শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন ২০২৫-এর কয়েকটি বিতর্কিত বিধান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি এ জি মাসিহের বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। আইনের সেই সব বিধান স্থগিত করা হয়েছে, যেগুলোতে অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালত প্রথমেই স্থগিত করল এমন শর্তটি, যেখানে বলা হয়েছিল একটি ওয়াকফ গড়ে তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তত পাঁচ বছর যাবত ইসলাম ধর্ম চর্চা করতে হবে। এই শর্ত কার্যকর করার জন্য রাজ্য সরকারদের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি না করা পর্যন্ত এটি স্থগিত থাকবে। আদালত বলেছে, স্পষ্ট কোনো নিয়ম না থাকা পর্যন্ত এই শর্ত যথাযথ বিচারবিহীন ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। তবে এই শর্ত নিজেই অযৌক্তিক নয়, কারণ এটি ওয়াকফের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ওয়াকফ জমি সম্পর্কিত বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের কালেক্টর বা কর্মকর্তাদের জমি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের শর্তও স্থগিত করেছে আদালত। বিচার বিভাগের ক্ষমতার অনধিকারে এই ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ আদালত স্বীকার করবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। জমি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য।
সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিল ও রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্যের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪ জন এবং রাজ্য বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ জন অ-মুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন। যদিও রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদে অ-মুসলিম নিয়োগের বাধা নেই, আদালত বলেছে, সম্ভব হলে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দেয়া উচিত।
আইনের রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত শর্তে কোন রকম বাধা দিলো না সুপ্রিম কোর্ট। এটি আগেও ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিল বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
বাকি বহু বিতর্কিত বিধান যেমন ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ বিলুপ্তি, সুরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক ও নির্ধারিত এলাকায় ওয়াকফ গঠনে নিষেধাজ্ঞা, ওয়াকফ সম্পর্কিত সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি নির্দেশাবলী বিরত হয়নি।
আদালত বলেছে, এটি মাত্র প্রাথমিক আদেশ এবং পরবর্তীতে মূল শুনানিতে সমস্ত পক্ষ তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন।
এই মামলায় AIMIM সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, দিল্লির AAP বিধায়ক আমানতুল্লাহ খান, মর্যাদাপূর্ণ ইসলামি সংগঠন সহ অন্যান্য বহু সংগঠন ও ব্যক্তি এই সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধেও আপিল করেছিল। কিছু বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এই আইনের পক্ষে সমর্থন জনিয়েছে।
এই আদেশ ওয়াকফ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সামাজিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতায় সাময়িক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

