কর্ণাটকের চামরাজনগর জেলার হোম্মা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক দলিত মহিলাকে প্রধান রাঁধুনি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তীব্র সামাজিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, বিদ্যালয়ের ২২ জন পড়ুয়ার মধ্যে ২১ জনই স্কুল ছেড়ে চলে গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হোম্মা গ্রামের সরকারি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বছরের শুরুতে যেখানে ২২ জন ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করেছিল, এখন সেখানে শুধুমাত্র একজন ছাত্রই রয়ে গিয়েছে। বাকি সকলের অভিভাবকরা স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে অন্যত্র ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন বা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংকটের সূচনা হয়েছে একজন দলিত মহিলাকে মিড-ডে মিলের প্রধান রাঁধুনি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই। বহু অভিভাবক তার রান্না করা খাবার খেতে সন্তানদের বাধা দেন। মাত্র ২২ জনের মধ্যে ৭ জন ছাত্রছাত্রী মিড-ডে মিল খেত বলে জানা গেছে।
গ্রামবাসীরা সরাসরি জাতপাতের দিকটি সামনে আনেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ওরা চায় না যে তাদের সন্তানরা এক দলিত নারীর রান্না করা খাবার খাক।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বুধবার স্কুল পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চামরাজনগরের এসপি বি.টি. কাবিতা, জেলা পরিষদের সিইও মোনা রোত এবং শিক্ষা আধিকারিক রামচন্দ্র রাজে উরস।
অভিভাবকরা সিইও মোনা রোতকে জানান, তাঁরা স্কুলের “খারাপ শিক্ষার মান”-এর কারণে সন্তানদের সরিয়ে নিয়েছেন। তবে প্রশাসনের মতে, বিষয়টি শুধু শিক্ষা নয়, তার পেছনে জাতপাতের পক্ষপাত স্পষ্ট।
মোনা রোত বলেন, “প্রাথমিকভাবে অভিভাবকরা শিক্ষার মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু এখন নানা তথ্য উঠে আসছে। কিছু অভিভাবকের সমস্যা হয়তো রাঁধুনির জাত নিয়ে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।”
এসপি কাবিতা বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ তদন্ত করব। যদি অস্পৃশ্যতা বা জাতিগত বৈষম্যের প্রমাণ মেলে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত আটজন ছাত্রছাত্রীকে পুনরায় ভর্তি করাতে সক্ষম হয়েছেন কর্মকর্তারা, তবে অধিকাংশই এখনো স্কুলে ফেরেনি। প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, স্কুলে শিক্ষার মান বাড়ানো হবে এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
এই মুহূর্তে বিদ্যালয়ে রয়েছেন দুইজন শিক্ষক এবং মাত্র একজন ছাত্র। তবে সেই ছাত্রের অভিভাবকও সন্তানের স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছেন।
এই ঘটনায় কর্ণাটকের শিক্ষাক্ষেত্রে জাতপাতের প্রভাব ও সামাজিক বৈষম্যের চিত্র আরও একবার পরিষ্কার হল বলে মত বিশ্লেষকদের।

