলার)
- শামসুদ্দিন মন্ডল (এডুকেশন)
- আলমগীর মোল্লা (এডুকেশন)
- আশিক আহমেদ (এডুকেশন)
- রোহিত মন্ডল (ইসলামিক স্টাডিজ)
- আকতারুল হোসেন (ইসলামিক থিয়োলজি)
স্টুডেন্ট ফ্রন্টের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পতাকা দখল: ক্যাম্পাসে স্টুডেন্ট ফ্রন্টের পতাকা খুলে ফেলে টিএমসিপি’র পতাকা লাগানো হয়েছে।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি: পতাকা দখলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হুমকি ও গর্ব প্রকাশ করা হয়েছে।
- আন্দোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা: ছাত্রদের বলা হয়েছে, আলাদাভাবে কোন দাবী নিয়ে আন্দোলন করলে ফল ভালো হবে না।
- শারীরিক নিগ্রহ: একাধিকবার ছাত্রদের উপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হয়েছে।
- প্রশাসনের উপেক্ষা: ডিন শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও টিএমসিপি তাঁর নির্দেশ অমান্য করে স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। পরে ডিন বিষয়টি রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান।

এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে মীর সিদ্দিক’র, যিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সম্পাদক এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। স্টুডেন্ট ফ্রন্টের দাবি, তার নেতৃত্বেই ক্যাম্পাসে “থ্রেট কালচার” চলছে।
এই বিষয়ে মীর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ছেলেরা মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গালাগাল করে এবং নোংরা ভাষায় আক্রমণ করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম নিলে প্রচার পাওয়া যায়, তাই তারা এসব করছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একজন ছাত্র জানিয়েছেন, মীর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য। তিনি বলেন, “মীর সিদ্দিক ক্যাম্পাসে অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনকে কাজ করতে দিতে চান না। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা সদস্যদেরও তিনি অবজ্ঞা করেন। দলের নাম ব্যবহার করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারী রাজ চালাচ্ছেন।”
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ঘটনা ছাত্র রাজনীতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, ছাত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং নিগ্রহের অভিযোগ ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
